মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৮:২৪ পি.এম
নেত্রকোনার বারহাট্টায় একটি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা কবির আহমেদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের বোয়ালজানা গ্রামের আতহারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী আটপাড়া উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সম্প্রতি সে বাড়িতে বেড়াতে আসে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে বোরকা পরা অবস্থায় সে বোয়ালজানা গ্রামের ওই মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। এ সময় মাদ্রাসার পুকুরপাড়ে থাকা কয়েকজন যুবকের সন্দেহ হলে তাঁরা শ্রেণিকক্ষের দিকে যান।
ওই যুবকদের দাবি, কিছুক্ষণ পর তাঁরা মাদ্রাসার মুহতামিম ও কিশোরীকে আলাদা দুটি দিক দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে একটি কনডম পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইদুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে তাঁর দাবি, ওই কিশোরী নিজ ইচ্ছায় মাদ্রাসায় এসে এ ঘটনায় জড়িয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাদ্রাসার সভাপতি সাইদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মুহতামিমের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে বুধবার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার আইনানুগ বিচার হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।
সাহতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাজু এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ভুক্তভোগীর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
ওসি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারসহ সংশ্লিষ্টদের আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। এখন ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে নদীগুলো আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি উল্লেখ করেন, ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। এর জন্য বর্ষার পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জোরালো আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।
আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় পানি সম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা গেলে পদ্মার শাখা-উপশাখাসহ অন্যান্য নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষি সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তিনি যোগ করেন, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমেও নদীগুলোর বিভিন্ন অংশে পানির স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে। তিস্তা ও যমুনা নদীর উপর সেতু দিয়ে যাতায়াতের সময় নদীর মধ্যে চর দেখা যায়।
রিজভী বলেন, পদ্মার শাখা-উপনদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহিত না হওয়ায় সমুদ্র থেকে আসা লবণাক্ত পানিকে ঠেলে সমুদ্রের দিকে পাঠানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে লবণাক্ততা বাড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফারাক্কার প্রভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে বৃষ্টিপাত ৩০ শতাংশ কমেছে। ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাব এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
ফারাক্কা চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে পানির হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে তা বাদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আরও জোরালো অবস্থান নিতে হবে। এজন্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানির অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধ রয়েছে। কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, পানির হিস্যার প্রশ্নে কোনো পক্ষই সহজে ছাড় দিতে চায় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন।
নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরে রিজভী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে আর্সেনিকের সমস্যা এবং পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপের ফলে পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, বিশিষ্ট পানিবিজ্ঞানী বি. এম. আব্বাস তার ‘গঙ্গেস ওয়াটার ডিসপিউট’ বইয়ে ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। ব্রিটিশ আমলের প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্য পদ্মার ওপর বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
রিজভী বলেন, পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে জলাধার নির্মাণ করে বর্ষার পানি সংরক্ষণ এবং শাখা-উপনদীগুলোতে পানির প্রবাহ বজায় রাখা গেলে নদীগুলো আবার সচল হবে। এতে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌযোগাযোগের উন্নয়ন সম্ভব হবে। নদীকেন্দ্রিক বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাম্পান ও পানসি নৌকার চলাচলও আবার দেখা যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কাজে লাগানো গেলে নদীর প্রবাহ বজায় রাখা এবং কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যাবে।
গোলটেবিল বৈঠকের বিশেষ অতিথি আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। একসময় এসব এলাকায় সব ধরনের ফসল উৎপাদিত হতো। কিন্তু বর্তমানে পানির সংকট ও নদীর পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলটির মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তিস্তাকে ঘিরে প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি, তিস্তা নদী সুরক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশি প্রফেশনালস যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সুলতানা আহমেদ ও সেলিম রেজা হাবিব।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মো. আনোয়ার কাদির এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেহেদী হাসান পলাশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার গন্ডা বাজারের একটি দোকানঘরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় জুয়া খেলার তাস ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাফিজুর রহমান ওরফে খোকন (৬০) ও আলী ওসমান (৪২)। তাঁদের আটকের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাদক উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অভিযানে বের হয় কেন্দুয়া থানা পুলিশের একটি দল। উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে দলটি বুধবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে সাহিদপুর বাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় গন্ডা বাজারে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির দোকানঘরে টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার খবর পায় পুলিশ।
পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে ভোর সোয়া ৪টার দিকে ওই দোকানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলেও ছয়জনকে আটক করা হয়।
আটক অন্য চারজন হলেন গন্ডা চর গ্রামের খুররম মিয়া (৫০), মনকান্দা গ্রামের চান্দু মিয়া (৪৫), বীরমহুরী গ্রামের সোহাগ (৪৫) ও মরিচপুর গ্রামের মজিবুর রহমান (৬০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান খোকন ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এবং আলী ওসমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আটক সোহাগ উপজেলা বিএনপি ও খুররম মিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানের সময় দোকানঘরের একটি টেবিল থেকে ১০৪টি তাস ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেছেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর ৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। বুধবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে গন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম কল্যাণ এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাদক ও জুয়া নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আমার জানামতে, ইউপি সদস্যদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা নয়। তবে তাঁরা যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
(প্রকাশের আগে যাচাই করুন: ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর নাম, কার্যকারিতা ও ৪ ধারার প্রযোজ্যতা এবং আটক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার বেলা ১১টায় মহাখালীতে আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদকে নিযুক্ত করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১ শাখা) ইমতিয়াজ হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
মারধরের ঘটনার পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাজী আহমেদ জাকি তার কার্যালয়ে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন, এমন সময় ৮-৯ জন ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তাকে চেয়ার থেকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে মারধর শুরু করেন এবং ধাক্কা দিতে দিতে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘরে থাকা অন্য ব্যক্তিরা আগন্তুকদের বাধা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে অধ্যাপক জাকি আবার গিয়ে তার চেয়ারে বসেন।
আইইডিসিআর পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, "সরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে। আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না, মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছি।"
সংস্থাটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকালে পরিচালক নিজ কক্ষে কাজ করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে ড্যাবের কয়েকজন এসে পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপরই তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, "ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষই আমাদের লোক। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি এবং এ ধরনের কোনো আচরণ সমর্থন করি না। যদি কেউ ড্যাবের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করে, তবে আমরা কড়া সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।" তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তি ড্যাবের সদস্য বলে তারা তথ্য পেয়েছেন।
অন্যদিকে, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ বলেন, "অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী দুজনই আমাদের সংগঠনের সদস্য। তবে অভিযুক্ত ছেলেটি আইইডিসিআরের একটি প্রজেক্টে কাজ করত, সম্প্রতি তার চাকরি চলে গেছে। এটা নাকি অন্য কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "তবে এ সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে আগের সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজের অফিসে বৈঠক করেন, তা-ও দেখার বিষয়।"
ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার সকালে আইইডিসিআর পরিচালকের কক্ষে অপ্রীতিকর ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. জাহিদের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। তাঁকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাব সভাপতি ও মহাসচিব বরাবর উপযুক্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
উল্লেখ্য, আইইডিসিআর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা, যা রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ, গবেষণা পরিচালনা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা জারির দায়িত্ব পালন করে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আইইডিসিআরের পরিচালক পদে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে সাদমান ইসলাম নিজের পারফরম্যান্সে দারুণভাবে নজর কেড়েছেন। সেঞ্চুরির জন্য বাংলাদেশী ওপেনার মাত্র এক রান দূরে রয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রথম পছন্দের ওপেনার হিসেবে সাদমানের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য ওপেনারদের তুলনায় তাঁর পারফরম্যান্স এখনও সন্তোষজনক নয়।
বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আশা প্রকাশ করেছেন যে ওপেনার সাদমান ইসলাম নিয়মিতভাবে নিজের ইনিংসগুলোকে বড় করার ক্ষমতা বাড়াবেন।
৩২ টেস্টের ৬০ ইনিংসে সাদমান ১০টি অর্ধশতকের বিপরীতে মাত্র দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে দলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২১৩ রানে পৌঁছানোর পর তিনি ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিনে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছালে এটি হবে তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি।
সালাহউদ্দিন সাদমানের ধৈর্য ও উইকেটের অবস্থা বুঝে খেলার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, বাঁহাতি এই ব্যাটার অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে কঠিন সময় পার করেছেন এবং এরপর নিজের মতো করে ইনিংস এগিয়ে নিয়েছেন।
দিনের খেলা শেষে সালাহউদ্দিন বলেন, “সে উইকেট খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে এবং খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলেনি। কঠিন সময়টা পার করে এরপর নিজেকে ধরে রেখে ইনিংস খেলেছে।”
আলোস্বল্পতার কারণে প্রথম দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়।
তবে সাম্প্রতিক এই ইনিংস থেকে সাদমান শিক্ষা নেবেন এবং ক্রিজে বেশি সময় কাটিয়ে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারবেন বলে আশাবাদী ব্যাটিং কোচ।
তিনি বলেন, “সে অনেক ভালো ও জোড়ালো কিছু অর্ধশতক করেছে, কিন্তু সেগুলোকে বড় করতে পারেনি। আশা করি, এই ইনিংস থেকে সে অনেক কিছু শিখবে এবং ভবিষ্যতে সেঞ্চুরি করা তার জন্য সহজ হবে।”
বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে ৪০০ রানের বেশি সংগ্রহ করবে বলেও বিশ্বাস করেন সালাহউদ্দিন। তবে ম্যাচের বাকি চার দিন থাকায় এখনো লড়াই সমানে সমান বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, “আশা করি, এই উইকেটে আমরা ৪০০ রানের বেশি করতে পারব। তা করতে পারলে আমরা ভালো অবস্থানে থাকব।” পাঁচ দিনের পুরো খেলায় ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উইকেটে বোলারদের জন্য সহায়তা থাকলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলেছেন বলে মনে করেন সালাহউদ্দিন। তবে ইনিংসের শুরুতে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারলে স্বাগতিকরা আরও শক্ত অবস্থানে থাকতে পারত বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বৃহস্পতিবারের প্রথম সেশন গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে উল্লেখ করেন এই কোচ। তাঁর মতে, টেস্ট ক্রিকেটের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।
এদিকে, পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়া তাওহীদ হৃদয় বৃহস্পতিবার আবার ব্যাটিং করতে পারবেন বলে আশা করছেন সালাহউদ্দিন।
ব্যাটারদের উন্নতির জন্য সাবেক ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের অবদানের কথাও স্বীকার করেন তিনি। সালাহউদ্দিন বলেন, গত এক বছরে আশরাফুলের করা কাজের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কোচিংয়ের মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার আগে তরুণদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, “বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের যেভাবে কোচিং করিয়েছি, সেখানে কোচ হিসেবে আমাদের ভুল ছিল। জাতীয় দলে আসার আগে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে কীভাবে প্রস্তুত করা যায়, তা নিয়ে আমাদের আরও সতর্কভাবে ভাবতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ