১১:০৪ এম
পটুয়াখালীর পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দুমকি উপজেলার ৪নং আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাজারসহ সহাস্রাধিক বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাঁচার জন্য পায়রা নদীর গ্রাস থেকে তারা ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন, যারা যুগ যুগ ধরে ওখানেই বসবাস করে আসছিলেন। বেড়িবাঁধ না থাকায় বেশ কয়েকশত পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
৮০ বছরের বৃদ্ধা মো. জলিল উদ্দিন ফকির নদীর দিকে তাকিয়ে কাঁদছেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও আমাদের সুন্দর একটি ঘড় ছিল, পুকুর ভরা মাছ, গোয়ালে গরু, খেতে ধান ছিল কিন্তু এখন সেগুলো শুধুই স্মৃতি।
সর্বশেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে তিনি ঘর ভেঙে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজছেন এই ৮০ বছরের বৃদ্ধা।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
প্রতি বছর পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার ৪নং আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের পায়রা নদীর অরক্ষিত বেড়িবাঁধ ভেঙে বাহেরচর ও আঙ্গারিয়ার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় থাকে। ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত এবং গাছপালা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে ওই গ্রামের শত শত পরিবার। নদীগর্ভে চলে গেছে এখানকার হাজারো মানুষের সাজানো স্বপ্ন। ইতোমধ্যে অনেকের ঘড়-বাড়ি চিরতরে মুছে গেছে।
নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষগুলো ঘর বাড়ি স্থানান্তর করে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে অন্যত্র আশ্রয়ের চেষ্টা করছে। আগ্রাসী নদী ভাঙনের ফলে ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পূর্বপুরুষের ভিটে-মাটি কবর হারানো মানুষগুলো অসহায় হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এবং এখন প্রাণের ত্রাণ চান না, তারা স্থায়ী বেড়িবাঁধ চান।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা স্থায়ী সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন, আশ্বাস নয়। আলেয়া বেগম বলেন, আমি ২০ বছর আগে যখন এখানে আমার শ্বশুর বাড়ি এসেছি তখন দেখেছি তাদের সাজানো সংসার ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে পায়রা নদীর ভাঙনের কারণে সবকিছু নিয়ে গেছে। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে আছি। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।
কামাল হোসেন বলেন, আমরা জানি, যদি ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে কোনো কিছু না করা হয় তাহলে আগামী ৪ বছরের মধ্যে আমাদের যে ভিতরে ঘরবাড়িগুলো রয়েছে, সেগুলো নদীতে তলিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, বর্তমানে ভাঙন রোধে আমরা অস্থায়ী ভাবে কাজ করবো। তবে তিনি দ্রুতই স্থায়ী সমাধানের কথাও জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা।
পটুয়াখালীতে মোট ১ হাজার তিনশ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২২ কিমি এবং ৬ কিমি বেড়িবাঁধ পুরো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন