ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বর্ষায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যেসব খাবার খাবেন


বর্ষায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যেসব খাবার খাবেন

বর্ষাকাল প্রকৃতিকে সত্যিই সজীব ও প্রাণবন্ত করে তোলে, তবে এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। আকাশে জমে থাকা আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, দূষিত পানি এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের ফলে এ সময় সর্দি-কাশি, জ্বর, ভাইরাল সংক্রমণ, ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

এ জন্য বর্ষাকালে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি শক্তিশালী রাখা। সুস্থ থাকার লক্ষ্যে মূল্যবান ওষুধের তুলনায় বেশি কার্যকর রসিক ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা হতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে কিছু পুষ্টিসমৃদ্ধ উপাদান যুক্ত করলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয় এবং মৌসুমি রোগের ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পায়।

ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। কমলা, মাল্টা, লেবু, পেয়ারা, আমলকী বা কিউইয়ের মতো ফলগুলো সেবন করুন। এসব ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক।

আরও পড়ুন: পুরুষদের চেয়ে নারীরা কেন বেশি দিন বাঁচেন?

বর্ষাকালে বাজারে সহজেই পাওয়া যায় বেশ কিছু তাজা শাকসবজি। এই সবজিগুলোতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল এবং খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় পালং শাক, লাল শাক, গাজর, লাউ, ঝিঙা, করলা, কুমড়া, ব্রকোলি কিংবা ফুলকপি নিয়মিত রাখুন।

আদা ও রসুন শরীরের প্রাকৃতিক সুরক্ষা হিসাবে বিবেচিত হয়। এগুলো শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। রান্নায় আদা ও রসুন ব্যবহার করে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত উপকারও পাওয়া যায়। বর্ষার দিনে এক কাপ গরম আদা চা অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক পানীয় হতে পারে।

দই এবং অন্যান্য প্রোবায়োটিক খাবারের গুরুত্ব এক্ষেত্রে থাকে। সুস্থ অন্ত্র রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তিও বাড়ায়। তবে অবশ্যই তাজা এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষিত দই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করা কি কোনভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রোটিন শরীরের কোষ মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বিভিন্ন উপাদান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, ছোলা, মসুর এবং সয়াবিনজাতীয় খাবার রাখুন। নিরামিষভোজীরা বিভিন্ন ধরনের ডাল, বাদাম এবং সয়াবিন থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন পেতে পারেন।

আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান

বাদাম এবং বীজজাতীয় খাবারের অন্তর্ভুক্তি শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাঠবাদাম, আখরোট, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, তিসি এবং কুমড়ার বীজে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। তাই সামান্য পরিমাণে এসব খাবার খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

বর্ষাকালে তৃষ্ণা কম অনুভূত হতে পারে, তবে শরীরের পানির প্রয়োজন কম হয় না। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে এবং বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়। তাই প্রতিদিন নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পানের বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

গরম স্যুপ এবং তরল খাবার বর্ষাকালে শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। সবজি, ডাল কিংবা মুরগির স্যুপ সহজত্ব ও স্বাস্থ্যকর উভয়ের জন্যই সহায়ক। তবে অতিরিক্ত লবণ, ক্রিম বা চর্বিযুক্ত স্যুপের প্রয়োগএবং গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকাই ভালো।

রাস্তার খাবার এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। বর্ষাকালে খাদ্য সহজেই দূষিত হতে পারে। খোলা পরিবেশে বিক্রি হওয়া কাটা ফল, ফুচকা, চটপটি বা অপরিষ্কার পরিবেশে প্রস্তুত খাবার থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন। অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং শরীরকে দুর্বল করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

রান্নায় ঘরে তৈরি তাজা খাবারকে অগ্রাধিকার দিন। বাইরের খাবারের পরিবর্তে ঘরে তৈরি গরম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। রান্নার আগে ফল এবং সবজি ভালোভাবে ধোয়ে নিন এবং রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা উচিত নয়। এটি খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করে।

শুধু খাবার নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও জরুরি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে হবে; তাই কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করতে হবে। যথেষ্ট ঘুম, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে খাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখা অনেক সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সহায়ক। বর্ষাকালে সুস্থ থাকার জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে হয় না। বরং ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং পর্যাপ্ত পানি সমৃদ্ধ একটি সুষম এবং বৈচিত্রময় খাদ্যাভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী রাখতে অধিক কার্যকরী।

তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক (Mayo Clinic), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (National Institutes of Health)

আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেটের সুস্থতায় যেসব খাবার খাওয়ায় থাকতে হবে সতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ এম


পেটের সুস্থতায় যেসব খাবার খাওয়ায় থাকতে হবে সতর্ক

বর্ষাকালে বাজারে তাজা শাক-সবজির সমারোহ দেখা গেলেও, এই মৌসুমে খাবার নির্বাচন করতে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এ সময় অতিরিক্ত আর্দ্রতা, বৃষ্টির পানি এবং অপর্যাপ্ত সংরক্ষণে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীর বংশবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়া সাধারণ ব্যাপার। ফলস্বরূপ, শাক-সবজিও সহজেই দূষিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে ই. কোলাই (E. coli) ও সালমোনেলা (Salmonella)-র মতো জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই ঘরে তৈরি খাবার হলেও, শাক-সবজি ভালোভাবে পরিষ্কার এবং সঠিকভাবে রান্না না করলে পেটের সংক্রমণ, ডায়রিয়া কিংবা ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি থাকতে পারে।

স্বাস্থ্যবিদরা বর্ষাকালে কিছু শাক-সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

শাকজাতীয় সবজি:

গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন ধরনের শাকপাতায় কাদা, পোকামাকড়, জীবাণু কিংবা ব্যাকটেরিয়া লেগে থাকার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি থাকে। বৃষ্টির পানি জমে থাকলে শাকের পাতায় জীবাণুর বংশবৃদ্ধিও দ্রুত ঘটে।

এ কারণে, এ সময় শাক খেলে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং পর্যাপ্ত তাপে রান্না করতে হবে। কাঁচা বা অল্প সিদ্ধ অবস্থায় শাক খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।

বাঁধাকপি ও ফুলকপি:

বর্তমানে সারাবছরই বাঁধাকপি ও ফুলকপি পাওয়া গেলেও, বর্ষাকালে এগুলো খাওয়ার আগে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। এই সবজির ভেতরে পোকামাকড় বা ক্ষুদ্র কৃমি লুকিয়ে থাকার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি, আর্দ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। তাই রান্নার আগে কপি ভালোভাবে কেটে লবণ মেশানো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত।

মাশরুম:

মাশরুম স্বাভাবিকভাবেই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে জন্মায় এবং খুব দ্রুত আর্দ্রতা শোষণ করে। বর্ষাকালে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে সংরক্ষণে সামান্য ত্রুটিও মাশরুমকে দ্রুত নষ্ট করে দিতে পারে। ফলে, দূষিত বা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা মাশরুম খেলে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই বর্ষায় মাশরুম কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

আর কোন কোন সবজি খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন?

আলু, পেঁয়াজ ও গাজরের মতো মাটির নিচে জন্মানো সবজিতে কাদা ও মাটিজনিত জীবাণু লেগে থাকতে পারে। অন্যদিকে, বেগুন ও টমেটোর মতো নরম সবজি বর্ষাকালে দ্রুত পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও এসব সবজি প্রতিদিনের রান্নায় বহুল ব্যবহৃত, তবুও এগুলোকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে, ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্ষাকালে শাক-সবজি নিরাপদে খাওয়ার উপায়:

বর্ষায় শুধু কোন সবজি খাবেন, সেটিই নয়; কীভাবে প্রস্তুত করবেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

- বাজার থেকে আনা শাক-সবজি ভালোভাবে প্রবাহমান পানিতে ধুয়ে নিন।

- প্রয়োজনে, লবণ বা ভিনিগার মেশানো পানিতে ১৫–২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পুনরায় পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন।

- ধোয়ার পর পানি ঝরিয়ে শুকনো করে সংরক্ষণ করুন।

- সম্ভব হলে রান্নার আগে কেটে নিন এবং উচ্চ তাপে ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করুন।

- দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা বা পচনের লক্ষণ দেখা দেওয়া সবজি ব্যবহার করবেন না।

বর্ষাকালে শাক-সবজি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং সঠিকভাবে পরিষ্কার করা, নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং পর্যাপ্ত তাপে রান্না করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতার কারণে খাবারের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে পেটের সংক্রমণ, ডায়রিয়া অথবা ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে।

তাহলে বর্ষাকালে বাজার থেকে শাক-সবজি কেনার সময় সতর্ক থাকুন, ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং সবসময় তাজা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নিন। কিছুটা সচেতনতাই বর্ষাকালে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টির দিনে কেন মন খারাপ বেশি হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪০ এম


বৃষ্টির দিনে কেন মন খারাপ বেশি হয়

টাপুর-টুপুর বৃষ্টির শব্দ, ভেজা মাটির গন্ধ ও শীতল বাতাস— বৃষ্টি অনেকের কাছে প্রশান্তি, ভালোবাসা এবং রোমান্টিক অনুভূতির প্রতীক। কিন্তু একই বৃষ্টি সবার মনে আনন্দের সুর তোলে না। অনেকের কাছে মেঘলা আকাশ মানে অকারণ বিষণ্নতা, ক্লান্তি, একাকিত্ব কিংবা মন খারাপের অনুভূতি।

আপনিও যদি বৃষ্টির দিনে অস্বাভাবিকভাবে মনমরা অনুভব করেন, তাহলে জানুন— এটি কিছু অস্বাভাবিক নয়। ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেঘলা আকাশ বা দীর্ঘ সময় সূর্যালোকের অভাব অনেক মানুষের মধ্যে হতাশা ও বিষণ্নতার লক্ষণকে বাড়িয়ে তোলে। এই অবস্থার জন্য সাধারণভাবে ‘রেইনি ডে ব্লুজ’ (Rainy Day Blues) বলা হয়।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বৃষ্টি নিজেই বিষণ্নতার কারণ। বরং বৃষ্টির আবহাওয়া বেশিরভাগ সময় আমাদের মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে এবং আগে থেকে থাকা বিষণ্নতা বা ‘সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার’ (Seasonal Affective Disorder—SAD)-এর লক্ষণগুলোকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

কেন বৃষ্টির দিনে মন খারাপ বেশি হয়?

মনোবিদদের মতে, বৃষ্টির দিনে মন খারাপের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

১. সিজনাল ডিপ্রেশন বা ঋতুভিত্তিক বিষণ্নতা।

সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার (SAD) হচ্ছে এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে— বিশেষ করে শীতকাল বা দীর্ঘ সময় মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যে— বেশি সাধারণ হয়। এ সময় বহু মানুষের অকারণে মনমরা, ক্লান্ত ও অনুৎসাহী অনুভূতিতে ভোগান্তির মুখে পড়েন।

২. সূর্যালোকের অভাব।

সূরের আলো আমাদের শরীরে সেরোটোনিন নামের একটি রাসায়নিকের উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ভালো মেজাজ বজায় রাখতে সাহায্য করে। মেঘলা দিনে সূর্যালোক কমে যাওয়ার কারণে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এর পাশাপাশি মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদনেও পরিবর্তন আসে, যা ঘুমের রুটিন বিঘ্নিত করতে পারে। পর্যাপ্ত বা নিয়মিত ঘুমের অভাব মানসিক অবসাদ বাড়িয়ে দেয়।

৩. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উদ্বেগ।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য প্রভাব বিভিন্ন মানুষের মনে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বা আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন ঘটে, সেখানে হতাশা ও উদ্বেগের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

৪. ঘরবন্দি জীবন ও একঘেয়েমি।

বৃষ্টির কারণে বাইরে হাঁটাহাঁটি, খেলাধুলা ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। দীর্ঘ সময় ঘরে থাকতে হলে একঘেয়েমি, অলসতা ও একাকিত্ব তৈরি হতে পারে, যা মন খারাপের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বৃষ্টির দিনে মন ভালো রাখার সহজ ও কার্যকর উপায়—

মন খারাপ লাগা স্বাভাবিক হলেও কিছু ছোট অভ্যাস আপনাকে ভালো থাকতে সহায়তা করতে পারে।

লাইট থেরাপির সাহায্য নিন।

সিজনাল ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে লাইট থেরাপি কার্যকর বলিয়া মনে হয়। প্রতিদিন সকালে উজ্জ্বল কৃত্রিম আলোতে কিছু সময় কাটালে সেরোটোনিনের কার্যকারিতা বাড়তে পারে এবং মেজাজও উন্নত হতে পারে।

ঘরেই শরীরচর্চা করুন।

বৃষ্টি মানে ব্যায়াম বন্ধ রাখার কারণে নয়। ঘরের মধ্যেই হালকা ব্যায়াম, নাচ, যোগব্যায়াম, ইউটিউব ফিটনেস ভিডিও অনুসরণ করা অথবা ঘরের কাজে শরীরকে সক্রিয় রাখা সম্ভব। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে ভালো রাখতে সহায়ক।

পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করুন।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম কম হলেও সমস্যা হয়, আবার অতিরিক্ত ঘুমও বিষণ্নতার কারণ হতে পারে।

প্রিয় মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন।

বৃষ্টির দিনে নিজেকে একা না রেখে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করুন। ভিডিও কল, অনলাইন গেম, একসঙ্গে বই পড়া বা ছোট্ট আড্ডা মানসিক স্বস্তি দিতে পারে। মানুষ সামাজিক জীব; তাই সম্পর্ক ও যোগাযোগ মানসিক সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি।

কখন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন?

মন খারাপ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করতে শুরু করে, তাহলে দেরি না করে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি—

দৈনন্দিন কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।

সারাক্ষণ ক্লান্তি বা শক্তির ঘাটতি অনুভব করা।

আত্মহত্যার চিন্তা বা নিজের ক্ষতি করার ইচ্ছা তৈরি হওয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতায় ভুগলে এমন একজন থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো, যিনি আবহাওয়াজনিত বিষণ্নতা বা Seasonal Affective Disorder (SAD) সম্পর্কে অভিজ্ঞ।

বৃষ্টি প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার। কারো কাছে এটি আনন্দের, আবার কারো কাছে এটি অকারণ বিষণ্নতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই বৃষ্টির দিনে মন খারাপ লাগলে নিজেকে দোষারোপ করার কিছু নেই। বরং নিজের মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিন, নিয়মিত ঘুম, পর্যাপ্ত আলো, শরীরচর্চা এবং প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যকে জীবনের ভিত্তি করুন।

আর যদি দেখেন মন খারাপ দীর্ঘদিন ধরে আপনাকে ঘিরে রাখছে বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে, তাহলে অবশ্যই পেশাদার সহায়তা নিন। মনে রাখবেন, সময়মতো যত্ন নিলে ‘রেইনি ডে ব্লুজ’ সাময়িকই থাকে— এবং একটু সচেতনতা ও যত্নই মেঘলা দিনেও ফিরে আসতে পারে মনের রোদেলা আলো।

সূত্র: হেলথলাইন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিদিন আলু খাওয়ার উপকারিতা জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ এম


প্রতিদিন আলু খাওয়ার উপকারিতা জানুন

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘরে আলুর ব্যবহার প্রতিদিনের ঘটনা। ভর্তা থেকে শুরু করে তরকারি—বিভিন্ন ধরনের খাবারে আলুর উপস্থিতি খুবই স্বাভাবিক। তবে অনেকের ধারণা, আলু মানেই শুধু কার্বোহাইড্রেট, আর বেশি খেলে ওজন বেড়ে যায়।

তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সঠিক উপায়ে রান্না করে পরিমিত পরিমাণে খেলে আলু একটি স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

আলুতে রয়েছে জটিল শর্করা (কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট), খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রস্তুত আলু নিয়মিত খেলে হাড়, হৃদযন্ত্র, ত্বক, পরিপাকতন্ত্র এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আলু খাওয়ার প্রধান উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।

হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। আলুতে থাকা পটাশিয়াম ও ফসফরাস হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের আলু দৈনিক প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করতে পারে। ফল ও সবজির সঙ্গে আলু খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে সহায়তা করে, যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষভাবে সেদ্ধ বা বেক করা আলু নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে রক্তচাপ কমানোর সম্পর্ক রয়েছে।

হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। ফাইবার ও পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ আলু হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে এটি সেদ্ধ, স্টিম, বেক বা অল্প তেলে রোস্ট করা হওয়া উচিত। বিপরীতে, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলুতে বেশি চর্বি ও সোডিয়াম থাকায় হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। আলুর ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া খোসায় থাকা কোয়েরসেটিন প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার এবং রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এর ফলে হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকে এবং গাটের স্বাস্থ্য উন্নত হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকিও কমে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। সেদ্ধ, স্টিম বা বেক করা আলুতে ক্যালরি ও চর্বি তুলনামূলক কম থাকে। ইতিমধ্যে, এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে আলু খাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

ত্বকের সুস্থতায় অবদান রাখে। ভিটামিন সি, বি ভিটামিন, ক্যারোটিনয়েড ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, যা ত্বককে সুস্থ রাখতে কার্যকর।

ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। রান্না করা আলুকে ঠান্ডা করে আবার গরম করলে এতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে নিয়মিত ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সবুজ হয়ে যাওয়া বা অঙ্কুর গজানো আলু খাওয়া উচিত নয়। এতে সোলানিন ও চ্যাকোনিন নামের বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রান্নার পরও পুরোপুরি নষ্ট হয় না। এছাড়া অতিরিক্ত তাপে বা পুড়িয়ে রান্না করলে অ্যাক্রিলামাইড নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উচ্চ পটাশিয়ামের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আলু খাওয়া উচিত। কারও কারও ক্ষেত্রে আলুতে অ্যালার্জিও থাকতে পারে।

স্বাস্থ্যকরভাবে আলু খাওয়ার উপায়। আলুর সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পেতে ডিপ ফ্রাইয়ের পরিবর্তে সেদ্ধ, বেক, স্টিম বা অল্প তেলে রোস্ট করার পদ্ধতি বেছে নিন। আলুকে মূল খাবারের বদলে সাইড ডিশ হিসেবে রাখুন এবং প্লেটের বাকি অংশ শাকসবজি ও চর্বিহীন প্রোটিন দিয়ে পূরণ করুন। অতিরিক্ত মাখন, চিজ, ক্রিম বা লবণ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে খোসাসহ আলু খান, কারণ খোসাতেই ফাইবার ও অনেক প্রয়োজনীয় খনিজ বেশি থাকে।

অতএব, আলুকে অস্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং সঠিকভাবে রান্না করে এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি একটি পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস অজান্তেই চোখের ক্ষতি করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ এম


যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস অজান্তেই চোখের ক্ষতি করছে

শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো চোখ। কিন্তু প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসের কারণে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হতে পারে। ভারতের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রাশ্মি জয়সওয়ালের ভাষ্যমতে, অনেক মানুষ এমন কিছু ভুল নিয়মিতভাবে করেন, যা প্রথমে খুব গুরুতর মনে নাও হতে পারে, তথাপি দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

১. চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়া সমস্যা থাকলে

অনেকেই ঝাপসা দেখা, কম আলোতে পড়তে অসুবিধা হওয়া কিংবা রাতে গাড়ির আলোতে অতিরিক্ত ঝলক লাগার মতো উপসর্গের গুরুত্ব দেন না। তবে এই সমস্ত লক্ষণ ছানি, গ্লুকোমা, বা রেটিনার বিভিন্ন সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। তাই দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শটি নিতে দেরি করা উচিত নয়।

২. চশমার পাওয়ার পরীক্ষা করে নিশ্চিন্ত থাকা

চশমার পাওয়ার সঠিক থাকাটা মানেই যে চোখ সুস্থ—এমন ভ্রান্ত ধারণা। শরীরের বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত করার জন্য পূর্ণাঙ্গ চক্ষু পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ অপটিক্যাল দোকানে এরূপ পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।

৩. নিজের সিদ্ধান্তে আই ড্রপ ব্যবহার করা

চোখ লাল বা অস্বস্তি দেখা দিলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আই ড্রপ ব্যবহার করেন। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে, স্টেরয়েড যুক্ত আই ড্রপ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করলে গ্লুকোমাসহ অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৪. দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা

কম্পিউটার, মোবাইল, বা ট্যাবের স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় কাজ করলে চোখে চাপ পড়ে। এই সমস্যা কমানোর জন্য, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা আরামদায়ক পর্যায়ে রাখতে, সঠিক ভঙ্গিতে বসতে এবং ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরের কিছু দিকে তাকানোর অভ্যাস করা উচিত।

৫. বছরের পর বছর একই চশমা ব্যবহার করা

চোখের পাওয়ার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে পুরোনো পাওয়ারের চশমা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, এবং এর ফলে মাথাব্যথা, চোখের ক্লান্তি ও অস্বস্তির সৃষ্টি হতে পারে।

৬. কনট্যাক্ট লেন্স পরে ঘুমিয়ে পড়া

অনেকে অসাবধানতাবশত কনট্যাক্ট লেন্স খুলতে ভুলে যান। কিন্তু লেন্স পরে ঘুমালে কর্নিয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

৭. নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো

শুধু পরিষ্কার দেখা মানেই চোখ সম্পূর্ণ সুস্থ—এমন ধারণাও ভুল। গ্লুকোমার মতো অনেক রোগ দীর্ঘ সময় ধরে কোনো লক্ষণ ছাড়াই অগ্রসর হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর চোখের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানো দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৮. বাইরে বের হয়ে সানগ্লাস ব্যবহার না করা

সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি দীর্ঘ সময় চোখের ক্ষতি করতে পারে এবং ছানিসহ বিভিন্ন চোখের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বাইরে বের হলে ভালো মানের ইউভি-প্রতিরোধী সানগ্লাস ব্যবহার করা চোখের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চোখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বড় কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং দৈনন্দিন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললেই দীর্ঘ সময় দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখা সম্ভব।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%