ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ

শোককে শক্তিতে পরিণত করে ফাইনালে যেতে চায় বাংলাদেশ


শোককে শক্তিতে পরিণত করে ফাইনালে যেতে চায় বাংলাদেশ

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের লক্ষ্যমাত্রা হলো হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়। দুই ম্যাচ জয়ী হলেই ইতিহাস রচিত হবে। তবে মেয়েদের সেমিফাইনালে হার্ডল অতিক্রম করা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ ও ২০২৪ সালের দুই পূর্ববর্তী আসরে বাংলাদেশ ও নেপাল ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটে গেছে। দুই দেশের নারী ফুটবল দল আজ বুধবার সেমিফাইনালে লড়াই করবে।

কিন্তু মাঠের ফুটবলের চেয়ে, বর্তমানে বাংলাদেশ নারী দলের লাল-সবুজ ড্রেসিংরুমের আবেগ ও মানসিক অবস্থা অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শিউলি আজিমের মায়ের আকস্মিক মৃত্যুবিজ্ঞপ্তির ফলে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের মধ্যে বিষাদের সুর বাজতে শুরু করেছে। শোকের আবহে মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে নির্ধারিত মাঠের অনুশীলন বাতিল করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে মঙ্গলবার বিকেলে গোয়ায় টিম হোটেলের কাছের সমুদ্রসৈকতে হালকা স্ট্রেচিং করে মেয়েরা।

দলের ভেতরে কিছু মতবিরোধ এবং সাম্প্রতিক কঠিন পরিস্থিতির যে মেঘ বাংলাদেশ দলে ঘিরে রেখেছিল, সতীর্থ শিউলি আজিমের মাতার আকস্মিক মৃত্যু যেন সেই অপ্রত্যাশিত মোড় এনে দিয়েছে। শোকের ভারী চাদর মুহূর্তের মধ্যে দলের ভেতরকার মান-অভিমান ও দূরত্বকে আড়াল করে দিয়েছে। আজ ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ মাঠে নামবে শুধু নেপাল দলের বিপক্ষে নয়, নিজেদের শোককে শক্তিতে পরিণত করার কঠিন মানসিক লড়িয়ে থাকার জন্যও।

আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলার সময় দলের অগোছালো রূপ ফুটে উঠেছিল। ড্রেসিংরুমের ভেতরকার দূরত্ব, স্ট্রাইকার আনিকা রানীয়া সিদ্দিকীর সাথে সতীর্থদের মাঠে বোঝাপড়ার অভাব এবং প্রস্তুতির সময় খেলোয়াড়দের মনোযোগের ঘাটতি দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের গুণগত মানকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। তবে শিউলির মায়ের মৃত্যুর সংবাদ সেই দূরত্বের দেয়াল যেন নিমেষের মধ্যে মুছে দিয়েছে। সতীর্থের মাতার মৃত্যুতে ফেসবুকে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তহুরা খাতুন। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমরা যেন সবাই একটা পরিবার... একজনের দুঃখ যেন সবার দুঃখ হয়ে গেছে।’ এই বার্তাই প্রমাণ করে, সাময়িক মতবিরোধগুলোর মধ্যেও দলটির পারস্পরিক টান এবং মানবিক সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে।

মাঠের অনুশীলন বাতিল হওয়া সত্ত্বেও শোককে শক্তিতে পরিণত করে সেমিফাইনালে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার। সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দলের বর্তমান অবস্থা এবং আগামীকালের পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। শিউলির মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর দলের সদস্যদের মানসিক অবস্থার আলোকে কোচ বাটলার বলেন, ‘এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আজিম পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা এবং প্রার্থনা পৌঁছে দেওয়া। শিউলি দলটির অভিজ্ঞ, অত্যন্ত সম্মানিত এবং সকলের প্রিয় একজন সদস্য।’

মাঠের অনুশীলন বাতিল হওয়া ম্যাচের আগে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে মন করছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে অনেক সময় অতিরিক্ত অনুশীলনের প্রয়োজন পড়ে। তাই মাঠের অনুশীলন না হওয়ার কারণে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে, এমন কথা আমি মনে করি না। আমরা আজ বলের উপর লাথি মারিনি। এর পরিবর্তে ভিডিও বিশ্লেষণ এবং এখানকার সতেজ পরিবেশ কাজে লাগাচ্ছি। সৈকতে আমরা হাঁটতে গিয়েছিলাম। এই বিরতিটা সকলকে ঘটনার গভীরতা নিয়ে ভাবার এবং জীবন কেমন ছোট ও নিষ্ঠুর হতে পারে, তা উপলব্ধি করার সুযোগ দিয়েছেন।

২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দলকে শোক কাটিয়ে মাঠে নামতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে মেয়েদের উজ্জীবিত করছেন বাটলার। দলের মানসিকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েদের বলেছি, এখন এই দুঃখ এবং দুঃখজনক ঘটনার নেতিবাচক শক্তিকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। কাজটি অবশ্যই সহজ নয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের মেয়েদের মাঠে নেমে ভালো পারফরমেন্স দেওয়ার এবং জয় অর্জনের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। আমরা পিছিয়ে থাকব না, কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখব না। জয়ের জন্য আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব।’

আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে

ফাইনালে ওঠার প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষ নেপালকে নিয়ে সতর্ক থাকলেও, কোচ বাটলার মূলত নিজেদের খেলাতেই অধিক মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে নেপালের বিরুদ্ধে খেলেছি, অনূর্ধ্ব-২০ দলেও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। আমরা আমাদের হোমওয়ার্ক করেছি। তবে সত্যি বলতে, আমি নেপালকে নিয়ে চিন্তিত নই। আমাদের নিজেদের খেলায় উন্নতি করতে হবে।’

দলের রণকৌশল সম্পর্কে ধারণা দেয়ার সময়, বাটলার আরও বলেন, ‘মমিতার মতো খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে হোল্ডিং পিভট রোলে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। আমরা সমস্যার সমাধানে বসে বসে চিন্তা করবো না। ইতিবাচকভাবে ম্যাচটি নিতে হবে, যাতে আমরা মাঠে গিয়ে তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারি। আমাদের সত্যিই গতিশীল ও মনোযোগী হতে হবে এবং আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডলার ব্যক্তি নাকি মুদ্রা, যাচাই করতে হবে: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


ডলার ব্যক্তি নাকি মুদ্রা, যাচাই করতে হবে: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেছেন, রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি সোহেল রানা ডলারের নামটি তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেননি। এই নামটি চার্জশিটেও নেই। সুতরাং, ডলার একটি দেশের মুদ্রার নাম। এটি একটি ব্যক্তি কি না, সেটি আগে যাচাই করতে হবে।

বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে তিনি এ কথা বলেন। শুনানি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে শুনানি শেষে বিচারক সোহেল রানার কাছে জানতে চান, তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আছে কি না। এ সময় সোহেল রানা আবারও বলেছেন, ডলার নামক একজনকে ধরতে বলছেন।

আইনজীবী আরো বলেন, আসামি সোহেল রানা আজ আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন এবং মাফও চেয়েছেন। আগামীকাল আদালত যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

অপরদিকে, রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সোহেল রানা আদালতে যা বলেছেন, তাতে তার দোষ স্বীকারই প্রতিফলিত হয়েছে।

আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির সময় বিচারক সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না। পরে সোহেল বলেন, ‘জি স্যার, আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করিনি তা -না, আমিও দোষ করেছি।’

‘আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।’ পরে স্বপ্না আক্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছু করিনি, আমি নির্দোষ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে ১১টা ২৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়।

এদিন সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ১০টা ৫৭ মিনিটে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে কোর্টে ওঠেন।

পরে আজ আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানি করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহও আদালতে ছিলেন।

গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পরে গতকাল ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটটি আমলে নিয়ে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একই দিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যান। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করেন, একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ায় রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পায়।

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে।

এই ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলার পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃদ্ধা মায়ের লাশে পচন নিয়ে ফখরুলকন্যার প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


বৃদ্ধা মায়ের লাশে পচন নিয়ে ফখরুলকন্যার প্রতিক্রিয়া

রাজধানীর মিরপুরে এক বৃদ্ধা নারীর পচাগলা লাশ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে দেশে প্রবীণদের নিরাপত্তা, পরিচর্যা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, একজন মায়ের এমন পরিণতি হচ্ছে শুধুমাত্র একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রবীণ সেবা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার উপরও আলোকপাত করেছে।

ড. শামারুহ মির্জা জানান, প্রবীণদের কল্যাণের জন্য বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জনস্বাস্থ্য নিয়ে নানা আলোচনা হলেও, বয়স্ক নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়।

শামারুহ মির্জা তার লেখায় প্রবীণদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিতে বলছেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রবীণ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে জীবন কাটাতে চান। সেজন্য বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা, স্বাস্থ্য সেবা, খাবার সরবরাহ এবং চলাচলে সহায়তার মতো সেবাগুলো বৃদ্ধি করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়ন, বয়স্কদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারী তৈরির উদ্যোগ এবং সামাজিক একাকিত্ব দূর করতে কমিউনিটি ভিত্তিক কার্যক্রম চালনার পরামর্শ দেন।

ড. শামারুহর দাবি, দেশে প্রবীণ জনগণের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সেইজন্য প্রবীণদের স্বাস্থ্য, আবাসন, আয় এবং সামাজিক চাহিদার বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিমালা তৈরি করা একান্ত দরকার।

তিনি উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণ সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিশেষ স্বাস্থ্যসুবিধা কার্যকর করা, পরিচর্যাকারী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে সেবার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

ড. শামারুহ মির্জা তাঁর কথায় বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে বাবা-মায়ের সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পরিবারের সদস্যরা যতদিন সম্ভব প্রবীণ স্বজনদের পাশে থাকবেন—এটাই প্রত্যাশিত। তবে বাস্তবতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব না হলে, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি মন্তব্য করেন, একজন মায়ের এমন করুণ পরিণতি শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য দুঃখজনক এবং এটি ভবিষ্যতে প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা, বেশ কয়েকজন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা, বেশ কয়েকজন নিহত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন। বর্বর এই হামলায় আহতের সংখ্যা বেশ কয়েকজন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি গাড়ির ওপর বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামলার পর গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। একই দিনে মধ্য গাজার জাওয়াইদা এলাকাতেও আলাদা হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে আরও কিছু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এসব হামলার ব্যাপারে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, তাদের সামরিক অভিযান মূলত হামাসের যোদ্ধা ও অবকাঠামোর দিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অভিযোগ, চলমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। অস্ত্র সমর্পণ, সেনা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মতপার্থক্যের কারণে সমাধান এখনও দূরের কথা।

চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ : বাংলাদেশ-নেপাল মুখোমুখি, পরিসংখ্যান কী বলছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ : বাংলাদেশ-নেপাল মুখোমুখি, পরিসংখ্যান কী বলছে?

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের উদ্দেশ্য হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া। যদি দুই ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়, তাহলে তাদের জন্য ইতিহাস রচনা হয়ে যাবে। তবে, মেয়েদের সেমিফাইনাল পার করার বিষয়টি নিয়ে কিছু সংশয় আছে। বাংলাদেশের নারী দল এবং নেপাল এর পূর্ববর্তী দুই আসরে ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। কিন্তু এবার ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আজ বুধবার দুই দেশের মেয়েরা সেমিফাইনালে লড়াই করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও নেপালের সামনে উভয় মুখোমুখি হয়ে টানা তিনবার অর্থাৎ ফাইনাল খেলার সুযোগ রয়েছে। আগের দুই আসরে বাংলাদেশ নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তাদের মাটিতেই। কিন্তু এইবার প্রশ্ন উঠেছে, নেপালের সঙ্গে আবারও হারানো যাবে কি না এবং ট্রফি হাতছাড়া হয়ে যাবে কি না। বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে এবং টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে, তবে সেমিফাইনাল নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২২ এবং ২০২৪ সাল থেকে ভিন্ন পরিস্থিতির জন্য তাঁদের চিন্তা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে এই দুই পরাশক্তির মধ্যে মাঠের লড়াইয়ের ইতিহাসটি বেশ দীর্ঘ এবং রোমাঞ্চকর। সাফের এখন পর্যন্ত সাতটি আসরের পরিসংখ্যান দেখালে দেখা যায়, দুই দল মোট পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে নেপাল জয় পেয়েছে তিন ম্যাচে এবং বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুই ম্যাচে। নেপাল মোট ৯টি গোল দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ৫টি গোল দিয়েছে।

২০১০ সালে বাংলাদেশে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালকে স্মরণ করতে হয়, যেখানে বাংলাদেশ এবং নেপাল প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই প্রথম দেখায় বাংলাদেশ ৩-০ গোলে নেপালের কাছে পরাজিত হয়েছিল এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরে দুই দলের মধ্যে কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। ২০১৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আসরে সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সেবার বাংলাদেশ নেপালের কাছে আবার হেরে যায়, কিন্তু ম্যাচটি ছিল তুমুল লড়াই এবং বাংলাদেশ ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল, যা সাজানা রানার ৫৬ মিনিটে করা পেনাল্টি গোলের কারণে হয়েছিল।

ভারতে ২০১৬ সালে চতুর্থ সাফে এই দুই দলের দেখা না হলেও, ২০১৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আসরে গ্রুপ পর্বে তারা আবার মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়। কিন্তু ২০২২ সালের ষষ্ঠ আসরে গল্পটি পুরোপুরি বদলে যায়। কাঠমান্ডুতে ঐতিহাসিক ফাইনালে বাংলাদেশ নেপালকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে প্রথমবার সাফের শিরোপা জয় করে।

২০২৪ সালে সর্বশেষ আসরেও তারা মুখোমুখি হয়, আবার কাঠমান্ডুতে ম্যাচ খেলে, যেখানে বাংলাদেশ নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে। দুটি আসরের ফাইনালে দেখা হওয়ার পর, ১২ বছর পর আজ আবারও তারা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যদি জয়লাভ করে, তবে টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লক্ষ্য পূরণ হবে এবং তারা ফাইনালে প্রবেশের টিকিট পাবে। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় ম্যাচটি শুরু হতে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%