ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তারেক রহমানের জাপান সফর: নীল অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা


তারেক রহমানের জাপান সফর: নীল অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে এসে বলেছেন, "আই হ্যাভ এ প্ল্যান", যা মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল, আগ্রহ এবং আশার সঞ্চার করেছে। তিনি বহু বছর ধরে একটি উন্নত দেশে কাটিয়েছেন। তাই স্বাভাবিক যে, সুযোগ পেলে তিনি নিজ মাতৃভূমির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। ৫৫ বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণে তেমন কোনো সফলতা অর্জিত হয়নি।

আমাদের আরও ব্যর্থ হওয়ার সামর্থ্য নেই। ১৫ বছরের গণতন্ত্রের মুখোশ পরা একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা কর্তৃত্ববাদী সরকার বিদেশে পাচার করেছে।

কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়, বাংলাদেশকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। ১. স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য ডিটারন্স, ২. একটি শক্তিশালী অর্থনীতি এবং ৩. আইনের শাসন।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রাক্কালে, তিনি একটি শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য সমুদ্রকেন্দ্রিক নীল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি ট্রান্সফার নিয়ে কিছু আলোকপাত করবেন। বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী একটি দেশ। এই মহাসাগরে বাংলাদেশের একটি বে (Bay) রয়েছে, যাকে আমরা বে অফ বেঙ্গল বা বঙ্গোপসাগর বলে থাকি। একবিংশ শতাব্দীতে ভারত মহাসাগরের জলরাশি রাষ্ট্রগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করবে। জ্বালানির ৮০% এই ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর দিয়েই চলাচল করে।

আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য আমাদের অবশ্যই সমুদ্রকেন্দ্রিক হতে হবে। চীন, জাপান, ভারত, রাশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ সকলের কাছে আমাদের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। কারণ আমাদের বঙ্গোপসাগর আছে। বঙ্গোপসাগর এই বৃহৎ শক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারো কারো অস্তিত্বের জন্য তাদের জ্বালানি শক্তি এবং আমদানি রপ্তানি ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নীল অর্থনীতি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জাপান না হলেও মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের মতো একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে। ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে যে গ্রেট পাওয়ারগুলো বাংলাদেশের সাথে পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে চান। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে BRI-তে যোগ দিয়েছে এবং ইন্দোপেসিফিকও আহ্বান করা হয়েছে।

জাপান একটি প্রযুক্তির দেশ। জাপানের শত্রু রাষ্ট্রগুলো জাপানের একটি বিষয়কে ভয় পায়, সেটি হল প্রযুক্তিতে জাপানের আপার হ্যান্ড।

আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার

আমাদের নীল অর্থনীতিতে জাপান একটি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কেন রাখবে? বাংলাদেশ জাপানের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? জাপান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দাতা দেশ। বাংলাদেশকে শুধু ভালোবেসে, জাপান এই ব্যাপক সাহায্য সহযোগিতা করেছে, সেটি ভাবার কোন কারণ নেই। ভূ রাজনীতিতে বাংলাদেশের ভৌগলিক কৌশলগত অবস্থান, জাপানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাপান বঙ্গোপসাগরে এই গুরুত্বপূর্ণ তীরবর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে যে কোনও মূল্যে একটি আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। বিগ বি (Big B) এবং মাতারবাড়িতে জাপানের উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে।

তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীল অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য জাপানের কাছে যুক্তিসঙ্গত যে কোনো সহযোগিতা চাইলে, জাপান আগ্রহ ভরে সেটা সাহায্য করবেন বলে এই লেখক বিশ্বাস করেন।

আমরা সমুদ্র বিজয়ী করেছি। কিন্তু এই বিজয় নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। সত্যিকারের বিজয় আমাদের তখনই হবে যখন আমরা এই সমুদ্রের সম্পদকে আমাদের বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের জন্য ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ করতে পারব।

থাইল্যান্ড থেকে আমরা কিছু শিক্ষা নিতে পারি। দেশটি ২০২৪ সালে প্রায় ৭.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে প্রক্রিয়াজাত টুনা উল্লেখযোগ্য। এই সাফল্য শুধু মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল নয়; মাছ আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ এবং বাজার সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আরও পড়ুন: নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রথমবার সমুদ্রে সফলভাবে ফ্রি-ফল জাম্প সম্পন্ন

প্রধানমন্ত্রী, জাপানের কাছে এই নীল অর্থনীতির জন্য বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ ধরার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সাহায্য চাইতে পারেন। মাছ এবং মাছ জাতীয় পণ্য, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং জাপানে ভীষণ চাহিদা রয়েছে। আমরা এই সকল দেশে মাছ রপ্তানি করতে পারি। আমার জাপানের থাকার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, সেখানে মানুষজন ভীষণভাবে সামুদ্রিক মাছ পছন্দ করে।

আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য শুধুমাত্র রেমিটেন্স এবং গার্মেন্টসের উপর আমাদের নির্ভর করলে চলবে না। করোনার সময়, আমরা দেখেছি আমাদের অদক্ষ শ্রমিকের বাজার কতটা ভল্নারেবল ছিল, অন্যদিকে, গার্মেন্টস শিল্প যদিও আমাদের অর্থনীতির একটা লাইফ লাইন, কিন্তু এই গার্মেন্টস শিল্প, সরকার পরিবর্তনে, পশ্চিমা শক্তির একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাই আমাদের অবশ্যই একটি ডাইভার্স এক্সপোর্ট পলিসি থাকতে হবে। সুতরাং এটা সময়ের দাবি যে আমাদেরকে শুধুমাত্র গার্মেন্টস নির্ভর হওয়া যাবে না। মাছ ও মাছ পণ্য রপ্তানি একটা বড় নতুন খাত হতে পারে।

সমুদ্রের তলদেশের মণিমাণিক্য (রূপক অর্থে), অর্থাৎ খনিজ, আর তরল সোনা (তেল এবং গ্যাস) ইত্যাদি কি দশকের পর দশক অনাবিষ্কৃত থেকেই যাবে? এই আবিষ্কার আমাদের মাথাপিছু আয়কে কয়েকগুণ বাড়াতে পারে। সমুদ্রের তলদেশের সম্পদ আহরণ করার জন্য বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সাহায্য চাইতে পারেন এবং যৌথভাবে সন্ধান করতে পারেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA), দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক জরিপ, আধুনিক গবেষণাজাহাজ, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতায় বাংলাদেশ তার অফুরন্ত সম্পদকে ব্যবহার করতে পারছে না। বাংলাদেশের নীল অর্থনীতিতে জাপান নিম্নক্তভাবে সাহায্য করতে পারেঃ

আরও পড়ুন: কদমতলীতে ভেজাল আইসক্রিম ও পানি উৎপাদনের ৪ প্রতিষ্ঠান সিলগালা

প্রথমত, সামুদ্রিক গবেষণা ও সম্পদ অনুসন্ধান। জাপানের Japan Agency for Marine-Earth Science and Technology (JAMSTEC)-এর সঙ্গে যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রতল, পানির গভীরতা, স্রোত, জীববৈচিত্র্য এবং সম্ভাব্য সামুদ্রিক সম্পদের বৈজ্ঞানিক জরিপ চালানো যেতে পারে। জাপান আধুনিক গবেষণাজাহাজ, মাল্টিবিম সোনার, পানির নিচে পরিচালিত রোবট (ROV), স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণযন্ত্র এবং সমুদ্রতথ্য বিশ্লেষণের প্রযুক্তি দিতে পারে। এতে কোথায় কী সম্পদ রয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হবে।

দ্বিতীয়ত, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। যৌথ গবেষণাগার, গবেষণাজাহাজ, পিএইচডি বৃত্তি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থী বিনিময়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিশেষভাবে মেরিন বায়োটেকনোলজি, ফিশারিজ ইঞ্জিনিয়ারিং, ওশানোগ্রাফি ও মেরিন রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ, জাপানিজ ইউনিভার্সিটির সাথে মেরিটাইম সিকিউরিটি ও অনন্যা সংশ্লিষ্ট বিষয়েও যৌথভাবে গবেষণা করতে পারে।

তৃতীয়ত, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ। জাপান বাংলাদেশের জেলেদের আধুনিক ফিশ-ফাইন্ডিং সোনার, ইকো-সাউন্ডার, স্যাটেলাইটভিত্তিক সমুদ্রতথ্য, জিপিএস, নিরাপদ নৌযান এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী মাছ ধরার প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাছের অবস্থান শনাক্তকরণ, উপযুক্ত জাল নির্বাচন এবং আহরণের পর মাছের গুণগত মান সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। তবে বৈজ্ঞানিক মজুত নিরূপণ ও টেকসই আহরণসীমা নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি। জাপানি সহযোগিতায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী এলাকায় আধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার, আইস প্ল্যান্ট, কোল্ড চেইন, হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এতে মাছের অপচয় কমবে, মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রম আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস জার্মানির

পঞ্চমত, সামুদ্রিক জলজ চাষ ও জীবপ্রযুক্তি। জাপানের অভিজ্ঞতায় উপযোগী স্থানে সামুদ্রিক শৈবাল, ঝিনুক, কাঁকড়া এবং খাঁচায় মাছ চাষের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা যেতে পারে। সামুদ্রিক জীবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্য, ওষুধ ও প্রসাধনশিল্পের সম্ভাবনাও বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে, পাকিস্তান জঙ্গি বিমান তৈরি করছে, অত্যাধুনিক মিসাইল তৈরি করছে। সেক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিতে কেন এত পিছিয়ে আছি? জাপানের মতো একটি প্রযুক্তিতে সেরা দেশ থেকে আমরা প্রযুক্তি ট্রান্সফার করতে চাই। তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রযুক্তির নতুন যুগের সূচনা করবেন এই প্রত্যাশা এখন আমাদের। জাপানের সহযোগিতায় বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হোক।

লেখক: পরিচালক, সেন্টার ফর পিস স্ট্যাডিজ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক বুধবার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংঘর্ষের জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১৪০ রাউন্ড গুলি, ধরা পড়লেন স্বপ্না আক্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ পি.এম


সংঘর্ষের জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১৪০ রাউন্ড গুলি, ধরা পড়লেন স্বপ্না আক্তার

নরসিংদীর রায়পুরায় বাসে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ ১৪০ রাউন্ড গুলিসহ স্বপ্না আক্তার (৪২) নামের এক নারীকে আটক করেছে। পুলিশ জানায়, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের উদ্দেশ্যে ওই গুলি বহন করা হচ্ছিল।

সোমবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এনা পরিবহণের একটি বাসে তল্লাশি চলাকালীন তাকে আটক করা হয়।

আটক স্বপ্না আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাদুঘর এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী বাসটিতে তল্লাশির সময় ওই নারীর কাছে ১৪০ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাদুঘর এলাকায় দুইপক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের জন্য গুলিগুলো বহন করছিলেন।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ তদন্ত করছে, গুলি পরিবহণের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ভিড়, নীলাকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ভিড়, নীলাকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শরতের শেষভাগে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে পঞ্চগড়ের নীলাকাশে উঁকি দিচ্ছে হিমালয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। বরফে ঢাকা শুভ্র পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যের আলো পড়ার সাথে সাথে কখনো লাল, কখনো কমলা, আবার কখনো ধূসর রঙে পরিবর্তিত হচ্ছে এর রূপ। স্বচ্ছ আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন পাহাড়টি দেখতে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেছে। তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর ওপারে বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি এবং পিরামিডের মতো চূড়া যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা একটি ছবি। তবে মেঘ ও কুয়াশার কারণে সব সময় দেখা মেলে না এই শুভ্র পর্বতশৃঙ্গের। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভোরের আলোয় ধীরে ধীরে পাহাড়টি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ পর আবার হারিয়ে যায় মেঘের আড়ালে।

এদিকে পঞ্চগড়ে দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গত দুই দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সোমবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তখন এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শীতের আমেজ, ভোরের কুয়াশা এবং শিশিরভেজা প্রকৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাকবাংলো এলাকা, মহানন্দা, করতোয়া, ডাহুক ও ভেরসা নদীর তীরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব। তবে পাহাড়টি দেখতে ভাগ্যের সহায়তাও প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেক পর্যটক। আকাশ মেঘমুক্ত না থাকলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও দেখা নাও মিলতে পারে এই পর্বতশৃঙ্গের।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, প্রতিবছর তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এ দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। পর্যটকদের সুবিধার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পিকনিক কর্নার নতুন করে সাজানো হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। পাশাপাশি মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুদি দোকানের আড়ালে হেরোইনের কারবার, যুবদল নেতা আসিফ ইসলাম খান আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


মুদি দোকানের আড়ালে হেরোইনের কারবার, যুবদল নেতা আসিফ ইসলাম খান আটক

মুদি দোকানের আড়ালে হেরোইনের কারবার চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পাঁচ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয়েছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ ইসলাম খান (৩৮)।

সোমবার দুপুরে নালী ইউনিয়নের উভাজানী এলাকায় তার নিজ দোকানের সামনে থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে।

ডিবি পুলিশের দাবি, আসিফ দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিত্যপণ্যের দোকানের আড়ালে হেরোইনের কারবার চালানোর তথ্য পেয়ে তার দোকানের সামনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাঁচ গ্রাম হেরোইনসহ তাকে আটক করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো জানান, নিত্যপণ্যের আড়ালে হেরোইনের কারবার চলছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আসিফকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে যুবদলের পদে থেকে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে আসায় দলটির পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন, যুবদলের ব্যানারে থেকে কোনো ধরনের অপকর্মের সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় দল বহন করবে না। অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাঙ্গায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে হলে দিতে হবে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৬ পি.এম


ভাঙ্গায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে হলে দিতে হবে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে হলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম সিদ্দিকী (লাভলু) সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন যে, পিস্তল দেখিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার পর তিনি ভাঙ্গা থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারে তিনি ১০ জনের নাম উল্লেখ করেছেন এবং ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নুরে আলম সিদ্দিকী (লাভলু) থানায় দেওয়া অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর গত ২৫ অক্টোবর অভিযুক্তদের একজন সামিউর রহমান মিঠু তাকে মোবাইল ফোনে নাছিরাবাদ ইউনিয়নের দরগাবাজারে ডাকেন। সেখানে পৌঁছানোর পর সামিউর রহমান মিঠু, জহুরুল মুন্সিসহ অন্যান্য আসামি তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় আসামিরা কোমরে থাকা পিস্তল বের করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাক করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক চেয়ারম্যান আরও জানান, ‘আসামিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, অন্যথায় গুলি করে হত্যা করা হবে।' পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান। তিনি অতীতের কয়েকটি মারধর ও গুলি করার ঘটনার কথা উল্লেখ করে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ভাঙ্গা দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ভাঙ্গা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম সিদ্দিকী লাভলু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি তার ও পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সামিউর রহমান বলেন, ‘৫০ লাখ না, ১০ টাকা চাঁদাবাজির ঘটনায় কেউ যদি আমাকে শনাক্ত করতে পারে, আমি এই দেশ ছেড়ে চলে যাব।' তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি করেছি বলে সৌদি আরবে ১২ বছর একপ্রকার নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে, দেশে আসতে পারিনি। সৌদিতে আমার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা রয়েছে। তা ছেড়ে আমি কেন এসব চাঁদাবাজির মতো নিকৃষ্ট কাজ করতে যাব?’

সামিউর বলেন, ‘নুরে আলম সিদ্দিকী আমার শয্যাশায়ী বড় চাচা আবুল কালাম আজাদ সাহেবের সঙ্গে বেয়াদবি করেছেন। দরগাবাজারে তার সঙ্গে দেখা হলে তাকে আমি বলেছিলাম, আমার চাচার কাছে মাফ চাইতে।’

পিস্তল দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে সামিউর বলেন, ‘আমি দুই দিন আগে বিদেশ থেকে এসেছি। আমি পিস্তল কোথায় পাব যে তাকে হুমকি দেব? মূল কথা হলো, আমাদের পরিবার আমাদের ইউনিয়নের ক্ষমতাশালী পরিবার। আমাদের সমর্থন ছাড়া ইউনিয়নে কেউ চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। মূলত এসব করে তিনি আমাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চাচা আবুল কালাম আজাদ ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে নাছিরাবাদ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%