১২:২৩ এম
চট্টগ্রাম বন্দরে দুবাইভিত্তিক বিদেশি কোম্পানি ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর প্রবেশের চেষ্টা এবং তদবিরের কার্যক্রম এখন দৃঢ়ভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রলোভন ও বন্দর আধুনিকায়নের নাম করে নিউমুরিংয়ের অবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এর আগে বন্দরের অর্থায়নে নির্মিত পতেঙ্গা, লালদিয়া চর, পনগাঁও টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ছেড়ে দেওয়ার ফলে বন্দর ক্রমেই গুরুত্বহীন হয়ে পুরনো যুগে ফিরে যাচ্ছে। বন্দরের অর্থায়নে তৈরি প্রধান টার্মিনাল এনসিটি নিরবচ্ছিন্ন মুনাফার রেকর্ডধারী। আধুনিক যন্ত্রপাতিতে এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। নতুন অবকাঠামো কিংবা বিনিয়োগের জায়গা অবশিষ্ট নেই। বন্দরের চ্যানেলে জোয়ার-ভাটার সূচি মেনে সীমিত সময়ে, সুনির্দিষ্ট আকার-আয়তনের জাহাজ, নির্দিষ্ট সংখ্যক কন্টেইনার বহন করেই জেটি-বার্থে ভিড়তে হয়। এ অবস্থায় কথিত বিনিয়োগ ও উন্নয়নের নামে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিয়ে আসা হচ্ছে কমপক্ষে ১৫ বছরের ইজারা চুক্তিতে। এর খসড়া চূড়ান্ত হলেও শর্ত গোপন রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এনসিটি কিংবা চট্টগ্রাম বন্দরের যে কোনো সচল স্থাপনা বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি ইজারার পক্ষে এবং বিপক্ষে দুই ধরনের যুক্তি ও বিভাজন রয়েছে। পতিত পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে নেয়া হয় বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত। এর পেছনে কায়েমী স্বার্থবাদীদের হাত রয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের উচিত হবে সেই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক পরিহার করা। তাছাড়া এ চুক্তি করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ হারাবে। ঝুঁকিতে পড়বে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব।
চুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের কর্মসূচির আওতায় আগামী ৫ অক্টোবর শ্রমিক-কর্মচারী, রাজনৈতিক, পেশাজীবি জোট-সংগঠনগুলো বন্দরের মেইন গেইটের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে। এতে একাত্মতা ঘোষণা করেছে বিভিন্ন সংগঠন। তাছাড়া খসড়া চুক্তি এবং পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে আজ শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবে বন্দর রক্ষা কমিটি।
আরও পড়ুন: দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচল ব্যাহত
‘সুঁই হয়ে ঢুকে: ফাল হয়ে বের হয়’:
প্রচলিত বাংলা প্রবাদ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথের সনদ (১৬০০ খ্রিস্টাব্দ) নিয়ে হুগলি নদীর তীরে একটি বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে (১৬৫১ খ্রিস্টাব্দ)। ব্রিটিশরা ‘ব্যবসা’র নামে এসে সুযোগ বুঝে এদেশে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও শতবছরের রাজত্ব গেঁড়ে বসেছিল তা বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অথচ ব্রিটিশ আগমনের পূর্ব পর্যন্ত বৃহত্তর বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল সমৃদ্ধ অঞ্চল। গরীব ছিল না কেউ। বাংলার বিখ্যাত মসলিন, রেশম, সুতির সূক্ষè বয়নের বস্ত্র, খাদ্যশস্য, ফলমূল, সুগন্ধি, সৌখিন দ্রব্যসহ হরেক নামিদামি পণ্যসামগ্রী বিদেশিদের বিস্ময় জাগায়। চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশী অপারেটরের ঢোকার বিষয়টিও অনুরূপ নির্মম পরিণতি ডেকে আনে কি না বিশেষজ্ঞদের ভাবিত করেছে।
দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, আমদানি-রফতানির গেইটওয়ে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে হাজার বছরে গড়ে ওঠা প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। সেই বন্দরের হৃৎপি- খ্যাত সর্ববৃহৎ স্থাপনা হচ্ছে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। যা বন্দরের প্রতিবছর মুনাফার টাকায় নির্মিত হয়েছে। এনসিটিতে ব্যবহৃত কী গ্যানট্রি ক্রেনসহ অত্যাধুনিক ভারী যন্ত্রপাতিও কেনা হয়েছে বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে। এ টার্মিনালে এককভাবে বন্দরের প্রায় ৪৪ শতাংশই কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এবং ৬০ শতাংশ আয় আসছে। কন্টেইনার ওঠানামা এবং জাহাজ গমনাগমনের সক্ষমতা, দক্ষতা, গতিশীলর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে এনসিটি। গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ লাখ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে; যা এ যাবতকালের রেকর্ড পারফরমেন্স। গত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি দক্ষতা, স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড। নৌবাহিনীর সুচারু পরিচালনা প্রশংসিত হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারীদের (স্টেক হোল্ডার) কাছে।
কিন্তু আরেক বাংলা প্রবাদে বলা হয়- ‘সুখে থাকলে ভূতে কিলায়’! ধারাবাহিক লাভজনক, সার্বক্ষণিক সচল বন্দরের প্রধান স্থাপনা নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে ইজারা চুক্তিতে ছেড়ে দেয়ার অদ্ভুত এক ভূত পেয়ে বসেছে। এ নিয়ে অতিউৎসাহী নৌ-পরিবহনমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন ‘করিৎকর্মা’ শীর্ষ কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জমানের পক্ষ থেকে চলছে তড়িঘড়ি এবং তোড়জোড় তৎপরতা। তাও আবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনকেন্দ্রিক নয়; রাজধানী ঢাকায়। ইজারার যাবতীয় তৎপরতা চলছে গোপনে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ফের আগুন, সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ভয়াবহতা
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের আগেই ২০২৪ সালে বন্দরের এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। মূলত শেখ পরিবার এবং আওয়ামী অলিগার্ক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরকে কব্জায় পাইয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই ‘বিদেশি কোম্পানির’ ডামি সাজানো হয়। তখনই ইজারা বিতর্কে আলোচনায় সামনে আসে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড (দুবাই পোর্ট ওয়ার্ল্ড)। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরসহ শ্রমিক-কর্মচারী ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ-অসন্তোষ তৈরি হয়। এ কারণে হাসিনা সরকার তা বাস্তবায়নে বিরত থাকে। পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার একই পথে অগ্রসর হয়ে এনসিটি ইজারা চুক্তির তোড়জোড় তৎপরতা চালায়। এমনকি যেনতেনপ্রকারে চুক্তি চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা হয়। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারী-জনতার প্রতিবাদী আন্দোলন, বিক্ষোভ, বন্দর ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির মুখে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি ইজারা চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় ড. ইউনূস সরকার।
পোর্ট-শিপিং সার্কেলে জানা গেছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা ও লজিস্টিকস কোম্পানি। বিভিন্ন দেশে কোম্পানিটির বন্দর পরিচালনা বা ইজারা চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের সবচেয়ে স্পষ্ট ও নথিভুক্ত দেশের উদাহরণ হচ্ছে জিবুতি। জিবুতির ডোরালেহ কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ২০০৬ সালে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জিবুতি সরকারের ৩০ বছরের চুক্তি হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জিবুতি সরকার একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করে এবং টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে নেয়। জিবুতি সরকারের অভিযোগ ছিল, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তির শর্তাবলী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সোনার ডিম পাড়া হাঁস?
চট্টগ্রাম বন্দরের সর্ববৃহৎ এবং লাভজনক নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) সচল এই বন্দরের সবচেয়ে সচল স্থাপনা। যার ধারাবাহিক মুনাফা অর্জন এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবছর। এনসিটি আর বাড়ানোর বা সম্প্রসারণের জায়গা নেই। এর পাশ ঘেঁষেই দেশের অন্যতম প্রধান নৌ-ঘাঁটির স্থাপনা। এছাড়া রয়েছে প্রধান জ্বালানি স্থাপনা। মুনাফার রেকর্ডধারী চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণ এনসিটিকে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারাদানের বিতর্কিত বিষয়টি সেই ঈশপের গল্পে বর্ণিত প্রতিদিন একটি করে সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে জবাই করে একসঙ্গে সবগুলো ডিম একত্রে পেয়ে কৃষকের রাতারাতি ধনী হওয়ার অতিলোভের ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেন অনেকেই। যে গল্পে মৃত হাঁসটির পেটে কোনো সোনার ডিম খুঁজে না পেয়ে মোহভঙ্গ হয়। কৃষক বুক চাপড়ে বিলাপ করে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় জুমার খুতবার সময় ঝটিকা মিছিলে ১৭ জন গ্রেপ্তার
বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) একটি বিদেশি অপারেটরের কাছে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। বহুল আলোচিত টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদন করেছে। গত পরশু ১ অক্টোবর অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি একটি কনসেশন বা ইজারা চুক্তির খসড়া পেশ করে। বৈঠকে তা অনুমোদন পেয়েছে। এতে চুক্তির আওতায় এনসিটি ছাড়াও বন্দরের ওভারফ্লো কন্টেইনার ইয়ার্ডও (ওসিওয়াই) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জানা গেছে, অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটিতে নিউমুরিং টার্মিনাল এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড ইজারা চুক্তির বিষয়টি মূল এজেন্ডায় ছিলনা। তবে ‘বিবিধ’ এজেন্ডায় এটি উপস্থাপন এবং অনুমোদন লাভ করে। কোন কোন শর্তে এবং কবে নাগাদ এই ইজারা বা কনসেশন চুক্তি সম্পাদন করা হতে পারে তাও গতকাল পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির উক্ত বৈঠকের বরাতে সরকারিভাবে ‘একটি বিদেশি অপারেটরের’ কথা বলা হলেও বিদেশি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো কন্টেইনার ইয়ার্ড পরিচালনায় অপারেটর হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবার পাকাপোক্ত হয়েছে। তাছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বা উন্মুক্ত দরপত্র নয়; বরং একতরফাভাবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছে বিদেশি কোম্পানিটি।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশি এ কোম্পানি এনসিটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রায় ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশ্বাস দেয় ইতঃপূর্বে। অথচ স্বয়ংসম্পূর্ণ এ টার্মিনালের আকার-আয়তন, ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই -বলছেন বিশেষজ্ঞরা। রয়েছে পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি। নতুন অবকাঠামো বিনিয়োগের আর সুযোগই নেই। কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ ও লাভের টোপে হাতছাড়া হতে চলেছে সচল নিউমুরিং। ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরে মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাসহ ১৫ বছরের ইজারা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বিদেশি অপারেটরের ইচ্ছাপূরণে।
ড. মইনুল ইসলামের অভিমত :
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপূজাকে সামনে রেখে বরিশালে পূজার সামগ্রীর বাজার জমে উঠেছে
এ প্রসঙ্গে একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, বন্দরের এনসিটি বিদেশিদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন ইজারা চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের মতামত এবং স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে। এটি বিতর্কিত বিষয়। বর্তমান বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অদক্ষতা রয়েছে। তবে বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দিলেই বন্দরের দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা দূরীভূত হবে কিনা কেউ এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। এনসিটি চুক্তির বিষয়টি নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আমলের একই নীতিতে অগ্রসর হচ্ছে বর্তমান সরকার। এর পেছনে কায়েমী স্বার্থবাদী মহলের হাত আছে। তাছাড়া চুক্তির প্রক্রিয়া ও শর্তাবলী অস্পষ্ট এবং অস্বচ্ছ।
বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে বন্দর রক্ষা কমিটি ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। অথচ দুঃখের বিষয়, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের কথা চিন্তা না করে এনসিটি-সিসিটি ইজারাদানে এরমধ্যেই সরকার খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এ চুক্তি হলে চট্টগ্রাম বন্দর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ হারাবে। ঝুঁকিতে পড়বে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব। আমরা আশা করি অবিলম্বে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং চুক্তির পদক্ষেপ বাতিল করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী বিএনপি সমর্থিক শ্রমিক দলের নেতা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন বলেন, দেশ ও জাতির কাছে পুরো প্রক্রিয়া গোপন রেখে এনসিটি কিংবা বন্দরের যে কোনো স্থাপনা বিদেশিদের কাছে ইজারা চুক্তির পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। দেশের মূল্যবান রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচার এবং বন্দর কর্মীদের চাকরিচ্যুতির শঙ্কা রয়েছে। সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্দরের ভূমিকা বিলোপ হয়ে বন্দর-ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। খেসারত দিতে হবে ভোক্তা বা দেশবাসীকে।
চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা না দেয়ার দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটির ঘোষিত ৫ অক্টোবর বন্দর গেইটের সামনে অবস্থান কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রাম। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্কপ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক জরুরি সভা যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বন্দরের এনসিটি, সিসিটিসহ স্থাপনা ইজারার উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: এবার খুলনায় যুবদল নেতা রামিম বিশ্বাস গুলিবিদ্ধ
সভায় বক্তব্য রাখেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক বন্দর সিবিএ সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, শ ম জামাল উদ্দিন, আব্দুল বাতেন, সোহাগ হোসেন, নুরুল আবসার তৌহিদ, হেলাল উদ্দিন কবির, আবু আহমেদ মিয়া, ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন