০৪:৫৩ পি.এম
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের উদ্যোগে রিসার্চ প্রজেক্ট অ্যাওয়ার্ডিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি.) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আবু সাঈদ প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা। সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজালাল খন্দকার।
আরও পড়ুন: ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনকৃত শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষার নিবন্ধন শুরু
অনুষ্ঠানে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৩৫টি গবেষণা প্রকল্পের আর্থিক বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত ‘অ্যানুয়াল রিসার্চ হাইলাইটস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রকাশনাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সমাপ্ত গবেষণা প্রকল্পের সার-সংক্ষেপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রকাশিত রিসার্চ আর্টিকেলের তালিকা (লিস্ট অব পাবলিকেশনস) সংকলিত হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, "প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে ডুয়েটকে একটি স্বনামধন্য ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের স্বপ্ন।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রচলিত শিক্ষাদান পদ্ধতির পাশাপাশি গবেষণানির্ভর জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধানে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান বিশ্বে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান নির্ধারণে মানসম্মত গবেষণা, গবেষণার প্রকাশনা ও উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, "ডুয়েটের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত, মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃশ্যমান করে তুলতে শিক্ষক-গবেষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।"
গবেষণা কেবল প্রকল্প গ্রহণ কিংবা গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর ফলাফল যেন দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, "গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক গবেষণাগার, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।" বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করা, আন্ত:বিভাগীয় গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে মঞ্জুরকৃত গবেষণা প্রকল্পগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং মানসম্মত গবেষণা ফলাফল অর্জনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান। এ ধরনের গবেষণাবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ ও আয়োজনের জন্য তিনি পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) দপ্তরকে ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: আলিম শ্রেণির ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ১২-২৬ নভেম্বর
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. প্রকৌশলী রুমা গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি গবেষণায় আর্থিক বরাদ্দের পাশাপাশি এর যথাযথ ব্যবহার, মানসম্মত ফলাফল অর্জন এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মঞ্জুরকৃত প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন প্রকল্প পরিচালকবৃন্দের জন্য গবেষণা প্রকল্পের গাইডলাইন নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, মঞ্জুরকৃত গবেষণা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সহযোগী পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন