০৩:২৩ পি.এম
খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের সংলগ্ন দীঘিতে অবস্থিত কুমিরটিকে সরানো হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টায় মাজার শরীফের দীঘি থেকে বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল কুমিরটিকে ধরে গাড়িতে করে খুলনায় নিয়ে গেল।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় সরকারের তরফ থেকে দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কুমিরটিকে কিছুদিন বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর নতুন ঠিকানায় পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: মদনে বিদ্যালয় রক্ষার কাজে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন
গত রবিবার রাতে, হজরত খানজাহান (রহ.) মাজার শরীফের দীঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে গিয়ে ৭ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তারকে কুমিরটি ধরে নিয়ে যায়। মানসিক প্রতিবন্ধী ওই মেয়েটির মরদেহ সোমবার সকালে দীঘির কাছে পাওয়া যায়, যার কারণে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
১০ এপ্রিল পূর্বে একই দীঘির প্রধান ঘাটে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুই কুমির নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় ফেলেছিল। সবকিছু মিলিয়ে শিশুর মৃত্যুর পর, জনদাবির মুখে জেলা প্রশাসন কুমিরটিকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বুধবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে কুমিরটিকে ধরা শুরু করে। দুপুর ১২টায়, বন বিভাগের প্রশিক্ষিত কর্মীরা কুমিরটিকে মাজার শরীফের দীঘির পূর্ব পাড় থেকে অপসারণ করে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, মাজার শরীফ দীঘি থেকে কুমিরটিকে সরানোর কার্যক্রম বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও নির্মল কুমার পালসহ একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে আসে এবং কুমিরটির খোঁজ করতে শুরু করে।
আরও পড়ুন: যুবদল নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল কুমিরটিকে আটক করার পর দ্রুত গাড়িতে করে খুলনায় নিয়ে যায়। বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্রে কুমিরটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজনে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে।
দীঘিতে নিরাপত্তা বলয়ের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত কুমিরটিকে প্রথমে খুলনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে, ফেন্সিং দেওয়ার পর কুমিরটিকে আবার হজরত খানজাহান (রহ.) মাজার শরীফের দীঘিতে ফিরিয়ে আনা হবে।
নোট হিসেবে, বাগেরহাটের খানজাহান (রহ.) মাজার দীঘির কুমির নিয়ে একটি দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিদ্যমান। ঐতিহাসিকদের মতে, প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে হজরত খানজাহান (রহ.) মাজারের সামনে দীঘি খননের পর সেখানে কুমির ছেড়ে দেওয়া হয়। পুরুষ কুমিরটির নাম ছিল ‘কালা পাহাড়’ এবং স্ত্রী কুমিরটির নাম ‘ধলা পাহাড়’। পরবর্তীকালে তাদের বংশধরদেরও একই নামে ডাকা হতো। সর্বশেষ বংশধর কুমিরটির মৃত্যু ঘটে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
আরও পড়ুন: নীলফামারীতে ঐতিহাসিক পল্টন ট্রাজেডি দিবস পালিত: অতীতের সকল মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচারের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন