ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন গ্যাংস্টার, পাহারায় ছিল পুলিশ


প্যারোলে মুক্তি পেয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন গ্যাংস্টার, পাহারায় ছিল পুলিশ

পুরোহিত মন্ত্র পড়তে পড়তে হন্তদন্ত হয়ে ছিলেন, আর অগ্নিকুণ্ডে একটার পর একটা ‘স্বহা, স্বহা’ শব্দে আহুতি দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মেটা তার কান্নাকাটি করা তিন সন্তানের একজনকে ফোনের স্ক্রিনে ইউটিউব চালিয়ে শান্ত রাখতে চেষ্টা করছিলেন। আগুনের ধোঁয়ায় তার চোখ জ্বলছিল। বারবার তিনি একবার সন্তানদের দিকে তাকাচ্ছিলেন, আবার ফিরে তাকাচ্ছিলেন যজ্ঞের আগুনের দিকে।

গ্যাংস্টার মাইনপাল ধিল্লার দুই হাত একটি বড় কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল—এটি সম্ভবত তার হাতের হাতকড়াটা ঢেকে রাখার জন্যই করা হয়েছিল। তবুও কাপড়ের ফাঁক দিয়ে মাঝে মাঝে ঝিকমিক করে উঠছিল ধাতব হাতকড়াটি। কেউ খেয়াল করতেই আবার দ্রুত কাপড় দিয়ে সেটি ঢেকে দেওয়া হচ্ছিল।

মণ্ডপের চারপাশে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ সদস্যরা কড়া নজরদারি চালাচ্ছিলেন। অদূরেই বরের নারী আত্মীয়রা নারী কনস্টেবলদের সঙ্গে গল্পে মেতে ছিলেন এবং কনের লেহেঙ্গাটা ঘুরেফিরে দেখছিলেন।

আরও পড়ুন: জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড ২৭’ নতুন নজির গড়তে যাচ্ছে

‘কনের লেহেঙ্গাটা কিন্তু একদম গায়ে মানায়নি,’ মন্তব্য করলেন এক নারী কনস্টেবল। ‘আমি শুনেছি এটার দাম নাকি ছয় হাজার রুপি,’ পাশ থেকে উত্তর দিলেন আরেক কনস্টেবল।

সত্যিই এটি একটি অদ্ভুত ও তাড়াহুড়োর বিয়ে! ধিল্লাকে যে অন্য জায়গায় ফিরতে হবে—তার আসল ঠিকানা এখন কারাগার।

৫০ বছর বয়সি ভারতের হরিয়ানার এই গ্যাংস্টারকে তার ৩৭ বছর বয়সি কম্বোডিয়ান প্রেমিকা মেটাকে বিয়ে করার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত—মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য কাস্টডি প্যারোল দেওয়া হয়েছিল। মেটা তার তিন সন্তানকে নিয়ে ঝাজ্জারে এসেছেন, তবে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য তার সঙ্গে ছিলেন না।

ধিল্লা মূলত বাদলি গ্রামের এক ট্রাক্টর মেকানিক ছিলেন। ২০০০ সালে গ্রামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধের জেরে নিজের চাচা হেমচন্দ্রকে হত্যা করার পর থেকে পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় তার নাম ওঠে। পরবর্তীতে তিনি নিজের মামা ওমপ্রকাশকেও হত্যা করেন এবং দ্রুতই ওই এলাকার কুখ্যাত অপরাধী হয়ে ওঠেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি আরও দুজনকে হত্যা করেছেন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অন্তত ২২টি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাই, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও অবৈধ অস্ত্র মামলার মতো নানা অপরাধে তিনি এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরের উষ্ণতায় কচ্ছপের বংশবিস্তার ঝুঁকিতে, পুরুষ কচ্ছপের অভাবের শঙ্কা

বাদলি গ্রাম থেকে আসা ধিল্লার আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী যখন মণ্ডপ ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন প্রায় ১৫ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চারপাশ পাহারা দিচ্ছিলেন। পুলিশ সদস্যদের জন্য এই বিয়ের একটাই কড়া শর্ত ছিল- রাত ৮টার মধ্যে ধিল্লাকে আবার জেলখানায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

কৃত্রিম ফুল দিয়ে সাজানো একটি অস্থায়ী ঘরেই বানানো হয়েছিল বিয়ের মণ্ডপ। একপাশে পুরুষদের বসার জন্য সারি সারি চেয়ার সাজানো ছিল, আর নারীরা বসেছিলেন কাছেই মাটিতে। ছোট সেই ঘরটিতে শুধু ধিল্লা, মেটা, তাদের সন্তান এবং পণ্ডিতের দাঁড়ানোর মতো জায়গা ছিল। তাদের ঘিরে চারজন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা ও বন্দুকধারী পুলিশ কর্মকর্তা পুরো আনুষ্ঠানিকতার ওপর নজর রাখছিলেন।

পুলিশের কড়া পাহারায় বিয়ে

গুড়গাঁও-ঝাজ্জার সড়কের পাশের ওই ফার্মহাউসের বাইরে প্রায় ৫০টির মতো গাড়ি পার্ক করা ছিল—যার মধ্যে রয়েছে এসইউভি, স্করপিও এবং থার। তবে বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে ভেতরে কোনো বিয়ের আয়োজন চলছে। বাইরের দিকে কোনো আলোকসজ্জা বা সাজসজ্জা ছিল না। তার বদলে গেটে পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে ও বসে থেকে আগত অতিথিদের ওপর নজর রাখছিলেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষাবিদ সাজে চীনা এজেন্ট, ভারতীয় সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রবেশদ্বারে পুলিশ সদস্যরা প্রত্যেকের ব্যাগ তল্লাশি করছিলেন, গায়ে হাত দিয়ে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করছিলেন এবং নাম, বাবার নাম ও ফোন নম্বর লিখে রাখছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের ভেতরে ঢোকার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ভেতরে গোলাপি ও সাদা রঙের তাঁবুতে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফাঁকা জায়গায় চেয়ারে বসে পুরুষেরা খাবার খাচ্ছিলেন আর বিড়ি টানছিলেন, আর নারীরা যাতায়াত করছিলেন ঘর ও বিয়ের আয়োজনের জায়গায়।

স্যুট পরা নারীরা একসঙ্গে ফার্মহাউসের ভেতরে বসে নিজেদের মধ্যে এবং নারী কনস্টেবলদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। কোনো বলিউডের গান বাজছিল না, এমনকি হরিয়ানার বিয়ের প্রথা ভেঙে নারীরা কোনো ঐতিহ্যবাহী বিয়ের গীতও গাইছিলেন না।

নারী কনস্টেবলদের পোশাকের দিকে তাকিয়ে এক নারী বলেই উঠলেন, ‘আগে তো নারী কনস্টেবলরা স্যুট পরতেন, এখন তো দেখছি শার্ট আর ট্রাউজার পরা শুরু করেছেন!’

আরও পড়ুন: কানাডা বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে

আরেকজন জানতে চাইলেন, গ্রাম থেকে কেউ থানায় গেলে এখনো তারা ঘোমটা দেন কিনা।

‘আমাদের তো ইউনিফর্ম পরতেই হয়। গ্রাম থেকে কেউ থানায় এলে আমি তো আর মুখ ঢাকি না। কাজ তো কাজই,’ উত্তর দিলেন কনস্টেবল।

ধিল্লার এক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মেটা এক মাসের মতো গ্রামে থাকবেন, তারপর কম্বোডিয়া ফিরে যাবেন। পরবর্তীতে তিনি হয়তো ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।’

বিয়ের পর্বটি সম্পন্ন হয় ধিল্লার এক চাচাতো ভাইয়ের মালিকানাধীন ফার্মহাউসে।

আরও পড়ুন: গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৭৫ মরদেহ, একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত

চার-পাঁচটি ঘর আর একটি রান্নাঘর সম্বলিত এই ফার্মহাউসের চারপাশে ছিল বিশাল খোলা জায়গা। সেখানে সুইমিং পুল বা অন্য কোনো বিলাসবহুল আয়োজন ছিল না। জায়গাটি দেখে মনে হচ্ছিল না এখানে কেউ নিয়মিত থাকেন। এর মালিক, অর্থাৎ ধিল্লার চাচাতো ভাই থাকেন রোহতকের একটি গ্রামে।

কয়েকজন নারী ছবি তোলার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন এবং নির্দেশ মেনে চলতে বলেন। নিকটাত্মীয়রা ফার্মহাউসে ঘুরে ঘুরে কাজ সামলাচ্ছিলেন, বাচ্চাদের সামলাচ্ছিলেন আর ধিল্লার বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে সাহায্য করছিলেন।

অবশ্য হরিয়ানার কোনো কয়েদি গ্যাংস্টারকে জেল থেকে বের হয়ে বিয়ে করার অনুমতি পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও রাজস্থানে ৩০টিরও বেশি মামলার আসামি সন্দ্বীপ ওরফে ‘কালা জাতেডি’কে ৬ ঘণ্টার প্যারোল দিয়েছিল দিল্লির একটি আদালত। অনুরাধা চৌধুরী নামের এক তালিকাভুক্ত অপরাধীকে (যিনি ‘রিভলভার রানি’ ও ‘ম্যাডাম মিঞ্জ’ নামেও পরিচিত) বিয়ে করার জন্য এই সুযোগ দেওয়া হয়। দ্বারকার একটি ভেন্যুতে তাদের বিয়ে হয়, যেখানে প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল।

আরও পড়ুন: গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৪৭৫ জনে পৌঁছেছে

একই মাসে হরিয়ানার আরেক গ্যাংস্টারকে তার বিয়ের জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছিল। সোনিপতের বাসিন্দা ও গোগি গ্যাংয়ের সদস্য যোগেশ দহিয়া ওরফে ‘টুন্ডা’কে দিল্লির হাইকোর্ট ৬ ঘণ্টার প্যারোল দেয় বিকাশপুরীর একটি আর্য সমাজ মন্দিরে বিয়ে করার জন্য। দহিয়া সে সময় তিহার জেলে বন্দি ছিলেন।

এর এক বছর পর, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নিহত গ্যাংস্টার তিলু তাজপুরিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত অমিত ওরফে ‘দাবাং’-কে দিল্লির নারেলায় নিজের বিয়েতে উপস্থিত থাকার জন্য ৫ ঘণ্টার প্যারোল দেওয়া হয়েছিল। কড়া পুলিশ পাহারায় তাকে বিয়ের ভেন্যুতে নেওয়া হয় এবং অনুষ্ঠান শেষ হতেই আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।

সূত্র: দ্য প্রিন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ন্যাপ চেয়ারম্যানের ওপর হামলায় রিজভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


ন্যাপ চেয়ারম্যানের ওপর হামলায় রিজভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ

বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এম এন শাওন সাদেকীর ওপর প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সাবেক ২০ দলীয় জোট ও পরবর্তী জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে রিজভী বলেন, "২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দেশের ভেতর লুকিয়ে থাকা দুস্কৃতিকারীরা আবারো দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নানা ধরণের অরাজকতা সংঘটিত করছে।" তিনি উল্লেখ করেন, এম এন শাওন সাদেকীর ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা এবং গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা সেই পরিকল্পিত অরাজকতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, "এসব দুস্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে কঠোর শাস্তি প্রদানের বিকল্প নেই। তা না হলে তারা আরও বড় ধরণের নাশকতা ঘটাতে পারে।"

রিজভী আরও বলেন, "গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।" তিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখার জন্য আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার আইন শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।

বিবৃতিতে হামলাকারী দুস্কৃতিকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান রিজভী। তিনি এম এন শাওন সাদেকীর আশু সুস্থতা কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন মোহাম্মদ শেহজাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন মোহাম্মদ শেহজাদ

পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন কীর্তি স্থাপন করেছেন তরুণ ব্যাটার মোহাম্মদ শেহজাদ। প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানে পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) হয়ে কিংসম্যান একাডেমির বিপক্ষে তিনি মাত্র ৪৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। এর ফলে পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

ইসলামাবাদের ডায়মন্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন শেহজাদ। পিটিভি যখন মাত্র ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে ছিল, তখন পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন তিনি। এরপর পালটা আক্রমণে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন এই তরুণ।

আউট হওয়ার আগে শেহজাদ মাত্র ৬২ বলে ১১৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ১২টি চার ও ৮টি ছক্কা ছিল। চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ তাহারের সঙ্গে ১৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। ফলে শুরুতে চাপে পড়া পিটিভি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ২১তম ম্যাচেই ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন শেহজাদ। একই সঙ্গে তার এই ঝোড়ো শতক ভেঙে দিয়েছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা পাকিস্তানের রেকর্ড।

এর আগে পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের দখলে ছিল। ২০১৪ সালে আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে তিনি মাত্র ৫৬ বলে শতক করেছিলেন। ওই ইনিংসের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ভিভিয়ান রিচার্ডসের পাশে বসেছিলেন তিনি। পরে ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৫৪ বলে সেঞ্চুরি করে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন।

পিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কাঠামো পেরিয়ে উঠে এসেছেন শেহজাদ। পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তিনি খেলেছেন।

এখন পর্যন্ত ২২টি লিস্ট-এ ও ২৬টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা শেহজাদের পাকিস্তান সুপার লিগে অভিষেক ঘটে ২০২৫ মৌসুমে। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে সেই আসরে তিনি ছয়টি ম্যাচ খেলেছিলেন। এবার ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রেকর্ড গড়ে নিজের সম্ভাবনার জানান দিলেন এই তরুণ ব্যাটার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে : চসিক মেয়র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. শাহাদাত হোসেন প্রযুক্তির উন্নয়নকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘নেক্সট জেনারেশন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার সিস্টেমস অ্যান্ড টেকনোলজিস’ শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন উল্লেখ করেন, গবেষণা তখনই অধিক কার্যকরী হয়, যখন বিভিন্ন দেশের গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব হলো, শুধুমাত্র বিদ্যমান জ্ঞান বিতরণে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যতের সমস্যাগুলোর সমাধানে তরুণদের প্রস্তুত করা।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহারকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যৎ কেবল প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত হবে না, বরং প্রযুক্তিকে সঠিক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানোর ওপরও তা নির্ভর করবে। প্রযুক্তি কেবল নতুন যন্ত্র বা ব্যবস্থা তৈরি করার বিষয় নয়, বরং এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন, শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

সম্মেলনটি গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন গবেষণা, সহযোগিতা এবং যোগাযোগের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে: মোশারফ হোসেন এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে: মোশারফ হোসেন এমপি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষা ব্যবস্থায় অধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন এমপি মন্তব্য করেছেন যে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আবারও ঘটছে। আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন।

শুক্রবার, ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার হাটকড়ই ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। তিনি কলেজের নবনির্মিত প্রধান ফটক (গেট) ফলক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছা. মোত্তাহারুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার। কলেজ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আলেকজান্ডার, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম সুমন, নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি ও যুবদল নেতা আব্দুর রউফ রুবেল, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম, ইয়াছিন আলী, গোলাম হোসেন, মাহবুবুল আলম, নজরুল ইসলাম, যুবদলের আরিফুল ইসলাম মজনু, গোলাম রব্বানী, মেহেদী হাসান শাহীন, উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, পৌর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন, সাধারণ সম্পাদক আরএইচ নূরনবী, মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%