ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবির সড়ক যোগাযোগ বিপ্লব


দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবির সড়ক যোগাযোগ বিপ্লব

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও পাহাড়ি জনপদকে দেশের মূল ধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া, পাহাড় ধ্বস এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছে এই প্রকৌশল ব্যাটালিয়ন।

সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে রাজস্থলী প্রকল্প ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে এই মহাকর্মযজ্ঞের সূচনা হয় এবং পরবর্তীকালে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত সড়ক (রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-ফারুয়া-বিলাইছড়ি সাইচল-বড়থলি-থেগামুখ) নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই বিশাল প্রকল্পের ১৩০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যে ৭৬ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে বগাখালী হতে করল্লাছড়ি পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রাস্তার কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে। তাছাড়া তৃতীয় পর্যায়ে করল্লাছড়ি হতে থেগামুখ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এবং উদয়াবাদ হতে থলিপাড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: চুরির বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

সুরক্ষিত সীমান্ত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সেনাবাহিনীর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রবেশ অত্যন্ত সহজ হয়েছে। এর ফলে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের দীর্ঘদিনের আধিপত্য দূর করে ওইসব অঞ্চলে সরকারের পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে। সীমান্ত সড়কগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্রিজ, কালভার্ট, আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম এবং রিটেইনিং ওয়াল তৈরি করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান বহুগুণ সহজ হয়েছে।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জীবনমানের উন্নয়ন সড়ক নির্মাণের ফলে স্থানীয় জুমচাষী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবন বদলে গেছে। থুমপাড়ার স্থানীয় কার্বারী জানান, "আগে সড়ক না থাকায় আমরা রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা কিংবা চট্টগ্রামে সহজে যাতায়াত করতে পারতাম না। এখন সড়ক হওয়ার ফলে আমাদের উৎপাদিত কলা, হলুদ, আদা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য খুব সহজেই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে পারছি।"

যোগাযোগের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে ২৬ ইসিবি ওই এলাকায় এখন পর্যন্ত ৩টি যাত্রী ছাউনি, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সীমান্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ৯টি নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করেছে। তাছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ওই অঞ্চলে ৭০ হাজার ৬৮০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সাইচল প্রকল্প ক্যাম্প সংলগ্ন গাছবাগান পাড়ার বৌদ্ধ বিহারটির সংস্কার কাজের জন্য ২৬ ইসিবির পক্ষ থেকে আট বান টিন অনুদান প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৬ ইসিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল আল মাসুদ। এছাড়াও সাইচল ক্যাম্পের কমান্ডারসহ ২৬ ইসিবির সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: রাজৈরে পরকীয়ায় বাধা, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

এছাড়া থুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার যাবতীয় দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছে ২৬ ইসিবি। কোমলমতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য থুমপাড়ায় একটি সুপরিসর খেলার মাঠও তৈরি করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। একই চিত্র দেখা গেছে জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে শিক্ষার্থীদের আরামদায়ক পাঠদানের জন্য সোলার প্যানেল ও ৪টি ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে, পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে খেলার মাঠ এবং বিতরণ করা হয়েছে জার্সি ও খেলাধুলার সামগ্রী।

শিক্ষার্থীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "এই দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আগে কোনো স্কুলের খেলার মাঠ বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছিল না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার, সুপেয় পানি এবং সোলার সিস্টেম ফ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়ে যে সহযোগিতা করেছেন এজন্য আমরা সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।"

দুর্গম অঞ্চলে সেনাবাহিনীর মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেছে এক ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে। থুমপাড়ার বাসিন্দা অমরধন চাকমা দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি ২৬ ইসিবির অধিনায়ককে জানানোর পর তিনি তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেন এবং তার চিকিৎসা ঢাকার সিএমএইচ এ করানোর ব্যবস্থা করেন। একইসাথে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করে ২৬ ইসিবি। বর্তমানে ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তিনি এবং তার স্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে ২৬ ইসিবি শুধু একটি প্রকৌশল ব্যাটালিয়ন হিসেবেই নয় বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া জনপদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও চিকিৎসায় আলো ছড়াতে এবং সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে এমপি মালেকের বৈঠক: ৬ ওয়ার্ডে ৩৪২ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কিছু অনুমোদন করা হবে না: বন প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কিছু অনুমোদন করা হবে না: বন প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদ

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের আশেপাশে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ও অবৈধ রিসোর্টগুলো বন ও পরিবেশের ক্ষতি করছে কিনা তা সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শনে গেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের আওতাধীন বনসংলগ্ন ১৮টি ইকো-রিসোর্ট পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের সময় পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বনবিভাগের বাগেরহাট ও মোংলা অঞ্চলের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) নিয়ম ভেঙে অবৈধভাবে একাধিক রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। মূলত এখানে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটছে কিনা এবং সুন্দরবনের পরিবেশ, সুরক্ষার ঘাটতি কিংবা প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে কিনা তা দেখতেই আমার এ আগমন।”

তিনি আরও জানান, বনের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার। শব্দদূষণ রোধে জেনারেটরের পরিবর্তে সোলার এনার্জি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, “শব্দদূষণ, বন্যপ্রাণী ও হরিণ শিকার বা পরিবেশের কোনো ক্ষতিকর দিক পরিলক্ষিত হলে এবং কোনো অবৈধ স্থাপনা পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়া হবে। আপাতত রিসোর্টগুলো ঘুরে কোনো প্রত্যক্ষ ক্ষতি চোখে পড়েনি। তবে মন্ত্রণালয়ে ফিরে গিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এটি উল্লেখযোগ্য যে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) বিধিমালা লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা রিসোর্টগুলোকে ৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপের ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকার ১৮টি রিসোর্টকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ এবং নির্ধারিত সময়ে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লিখিত ১৮টি রিসোর্ট হলো—অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।

মূলত সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব এবং বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তদারকি না থাকায় মোংলা ও দাকোপ সীমান্ত ঘেঁষে একের পর এক এসব বাণিজ্যিক রিসোর্ট গড়ে ওঠে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর এই সরাসরি পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্টরা এখন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে ভারি বৃষ্টির সঙ্গে দুর্যোগের সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


সৌদি আরবে ভারি বৃষ্টির সঙ্গে দুর্যোগের সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বজ্রসহ বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি টর্নেডো সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) জানিয়েছে, দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে হালকা থেকে ভারি মাত্রার বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর সঙ্গে থাকবে তীব্র বাতাস, ধূলিঝড় এবং বিপজ্জনক বন্যার ঝুঁকি।

সর্বশেষ আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাজান, আসির, আল বাহা এবং মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ ছাড়া মদিনা, তাবুক, আল জউফ, নর্দার্ন বর্ডারস, হাইল, নাজরান এবং রিয়াদের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার গালফ নিউজ বলছে, পবিত্র শহর মক্কা ও তায়েফ, আল জুমুম, বাহরা, মাইসান, আধাম ও আল আরদিয়াত গভর্নরেটগুলোতে শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জেদ্দা, রাবিঘ ও খুলাইস অঞ্চলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আল লিথ ও আল কুনফুদাহ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এনসিএম সতর্ক করেছে, বজ্রপাতের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ধুলোবালি উড়িয়ে দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিতে পারে।

এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি এবং উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্টি হতে পারে বড় ঢেউ। সংস্থাটি জানিয়েছে, যেসব এলাকায় অতিভারি বৃষ্টিপাত হবে, সেখানে টর্নেডো বা জলস্তম্ভ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ পি.এম


সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানিয়েছেন, সরকার উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকল্প যাচাই-বাছাই, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের উদ্দেশ্য হলো কোনো বাহ্যিক চাপের প্রভাবে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা নয়। প্রকল্প নির্বাচন এবং বাস্তবায়ন হবে জনগণের প্রয়োজন এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে।

আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৫ (পিইডিপি-৫)-সহ কিছু বড় প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে মেট্রোরেলের মতো প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ এবং যোগ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ অপরিহার্য।

জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি আরও বলেন, প্রকল্পের আকার বড় কিংবা ছোট হওয়া বিষয় নয়। বরং প্রকল্পটি জনগণের প্রয়োজন পূরণ এবং জাতীয় উন্নয়নে কতটা অবদান রাখছে, সেটিই মূল বিষয়।

পিইডিপি-৫ সম্পর্কে তিনি জানান, এই কর্মসূচির আওতায় একাধিক পৃথক কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হলে প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দ তুলনামূলক কম মনে হতো। কিন্তু এক কর্মসূচির আওতায় একত্রিত করায় সামগ্রিক প্রকল্পের আকার বড় হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন এবং অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাস্তবায়ন অনেক সময় বিলম্বিত হয়। এ কারণে সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে চায়।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার অর্থ প্রচলিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া কিংবা সরকারি অর্থের জবাবদিহির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যত দ্রুত সম্ভব উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়, কিন্তু কোনো প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে যাওয়া বা জনগণের অর্থের অপচয় হতে দিতে চায় না। বরং জনগণ যাতে সর্বোচ্চ সুফল পায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশন এবং একনেকের পৃথক ভূমিকা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প প্রস্তাব মূল্যায়ন করে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও মতামত দেয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী এবং একনেকের সদস্যরা প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন।

সাকি জানান, সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে ১৩টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।

এসব নির্দেশনার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, যথাযথ পরিবেশগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিনিয়োগের সুফল সম্পর্কে সুস্পষ্ট মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে সরকার নিয়মিত শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ এবং উন্নয়ন ব্যয়ের মান বাড়াতে সরকার আর্থিক যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা জোরদার করছে। প্রকল্পের ব্যয় পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু এবং ক্রয়মূল্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

বড় প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু এবং কর প্রশাসনের উন্নয়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এখনো একটি চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং জনগণের প্রয়োজন পূরণে সরকার সম্প্রসারণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব চলমান প্রকল্পের কার্যক্রম এখনো প্রয়োজনীয়, সেগুলো সংশোধিত বরাদ্দ ও সময়সীমা বাড়িয়ে বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি অগ্রাধিকারভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় সরকার।

সাকি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অধিকতর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়মিত যাচাই করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন পর্যবেক্ষণ এবং ব্যয় মূল্যায়ন ব্যবস্থা সরকারি বিনিয়োগে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারের আগুনে নিহত নাবিলার স্মরণে জবিতে শোক ও দোয়া মাহফিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


কক্সবাজারের আগুনে নিহত নাবিলার স্মরণে জবিতে শোক ও দোয়া মাহফিল

কক্সবাজারের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার স্মরণে শোক ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আয়োজিত এ মাহফিলে প্রয়াত শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

দোয়া মাহফিলের পূর্বে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন শোক প্রকাশ করে বলেন, "নাবিলাসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যের এভাবে চলে যাওয়া মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের পরিবারসহ আমাদের সবার জন্য একটি পরীক্ষা।" তিনি আরও বলেন, "আল্লাহর এ পরীক্ষায় ধৈর্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে উত্তীর্ণ হতে হলে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও আনুগত্য বজায় রাখতে হবে।" তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রয়াত শিক্ষার্থীসহ তার পরিবারের সব সদস্যকে জান্নাতুল ফেরদাউস দানের প্রার্থনা করেন।

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, "এ মর্মান্তিক ঘটনা থেকে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নই।" তিনি বলেন, "তাহলে কারও মনে কষ্ট দেওয়া কিংবা কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করা আমাদের উচিত নয়।" মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় সবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করা, মানুষের উপকারে এগিয়ে আসা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এ অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য ধারণের তৌফিক দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম এবং রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক। তারা নাবিলা ও তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মো. ছালাহ্ উদ্দিনের পরিচালনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাবিলা ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করা হয়। পাশাপাশি শোকাহত স্বজনদের এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য প্রার্থনা করা হয়।

দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%