১২:২৪ এম
চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখলসহ নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছিল। তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং ধারাবাহিক অভিযানগুলো রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিএনপি পরিবারের সদস্য ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টিকে দল থেকে পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী ও দলের প্রতি কঠোর অবস্থানের একটি নতুন বার্তা প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের জন্য নতুন একটি বার্তা হিসেবে কাজ করছে। মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে বড়-ছোট রাজনৈতিক নেতাদেরও চাঁদাবাজি বা অন্যায় করলে কোনো ছাড় নেই। রাজনৈতিকভাবে প্রধানমন্ত্রী একটি শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন, যা স্বস্তির পাশাপাশি দেশের সর্বমহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তবে স্বস্তির পাশাপাশি শঙ্কাও বিদ্যমান। কারণ একটি সুশীল গ্রুপ আবারও হকারদের উচ্ছেদে মানবাধিকার হরণের অভিযোগ তুলছে। অথচ তারাই দু’দিন আগে বলেছিল, ফুটপাতে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছে না। তাই জনমনে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে মানবাধিকারের নামে ফুটপাত দখলে উস্কে দেওয়া হচ্ছে হকারদের।
অবৈধ দখল উচ্ছেদ, চাঁদাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, সাময়িক অভিযান ও কঠোর অবস্থানের পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে তাদের ভোগান্তিও ফিরে আসবে। তাই এসব উদ্যোগকে টেকসই ও নিয়মিত রাখতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজি বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বর্তমান স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে সরকারের সাম্প্রতিক তৎপরতায় স্বস্তির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটি স্থায়ী, কার্যকর ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের।
দেশজুড়ে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মব সন্ত্রাসের ঘটনায় সাধারণ মানুষ হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। তবে এসব আর প্রশাসনিকভাবে প্রশ্রয় বা অগ্রাহ্য করার পুরনো ধারায় নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি একটি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের জিরো টলারেন্স প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন লক্ষ করা যাচ্ছে। মিরপুরে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হওয়ায় দখলবাজদের বেপরোয়া ঔদ্ধত্য প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। কোথাও কোথাও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ সামনে আসছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া এবং লুটপাট করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে যখন দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে, ঠিক এর এক দিন পরেই রাজধানীর ইসিবি এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা এবং সেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। একই দিন ভোরে রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে বহুতল ভবন দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সেদিনই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে কয়েক শ লোক একটি প্লটে ঢুকে ভাঙচুর করে লুটপাট করে। এসব ঘটনায় সরকারি দলের স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরকে বাঁচাতে এবং প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনবিআর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ কয়েকটি সংস্থার গভীর ষড়যন্ত্র নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। তবে এর নেপথ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত দেশের একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ। ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোটি কোটি টাকা দেয়া হয়েছে দু’টি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তাকে। আর ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাই কৌশলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কতিপয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের চারটি কূটনৈতিক মদের ওয়্যারহাউস বা গুদামে অভিযান শেষে সিলগালা করে। নূর ইসলাম ফু ওয়াং কোম্পানীর মালিকানাধীন ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী। বছরের পর বছর ধরে সরকারের নিয়ম মেনে এ সব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে আসছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতা আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়ে মো. সোহান (৩৫) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে গুরুতর আহত করেন। সোহানের অভিযোগ, ঘটনার রাতে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ফেরদৌস আহমেদ সায়মন কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাঁর পথরোধ করেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ফেরদৌস পিস্তলের বাঁট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। একপর্যায়ে ফেরদৌস দুটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। স্থানীয় লোকজন ধাওয়ায় ফেরদৌস তাঁর সহযোগীদের নিয়ে একটি ভবনে ঢোকেন। রাত ১২টা পর্যন্ত বাংলামোটর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। ভবনটির সামনে অবস্থান নেয় হাজারো জনতা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে ফেরদৌস আহমেদ ও তার দুই সহযোগীকে আটক করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ফেরদৌস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছেন। তাকে চাঁদা না দিলে তিনি তাঁর সহযোগীদের নিয়ে স্থানীয়দের ওপর হামলা চালান। একই রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে থানার সামনেই এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ ওঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি পদে থাকা মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। মারধরের ঘটনায় রাতে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে বিএনপি নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। জানা গেছে, এ ঘটনার পর ওই নেতাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর ৪টি বারে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় ‘কয়লা’ বারে অভিযান শেষে ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর)-এর উপ-পরিচালক মো. রাজিউর রহমান বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন বারে একযোগে অভিযান হয়েছে। এর মধ্যে ফুয়াং ক্লাব, রুচিতা, ব্লেজার ক্লাউস ও কয়লায় অভিযান চালানো হয়েছে। এদিকে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় দলীয় এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে গত বুধবার জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ছাড় দেয়া হবে না। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক, জুয়াসহ যেকোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে, তাদের দলীয় পরিচয় যাই হোক, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসআরবিয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং একটি ভীতিহীন, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা সদা তৎপর। জননিরাপত্তা রক্ষা এবং একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাধ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং আপসহীন। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এছাড়াও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত সড়ক ও ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে হকার, ভাসমান দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ দখলের কারণে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান জোরদার করেছে। অভিযানে ফুটপাত থেকে অস্থায়ী দোকান, টংঘর, বিভিন্ন পণ্যের পসরা, স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের দখল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নগরের ফুটপাত ফিরে পেতে শুরু করেছে স্বাভাবিক চেহারা। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখলমুক্ত হওয়ায় বাড়ছে স্বস্তি। আগে যেখানে পণ্যের পসরা, স্থাপনা, নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা কঠিন ছিল, উচ্ছেদ অভিযানের পর সেসব এলাকায় পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই উদ্যোগ নিয়মিতভাবে চালু থাকলে সড়কে মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন নগরবাসী। ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পথচারীদের মধ্যে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে উচ্ছেদের পর ফুটপাতগুলো আবার দখলমুক্ত রাখা, সিটি করপোরেশনের তদারকি ও নিয়মিত অভিযানের ওপর। কঠোর অভিযান বলতে শুধু উচ্ছেদ নয়, অবৈধ দখল পুনরায় যাতে না হয় সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি। ফুটপাতের ওপর বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা সরানোর পর সেখানে যাতে পুনরায় দোকান বসতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।
অভিযান কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন বা বিশেষ কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে পরিচালনা না করে নিয়মিতভাবে চালানো প্রয়োজন। আগেও দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়। একটি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার পর যদি সেখানে নিয়মিত নজরদারি না থাকে, তাহলে নতুন করে দোকান বসানো বা আগের দোকান ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। অভিযান নিয়মিত চালানোর পাশাপাশি পথচারীবান্ধব ফুটপাত এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে বলছেন তারা।
মিরপুরের বাসিন্দা সাহাদাত হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, রাজধানীর বেশিরভাগ ফুটপাতের ওপর দোকান বসিয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে হকাররা। ফুটপাতের ওপর দোকান বসলে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়। কোনো কোনো এলাকায় ফুটপাতের পুরো অংশ দখল হয়ে গেছে। আমাদের রাস্তার পাশে বা মূল সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়। আমরা প্রতিনিয়তই এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
একই এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের ফলে এলাকায় পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে ছিল সেখানে উচ্ছেদের পর হাঁটার জায়গা তৈরি হওয়াকে স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন অনেকে। ফলে শুধু অভিযান নয়, উচ্ছেদের পরবর্তী সময়ে নিয়মিত নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখল করলে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করবে ডিএনসিসি। জনগণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ফুটপাত পুনরায় দখলের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ইনকিলাবকে বলেন, ঢাকা নগরীর স্বাভাবিক নাগরিক সুবিধা ও নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই। পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে মূল সড়কে বা ফুটপাতে হকারদের ব্যবসা করতে দেয়া হবে না। যত্রতত্র বসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বরদাশত করা হবে না। অবৈধ দোকান বসালে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর ড. আদিল মুহাম্মদ খান ইনকিলাবকে বলেন, নগর পরিবহন ব্যবস্থায় পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও বাধাহীন ফুটপাত গুরুত্বপূর্ণ। ফুটপাত খালি করার পাশাপাশি সেখানে পথচারী পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চালানো যেতে পারে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখল সমস্যার সঙ্গে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয় ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কাজ করা প্রয়োজন। ফুটপাত দখলের সঙ্গে জড়িত চাঁদাবাজি বা প্রভাবশালীদের ভূমিকা থাকলে তা বন্ধ করার ব্যবস্থাও জরুরি।
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন