১১:০৬ পি.এম
রংপুরের হারাগাছ এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
এ অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত চারজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী ও শরীফ মিজান। তাদের বিরুদ্ধে শিবির কর্মী মো. আহসান হাবিব (২১) হারাগাছ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন: প্লাস্টিক দূষণ বন্ধের এখনই সময়: বরিশালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আলোচনা
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত একটি চরমোনাই মাহফিলে জিকিরের সময় অংশগ্রহণকারীদের আচরণ সম্পর্কে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকেই কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। সেই বিরোধের ফলস্বরূপ রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় হারাগাছ থানার টসার বাজার এলাকা সংলগ্ন বাঁধের জায়গায় উক্ত ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আহসান হাবিব তার অভিযোগে বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসে কথাবার্তা বলার নামে। কিন্তু সেখানে গিয়ে পূর্ব থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়ার নাম করে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুরু করে। তিনি প্রতিবাদ জানানোর পর সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
আহসানের অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী, শরীফ মিজান, নিফাত বাবু ও আনোয়ার হোসেনের নাম। পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
স্থানীয়দের মতে, ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে আটক করে রাখেন। পরে হারাগাছ থানা পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে চারজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের এক দায়িত্বশীল নেতা এ বিষয়ে বলেন, “সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়াতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, “ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন চারজনকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপার্থক্য ও মন্তব্যের কারণে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, অনলাইন মতবিরোধের কারণে বাস্তব জীবনে সহিংসতার ঘটনা সমাজে অসহিষ্ণুতা বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
আরও পড়ুন: হারানো পোষা বিড়াল ফিওনা’র সন্ধানে পুরস্কার ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন