ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেন কিনল না ভারত?


মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেন কিনল না ভারত?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট কেনার প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ভারত সেই পথ থেকে সরে এসেছে। যদিও সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো হয়েছে, নতুন দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা বর্তমানে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে না।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিষয়টি কেবল প্রাথমিক প্রস্তাবের পর্যায়েই ছিল। এটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কেনাকাটার প্রক্রিয়া বা আলোচনা শুরু হয়নি।

ভারত দাবি করছে যে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'আত্মনির্ভর ভারত' নীতির বাস্তবায়নে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসার প্রধান কারণ। বর্তমানে ভারত তার নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি প্রকল্প বিশেষ করে 'অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট' এবং 'তেজস মার্ক-২' কর্মসূচির বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে চাইছে।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা সাজানোর অভিযোগ করেছে উত্তর কোরিয়া

সম্প্রতি, রাষ্ট্রীয় বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা হিন্দুস্থান অ্যারোনেটিক্স লিমিটেড-এর কাছ থেকে প্রায় ৬২৩.৭০ বিলিয়ন রূপি ব্যয়ে দেশীয় যুদ্ধবিমান কেনার যে বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটিও দেশের অ্যারোস্পেস খাতকে স্বাবলম্বী করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই বাস্তব প্রতিফলন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এফ-৩৫ এর মতো বিদেশি ফাইটার জেট ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় এবং মার্কিন সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমেরিকান এই বিমানের অত্যন্ত সংবেদনশীল সফটওয়্যার সোর্স কোড এবং ডেটা-শেয়ারিং ব্যবস্থার ওপর ওয়াশিংটনের একচ্ছত্র আধিপত্য ভারতের পরিচালনগত সার্বভৌমত্ব খর্ব করার ঝুঁকি তৈরি করত।

তাছাড়া, এফ-৩৫ কেনা এবং তা দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণের বিপুল খরচ ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় চাপ সৃষ্টি করত। এতে দেশের নিজস্ব প্রযুক্তি গবেষণা এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হত।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কৌশলগত দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার মতো দীর্ঘকালীন অংশীদার দেশগুলো ভারতে যৌথভাবে প্রযুক্তির হস্তান্তর এবং স্থানীয়ভাবে যুদ্ধবিমান তৈরির বিষয়ে নমনীয়তা দেখালেও আমেরিকার সামরিক চুক্তিতে শর্তাবলী অনেক কঠিন থাকে। তাই, ভারতের বিরোধী দলগুলোও মার্কিন এফ-৩৫ বিমানের অতিরিক্ত ব্যয়ভার নিয়ে সমালোচনা করে আসছে।

আরও পড়ুন: গ্রিন পার্টির বিরুদ্ধে ইহুদিদের আনা বর্ণবাদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

অনেকে মনে করছে, তাই বিলিয়ন ডলার খরচ করে মার্কিন স্টিলথ জেট কেনার চেয়ে নিজের তৈরি প্রযুক্তির শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল হওয়াকেই কৌশলগতভাবে সঠিক পথ হিসেবে মনে করছে নতুন দিল্লি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হারিকেন ও হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে ঢাবিতে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


হারিকেন ও হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে ঢাবিতে বিক্ষোভ

দেশব্যাপী চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে হারিকেন ও রান্নার হাঁড়ি-পাতিল হাতে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। সংকটের প্রতীক হিসেবে হারিকেন ও খালি হাঁড়ি-পাতিল হাতে নিয়ে তারা সরকারের জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে নেতাকর্মীরা হারিকেন ও রান্নার হাঁড়ি-পাতিল হাতে নিয়ে ‘বাহ আজব তারেক ভাই, খাম্বা আছে কারেন্ট নাই’, ‘চুলা আছে গ্যাস নাই, বাহ আজব তারেক ভাই’ এবং ‘শিক্ষা ঐক্য, মুক্তি মুক্তি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে আবারও ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। তখন যেমন খাম্বা থাকলেও বিদ্যুৎ পাওয়া যেত না, বর্তমানে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে আমরা আবারও ২০০২-২০০৪ সালের যুগে ফিরে গেছি, যেখানে শুধু খাম্বা আছে, কিন্তু ঘরে বিদ্যুৎ নেই। গ্রামে খবর নিয়ে দেখেন, ১২-১৩ ঘণ্টা পর একবার বিদ্যুৎ আসে। তাও এক-দেড় ঘণ্টার বেশি থাকে না।’ বিদ্যুৎ সরবরাহের এই সংকটের পাশাপাশি গ্রাহকদের অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় তিন গুণের বেশি বিল আসছে। তাহমিদ আল মুদ্দাসসির বলেন, বিদ্যুৎ সংকট শুধু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেই ব্যাহত করছে না, এর প্রভাব পড়ছে শিল্প ও উৎপাদন খাতেও। একইসঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন সীমিত করতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন। রান্নার জন্য অনেকে বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। কিন্তু সিলিন্ডারের দামও গত কয়েক মাসে দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন সীমিত করতে হচ্ছে। ঢাকা শহরের আবাসিক এলাকায় কোথাও গ্যাস নেই। মানুষ সিলিন্ডার ব্যবহার করবে, কিন্তু গত চার মাসে দফায় দফায় সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে।’ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, এভাবে গ্যাস সংকট চলতে থাকলে আমরা তিতাসসহ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সব প্রতিষ্ঠানে তালা দেব, অবরোধ করব।’ সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাকিব বলেন, দেশে বর্তমানে কোনো মহামারি, যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ কিংবা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে না। তারপরও জনগণকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে কিংবা পৃথিবীর কোথাও কোনো মহামারি চলছে না। কোথাও যুদ্ধ চলছে না। বাংলাদেশে কোথাও সিভিল ওয়ার চলছে না। গত এক বছরে বাংলাদেশ কোনো বড় দুর্যোগেরও শিকার হয়নি। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকেই আমরা একটি কৃত্রিম সংকট, কৃত্রিম মহাদুর্যোগ এবং লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে বাংলাদেশকে পরিণত হতে দেখছি। সাকিব বলেন, তীব্র গ্যাস সংকট, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে নিত্যদিনের মৌলিক চাহিদা পূরণে সংকটে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, তীব্র গ্যাস সংকট, ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাই। একদিকে ভিন্নমতের ওপর দমন-নিপীড়ন, অন্যদিকে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ- সিন্ডিকেট সরকারের চরম অযোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ। EconomicConditions অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বন্ধ করা ছাড়া নিকট অর্থনৈতিক সংকট থেকে বাংলাদেশের পরিত্রাণের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, নতুন করে খাম্বা যুগ কিংবা হারিকেনের যুগে আর ফিরতে চাই না। আমরা মুক্তি চাই। নিরাপত্তা চাই। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন মোহাম্মদ সাকিব। তিনি বলেন, রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও টানা কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকট চলছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের মূল্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘গত ১৬-১৭ দিন ধরে রাজধানী ঢাকার মতো জায়গায় গ্যাস সংকট চলছে। বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আমরা প্রত্যক্ষ করছি।’ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অথচ এই পরিস্থিতিতেও আমরা দেখি, আমাদের পিএম ভাইয়া প্রতিদিন রিলস বানাচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ সাকিব অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী একদিকে দলীয় ক্যাডারবাহিনী নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন, অন্যদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণেও ব্যর্থ হয়েছেন। সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, দেশে আবারও বিদ্যুৎ খাতে সিন্ডিকেটের প্রভাব তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে গ্রাহকদের অস্বাভাবিক বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই বিদ্যুৎ সিন্ডিকেট আবারও চালু হয়েছে। সারাদেশে বিদ্যুৎ নেই, অথচ অসহনীয় বিদ্যুৎ বিল আমরা পরিশোধ করছি। বিদ্যুৎ খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের দাবি তুলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এর মধ্যে এর পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।’ গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবু সাঈদ। তিনি বলেন, ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট চলছে। এর প্রভাব পড়েছে যানবাহন ও জ্বালানি সরবরাহেও। তিনি বলেন, ঢাকায় দীর্ঘ এক মাস ধরে গ্যাস নেই। সিএনজি চলছে না। মানুষের গাড়ি চলছে না। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। আমাদের গ্যাস কোথায় যাচ্ছে- আমরা জানতে চাই। বিক্ষোভ থেকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত নিরসন, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল বন্ধ, জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ people's ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে: গোলাম পরওয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন, বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে। এর একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ৩৬ জুলাই নিয়ে বিএনপির দলীয় কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি জুলাইকে অস্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেই হবে। বিএনপি সংস্কার ইস্যুতে যেই রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে সেই সংকট বিএনপিকেই নিরসন করতে হবে। সংসদে নিষ্পত্তি না হলে যেই ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে ফয়সালার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তিনি সোমবার বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাজলা ব্রিজের সামনে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জনসভাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি সরকারের একজন মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বিএনপি সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে কেবলমাত্র নির্বাচন আদায় করার জন্য। কারণ, সংস্কারের দাবিতে যদি জনগণ আবার রাজপথে নামে তাহলে নির্বাচন হবে না। আর নির্বাচন না হলে বিএনপি ক্ষমতায় বসতে পারবে না। এই যে জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা, বিশ্বাসঘাতকতা, এতেই বুঝা যায় বিএনপি জুলাই চেতনা লালন ও ধারণ করে না, বিশ্বাস করে না।

তথ্য দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার ইতিহাসে এমন বর্বরতা কোথাও নেই যে নিজ দেশের জনগণকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে কোনো প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকতে চায়। আমরা সেই নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা ভুলতে পারি না। হাসিনার পেটুয়া বাহিনী যেভাবে ‍গুলি করে মানুষকে হত্যা করেছে! হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়ে দিয়েছে!

তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, এতো মানুষ কেন জীবন দিলো, কেন পঙ্গুত্ব বরণ করলো? কারণ মানুষ চেয়েছে নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও রাষ্ট্রের পরিবর্তন হোক। মানুষ ক্ষমতার পরিবর্তন চায়নি। মানুষ চেয়েছে সিস্টেমের পরিবর্তন। মানুষ চেয়েছে বৈষম্যহীন একটি কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র। মানুষের ওই আকাঙ্ক্ষার বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে রাষ্ট্র কাঠামোর সংশোধন নয়, সংস্কার করতে হবে।

সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দখল, খুন, লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে না পারার জন্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি মহাসচিব ও এলজিইডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের ৫ মাসেও সরকার কোনো কিছুর পরিবর্তন করতে পারেনি। সবকিছু আগের মতোই চলছে! বিএনপির মহাসচিবের এমন স্বীকারোক্তির জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারের উচিত ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নেওয়া।

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। জুলাই বিপ্লব আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষমতায় থাকতে চাইলে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নয়তো আবারও দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যেতে হতে পারে।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলে জাতিকে আবারও ধোঁকা দিতে যাচ্ছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে কীভাবে পালাবেন সেই পথ তৈরি করুন।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, বিএনপি গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত জুলাই শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করা হয়নি। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি। এমনকি গণহত্যাকারীদের বিচার করা হয়নি। জুলাই চেতনা ও আকাঙ্ক্ষায় রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণহত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে তিনি সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও মব কালচার এবং দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা বেঁচে থাকতে দ্বিতীয় কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম আর হবে না।

দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণের জন্য গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। নিদৃষ্ট করে বলেন, নতুবা আবারও জুলাই ফিরে আসতে পারে। সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জুলাই ফিরে আসলে ক্ষমতা রক্ষা করা যাবে না।

মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইনের সাথে কামরুল আহসান হাসানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, মহানগরী দক্ষিণ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, শহীদ আসলামের বোন শারমিন আক্তার, শহীদ নুর হোসেনের মা ছিনু বেগম, আহত জুলাই যোদ্ধা মো. শাহ আলম, জামায়াতে ইসলামী যাত্রাবাড়ী জোন সহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান খান, ডেমরা জোন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী, কদমতলী মধ্য থানা আমির মো. মহিউদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী মধ্য থানা আমির অ্যাডভোকেট এ.কে আজাদ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, জুলাইয়ের দিন গুলিতে একদিকে মসজিদে আজান হচ্ছে, আরেকদিকে রাস্তায় পুলিশের গুলি বর্ষণ চলছে। পুলিশের গুলি শব্দে আজানের ধ্বনী বিলীন হচ্ছিল। মানুষ আজানের ধ্বনিও শুনতে পায়নি। এত ভয়ংকর পরিস্থিতিও মানুষ পিছু হটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় মেনে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে যাত্রাবাড়ীবাসী চব্বিশের জুলাইয়ের মতো আবারও একতাবদ্ধ হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ মাস পর দেশে ফিরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


১৫ মাস পর দেশে ফিরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

দীর্ঘ ১৫ মাসের অধিক সময় ধরে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি আজ, ৩ আগস্ট দেশে ফিরেছেন যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষ করে। এই মুহূর্তে তার সঙ্গে ছিলেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স।

বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপন করতে গিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি দেশে এসেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি সবসময় সবার জন্য দোয়া করি।’

এছাড়া, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর আসন্ন মহাসমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে দেশে ফিরছেন ‘বেদের মেয়ে জোসনা’খ্যাত এই নায়ক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘আজ বিকেলে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে তাঁর এই আসা দীর্ঘদিনের জন্য নয়। আগামী ১৫ আগস্ট লন্ডনে তাঁর চিকিৎসার পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে। তাই ১৪ আগস্টের আগেই তাঁকে আবার ফিরতে হবে।’

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে যান কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতালের পাশাপাশি তাঁর মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকেও চিকিৎসা করেন।

গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ সম্ভব হয়নি। পরবর্তী পরীক্ষায় পাওয়া যায়, তাঁর ব্রেন ক্যানসার। অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপির পাশাপাশি ওরাল থেরাপি দেওয়া হয়। পরে আরও দুই ধাপে ওরাল থেরাপি সম্পন্ন করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-কুয়েতের বন্ধুত্ব থেকে অবিশ্বাস, যেভাবে বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


ইরান-কুয়েতের বন্ধুত্ব থেকে অবিশ্বাস, যেভাবে বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ

ইরান ও কুয়েতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। একসময় উপসাগরীয় যুদ্ধের (১৯৯০-৯১) সময়ে কুয়েতের পাশে দাঁড়িয়ে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং দেশটির জ্বলন্ত তেলকূপ নেভাতে সহায়তা করেছিল ইরান। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে স্পষ্ট অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কুয়েতকে সামাজিক মাধ্যমে ‘অশুভ শক্তির আগুনের অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, ইরান সবসময় প্রতিবেশীসুলভ নীতি অনুসরণ করলেও কুয়েত সেই সহায়তার প্রতিদান দেয়নি। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

অন্যদিকে, কুয়েত সরকার দাবি করেছে, তাদের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে না। পাশাপাশি, কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের হামলাকে ‘অপরাধমূলক আগ্রাসন’ হিসেবে উক্ত করেছে।

ইরান-ইরাক যুদ্ধ থেকেই এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ইরান ও কুয়েতের মধ্যে বহু বছর ধরে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকলেও ১৯৮০ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। সে সময় কুয়েত ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে বিপুল আর্থিক ঋণ, লজিস্টিক সহায়তা এবং বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর কুয়েতের শাসকগোষ্ঠী শঙ্কিত ছিল যে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং কুয়েতের শিয়া জনগণের মধ্যে বিদ্রোহ সৃষ্টি করতে পারে। যুদ্ধ চলাকালে কুয়েতের তেলবাহী জাহাজ, কূটনৈতিক স্থাপনা ও বিমান চলাচলের ওপর হামলার জন্যও ইরানকে দায়ী করা হলেও এসব ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ইরানের সম্পৃক্ততার চূড়ান্ত প্রমাণ কখনো পাওয়া যায়নি।

১৯৯০ সালে ইরাক কুয়েত দখল করার পর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জোট ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ফলে কুয়েতে মানবিক সংকট সৃষ্টি হয় এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

সে সময় ইরান হাজার হাজার কুয়েতি, বিদেশি শ্রমিক, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি এবং ইরাকি নাগরিককে আশ্রয় দেয়। ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অস্থায়ী শরণার্থী শিবির স্থাপন করে খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় ও বিদেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঐ সময় ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরাও ইরানের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

কুয়েত থেকে পিছু হটার আগে ইরাকি বাহিনী শত শত তেলকূপে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং উপসাগরে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে দেয়, যা ইতিহাসের অন্যতম বড় পরিবেশগত বিপর্যয়ে পরিণত হয়। বিষাক্ত ধোঁয়া ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে, ইরান ৪৭ জন প্রকৌশলী ও তেল বিশেষজ্ঞের একটি দল কুয়েতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বারগান তেলক্ষেত্রে কাজ করে ২৮টি জ্বলন্ত তেলকূপ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এই মানবিক ও কারিগরি সহায়তা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ১৯৯০-এর দশকে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়তে থাকে।

উপসাগরীয় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি সামরিক ঘাঁটির মধ্যে পাঁচটি কুয়েতে অবস্থিত, যেখানে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতিকে নিজের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কুয়েতের ঘাঁটি আঞ্চলিক সামরিক অভিযানে ব্যবহারের খবর প্রকাশিত হলেও কুয়েত সরকার তা অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় কুয়েতসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইরান বিশ্লেষকদের মতে, এটি কুয়েতের অবস্থান নিয়ে তেহরানের সন্দেহকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

এখন, কুয়েত পাকিস্তানের সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করেছে। এই চুক্তিতে সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় তালিকাভুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি স্বাভাবিক হলেও বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সময়ে এর অনুমোদন কুয়েতের নিরাপত্তা কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে ইরান আপাতত এই চুক্তির বিরোধিতা না করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

একসময় যুদ্ধের কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো ইরান ও কুয়েতের সম্পর্ক এখন ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%