০৬:৩২ এম
বর্ষাকাল প্রকৃতিকে সত্যিই সজীব ও প্রাণবন্ত করে তোলে, তবে এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। আকাশে জমে থাকা আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, দূষিত পানি এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের ফলে এ সময় সর্দি-কাশি, জ্বর, ভাইরাল সংক্রমণ, ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
এ জন্য বর্ষাকালে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি শক্তিশালী রাখা। সুস্থ থাকার লক্ষ্যে মূল্যবান ওষুধের তুলনায় বেশি কার্যকর রসিক ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা হতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে কিছু পুষ্টিসমৃদ্ধ উপাদান যুক্ত করলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয় এবং মৌসুমি রোগের ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পায়।
ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। কমলা, মাল্টা, লেবু, পেয়ারা, আমলকী বা কিউইয়ের মতো ফলগুলো সেবন করুন। এসব ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক।
আরও পড়ুন: পুরুষদের চেয়ে নারীরা কেন বেশি দিন বাঁচেন?
বর্ষাকালে বাজারে সহজেই পাওয়া যায় বেশ কিছু তাজা শাকসবজি। এই সবজিগুলোতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল এবং খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় পালং শাক, লাল শাক, গাজর, লাউ, ঝিঙা, করলা, কুমড়া, ব্রকোলি কিংবা ফুলকপি নিয়মিত রাখুন।
আদা ও রসুন শরীরের প্রাকৃতিক সুরক্ষা হিসাবে বিবেচিত হয়। এগুলো শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। রান্নায় আদা ও রসুন ব্যবহার করে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত উপকারও পাওয়া যায়। বর্ষার দিনে এক কাপ গরম আদা চা অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক পানীয় হতে পারে।
দই এবং অন্যান্য প্রোবায়োটিক খাবারের গুরুত্ব এক্ষেত্রে থাকে। সুস্থ অন্ত্র রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তিও বাড়ায়। তবে অবশ্যই তাজা এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষিত দই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করা কি কোনভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রোটিন শরীরের কোষ মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বিভিন্ন উপাদান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, ছোলা, মসুর এবং সয়াবিনজাতীয় খাবার রাখুন। নিরামিষভোজীরা বিভিন্ন ধরনের ডাল, বাদাম এবং সয়াবিন থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন পেতে পারেন।
আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান
বাদাম এবং বীজজাতীয় খাবারের অন্তর্ভুক্তি শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাঠবাদাম, আখরোট, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, তিসি এবং কুমড়ার বীজে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। তাই সামান্য পরিমাণে এসব খাবার খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
বর্ষাকালে তৃষ্ণা কম অনুভূত হতে পারে, তবে শরীরের পানির প্রয়োজন কম হয় না। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে এবং বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়। তাই প্রতিদিন নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পানের বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
গরম স্যুপ এবং তরল খাবার বর্ষাকালে শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। সবজি, ডাল কিংবা মুরগির স্যুপ সহজত্ব ও স্বাস্থ্যকর উভয়ের জন্যই সহায়ক। তবে অতিরিক্ত লবণ, ক্রিম বা চর্বিযুক্ত স্যুপের প্রয়োগএবং গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকাই ভালো।
রাস্তার খাবার এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। বর্ষাকালে খাদ্য সহজেই দূষিত হতে পারে। খোলা পরিবেশে বিক্রি হওয়া কাটা ফল, ফুচকা, চটপটি বা অপরিষ্কার পরিবেশে প্রস্তুত খাবার থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন। অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং শরীরকে দুর্বল করে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা
রান্নায় ঘরে তৈরি তাজা খাবারকে অগ্রাধিকার দিন। বাইরের খাবারের পরিবর্তে ঘরে তৈরি গরম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। রান্নার আগে ফল এবং সবজি ভালোভাবে ধোয়ে নিন এবং রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা উচিত নয়। এটি খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করে।
শুধু খাবার নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও জরুরি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে হবে; তাই কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করতে হবে। যথেষ্ট ঘুম, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে খাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখা অনেক সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সহায়ক। বর্ষাকালে সুস্থ থাকার জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে হয় না। বরং ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং পর্যাপ্ত পানি সমৃদ্ধ একটি সুষম এবং বৈচিত্রময় খাদ্যাভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী রাখতে অধিক কার্যকরী।
তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক (Mayo Clinic), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (National Institutes of Health)
আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন