বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৩ এম
মেনোপজ নারীদের জীবনের একটি প্রাকৃতিক পর্যায়, যখন মাসিক বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যদি কোনো নারী টানা ১২ মাস মাসিক না পায়, তাহলে তাকে মেনোপজ হয়েছে বলে ধরা হয়। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে এই প্রক্রিয়া ঘটে। তবে, প্রতিটি নারীর ক্ষেত্রে মেনোপজের ঘটনা একরকম হয় না। এটি বয়সের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ঘটতে পারে, অথবা অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা, বা অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হতে পারে।
মেনোপজের ধরণ—
প্রাকৃতিক মেনোপজ হলো সবচেয়ে সাধারণ প্রকার, যা নারীর বয়স বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। সাধারণত এটি ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে, যখন ডিম্বাশয় ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
সার্জিক্যাল মেনোপজ ঘটে যখন উভয় ডিম্বাশয় অপসারণের জন্য বাইল্যাটারাল উফোরেক্টমি নামক অস্ত্রোপচার করা হয়, যা প্রায়শই হিস্টেরেক্টমির সময় হয়ে থাকে। হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে, এর লক্ষণগুলো সাধারণত স্বাভাবিক মেনোপজের লক্ষণের তুলনায় বেশি তীব্র হয়।
অকাল মেনোপজ ঘটে ৪০ বছর বয়সের আগে। এটি জিনগত কারণ, অটোইমিউন রোগ, বা কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থার কারণে হতে পারে।
পেরিমেনোপজ হলো মেনোপজের পূর্ববর্তী একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়, যেখানে মাসিক ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং হট ফ্ল্যাশ, মেজাজের পরিবর্তন ও ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।
পোস্ট মেনোপজ হলো সেই সময়, যখন কোনো নারী টানা ১২ মাস মাসিক না পায়। যদিও মেনোপজের লক্ষণগুলোর প্রায়শই উন্নতি ঘটে, তবুও অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের ঝুঁকি থেকে যায় এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যা ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ঘটে।
প্ররোচিত মেনোপজ ঘটে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি বা ওষুধের মতো চিকিৎসা পদ্ধতির ফলে, যা ডিম্বাশয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হরমোন উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
মেনোপজের পর্যায়
মেনোপজ একটি ধীর প্রক্রিয়া, যা তিনটি পর্যায়ে ঘটে এবং প্রতিটি পর্যায়ের নিজস্ব হরমোনগত পরিবর্তন ও উপসর্গ রয়েছে।
• পেরিমেনোপজ: এটি মেনোপজের আগের পরিবর্তনকালীন পর্যায়, যেখানে মাসিক চক্র অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং হট ফ্ল্যাশ, মেজাজের পরিবর্তন ও ঘুমের সমস্যার মতো উপসর্গগুলো দেখা দিতে শুরু করে। এই পর্যায়টি কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে।
• মেনোপজ: এই পর্যায়ে কোনো নারীর টানা ১২ মাস ধরে মাসিক হয় না। এই সময়ে হরমোন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়।
• পোস্ট মেনোপজ: এটি মেনোপজের পরবর্তী পর্যায়। যদিও মেনোপজের অনেক উপসর্গ ধীরে ধীরে উন্নত হয়, ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে নারীদের অস্টিওপোরোসিস, হৃদরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
মেনোপজের লক্ষণ
মেনোপজ প্রত্যেক নারীকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। কিছু নারী কেবল হালকা উপসর্গ অনুভব করেন, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে যা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং জীবনযাত্রার মানকে ব্যাহত করে। মেনোপজের সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• অনিয়মিত মাসিক যা অবশেষে বন্ধ হয়ে যায়।
• গরম ঝলকানি এবং রাতের ঘাম।
• মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন, খিটখিটে ভাব, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা।
• ঘুমাতে অসুবিধা বা অনিদ্রা।
• যোনিপথের শুষ্কতা এবং যৌন মিলনের সময় অস্বস্তি।
• যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া (লিবিডো হ্রাস)।
• ওজন বৃদ্ধি, বিশেষ করে পেটের চারপাশে।
• চুল পাতলা হওয়া এবং শুষ্ক ত্বক।
• স্মৃতিভ্রংশ, মনোযোগের অভাব বা একাগ্রতার অভাব।
• গাঁটে ব্যথা, মাংসপেশীর যন্ত্রণা এবং ক্লান্তি।
• স্তনে কোমলতা বা স্তনে ব্যথা।
• মূত্রনালীর সংক্রমণের (ইউটিআই) ঝুঁকি বৃদ্ধি।
মেনোপজের চিকিৎসা
১. হাড় ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন, ফল, শাকসবজি এবং শস্যদানা সমৃদ্ধ একটি সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন;
২. মেজাজ ভালো রাখতে ও হাড়ের ক্ষয় কমাতে হাঁটা, যোগব্যায়াম, শক্তি প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে নিয়মিত ব্যায়াম করুন;
৩. মানসিক চাপ ও হট ফ্ল্যাশ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস বা মাইন্ডফুলনেসের মতো শিথিলকরণ কৌশল অনুশীলন করুন;
৪. ঘুমের মান উন্নত করতে ও রাতে ঘাম হওয়া কমাতে ঘুমানোর আগে একটি আরামদায়ক রুটিন মেনে চলুন এবং গরম পানিতে গোসল করুন;
৫. সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত পণ্য, ডাল, বাদাম, শস্যদানা এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খান;
৬. ঝাল খাবার, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, চিনিযুক্ত পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার, যা হট ফ্ল্যাশ ও ঘুমের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, এসব খাবার এড়িয়ে চলুন।
সঠিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিয়মিত ফলো-আপের মাধ্যমে বেশিরভাগ নারীই সফলভাবে মেনোপজের লক্ষণগুলো সামলাতে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সক্ষম হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এক বছরের জন্য। শহর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত শ্রেণিকক্ষে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য নীতিমালা তৈরির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তটি দেশের সবচেয়ে বড় স্কুলে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর এআই নীতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসসহ অন্যান্য কিছু স্কুল জেলা এআই ব্যবহারের নীতিমালা পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছে এর আগে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের জানান, শহরের স্কুলগুলোতে বর্তমানে ব্যবহৃত প্রায় ৪০টি শিক্ষামূলক এআই টুলের ব্যবহার বন্ধ রাখা হবে।
মামদানি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “শিশুদের শেখা ও বেড়ে ওঠার জন্য শিক্ষক এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রয়োজন। সহপাঠীদের সঙ্গে কাজ করা, শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা এবং কঠিন সমস্যার সমাধান নিজেরা করার মতো দক্ষতা তাদের গড়ে তুলতে হবে।”
গুগল, অ্যানথ্রপিক ও মাইক্রোসফটের মতো বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
নতুন এই নীতির আওতায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ সরকারি স্কুল শিক্ষার্থী থাকবে। তবে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিছু ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
শিক্ষকদের অবশ্য এআই ব্যবহারে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়নি। পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, সময়সূচি নির্ধারণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে তারা এআই ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২০২২ সালে চ্যটজিপিটি চালুর পর নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে সাময়িকভাবে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং শিক্ষকদের সহায়তার জন্য নিজস্ব এআইভিত্তিক টুল চালু করা হয়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিয়মিত এবং সঠিকভাবে এলাচ খেলে শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায় এবং এটি দ্রুত ওজন কমাতে সহায়তা করে। এলাচের মধ্যে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ডিটক্সাইফাইং উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করে চর্বি গলানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
তবে মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র এলাচ খেলে রাতারাতি ওজন কমবে না। এটি মূলত সুষম খাদ্যতালিকা এবং ব্যায়ামের পরিপূরক বা অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ওজন কমাতে এলাচ খাওয়ার জন্য মূলত চারটি উপায় রয়েছে। প্রথমত, এলাচ ভেজানো পানি।
প্রতিদিন অতিরিক্ত এলাচ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। দিনে ১-২টি এলাচ বা খুব সামান্য পরিমাণ গুঁড়ো খাওয়াই যথেষ্ট, অন্যথায় হজমে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এলাচ খাওয়ার পাশাপাশি মিষ্টি এবং চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা উচিত। সেই সঙ্গে দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কসরত বা হাঁটার অভ্যাস রাখা প্রয়োজন।
প্রণালি
এক গ্লাস পানিতে ৩-৪টি এলাচ সামান্য থেঁতো করে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে সেই পানিটি হালকা গরম করে বা সরাসরি পান করা উচিত।
১. এলাচ ফোটানো চা প্রণালি
দুই গ্লাস পানিতে ৭-৮টি এলাচ দানা দিয়ে ৫ মিনিটের মতো ফুটিয়ে নিতে হবে। যতক্ষণ না পানি অর্ধেক হয়ে আসে। এরপর মেদ ঝরানোর জন্য এই মিশ্রণটি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কুসুম কুসুম গরম অবস্থায় পান করতে হবে।
২. এলাচ গুঁড়ো ও কুসুম গরম পানি প্রণালি
এলাচ হালকা ভেজে গুঁড়ো করে একটি পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিদিন এক চিমটি এলাচ গুঁড়ো এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে এটি হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দূর করে, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩. মসলার মিশ্রণ ও খাবারে ব্যবহার প্রণালি
ওজন কমানোর জন্য স্যুপ, ওটস বা কম ক্যালোরির খাবারের স্বাদ বাড়াতে এলাচ গুঁড়ো ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও, দারুচিনি, হলুদ বা আদার সঙ্গে এলাচ মিশিয়ে ভেষজ মসলা তৈরি করে তরকারিতে যোগ করলে তা শরীরের শক্তি ব্যয় বা ক্যালোরি বার্ন করতে সহায়তা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদে নোয়াখালীকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি উত্থাপন করেছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এম এ মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার বক্তব্যের সমাপ্তির দিকে সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রসিকতা করে মন্তব্য করেন, ‘নোয়াখালীর লোকজন তো চাঁদেও আছেন।’
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করার প্রস্তাব করেন ব্যারিস্টার এম এ মাহবুব উদ্দিন খোকন।
বক্তব্যে তিনি নোয়াখালীকে একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, নোয়াখালীর মানুষ পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল এবং যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নোয়াখালীর মানুষের উপস্থিতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নোয়াখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি হচ্ছে নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করা। নোয়াখালীর আয়তন বড় হওয়ায় এখানে প্রয়োজন হলে আরও দুই-তিনটি জেলা গঠন করা সম্ভব। পাশাপাশি নোয়াখালীতে সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
ব্যারিস্টার খোকন আরও উল্লেখ করেন, নোয়াখালীতে সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠা করা হলে দেশের সমুদ্রবন্দরনির্ভরতা ও ঝুঁকি কমে যাবে। তিনি বলেন, নোয়াখালীর মানুষ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং দেশের ব্যাংকিং ও ব্যবসা-বাণিজ্যে তাদের বড় উপস্থিতি রয়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলায় নোয়াখালীর লোকজন রয়েছে, বিদেশেও প্রায় ৭০-৮০ লাখ নোয়াখালীর মানুষ আছেন।
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আপনি বলেছেন বাংলাদেশের সব জায়গায় আছে। তাহলে নোয়াখালী কোথায় নেই? কথায় কথায় বলা হয় যে চাঁদে গেলেও নোয়াখালী পাওয়া যায়। অতএব, সব জায়গায় নোয়াখালী আছে।
এরপর তিনি ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে পরবর্তী প্রশ্নে চলে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্যাস্টিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ গ্রহণ শুরু করেন। যদিও সাময়িকভাবে অস্বস্তি কমে যায়, কিন্তু নিয়মিত বা দীর্ঘকাল ধরে এসব ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ গ্রহণের ফলে বিভিন্ন ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ লে. কর্নেল নাসির উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গ্যাসের ওষুধ দীর্ঘকাল ধরে খেলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের সমস্যাগুলো নিম্নরূপ—
হাড় দুর্বল হতে পারে
দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস্টিকের ওষুধ খেলে শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ কমে যেতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ গ্যাস্টিকের ওষুধ গ্রহণের ফলে অন্ত্রে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত ক্যালসিয়াম শোষণ করা সম্ভব। এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। যদি এই অবস্থা দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকে, তবে হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।
কিডনি রোগের ঝুঁকি
গ্যাস্টিকের ওষুধ দীর্ঘকাল ধরে গ্রহণের ফলে অ্যাকুইট ইন্টারেস্টেসিয়াল নেফ্রাইটিস নামক কিডনির সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এই সমস্যা ওষুধ গ্রহণের ১৮ মাসের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে ক্ষুধামন্দা, জ্বর এবং বমির সঙ্গে রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
গ্যাস্টিকের ওষুধ গ্রহণের ফলে শরীরের গ্যাস্টিন নামক হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলস্বরূপ কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যদি এই সমস্যা দীর্ঘকাল ধরে থাকে, তবে পরবর্তীতে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
নিউমোনিয়ার ঝুঁকি
দীর্ঘকাল ধরে গ্যাস্টিকের ওষুধ খেলে পাকস্থলীর অম্লীয় পরিবেশে পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে জীবাণুর বংশ বিস্তার সহজ হয়ে যায়। হেলিকোব্রাক্টর পাইলোরি নামক একটি ব্যাকটেরিয়া এই পরিবেশে বংশ বিস্তার করে, যা পরবর্তীতে ফুসফুস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যা করবেন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্যাস্টিকের ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। চিকিৎসক যে ওষুধ prescriibe করেন, তা কতদিন এবং কীভাবে খেতে হবে, তা মেনে চলা জরুরি। গ্যাস বা অ্যাসিডিটি কমানোর জন্য জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, ধূমপান থেকে দূরে থাকা, খাবার খাওয়ার পরপরই না শোয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ