ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

হবিগঞ্জে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে বাবা ও ছেলের মৃত্যু


হবিগঞ্জে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে বাবা ও ছেলের মৃত্যু

হবিগঞ্জের বাহুবলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২ টার সময় উপজেলার ৭নং ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব ভাদেশ্বর (তকিয়া) গ্রাম এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের নাম হচ্ছে ওই গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের দুবাই প্রবাসী ছেলে আইনুদ্দীন (৫০) এবং তার ছেলে রাশেদ মিয়া (১৮)। এ ঘটনার ফলে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় আইনুদ্দীন, যিনি দুবাইতে কর্মরত, তার ছেলে রাশেদ মিয়াকে নিয়ে নিজ বাড়ির পুকুর থেকে শেলো মোটর ব্যবহার করে পানি সেচের কাজ করছিলেন। অদূরদর্শিতা থেকে তারা বৈদ্যুতিক লাইনের তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: ছবি দিয়ে রাজনৈতিক চরিত্রহননের চেষ্টা! দীর্ঘ ত্যাগের পরও অপপ্রচারের অভিযোগ বিএনপি নেতা রিপন বল্লভের

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী জানিয়েছেন, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে থানাকে অবগত করা হলে পুলিশ লাশ হেফাজতে নেয়।

বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ইকতার মিয়া জানিয়েছেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

নিহতদের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য নাছিম উদ্দিন জানিয়েছেন, আইনুদ্দীন দীর্ঘ সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি দেশে ছুটিতে এসেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে শনিবার পুনরায় তার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বাবা এবং ছেলের এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: ঈদগাঁওয়ে অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা, গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা সরঞ্জাম জব্দ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবশেষে সুইস ফুটবলারকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রদান করা হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৭ পি.এম


অবশেষে সুইস ফুটবলারকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রদান করা হলো

ব্রিল এমবোলো কী বিপাকে পড়েছিলেন তা সম্ভবত আমাদের সকলের জানা উচিত! রেঁনের এই ফুটবলার সুইসদের মধ্যে বিশ্বকাপে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তা তো হওয়ারই কথা! তিনি দলের পঞ্চম অধিনায়ক। তার ৮৬টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং স্কোয়াডের মধ্যে তিনি চতুর্থ সর্বোচ্চ অভিজ্ঞ ফুটবলার। আর গোলের ক্ষেত্রেও অবিস্মরণীয়। ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে তার নামের পাশে সর্বোচ্চ ২৪টি গোল রয়েছে। অথচ, বিশ্বকাপে তার খেলার বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র এমবোলোর ভিসা দিচ্ছিল না। সুইস বিশ্বকাপ দল গত ২ জুন জুরিখ থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে উড়াল দিলেও এমবোলো যেতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র তার ভ্রমণ অনুমোদন নথি (ইএসটিএ) পর্যালোচনার অধীনে রেখেছিল। ইএসটিএ (ইলেকট্রোনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথোরাইজেশন) হচ্ছে একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যা ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের যোগ্যতা নির্ধারণ করে।

এমবোলো এই বিপাকে পড়েন ২০১৮ সালের একটি ঘটনার কারণে। ওই সময় বাসেলে একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সুইস আদালতের রায় সম্প্রতি চূড়ান্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে, তিনি হুমকি দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং স্থগিত জরিমানার শাস্তি পান, যা আপিলেও বহাল থাকে। সুইস গণমাধ্যম জানায়, তিনি ফেডারেল কোর্টে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রায়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে অবশেষে এমবোলোর ভিসা প্রদান করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সুইস ফুটবল ফেডারেশন। এমবোলোর শুক্রবার বিকেলে স্যান দিয়েগোয় পৌঁছানোর কথা। সুইজারল্যান্ড এখানে আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে।

সুইস ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা মাত্রই জানতে পেরেছি যে ব্রিল এমবোলোর ভিসা অনুমোদিত হয়েছে। তার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে আর কোনো বাধা নেই। শুক্রবার সন্ধ্যায় সে দলের সঙ্গে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

সুইজারল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপে বি গ্রুপে রয়েছে। তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে ১৩ জুন কাতারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে, ১৯ জুন দ্বিতীয় ম্যাচ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। ২৪ জুন তারা শেষ ম্যাচটি খেলবে কানাডার বিপক্ষে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় চলচ্চিত্রের শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় চলচ্চিত্রের শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক জনসচেতনতা তৈরি করতে চলচ্চিত্রের মতো শক্তিশালী মাধ্যম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘সমাজ পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী বার্তা থাকে এমন চলচ্চিত্রকে সরকারের অনুদান প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। আর সেই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ সংশ্লিষ্ট যেকোনো চলচ্চিত্রের প্রস্তাবকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।’

আজ শুক্রবার, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী আয়োজিত ‘গ্লোবাল ট্রেন্ড অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (জিটিসিএফ) ২০২৬’-এর সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশন আয়োজিত এই উৎসবে পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটি যুগোপযোগী ও স্পর্শকাতর বিষয়কে মূল ভাবনা হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য আয়োজকদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ দিবসের এই আয়োজনকে কেবল প্রথম আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতি বছর আরও পরিকল্পিতভাবে করা উচিত।’

প্রতিটি ফিল্ম প্রোডাক্ট ও কন্টেন্ট মানসম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এগুলোকে শুধুমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই নয়, এর বাইরেও সর্বোচ্চ প্রচারের আওতায় আনতে হবে। যারা এখনো পরিবেশ এবং জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অসচেতন, তাদের চিন্তার খোরাক জোগাতে এই শর্ট ফিল্ম এবং কন্টেন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই প্রচারের ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়ের যে চলচ্চিত্র অনুদান প্রক্রিয়া এবং নীতিমালা রয়েছে, সেখানে আপনাদের এই উদ্যোগগুলো কীভাবে সংযুক্ত হতে পারে, তা আপনাদের নিজেই একটু খুঁজে দেখতে হবে। আমরা নীতিমালার আলোকে পরিবেশবান্ধব এবং সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্রকে সরকারি অনুদানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

উৎসবের উদ্যোক্তা এবং তরুণ নির্মাতাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের এই যাত্রাটা যতটুকু সীমিত পরিসরে হোক না কেন, এর প্রভাব কিন্তু বৈশ্বিক। ফলে অত্যন্ত দৃঢ়চিত্তের মন এবং সক্রিয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে মাথা উঁচু করে আপনাদের এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

উৎসবে উপস্থিত আলোচক ও বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে চলচ্চিত্র, গল্প এবং সৃজনশীল সংলাপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এসডো এবং পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় এবং নেক্সাস টেলিভিশনের মিডিয়া পার্টনারশিপে আজ সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক, দেশী-বিদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আম্মাজান’ খ্যাত অভিনেত্রী শবনমের বাসায় এক বিকেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


‘আম্মাজান’ খ্যাত অভিনেত্রী শবনমের বাসায় এক বিকেল

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৩টা। সময় টেলিভিশনের দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে একবার দেখা করার চিন্তা মাথায় এলো বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনমের সঙ্গে। যার পারিবারিক নাম ঝর্ণা বসাক হলেও তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কোটি দর্শকের কাছে ‘শবনম’ নামেই পরিচিত। তিনি এবার দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি অভিনয় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমবারের মতো তাঁর মাতৃভূমিতে পাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা। এই অনুভূতি জানতেই রওনা হলাম তার বাসার দিকে।

বাংলামোটর থেকে বারিধারার দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার। আমার সঙ্গে ছিলেন সময় টেলিভিশনের ভিডিও জার্নালিস্ট শাহিনুর রহমান শাহিন এবং এই আড্ডার আয়োজক, চলচ্চিত্র বিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিক অভি মঈনউদ্দিন। তার হঠাৎ সিদ্ধান্তে বিকেলের ব্যস্ত ঢাকা পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম অভিনেত্রীর বাসায়।

কলিং বেলের শব্দ উঠতেই দরজা খুললেন বাসার কেয়ারটেকার। আমাদের বসার জায়গা হলো ড্রয়িংরুমে। বিশ্রাম নিতে নিতে চারপাশে চোখ বুলাতেই চোখে পড়লো সাজানো নানা স্মৃতিচিহ্ন, পুরনো দিনগুলোর ছবিগুলো তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

অপেক্ষার কয়েক মুহূর্ত পরেই এলো সেই কাঙ্ক্ষিত সময়। হাসিমুখে আমাদের সামনে এসে বসলেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম। বয়সের ছাপ থাকলেও তার ব্যক্তিত্ব এবং সৌন্দর্যের দীপ্তি আজও মুগ্ধ করে।

কথার শুরুতেই উঠে আসে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা পাওয়ার প্রসঙ্গ। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিনয় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে নিজের দেশের কাছ থেকে এমন সম্মান পাওয়া তার কাছে এক অন্যরকম অনুভূতি। যদিও নিজের দেশের এমন স্বীকৃতি দেরীতে আসার কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে, তবে শবনম বলেন, "অনেক পুরস্কার পেয়েছি, অনেক সম্মানও পেয়েছি। কিন্তু নিজের দেশের এই সম্মাননা আমার হৃদয়ের খুব কাছের।"

আলাপচারিতার এক পর্যায়ে উঠে আসে তার অভিনয় জীবন থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গ। ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আম্মাজান’। সিনেমার পর আর কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি তাকে। কিন্তু কেন?

জবাবে শবনম জানান, ‘আম্মাজান’ ছিল তার অভিনয় জীবনের অন্যতম স্মরণীয় কাজ। ছবিটি মুক্তির পর অসংখ্য চলচ্চিত্রের প্রস্তাব এলেও কোনো চরিত্রই তার মন ছুঁতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, "অনেক ছবির অফার পেয়েছিলাম। কিন্তু আম্মাজানের পর এমন কোনো চরিত্র পাইনি, যেটা আমাকে অভিনয়ের জন্য আকৃষ্ট করতে পারে। তাই আর সিনেমা করা হয়নি।"

আড্ডা জমতে থাকলে ফিরে যান আরও পেছনের দিনে। অকপটে শোনান চলচ্চিত্রে আসার গল্প, অভিনয়ের শুরুর সময়ের নানা স্মৃতি, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের অভিজ্ঞতা। তার কথায় বারবার ফুটে উঠছিল শিল্পের প্রতি ভালোবাসা আর দর্শকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। শবনম বলেন, "নাচ শিখতাম। নাচের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসা। বিখ্যাত এহতেশাম সাহেব বাবাকে বলে সিনেমায় নেয়ার জন্য। বিষয়টি মাকে বললে আমার মা বলেন, ও তো ছেলের মতো, ও তো অভিনয় করতে পারবে না। কিন্তু বাবার বিশ্বাস ছিল যে আমি পারবো। তার ইচ্ছাতেই আমি চলচ্চিত্রে আসি।"

পরবর্তীতে এহতেশাম পরিচালিত ‘এদেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রের নৃত্যে অভিনয়ের সুযোগ পান শবনম। এহতেশামের পাশাপাশি পরিচালক মুস্তাফিজের নজর কাড়তে সক্ষম হন অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেই। ১৯৬১ সালে মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন শবনম।

পাকিস্তানি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে গুণী অভিনেত্রী বলেন, "উর্দু ছবি করলে পাকিস্তানের বাজারে পৌঁছানো যাবে-এহতেশাম সাহেবের এমন পরামর্শ এবং দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের স্বার্থেই ‘চান্দা’ সিনেমায় অভিনয় করি। তখন উর্দু ভাষা ভালোভাবে বুঝতাম না। সংলাপ বাংলায় লিখে নিয়ে উর্দুতে ডাবিং করতাম। ছবিটি পাকিস্তানে মুক্তির পর সুপারহিট হয়। এরপর ‘তালাশ’ সিনেমাতেও অভিনয় করি, সেটিও ব্যাপক সাফল্য পায়। এরপর পাকিস্তান থেকে অসংখ্য সিনেমার প্রস্তাব আসতে থাকে। কিন্তু আমি খুব একটা রাজি হতাম না। এভাবেই প্রায় দশ বছর কেটে যায়। অবশ্য এই দশ বছরে আমি পাকিস্তানি ভাষা শিখে ফেলি।"

শবনম আরও জানান, "আমার স্বামী রবিন আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। প্রথমবার লাহোরে গিয়ে মনে হয়েছিল, পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে হয়তো আমার পক্ষে কাজ করা সম্ভব হবে না। কিন্তু স্বামীর সমর্থনেই আমি আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাই। ষাটের দশকে কাজী রিজভানী'র পরিচালনায় ওয়াহিদ মুরাদের বিপরীতে ‘লাদলা’ ছবির ‘সোচা থা পিয়ার না করেংগে’ গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পায়। ছবিটি সুপারহিট হয়। এরপর সেখানকার প্রযোজক-পরিচালকরা আমাকে নিয়ে একের পর এক সিনেমা নির্মাণ করতে শুরু করেন।"

পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং অভিনেত্রীর ইচ্ছাশক্তির কথা শুনতে শুনতে কখন যে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছিল, তা বুঝতেই পারছিলাম না। দীর্ঘ সময়ের সেই আড্ডায় মনে হয়নি আমরা একজন তারকার সঙ্গে কথা বলছি। বরং মনে হয়েছে পরিবারেরই একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য তার জীবনের গল্প শুনিয়ে যাচ্ছেন। বিদায়ের সময়ও তার চোখে ছিল সেই আন্তরিকতার ছোঁয়া।

বারিধারা থেকে ফেরার পথে মনে হচ্ছিল, আজীবন সম্মাননা হয়তো একজন শিল্পীর অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। কিন্তু শবনমের মতো শিল্পীদের প্রকৃত সম্মান লুকিয়ে আছে দর্শকের হৃদয়ে, যেখানে তিনি বহু আগেই নিজের জন্য স্থায়ী আসন তৈরি করে নিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে, তিনি উখিয়ার বালুখালী এলাকার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

দুপুরে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজারে পৌঁছান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে বিকেল ৪টার দিকে তিনি উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানে, তিনি তুরস্কের সহায়তায় স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোহিঙ্গা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরবর্তীতে, তিনি ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন। এসব ক্যাম্পে অবস্থিত তুরস্কের নির্মিত ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র‌্যাব-১৫ সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সফরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং তার সফর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সফরের অংশ হিসেবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। সফরে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%