বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৪ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করা অপরিহার্য। "এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।"
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তারেক রহমান বলেন, "শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ, শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।" অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, তারা সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে পারে। দেশের অন্যান্য শিশু-কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে। শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, "তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।"
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আগামী জুন মাসে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।" দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোররা অনলাইনে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। "এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে।" এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে। শিশুদের তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।" তিনি বলেন, "তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না। একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। তখন অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দিতে হবে না, বরং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই দেশ তোমাদের। তোমাদেরই এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের প্রত্যেককে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।"
এর আগে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি মাঠ প্রদক্ষিণ করে গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোর ও ক্রীড়াবিদদের অভিবাদনের জবাব দেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা, স্টেডিয়ামে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপি’র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও উপভোগ করেন তিনি।
তিনি দুপুরে বাগেরহাট থেকে খুলনায় আসার পথে বাগেরহাটে পীর খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করেন। পরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালি মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেন। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাস আসে খুলনার প্রবেশদ্বার রূপসা উপজেলার তিলক কুদির তলায় নির্মিত পথসভার মঞ্চে। সেখানে তিনি বক্তৃতা করেন।
এ সময় অভ্যর্থনায় দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দ তার কাছে পৌঁছানোর আগেই গাড়ি থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী মিশে যান সাধারণ মানুষের সাথে। কোনো প্রটোকল না মেনে জনগণের সাথে হাত মেলাতে থাকেন। তার এই আচরণে আনন্দে উদ্বেলিত হয় দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। পথসভা স্থলে উপস্থিত অনেককেই বলতে শোনা গেছে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এমন প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম। যিনি কোনো সভা-সমাবেশে গেলে মঞ্চে ওঠার আগেই জনগণের সাথে হাত মেলান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ