বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:০২ পি.এম
নৌ-সংরক্ষণ বিভাগে স্বৈরাচারের দোসর সিন্ডিকেট রাজত্ব। অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়।ক্ষমতার দাপট, জাল-জালিয়াতি, ভুয়া বিল-ভাউচার আর অদৃশ্য সিন্ডিকেটের জোরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগকে কার্যত ব্যক্তিগত সম্পদের কারখানায় পরিণত করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে।
পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন। সম্প্রতি তাঁকে বরিশালের 'ডিইপিটিসি'-তে প্রিন্সিপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। সংস্থাটির কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করে প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও নিজের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উদ্ধারকারী জাহাজের তেল চুরি ও ভুয়া বিলের মহা-উৎসব
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জের নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা দপ্তরের সূত্রমতে, আড়াইশত টন উত্তোলন ক্ষমতার উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীতে অলস বসে থাকলেও, কাগজে-কলমে সেটিকে সচল দেখিয়ে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার ভুয়া জ্বালানি তেল খরচের বিল উত্তোলন করা হয়েছে (উল্লেখ্য, অন্য জাহাজ ‘নির্ভীক’ বর্তমানে বরিশাল থেকে পরিচালিত হয়)।
দুদকের অনুসন্ধানেও নারায়ণগঞ্জের কার্যালয়ের নথিপত্রে এই জ্বালানি খরচের ব্যাপক গরমিল ও হরিলুটের প্রমাণ মিলেছে।
নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেট ও সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির চিত্র:
বিআইডব্লিউটিএ-এর আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের আওতায় আমদানিকৃত বয়া-বিকন বাতির খাতের টাকা আত্মসাৎ করতে রহিম তার অনুগত ঠিকাদার ‘বাহার’-এর সাথে যৌথ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বহিরাগতদের বাদ দিয়ে শুধু এই সিন্ডিকেটের মালিকানাধীন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
ভুয়া বিল বানিয়ে অর্থ আত্মসাতের কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য:
আখি এন্টারপ্রাইজ: টিপি-১৩৫ এর ভুয়া বিলে আত্মসাৎ ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
তানিয়া এন্টারপ্রাইজ: এমপি-১২ এর ভুয়া বিলে ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং স্পিড বোট-১ মেরামতের নামে ৮ লাখ ৮১ হাজার ১০০ টাকা।
তানজিল ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস: টিপি-৮০ এর ভুয়া বিলে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৫২ টাকা এবং টিপি-১৭৩ এর নামে ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
আলিফ এন্টারপ্রাইজ: টিপি-৪৫ এর ভুয়া বিলে আত্মসাৎ ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫১ টাকা।
ভুয়া বিল-ভাউচার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে ঢাকা, সাভার এবং নিজ জেলা পাবনায় অঢেল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন আব্দুর রহিম:
★উত্তর মুগদা (ঢাকা)
‘আলিফ গার্ডেন’ (৫৮/৩০/গ)-এ ২টি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট এবং ঝিলপাড় রোডের ৫৪ নং বাড়িতে ২টি আলিশান ফ্ল্যাট। ৫ কোটি টাকা
★কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)
ফতুল্লা লঞ্চঘাটের বিপরীতে ঠিকাদার বাহারের সাথে যৌথ মালিকানায় তৈরি বিশালাকার ডকইয়ার্ড। ১০০ কোটি টাকা
★আশুলিয়া (ঢাকা)
ইসলামনগর (আরএস দাগ-১৮৩৩) ১০ কাঠা জমিতে আব্দুর রহিম ও লিমা তাবাসসুমের নামে ৫ তলা ভবন।
২০ কোটি টাকা
★সাভার (ঢাকা)
কাঠগড়ায় ৪ ইউনিটের ৭ তলা ভবন এবং সাভার বাজারের অন্ধ মার্কেটের ২য় তলায় ২টি দোকান।
২০+ কোটি টাকা
★মোহাম্মদপুর (ঢাকা)
হাউজিং এলাকায় ৬ শতাংশের মূল্যবান জমি।
৭ কোটি টাকা অন্যান্য আবাসিক এলাকা
রামপুরা ও হাতিরপুলে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি; ঢাকা ও সাভারে নিজ ও বেনামে একাধিক প্লট। কোটি কোটি টাকা
★গ্রামের বাড়ি (পাবনা)
শক্তির দাপট দেখিয়ে নিজ গ্রামের পাশে দখল/ক্রয়কৃত একটি বিশাল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের (হিন্দু) বাড়ি।১০০ কোটি টাকা
অদৃশ্য শক্তির ছায়াতল ও স্থায়ী বরখাস্তের দাবি
আব্দুর রহিমের এসব নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও অজ্ঞাত কারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতো বড় দুর্নীতির পরেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে স্রেফ স্থান বদলি ও অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়নে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিআইডব্লিউটিএ-এর সাধারণ ও সৎ কর্মচারীদের দাবি— ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই দুর্নীতিবাজ অতিরিক্ত পরিচালককে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে, তাঁর নামে থাকা অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত কোটি কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজে। পৌর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করলেও কাজ শেষ করাতে পারছে না। এর ফলস্বরূপ, শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে যৌথ কাজটি পায় নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিনথিয়া ও আলামিন আনিসুর। ৪৭ লাখ টাকার কাজটি পরে সাব-কন্ট্রাক্ট নেন পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সেলিম শাহ। ইতোমধ্যে তিনি কাজের বিলও তুলে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গেট থেকে সুফিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ২০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও স্লাব বসানোর জন্য স্থানীয়দের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি কেটে গর্ত করে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির ১৩০ মিটার অংশে ঢালাই ও স্লাব বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। তবে পশ্চিমাংশে রড বসানো হলেও ঢালাই হয়নি, সমানে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীরও ধসে যেতে বসেছে।
এদিকে, ১০ মার্চ ড্রেন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ। প্রকল্পটির জন্য ধরা হয় ছয় মাস সময়সীমা। সে অনুযায়ী, ১০ আগস্ট নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন ও মাসুদ রানা জানান, সড়কের ড্রেন নির্মাণ ও স্লাব বসানোর কাজটি ধীর গতিতে চলছে। এতে শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় নিচের রডের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে তারা পৌর প্রশাসকের কাছে হস্তক্ষেপ চান।
পৌর প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, নিম্নমানের উপকরণ ও রড ব্যবহার করায় মাঝখানে নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। ২৬ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল অনুযায়ী কাজটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। কাজ শুরু হলেও ঢালাইয়ে নিম্নমানের পাথর এবং ১২ মিলিমিটার রডের সঙ্গে আট মিলিমিটারের রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিধি মেনে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মাসুম আলী বলেন, তাঁর ঠিকাদারি লাইসেন্সে পরীক্ষিত কাজটি করছেন সেলিম শাহ। তিনি দায়-দায়িত্বও নেন। তবুও তদারকি করা হচ্ছে।
সেলিম শাহ জানান, বৃষ্টির কারণে কাজে দেরি হয়েছে। দ্রুত নির্মাণ কর্ম সম্পন্ন করা হবে।
পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নির্মাণ কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য পৌর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার যানজট নিরসনে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পথে একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শাহবাগ মোড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এই আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো তীব্র যানজট। এর ফলে নাগরিকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন। এই সমস্যার টেকসই সমাধানে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচলকে নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করার জন্য একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সরাসরি কারিগরি সহায়তায় এই সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।
ডিএসসিসির অধীনে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানগুলো হলো বাংলামটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন এবং শাহবাগ মোড়।
এটি উল্লেখ করা যেতে পারে যে, শাহবাগ মোড়ে বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, এই কার্যক্রম এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে খুব শিগগির ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি ইন্টারসেকশনে এই সিগন্যাল চালু করা হবে।
নতুন এই অটোমেটিক সিগন্যাল কার্যকর হলে মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিকভাবে ম্যানুয়াল বা হাতে সংকেত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে প্রশাসক জানিয়েছেন। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা সফলভাবে চালু রাখতে তিনি কঠোর আইনানুগ অনুশাসন ও নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের মানসিকতা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। চালক ও পথচারীদের আইন কিংবা সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং এবং নির্দিষ্ট লেন কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারসেকশনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা কিংবা ভাসমান দোকান না রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, ডিজিটালাইজেশন সফল হলে নগরের কোটি মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচবে। তদুপরি, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের রোদে পুড়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের পেশাগত দুর্ভোগও কমবে। আধুনিক প্রযুক্তির সুফল ধরে রাখতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগও নিশ্চিত করা হবে, এবং ঢাকা নগরীকে একটি গতিশীল ও আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে৷
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী শিল্পনগরী গাজীপুর শহরের যানজট নিরসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর জন্য নেয়া হয়েছে একটি মহাপরিকল্পনা। রাজবাড়ী রোড মহিলা কলেজ থেকে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত সড়কটি ৬০ ফুটে উন্নীতকরণ, গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজদীঘিকে কেন্দ্র করে নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো নগরীর রূপরেখা বদলে যাচ্ছে। এই সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে, গাজীপুর যেমন পাবে যানজটমুক্ত ও সুশৃঙ্খল এক পরিবহন ব্যবস্থা, তেমনই রক্ষা পাবে শহরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য।
গতকাল বুধবার, এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান ও সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (গাসিক) প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার এবং জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া। এ সময়, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সড়কের উভয় পাশের সীমানা এবং পরিমাপের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বাসস’কে জানান, শিল্প ও ঘনবসতিপূর্ণ গাজীপুর শহরের জন্য রাজবাড়ী রোড থেকে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত দীর্ঘদিনের সংকীর্ণ সড়কটি এক বড় নাগরিক ভোগান্তির কারণ ছিল। এই রাস্তাটি ৬০ ফুট প্রশস্ত করা হলে শহরের ভেতরে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর হবে।
সড়ক কাঠামোর নতুন নকশা সম্পর্কে প্রশাসক বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে কলের বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি ৬০ ফুটে উন্নীত হয়ে ভাওয়াল রাজদীঘির সাথে সংযুক্ত হবে। অন্যদিকে, পূবাইল নিলের পাড়া হয়ে এ রাস্তাটি মহিলা কলেজের সাথে রাজবাড়ী সড়কে মিলবে এবং হানগাটা দিয়ে মূল সিলেট রুটের সাথে যুক্ত হবে। এ ছাড়া, গাজীপুর জজ কোর্ট এলাকার রাস্তাটি ৪০ ফুট প্রশস্ত করে শ্মশানঘাট এলাকায় নিয়ে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই রুটগুলো সচল হলে, মূল শহরের ওপর যানবাহনের বাড়তি চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
প্রশাসক আরও জানান, যানজট নিরসনের জন্য সড়ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি রেলক্রসিংগুলোতে ওভারপাস নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিশীল করতে রেল কোচিংয়ের ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ১৭ আগস্ট (সোমবার) এ প্রকল্পের দরপত্র (টেন্ডার) লাইভে যাবে।
তিনি আরো বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি গাজীপুরের ঐতিহ্য সুরক্ষায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজদীঘিকে ঘিরে। শতাব্দী প্রাচীন এই দীঘির নান্দনিক রূপ ফিরিয়ে এনে তা নগরবাসীর জন্য প্রধান বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে, শিশুদের জন্য পার্ক, হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) ও নানা দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তৈরি করা হবে।
প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা বর্তমানে এ প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ করছেন, যা খুব দ্রুতই বাস্তবায়নের মুখে এসে যাবে।
সমন্বিত এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘গাজীপুরকে একটি বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তর করতে অবকাঠামোগত কাঠামোর সাথে ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ, সীমানা নির্ধারণ ও কারিগরি দিকগুলো দ্রুত নিস্পত্তি করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায়।’
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম বাসস’কে জানান, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে কাজের গুণগত মান এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, সচিব ফিরোজ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দীর্ঘদিনের নগর ভোগান্তি কাটিয়ে একটি সমন্বিত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক গাজীপুর গড়ে তুলতে এসব উন্নয়ন প্রকল্প নগরবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী দিনগুলোর প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন গাজীপুরকে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক শিল্পনগরে উন্নীত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং নগরবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : ধাপে ধাপে তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রনেতা ছিলেন, কর্মজীবনে অর্থনীতির শিক্ষক। পরবর্তীতে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তাঁকে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও এগিয়ে গেছেন।
২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। এর আগে তিনি ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন।
ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতিকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল অধ্যাপনা পেশায় যোগদান করেন। ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতার পর তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।
১৯৮৮ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ৯০-এর দশকের শুরুতে এরশাদ বিরোধী দেশব্যাপী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার আগে তিনি বিএনপির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করেন তিনি। তবে, দেশজুড়ে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও সংকটময় সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্বে আসেন। এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালে বিএনপি তীব্র দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।
পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে চলে যান এবং সেখান থেকেই দল পরিচালনা করতে থাকেন।
এমন এক পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলামই দেশে থেকে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম ও আন্দোলনের মূল কাণ্ডারী হয়ে ওঠেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনবার কারাবরণ করেন তিনি।
২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে টানা এই দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষকতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতৃত্ব অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপির মহাসচিব হন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন পেশায় আইনজীবী ছিলেন। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের দুইবারের সদস্য এবং পরে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর মা মির্জা ফাতেমা আমিন।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তবে তাঁর রাজনীতির শেকড় গড়ে উঠেছিল ছাত্রজীবনেই। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু করে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির পথ পেরিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দলের নীতি-নির্ধারণ ও সার্বিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কঠিন সময়ে বিএনপি-কে সুসংগঠিত রাখা এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ১৩তম জাতীয় সংসদে তাঁর আসনটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঠিক পাশেই। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, দলের চরম সংকটে দীর্ঘদিনের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সম্মানিত করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম পারিবারিক জীবনকেন্দ্রিক এক ব্যক্তিত্ব। স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাঁর পরিবার। তাঁর স্ত্রী বেসরকারি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বর্তমানে তিনি অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং সিডনিতে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
ছাত্রনেতা ও শিক্ষক থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব এই সব মিলিয়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর এই মনোনয়ন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ