ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত খসড়া নীতিমালায় মতামত আহ্বান


রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত খসড়া নীতিমালায় মতামত আহ্বান

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ইনভেস্ট বাংলাদেশ রুগ্ন, অকার্যকর ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং এসব প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রণীত খসড়া নীতিমালার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত আহ্বান করেছে।

এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল রাষ্ট্রীয় সম্পদ, শেয়ার ও স্বত্ব হস্তান্তর অথবা কৌশলগত বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খসড়া নীতিমালার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত পাঠানোর শেষ সময় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর (২০২৬ সনের ১০৪ নং আইন) ধারা ৪৮-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কর্তৃপক্ষ এ খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

আরও পড়ুন: মুদি দোকানের আড়ালে হেরোইনের কারবার, যুবদল নেতা আসিফ ইসলাম খান আটক

প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রুগ্ন, অকার্যকর বা বন্ধ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অব্যবহৃত সম্পদকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

খসড়া নীতিমালায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সম্পদের যথাযথ যাচাই ও মূল্যায়ন, উপযুক্ত লেনদেন কাঠামো নির্ধারণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী আকর্ষণ এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারী নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এতে সরকারি স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য অর্থনৈতিক মূল্য সংরক্ষণ এবং লেনদেন-পরবর্তী বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের অংশ হিসেবে গত ১২ জুলাই সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে গত ১৮ আগস্ট শিল্প মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত আহ্বান করে।

আরও পড়ুন: সংঘর্ষের জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১৪০ রাউন্ড গুলি, ধরা পড়লেন স্বপ্না আক্তার

প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে প্রযোজ্য ও যৌক্তিক মতামতগুলোকে যথাসম্ভব খসড়া নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নীতিমালাটিকে আরও কার্যকর, বাস্তবসম্মত, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সরকারি দপ্তর ও সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞসহ অন্যান্য অংশীজনের মতামত চাওয়া হয়েছে।

খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা করে মতামত, পর্যবেক্ষণ বা সুপারিশ থাকলে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী বাংলা ভাষায় নিকোশ ফন্টে প্রস্তুত করে স্বাক্ষরিত মতামতের স্ক্যানকৃত কপি ও সম্পাদনযোগ্য ফাইল আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠাতে হবে।

মতামত ই-মেইলে [email protected] ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়েছে। ই-মেইলের বিষয় হিসেবে Comments on Strategic Divestiture উল্লেখ করতে হবে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের জাপান সফর: নীল অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের আশা শেষ, জাপানের কাছে হারলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৫ পি.এম


বিশ্বকাপের আশা শেষ, জাপানের কাছে হারলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল

গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলেও, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল জাপানের বিরুদ্ধে সফলতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে, আগামী বছরের জুনিয়র বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জুনিয়র এশিয়া কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে, বুধবার বাংলাদেশ ২-০ গোলে জাপানের কাছে পরাজিত হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টারে দুটি গোল হজম করা হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পেতে অন্তত সেমিফাইনালে পৌঁছানো আবশ্যক ছিল।

গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ চারটি ম্যাচের সবকটিতে জয়লাভ করেছিল। চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে পরাজিত করার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জার পুলের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫-১ গোলে পরাজিত করে। কাজাখস্তানকে ৪-০ ব্যবধানে এবং হংকং চায়নাকে ৬-০ গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জার পুলে সেরা অবস্থানে ছিল।

জাপানের বিরুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর, বাংলাদেশ এখন স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে। চতুর্থ কোয়ার্টারে মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে হেরে যাওয়া দল হবে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী বছর থেকে স্কুল ফিডিং শুরু : ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৫ পি.এম


সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী বছর থেকে স্কুল ফিডিং শুরু : ববি হাজ্জাজ

আগামী বছর থেকে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) কর্মসূচি শুরু হবে, এমনটি জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি উল্লেখ করেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের পুষ্টি সহায়তা নয়, বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রতিটি শিশুর জন্য খাবার যথাযথ মান ও পরিমাণে পৌঁছানো এবং কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার পিটিআইয়ে ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা আয়োজিত ‘জবাবদিহিতা, কার্যকর বিদ্যালয় নেতৃত্ব, দলগত সমন্বয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হবে, পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি শিশুর কাছে খাবার পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারি করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।

প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধুমাত্র বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা নয়, প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, "আমরা শুধু স্কুলে শিশুদের উপস্থিতি চাই না, আমরা চাই প্রতিটি শিশু স্কুলে এসে শিখুক। একটি শিশুও যদি বিদ্যালয়ে গিয়ে না শেখে, তাহলে আমাদের সাফল্যের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।"

তিনি আরও জানান, এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার মূল্যায়ন হবে কতটি ভবন তৈরি হয়েছে তা দিয়ে নয়, বরং কতটি শিশুর শেখা নিশ্চিত হয়েছে তা দিয়ে। কারণ, ভবন একটি প্রজন্ম তৈরি করে না। একজন দক্ষ শিক্ষক, একটি কার্যকর শ্রেণিকক্ষ এবং একটি জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে।

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে জবাবদিহিতার বাইরে রাখা হবে না বলে উল্লেখ করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী হলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমকে আরও আনন্দময়, বৈচিত্র্যময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ নামে দুটি নতুন বই যুক্ত করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করবে। পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। এতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে।

প্রাথমিক শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাক্রমে সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, এসব নীতিমালায় সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতি, বদলি, বেতন-স্কেলসহ চাকরিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও সুসংহত হবে।

ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মাহবুবা আইরিন এবং ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) মো. আবদুল আজিজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা পূর্বে চিহ্নিত করেছিল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। এই ঘাটতি পূরণ না হওয়ার কারণে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি ভরা বা ফুয়েল লোডিং শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনির্বাপণ মহড়া সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এর কয়েক মাসের মধ্যে প্রকল্পের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে আগুন লেগে অভ্যন্তরীণ সার্ভার, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, পূর্বে চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো কতটা দূর করা হয়েছে? গত সোমবার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেসের একটি অস্থায়ী ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কেউ হতাহত হয়নি। তবে দুটি কক্ষের আসবাব, নথি ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সার্ভারও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হয়েছে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। এর ফলে শ্রমিকরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ভেতরের অংশের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করছে।

আগেই সতর্ক করেছিল আইএইএ

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার আগে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে গত বছরের ১০ থেকে ২৭ আগস্ট রূপপুর পরিদর্শন করে আইএইএর বিশেষজ্ঞ দল।

পরিদর্শনের পর সংস্থাটি জানায়, প্রকল্প পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা উন্নয়নে সদিচ্ছা দেখিয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, পরিচালন কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানো এবং যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথমবার সামনে আসেনি, বরং আন্তর্জাতিক পর্যালোচনাতেই এটি চিহ্নিত হয়েছিল।

ঘাটতিতে পিছিয়েছিল জ্বালানি ভরা

আইএইএর পরামর্শের পর অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে চলতি বছরের এপ্রিলে। ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরা বা ফুয়েল লোডিং শুরুর কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা শর্ত পূরণ না হওয়ায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কমিশনিং লাইসেন্স দেয়নি। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি ভরা শুরু হয়নি।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের অভিযোগ, অগ্নিনিরাপত্তার কিছু কাজ পরে সম্পন্ন করার শর্তে নির্ধারিত সময়েই জ্বালানি ভরার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা এতে সম্মতি দেয়নি।

পরে অবশ্য ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি ভরা শুরু হয়। জুলাইয়ে পূর্ণাঙ্গ জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জ্বালানি ভরার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

৪৯ কর্মী নিয়ে চলছে ফায়ার স্টেশন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরমাণু বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় অত্যাধুনিক বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকা অত্যাবশ্যক। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ ধরনের স্থাপনায় ২০০ জনের বেশি দক্ষ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু রূপপুরে এখনও পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে ৪৯ জন কর্মী নিয়ে একটি সাধারণ মানের ফায়ার স্টেশন দিয়ে কার্যক্রম চলছে।

তাঁর মতে, অগ্নিকাণ্ডের প্রথম কয়েক মিনিটে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কিনা, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আশপাশের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নিজস্ব প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।

মূল স্থাপনার বাইরে, তবু প্রশ্ন

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগুনের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে অবস্থিত। ফলে কেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা শুধুমাত্র মূল চুল্লি ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সহায়ক অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও এর অংশ।

রূপপুরের অদূরে লালন শাহ সেতু এলাকা ও আশপাশে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার বিষয়টিও মূল নকশায় বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এর আগে প্রকল্পের সীমানার বাইরেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক এই অগ্নিকাণ্ডে প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্নিনিরাপত্তা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে। তাদের প্রতিবেদনেই জানা যাবে, আগুন কীভাবে ছড়াল এবং প্রতিরোধে কোথায় ঘাটতি ছিল।

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ ঘণ্টার জন্য চিন্ময় দাসকে মুক্তির আদেশ প্রদান করা হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


৫ ঘণ্টার জন্য চিন্ময় দাসকে মুক্তির আদেশ প্রদান করা হলো

মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নিতে কারাবন্দী সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই অনুমতি প্রদান করে। চিন্ময় কৃষ্ণের মা শ্রীমতী সন্ধ্যা রাণী ধর (৭১) বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখল পুণ্ডরিক ধামে মারা যান।

সেখানে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। মায়ের শেষকৃত্যে অংশগ্রহণের জন্য চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ভাই রঞ্জন কুমার ধর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক জানান, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ ঘণ্টার জন্য তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রয়াত মায়ের শেষকৃত্যে অংশগ্রহণের মানবিক দিক বিবেচনা করে ভাই অঞ্জন কুমার ধরের আবেদনের ভিত্তিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে নিয়ে যাওয়া হবে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সন্ধ্যা রাণী ধর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষকৃত্যে কারাগারে আটক চিন্ময় কৃষ্ণের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন।

মায়ের জীবনের শেষ সময়ে পাশে থাকতে না পারার পর অন্তত শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টির মানবিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য চিন্ময় কৃষ্ণকে প্যারোলে মুক্তি অথবা নিরাপত্তাসহ প্যারোলে উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%