০৫:৫৮ পি.এম
ভৈরব পৌরসভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৯টি সড়ক এবং ৬টি ড্রেন নির্মাণের কাজ মোট ১৫টি প্রকল্পের কাজ, অনুমোদনের প্রায় ছয় মাস পরেও শুরু হয়নি। যার মোট ব্যয় প্রায় ১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে এই দীর্ঘসূত্রতা পৌরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশার সৃষ্টি করেছে। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পগুলো চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভৈরব বাজার থেকে দুর্জয় মোড় পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিংয়ের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা এবং একই সড়কের ফুটপাত নির্মাণের জন্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া থেকে আওয়ালকান্দা সড়কের উন্নয়নসহ মোট ৯টি সড়ক ও ৬টি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ সব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় খাগড়াছড়িভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেলিম এন্ড বাদ্রাস। তবে অভিযোগ রয়েছে, কার্যাদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু করেনি। ফলে পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে পানি জমে যাতায়াত করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন পথচারী, যানবাহন চালক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুই দফা নোটিশ দেওয়া হলেও তারা এখনও কাজ শুরু করেনি। জনদুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে ভৈরব বাজার–দুর্জয় মোড় সড়ক এবং ভৈরব ফেরিঘাট সড়কসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন দুর্ঘটনাজনিত সড়কের অস্থায়ী সংস্কারের জন্য পৃথক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এ কাজ স্থানীয় ঠিকাদার আবু বক্করের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ছয় মাস পরও কাজ শুরু না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা জানাতে চান, কেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করেনি। তারা দাবি করেছেন যে বিষয়টি জনসম্মুখে পরিষ্কার করা উচিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এলাকা বাসীর দাবি, দায়িত্বে অবহেলা এবং দীর্ঘসূত্রতার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাদের ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিল করার বিষয়টিও ভাবা উচিত। একই সঙ্গে আটকে থাকা ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা এবং নির্ধারিত সময়ে শেষ করার দাবি তুলেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেলিম এন্ড বাদ্রাসের কর্ণধারের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি প্রকল্প সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করলেও ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পৌরবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতা কাটিয়ে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে, যাতে নাগরিকরা নিরাপদ সড়ক এবং উন্নত পৌরসেবা ভোগ করতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন