ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০২:৪৪ পি.এম
‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মলাদ জমাদ্দার, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম মান্নান উৎপল, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন ও সহকারী শিক্ষক রাবেয়া পারভিন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুস্থ থাকতে এবং বিভিন্ন পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পরে এবং শিশুদের পরিচর্যার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ অভ্যাস পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : শিশু-কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথিত ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।
বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসে এ মামলায় জুরি সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের মামলায় বিবাদী হিসেবে রয়েছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এবং প্রথমবারের মতো স্ন্যাপ।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে— এমন অভিযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম মামলাটির বিচার এ বছরের শুরুর দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে এসব মামলার কার্যক্রমে নানা অগ্রগতি ও পরিবর্তন দেখা গেছে।
বছরের শুরুতে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক মামলায় মেটা ও ইউটিউক হেরে যায়। ওই মামলায় জুরি বোর্ড কেজিএম নামে পরিচিত এক তরুণ ব্যবহারকারীর ক্ষতির জন্য প্রতিষ্ঠান দুটিকে যৌথভাবে দায়ী করে এবং মোট ৬০ লাখ ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
সে সময় মেটা জানায়, তারা রায়ের সঙ্গে ‘সম্মানজনকভাবে দ্বিমত’ পোষণ করে।
ওই বিচার শুরুর আগেই স্ন্যাপ ও টিকটক কেজিএমের সঙ্গে সমঝোতা করে।
কয়েক মাস পর আগস্টে আরেকটি মামলার বিচার শুরুর কথা ছিল। তবে বিচার শুরুর আগেই স্ন্যাপ, টিকটক ও ইউটিউব মামলাটির নিষ্পত্তি করে। আর আরকেসি নামে পরিচিত ওই মামলার বাদী পরে মেটার বিরুদ্ধে বাকি অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে নেন। ফলে কোনো সমঝোতা ছাড়াই বিচার এড়াতে সক্ষম হয় ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠানটি।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, মেটা বাদী এসজের সঙ্গে সমঝোতা করলেও কেডিবির সঙ্গে সমঝোতা হয়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অঙ্গরাজ্য আদালতের বিচারক মামলা দুটি একত্র করে একই বিচারের আওতায় এনেছেন।
আগামী ৪ নভেম্বর মামলার প্রাথমিক বক্তব্য উপস্থাপন শুরু হওয়ার আগে নতুন কোনো সমঝোতা না হলে মেটা ও স্ন্যাপকে বিবাদী রেখেই বিচার চলবে।
নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি ও স্ন্যাপের প্রধান নির্বাহী ইভান স্পিগেল।
চলতি মাসের শুরুর দিকে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় আদালত মেটাকে ২৫০ কোটি ডলার দিতে নির্দেশ দেন।
ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারিসংশ্লিষ্ট ওই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে বিভ্রান্ত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি বোর্ড শিশুদের ক্ষতির জন্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্টটিকে দায়ী করে।
ওই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মোট ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের জরিমানা আরোপ করা হয়।
এ ছাড়া গত আগস্টে ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বিচার চলাকালে ৫২ জন অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় মেটা।
এর আওতায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বেশি জরিমানা দিতে এবং কিশোরদের জন্য ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে পরিবর্তন আনতে সম্মত হয় প্রতিষ্ঠানটি।
ওই সমঝোতার একটি শর্ত ছিল, ইউটিউব ও টিকটককেও নিজেদের প্ল্যাটফর্মে একই ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে দৈনিক স্ক্রিন টাইম সীমিত করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, এমনকি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মামলাগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি তৈরির মতো নকশা ও ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের মামলায় দুই বাদী এসজে ও কেডিবির আইনজীবীরা যুক্তি দেবেন, যথাক্রমে ১৩ ও ১৫ বছর বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুরু করার পর তাদের মক্কেলরা ‘আসক্তিকর ও সমস্যাজনক’ অ্যাপের সংস্পর্শে আসেন।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কিশোরী এসজে স্ন্যাপের তৈরি স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করতে গিয়ে ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক ও নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে জড়িয়ে পড়েন বলে তার আইনজীবীদের দাবি। এর পরিণতিতে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি ও আত্মক্ষতিমূলক আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মিসিসিপির ১৮ বছর বয়সী কেডিবিও মেটা ও স্ন্যাপের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে একই ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েন।
তার আইনজীবীদের মতে, এর ফলে তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।
মেটা আগে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জুলাইয়ে এএফপিকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, ‘ভিত্তিহীন মামলার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে আমরা পিছপা হব না।’
অন্যদিকে, স্ন্যাপের দাবি, তাদের অ্যাপ ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো নয়। কারণ, স্ন্যাপচ্যাট মূলত বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছে যে ফ্লাভিও বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবরের প্রেক্ষিতে এই ঘোষণা এসেছে।
তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি ইতোমধ্যেই ব্রাজিল ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও, যিনি কারাবন্দী, রবিবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। তবে তিনি এই পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি ওয়াশিংটন থেকে এই তথ্য জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার জানিয়েছে, ফ্লাভিও বলসোনারো এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দিতে ভিসা প্রদান করা হবে।
সিএনএন এবং ওয়াশিংটন পোস্ট মঙ্গলবার পৃথকভাবে জানায়, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন।
ডানপন্থী এ সিনেটর সোমবার জানান, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি তাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে তিনি সংসদীয় দায়মুক্তিও হারাতে যাচ্ছেন।
ব্রাজিলের এক পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ফ্লাভিওর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফ্লাভিও বলসোনারোর দেশত্যাগের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই।’
তবে এএফপির দেখা ইতালির একটি সংসদীয় নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে তার ইতালীয় নাগরিকত্ব রয়েছে।
নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর ব্রাজিল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক রজেরিও মারিনহো।
মঙ্গলবার রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো খবর নেই।’ মারিনহো বলেন, ‘আজ সকালে তার কাছ থেকে একটি খুদে বার্তা পেয়েছি।’
তিনি জানিয়েছিলেন, আজ কিছু সময় অপেক্ষা করবেন, তারপর আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর আর কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের এটাই ছিল একমাত্র যোগাযোগ।’
পরাজিত প্রার্থীর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়াকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন লুলা। ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিন উদযাপনের সময় তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে লুকিয়ে চলে যায়, তার নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে। ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়ার এ কাজ লজ্জাজনক।’
ফ্লাভিও বলসোনারো সোমবার বলেছিলেন, ব্রাজিল ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তাকে ভয় দেখানোর কৌশল। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছাই আমার কখনো ছিল না।’
ফ্লাভিওর ভাই এডুয়ার্ডো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাবেক আইনপ্রণেতা। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পডকাস্টে এডুয়ার্ডো বলেন, ফ্লাভিওর কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান তদন্তের কারণে নির্বাচনে হেরে গেলে তাকে ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছেন যে, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন প্রদান করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকাল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর্জা ফয়সালের সাথে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এখানে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব নেই।
তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একইভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি আরো যোগ করেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করবে। বিএনপি সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দেশটির রাজনৈতিক পরিসরে ইহুদি জাতীয়তাবাদের প্রভাব ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। তবে এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টে আরব-প্রধান দলগুলো ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে। পূর্ববর্তী পার্লামেন্টে দলগুলোর আসন ছিল মোট ১০টি। ফলে, সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রশ্ন হলো, ইহুদি রাষ্ট্রে আরব দলগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কীভাবে?
ইসরাইলে আরবরা কারা?
ইসরাইলের সকল নাগরিক ইহুদি নন। সেখানে আরব জনগণেরও বসবাস রয়েছে। ইসরায়েলে অবস্থানরত এসব আরব সাধারণত ‘আরব ইসরাইলি’ বা ‘ইসরাইলি আরব’ নামে পরিচিত। এরা হলেন সেই ফিলিস্তিনি এবং তাদের বংশধর, যারা ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার সময় ওই ভূখণ্ডে বসবাস করতেন এবং আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইসরাইল রাষ্ট্রের সীমানার ভেতরেই থেকে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তাদের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি, যা ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১%।
ইসরাইলের আরব নাগরিকরা প্রধানত তিনটি ধর্মীয় গ্রুপে বিভক্ত— সুন্নি মুসলিম, খ্রিষ্টান এবং দ্রুজ। সুন্নি মুসলিমরা আরব জনসংখ্যার বৃহত্তম অংশ (প্রায় ৮৪%)। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো নেগেভ ও উত্তরাঞ্চলের যাযাবর বা বেদুইন সম্প্রদায়।
খ্রিস্টানরা মোট আরব জনসংখ্যার প্রায় ৮%। তাদের বেশির ভাগ গ্রিক অর্থোডক্স এবং ক্যাথলিক চার্চের অনুসারী। বাকি ৮% হলো দ্রুজরা। যদিও তারা জাতিগতভাবে আরব, তাদের একটি নিজস্ব ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় রয়েছে।
ইসরাইলে আরবদের পরিচয় বেশ জটিল। তারা একদিকে যেমন ইসরাইলের নাগরিক, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক ও পারিবারিকভাবে পশ্চিম তীর, গাজা ও অন্যান্য স্থানে থাকা ফিলিস্তিনিদের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তাই অনেকে নিজেদের ‘ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ইসরাইলের আরব নাগরিকদের ভোট দেওয়ার, রাজনৈতিক দল গঠনের এবং পার্লামেন্টে নির্বাচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
তবে ইসরাইলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অবস্থান পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে এক নয়। পশ্চিম তীর ও গাজার অধিকাংশ ফিলিস্তিনি ইসরাইলের নাগরিক নন। ফলে তারা ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না।
ইহুদি রাষ্ট্রে আরব দলগুলো কীভাবে আসন পায়?
ইসরাইলের পার্লামেন্টের নাম নেসেট। এখানে মোট আসন ১২০টি। বাংলাদেশে সাধারণত একটি আসনে একজন প্রার্থী নির্বাচিত হন। ভোটাররা সেই আসনের প্রার্থীদের মধ্যে একজনকে ভোট দেন। কিন্তু ইসরাইলে পদ্ধতিটি ভিন্ন। সেখানে ভোটাররা মূলত রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। আর দল যত ভোট পায়, সেই অনুপাতে পার্লামেন্টে আসন বন্টন করা হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা।
তাহলে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নির্বাচিত হন?
ইসরাইলে ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। তারা পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচনের জন্য দলকে ভোট দেন। এরপর সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে হয়।
যদি কোনো দল ৪৮টি আসন পায়, তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে এককভাবে ওই দল সরকার গঠন করতে পারবে না। তাকে অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।
যেমন, ৪৮ আসন পাওয়া দলটি ২৪ আসন পাওয়া আরেকটি দলের সমর্থন পেলে মোট আসন হবে ৭২। অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হবে। এভাবে একাধিক দল মিলে জোট সরকার গঠন করতে পারে। জোটের সমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান সংশ্লিষ্ট নেতা। ইসরাইলের ইতিহাসে কখনোই কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় যায়নি। প্রতিবারই জোট সরকার গড়তে হয়েছে।
আরব দলগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি কীভাবে কাজ করে?
ধরা যাক, ইসরাইলের আরব-প্রধান দলগুলো নির্বাচনে মোট ১৮টি আসন পেল। অন্যদিকে, সরকার গঠনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বড় জোটেরই আরও আসন প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তারা যদি কোনো একটি জোটকে সমর্থন দেয়, তবে সেই জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি যেতে পারে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।
এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সাফল্য কতটা?
ইসরাইলের এবারের নির্বাচনে আরব-প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। একটি রা’আম বা ইউনাইটেড আরব লিস্ট। অন্যটি জয়েন্ট লিস্ট। দ্য জেরুজালেম পোস্ট বলছে, বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, রা’আম ৭টি এবং জয়েন্ট লিস্ট ১১ থেকে ১২টি আসন পেতে পারে। সব মিলিয়ে তাদের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৮ থেকে ১৯টি। আগের পার্লামেন্টে দল দুটির আসন ছিল পাঁচটি করে। অর্থাৎ, প্রাথমিক হিসাব ঠিক থাকলে তাদের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে বুথফেরত জরিপের সংখ্যা চূড়ান্ত ফলাফল নয়।
এই ফলাফলের পেছনে আরব নাগরিকদের ভোটদানের হার বেড়ে যাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছানোর প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির সাম্প্রতিক নির্বাচনের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। আরব দলগুলোর নেতারা আশা করছেন, বেশি ভোট তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে এবং সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের গুরুত্ব বাড়াবে।
নেতানিয়াহুর ক্ষমতার সমীকরণে আরবরা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির—কেউই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বলে বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে। জরিপভেদে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসন ৫০ থেকে ৫২টি। বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য আসন ৪৯ থেকে ৫৩টি। অথচ সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে দুই পক্ষেরই আরও সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর ১৮ থেকে ১৯টি সম্ভাব্য আসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তারা বিরোধী শিবিরকে সমর্থন দিলে নেতানিয়াহুর জোটের সরকার গঠনের পথ কঠিন হতে পারে। তবে আরব দলগুলো বিরোধীদের সমর্থন করলেই যে নতুন সরকার গঠন নিশ্চিত হবে, তা নয়। বিরোধী শিবিরের সব দল আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে রাজি নয়। ফলে সংখ্যার হিসাবের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতাও বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।
আরব দলগুলো আসলে কী চায়?
ইসরাইলের আরব-প্রধান দলগুলোর রাজনীতি শুধু প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। আরব নাগরিকদের অধিকার, বৈষম্য কমানো, আরব অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়ন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণও তাদের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে তাদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব আরব দলের রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের মধ্যে আদর্শিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে।
আরবদের আসন বাড়লেই ইসরাইলের নীতি বদলাবে?
পার্লামেন্টে আসন বাড়া মানে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়া। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, রাষ্ট্রের নীতিতেও তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসবে। সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে আরব দলগুলো নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে পারে। তবে সেই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে জোটের সমঝোতা ও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।
অন্যদিকে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে আপত্তিও রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?
ইসরাইলের নির্বাচনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কে সরকার গঠন করতে পারবে। নেতানিয়াহুর জোট প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারে। আবার বিরোধী শিবিরও আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে জাতীয় বড় দলগুলো মিলে জাতীয় সরকার গঠন করতে পারে। এমনকি নতুন নির্বাচনের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ