০৮:৩৬ পি.এম
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সদ্য প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষায় স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো আসন সংকটের সম্ভাবনা নেই।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজসমূহের সমন্বয়ে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তির সুযোগ রয়েছে, যা এইচএসসিতে উত্তীর্ণ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা থেকে দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, এর মধ্যে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: ডিএনএ বিশ্লেষণে সর্বোচ্চ ১৭৪৭ গুণ দ্রুত বাকৃবির নতুন সফটওয়্যার
অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট আসন সংখ্যা ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাসস’কে জানিয়েছেন, এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত আসন রয়েছে। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ লাখ আসন রয়েছে, যেখানে এ বছর পাস করেছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব মানদণ্ড ও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘উচ্চশিক্ষার জন্য আসন সংকট থাকবে না। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে।’
ইউজিসি জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৬১টি সরকারি (পাবলিক) বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি আসনের মধ্যে ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং এগুলোর অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে মোট আসন রয়েছে ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি।
আরও পড়ুন: রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম ‘ক্যানভাস’ এর যাত্রা শুরু
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি আসন সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬,১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩,৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪,০৩৩টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১,৮৪৮টি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২,৫১৫টি এবং অন্যান্য সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য আসন রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১,৩০৯টি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ৯৩১টি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১,২৩৫টি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১,১০৫টি এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ৭৮০টি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১,০৩৪টি এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি আসন রয়েছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠানে সিংহভাগ আসন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজসমূহে রয়েছে, যেখানে আসন সংখ্যা ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ হাজার ৪৩৪টি এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে ১১ হাজার ৫৫টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মোট আসন রয়েছে ১১ হাজার ২৯০টি।
ইউজিসি জানিয়েছে, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৫,১০০টি, ৭২টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৬,০০১টি, ৯টি সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫টি, ২৮টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ১,৪৯০টি এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিকেলে মোট ৩৭৫টি আসন রয়েছে।
আরও পড়ুন: জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে ইতিহাস পরিবহনের ১২ বাস আটক
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন, সার্বিকভাবে দেশে বিপুল পরিমাণ আসন উদ্বৃত্ত থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা হবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের ৬৩ হাজার ৬৫৬টি আসন এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর জন্য। এ বছর মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় তারা মূলত প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।
তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে পারবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন