ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের ৮৫% কাজ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু হবে


কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের ৮৫% কাজ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু হবে

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল আগামী ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে পারে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে যাত্রী নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেলের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করছে। পাশাপাশি, মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

মতিঝিল স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে যাত্রী সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এর আগে ডিএমটিসিএল জানায়, কমলাপুর পর্যন্ত অংশে আগামী জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে। এপ্রিলে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রকৌশলী জানান, কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায় থেকে জুন-জুলাইয়ে মেট্রোরেল চালুর নির্দেশনা রয়েছে। তবে কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রেখেই জুলাইয়ে মেট্রো চলাচল শুরু হতে পারে। এতে কোনো সমস্যা হবে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের উড়ালপথ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে রেললাইন বসানোর কাজ চলছে। রেললাইনের দুই পাশে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এসব খুঁটির ওপর তার টানা হবে।

নির্মাণকাজে যুক্ত প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, রেললাইন বসানোর কাজ প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুতের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

কমলাপুর স্টেশনে লিফট বসানো, সংকেতব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্রপাতি স্থাপন, টাইলস লাগানো, শৌচাগার নির্মাণ এবং পানির পাম্প বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থাসহ কিছু যন্ত্রপাতি জাপান থেকে আসতে দেরি হতে পারে। এই কারণে চালুর সময় পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পটি এমআরটি লাইন-৬ নামে পরিচিত। প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব জানান, মতিঝিল-কমলাপুর অংশের অবকাঠামো নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী জুনের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরের পার্লামেন্ট সউদী আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে অনুমোদন দিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


মিশরের পার্লামেন্ট সউদী আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে অনুমোদন দিল

মিশরের সংসদ সউদী আরবকে সামরিক সহায়তা প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের একটি ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির প্রতি এই অনুমোদন প্রদান করা হয়।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সউদী আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলে, প্রেসিডেন্ট এল-সিসি দেশের সুরক্ষার জন্য ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ গ্রহণ করতে পারবেন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বৃদ্ধি করায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু কায়রো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, মিশরের সামরিক পদক্ষেপ শুধুমাত্র সউদী আরবের ভূখণ্ড ও সীমান্ত সুরক্ষার জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে; ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি কোনো হামলা তারা চালাবে না। এর আগে গত সপ্তাহে রিয়াদ সফর শেষে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি জানিয়েছিলেন, কায়রো সংকট সমাধানে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে এখনও জোরালো ভূমিকা পালন করছে।

মিশরের সংবিধানে, কোনো দেশের ভূখণ্ডের বাইরে সৈন্য প্রেরণের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের অনুমোদন প্রয়োজন। কৌশলগতভাবে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং সুয়েজ খালের বাণিজ্যিক পথ সচল রাখা মিশরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারের ইনানী সৈকতে ১৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৩ পি.এম


কক্সবাজারের ইনানী সৈকতে ১৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

কক্সবাজার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : ইনানী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে ১৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি চারতলা বিশিষ্ট রিসোর্ট ভবনও রয়েছে।

আজকের অভিযানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার বাহিনী অংশগ্রহণ করে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব সানজিদা বেগম। তিনি উল্লেখ করেন, "এটি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান অভিযানের অংশ।"

অভিযান চলাকালীন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কর্মকর্তারা জানান, চারতলা রিসোর্ট ভবনটি অবৈধভাবে নির্মিত হওয়ায় মালিকপক্ষকে নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের পরেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধ স্থাপনা সরানো না হওয়ায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারেক রহমানের জাপান সফর: নীল অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ পি.এম


তারেক রহমানের জাপান সফর: নীল অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে এসে বলেছেন, "আই হ্যাভ এ প্ল্যান", যা মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল, আগ্রহ এবং আশার সঞ্চার করেছে। তিনি বহু বছর ধরে একটি উন্নত দেশে কাটিয়েছেন। তাই স্বাভাবিক যে, সুযোগ পেলে তিনি নিজ মাতৃভূমির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। ৫৫ বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণে তেমন কোনো সফলতা অর্জিত হয়নি।

আমাদের আরও ব্যর্থ হওয়ার সামর্থ্য নেই। ১৫ বছরের গণতন্ত্রের মুখোশ পরা একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা কর্তৃত্ববাদী সরকার বিদেশে পাচার করেছে।

কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়, বাংলাদেশকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। ১. স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য ডিটারন্স, ২. একটি শক্তিশালী অর্থনীতি এবং ৩. আইনের শাসন।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রাক্কালে, তিনি একটি শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য সমুদ্রকেন্দ্রিক নীল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি ট্রান্সফার নিয়ে কিছু আলোকপাত করবেন। বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী একটি দেশ। এই মহাসাগরে বাংলাদেশের একটি বে (Bay) রয়েছে, যাকে আমরা বে অফ বেঙ্গল বা বঙ্গোপসাগর বলে থাকি। একবিংশ শতাব্দীতে ভারত মহাসাগরের জলরাশি রাষ্ট্রগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করবে। জ্বালানির ৮০% এই ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর দিয়েই চলাচল করে।

আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য আমাদের অবশ্যই সমুদ্রকেন্দ্রিক হতে হবে। চীন, জাপান, ভারত, রাশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ সকলের কাছে আমাদের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। কারণ আমাদের বঙ্গোপসাগর আছে। বঙ্গোপসাগর এই বৃহৎ শক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারো কারো অস্তিত্বের জন্য তাদের জ্বালানি শক্তি এবং আমদানি রপ্তানি ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নীল অর্থনীতি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জাপান না হলেও মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের মতো একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে। ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে যে গ্রেট পাওয়ারগুলো বাংলাদেশের সাথে পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে চান। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে BRI-তে যোগ দিয়েছে এবং ইন্দোপেসিফিকও আহ্বান করা হয়েছে।

জাপান একটি প্রযুক্তির দেশ। জাপানের শত্রু রাষ্ট্রগুলো জাপানের একটি বিষয়কে ভয় পায়, সেটি হল প্রযুক্তিতে জাপানের আপার হ্যান্ড।

আমাদের নীল অর্থনীতিতে জাপান একটি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কেন রাখবে? বাংলাদেশ জাপানের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? জাপান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দাতা দেশ। বাংলাদেশকে শুধু ভালোবেসে, জাপান এই ব্যাপক সাহায্য সহযোগিতা করেছে, সেটি ভাবার কোন কারণ নেই। ভূ রাজনীতিতে বাংলাদেশের ভৌগলিক কৌশলগত অবস্থান, জাপানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাপান বঙ্গোপসাগরে এই গুরুত্বপূর্ণ তীরবর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে যে কোনও মূল্যে একটি আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। বিগ বি (Big B) এবং মাতারবাড়িতে জাপানের উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে।

তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীল অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য জাপানের কাছে যুক্তিসঙ্গত যে কোনো সহযোগিতা চাইলে, জাপান আগ্রহ ভরে সেটা সাহায্য করবেন বলে এই লেখক বিশ্বাস করেন।

আমরা সমুদ্র বিজয়ী করেছি। কিন্তু এই বিজয় নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। সত্যিকারের বিজয় আমাদের তখনই হবে যখন আমরা এই সমুদ্রের সম্পদকে আমাদের বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের জন্য ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ করতে পারব।

থাইল্যান্ড থেকে আমরা কিছু শিক্ষা নিতে পারি। দেশটি ২০২৪ সালে প্রায় ৭.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে প্রক্রিয়াজাত টুনা উল্লেখযোগ্য। এই সাফল্য শুধু মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল নয়; মাছ আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ এবং বাজার সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী, জাপানের কাছে এই নীল অর্থনীতির জন্য বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ ধরার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সাহায্য চাইতে পারেন। মাছ এবং মাছ জাতীয় পণ্য, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং জাপানে ভীষণ চাহিদা রয়েছে। আমরা এই সকল দেশে মাছ রপ্তানি করতে পারি। আমার জাপানের থাকার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, সেখানে মানুষজন ভীষণভাবে সামুদ্রিক মাছ পছন্দ করে।

আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য শুধুমাত্র রেমিটেন্স এবং গার্মেন্টসের উপর আমাদের নির্ভর করলে চলবে না। করোনার সময়, আমরা দেখেছি আমাদের অদক্ষ শ্রমিকের বাজার কতটা ভল্নারেবল ছিল, অন্যদিকে, গার্মেন্টস শিল্প যদিও আমাদের অর্থনীতির একটা লাইফ লাইন, কিন্তু এই গার্মেন্টস শিল্প, সরকার পরিবর্তনে, পশ্চিমা শক্তির একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাই আমাদের অবশ্যই একটি ডাইভার্স এক্সপোর্ট পলিসি থাকতে হবে। সুতরাং এটা সময়ের দাবি যে আমাদেরকে শুধুমাত্র গার্মেন্টস নির্ভর হওয়া যাবে না। মাছ ও মাছ পণ্য রপ্তানি একটা বড় নতুন খাত হতে পারে।

সমুদ্রের তলদেশের মণিমাণিক্য (রূপক অর্থে), অর্থাৎ খনিজ, আর তরল সোনা (তেল এবং গ্যাস) ইত্যাদি কি দশকের পর দশক অনাবিষ্কৃত থেকেই যাবে? এই আবিষ্কার আমাদের মাথাপিছু আয়কে কয়েকগুণ বাড়াতে পারে। সমুদ্রের তলদেশের সম্পদ আহরণ করার জন্য বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সাহায্য চাইতে পারেন এবং যৌথভাবে সন্ধান করতে পারেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA), দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক জরিপ, আধুনিক গবেষণাজাহাজ, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতায় বাংলাদেশ তার অফুরন্ত সম্পদকে ব্যবহার করতে পারছে না। বাংলাদেশের নীল অর্থনীতিতে জাপান নিম্নক্তভাবে সাহায্য করতে পারেঃ

প্রথমত, সামুদ্রিক গবেষণা ও সম্পদ অনুসন্ধান। জাপানের Japan Agency for Marine-Earth Science and Technology (JAMSTEC)-এর সঙ্গে যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রতল, পানির গভীরতা, স্রোত, জীববৈচিত্র্য এবং সম্ভাব্য সামুদ্রিক সম্পদের বৈজ্ঞানিক জরিপ চালানো যেতে পারে। জাপান আধুনিক গবেষণাজাহাজ, মাল্টিবিম সোনার, পানির নিচে পরিচালিত রোবট (ROV), স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণযন্ত্র এবং সমুদ্রতথ্য বিশ্লেষণের প্রযুক্তি দিতে পারে। এতে কোথায় কী সম্পদ রয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হবে।

দ্বিতীয়ত, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। যৌথ গবেষণাগার, গবেষণাজাহাজ, পিএইচডি বৃত্তি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থী বিনিময়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিশেষভাবে মেরিন বায়োটেকনোলজি, ফিশারিজ ইঞ্জিনিয়ারিং, ওশানোগ্রাফি ও মেরিন রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ, জাপানিজ ইউনিভার্সিটির সাথে মেরিটাইম সিকিউরিটি ও অনন্যা সংশ্লিষ্ট বিষয়েও যৌথভাবে গবেষণা করতে পারে।

তৃতীয়ত, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ। জাপান বাংলাদেশের জেলেদের আধুনিক ফিশ-ফাইন্ডিং সোনার, ইকো-সাউন্ডার, স্যাটেলাইটভিত্তিক সমুদ্রতথ্য, জিপিএস, নিরাপদ নৌযান এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী মাছ ধরার প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাছের অবস্থান শনাক্তকরণ, উপযুক্ত জাল নির্বাচন এবং আহরণের পর মাছের গুণগত মান সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। তবে বৈজ্ঞানিক মজুত নিরূপণ ও টেকসই আহরণসীমা নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি। জাপানি সহযোগিতায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী এলাকায় আধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার, আইস প্ল্যান্ট, কোল্ড চেইন, হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এতে মাছের অপচয় কমবে, মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পঞ্চমত, সামুদ্রিক জলজ চাষ ও জীবপ্রযুক্তি। জাপানের অভিজ্ঞতায় উপযোগী স্থানে সামুদ্রিক শৈবাল, ঝিনুক, কাঁকড়া এবং খাঁচায় মাছ চাষের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা যেতে পারে। সামুদ্রিক জীবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্য, ওষুধ ও প্রসাধনশিল্পের সম্ভাবনাও বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে, পাকিস্তান জঙ্গি বিমান তৈরি করছে, অত্যাধুনিক মিসাইল তৈরি করছে। সেক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিতে কেন এত পিছিয়ে আছি? জাপানের মতো একটি প্রযুক্তিতে সেরা দেশ থেকে আমরা প্রযুক্তি ট্রান্সফার করতে চাই। তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রযুক্তির নতুন যুগের সূচনা করবেন এই প্রত্যাশা এখন আমাদের। জাপানের সহযোগিতায় বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হোক।

লেখক: পরিচালক, সেন্টার ফর পিস স্ট্যাডিজ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংঘর্ষের জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১৪০ রাউন্ড গুলি, ধরা পড়লেন স্বপ্না আক্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ পি.এম


সংঘর্ষের জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১৪০ রাউন্ড গুলি, ধরা পড়লেন স্বপ্না আক্তার

নরসিংদীর রায়পুরায় বাসে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ ১৪০ রাউন্ড গুলিসহ স্বপ্না আক্তার (৪২) নামের এক নারীকে আটক করেছে। পুলিশ জানায়, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের উদ্দেশ্যে ওই গুলি বহন করা হচ্ছিল।

সোমবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এনা পরিবহণের একটি বাসে তল্লাশি চলাকালীন তাকে আটক করা হয়।

আটক স্বপ্না আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাদুঘর এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী বাসটিতে তল্লাশির সময় ওই নারীর কাছে ১৪০ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাদুঘর এলাকায় দুইপক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের জন্য গুলিগুলো বহন করছিলেন।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ তদন্ত করছে, গুলি পরিবহণের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%