ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে বিশেষ অভিযানে ১০ আসামি, মাদক ব্যবসায়ীও গ্রেফতার


কক্সবাজারে বিশেষ অভিযানে ১০ আসামি, মাদক ব্যবসায়ীও গ্রেফতার

কক্সবাজার শহর এবং এর আশপাশের ইউনিয়ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়, যেখানে একজন মাদক ব্যবসায়ী, তিনজন মাদকসেবী, বিভিন্ন অপরাধে পাঁচজন এবং পরোয়ানাভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, অভিযানে আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী হলেন আসহাব উদ্দিন রাসেল (৩৬)। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়ার বাসিন্দা। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে মালিকবিহীন ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে এক পোশাক শ্রমিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৬ এম


গাজীপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে এক পোশাক শ্রমিক নিহত

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ফলে এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে সোয়া ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিবের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় অবস্থিত।

গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর রাজিব হোসেন জানালেন, ভবনটির অধিকাংশ নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ভবনের নিচতলায় সেপটিক ট্যাংকের ওপর দুটি ঘর নির্মাণ করে পোশাক শ্রমিকদের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছিল। একটি কক্ষে সাকিবসহ কয়েকজন পোশাক শ্রমিক ভাড়া থাকতেন।

রাজিব হোসেন আরও জানান, শুক্রবার সকালে হঠাৎ সেপটিক ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলে সাকিব ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বিস্ফোরণের ফলে ঘরের দরজা এবং জানালাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতের মরদেহ বাসন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও স্থানীয়রা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘আপনি দেখতে জঘন্য’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘আপনি দেখতে জঘন্য’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় তার শারীরিক গঠন নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। সাংবাদিকের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করার কারণে ট্রাম্প ওই সাংবাদিককে ‘অসুস্থ’, ‘জঘন্য’ এবং ‘দেখতে ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন। এমনকি তিনি সাংবাদিককে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার পরামর্শও দেন।

এই ঘটনা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ঘটে। সাংবাদিকটি সম্প্রতি কানসাস ও আইওয়াতে পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কথোপকথনের শুরুতে সাংবাদিক জানতে চান, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচার চালানোর পর অসুস্থ বোধ করায় ট্রাম্প কানসাস সফর বাতিল করেছেন কি না।

এ প্রশ্ন শুনেই ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সাংবাদিককে বলেন, ‘এমন প্রশ্ন করতে গিয়ে আপনিই অসুস্থ। আপনি অসুস্থ।’ সাংবাদিক জানায়, তিনি কেবল প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকের কথা বলার ভঙ্গিও নকল করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই লোকটিকে দেখুন। তার শারীরিক অবস্থা একেবারেই ভালো নয়।’ এরপরও সাংবাদিক যখন জানতে চান, প্রেসিডেন্ট সুস্থ আছেন কি না, তখন ট্রাম্প দাবি করেন, তার স্বাস্থ্য একদম ভালো। তিনি বলেন, ‘আমি গত দুই সপ্তাহ ধরে নিজের অবস্থার দিকে নজর রাখছি। আমার একদম ভালো লাগছে।’

এরপর সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প আরও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি জঘন্য। নিজের শরীরের দিকে নজর দিন। আপনাকে দেখতে খুবই খারাপ লাগছে।’ ট্রাম্পের সঙ্গে সাংবাদিকের এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটে যখন তিনি সপ্তাহান্তে কানসাস ও আইওয়ায় নির্ধারিত নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করেছেন।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ওই দুই রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের মুখে রয়েছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার কানসাসের সালিনায় এবং রোববার আইওয়ার ডুবুকে শহরে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশ করার কথা ছিল।

কানসাস সফর বাতিলের বিষয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না কানসাসে যাওয়া আমার জন্য জরুরি।’ তবে ওই রাজ্যে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের জয়ের বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। পরে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটিও আইওয়ার সমাবেশ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

সমাবেশ বাতিলের কারণ নিয়ে প্রশ্ন এবং নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সাংবাদিকের অনুসন্ধানের জবাবে ট্রাম্পের এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: গলফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাছের বাজার চড়া, সবজিতে স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ এম


মাছের বাজার চড়া, সবজিতে স্বস্তি

শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাজারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এর ফলে, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমে গেছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং শিমের মতো শীতকালীন সবজি বর্তমানে তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। তবে মাছের বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরবরাহের অভাবে রুই, পাঙাশ এবং কৈ মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমলেও সোনালী ও ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ৪০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ টাকা এবং শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে।

বিক্রেতাদের মতে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে দাম কমেছে। বিশেষ করে ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং শিমের দাম আগের তুলনায় কমেছে। সবজি বিক্রেতা শাহবুদ্দিন জানান, ‘শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমসহ বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে।’

এক ক্রেতা বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এবার বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। বিশেষ করে শীতের সবজি কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাজারে সব পণ্যের দাম আরও কমলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুবিধা হবে।’

মাছের বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে। গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বেড়েছে ২০ টাকা। কাতলা মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাঙাশ মাছের দাম ১০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং কৈ মাছের দাম ২০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকা কেজি হয়েছে।

মাছ বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকায় কয়েক ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে রুই, পাঙাশ এবং কৈ মাছের দাম আগের তুলনায় বেশি।

মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা দরে। এই দুই ধরনের মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩০ টাকায়।

অন্যদিকে, ডিমের বাজারে দামের কোনো পরিবর্তন নেই। বর্তমানে লাল ডিম ডজনপ্রতি ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে দুই ধরনের ডিম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কিমের বিরোধ হঠাৎ কেন তুঙ্গে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ এম


দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কিমের বিরোধ হঠাৎ কেন তুঙ্গে?

দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে নিজের সীমান্তে ব্যাপক সামরিকীকরণ ও স্থায়ী দুর্ভেদ্য প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া মূলতঃ দুই দেশের মধ্যকার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানাকে একেবারে নতুন রূপ দিতে চাইছে। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সীমান্তে ফের লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা প্রচার শুরুর ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই বিবাদ নতুন করে শিরোনামে এসেছে।

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, কয়েক বছর ধরে এই সীমান্তকে একটি সামরিক দুর্গে পরিণত করার কাজ চলছে, তা এখন স্পষ্ট। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ডি-মিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) এলাকাজুড়ে একটি স্থায়ী সুরক্ষিত সীমানা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পিয়ংইয়ং। সম্প্রতি, এই বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

কোরীয় উপদ্বীপকে দুই ভাগে বিভক্তকারী প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪ কিলোমিটার প্রশস্ত ডিএমজেড এলাকাটি বহু আগে থেকেই বিশ্বের অন্যতম ভারী মাইনসংলগ্ন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ধারণামতে, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া ডিএমজেড এলাকায় প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার নতুন ল্যান্ডমাইন পুঁতেছে, যা আগে থেকেই বিদ্যমান মাইন সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। কেবল মাইন নয়, পুরো সীমান্ত জুড়ে একটি নিরবচ্ছিন্ন ভৌত বাধা গড়ে তুলছে দেশটি।

সব ধরনের গাছপালা ও ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার করা জমিতে তারের বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে মাইনফিল্ড, কৌশলগত সড়ক এবং ট্যাঙ্ক-বিরোধী বাধা। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, সীমান্ত পরিষ্কারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং নির্মাণকাজের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৮ সালের শেষার্ধের মধ্যেই এই বিস্তৃত প্রাচীর তৈরির কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৫৩ সালে যে অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধ স্থগিত হয়েছিল, সেই চুক্তি অনুযায়ী এই ডিএমজেড এলাকাকে যেকোনো ধরণের সামরিক বাহিনী ও সরঞ্জাম মুক্ত রাখার বিধান ছিল।

কিম জং উনের সীমান্তে এই সামরিক তৎপরতার পেছনে মূল কারণ হলো একসময় অত্যন্ত গুরুত্ব পাওয়া ‘কোরীয় পুনরেকত্রীকরণ’ বা দুই কোরিয়াকে এক করার নীতি থেকে পুরোপুরি সরে আসা। ২০১৮ সালে দুই দেশের নেতারা সীমান্ত এলাকায় মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং শীতকালীন অলিম্পিকে একই পতাকার নিচে দুই দেশের অ্যাথলিটরা মার্চ করেছিলেন।

কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কিম জং-উন দক্ষিণ কোরিয়াকে সম্পূর্ণ একটি পৃথক ও শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার ঠিক কয়েক মাস পর থেকেই সীমান্তে স্থায়ী প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।

সিউলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, কিমের এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের পেছনে মূল কৌশলটি ছিল উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকির সঙ্গে নিজস্ব জাতির মানুষকে ধ্বংস করার বৈপরিত্য বা বিরোধ দূর করা। অতীতে যাদের সহোদর বা এক জাতির লোক বলা হতো, তাদের ওপর পারমাণবিক হামলা চালানোর যে হুমকি পিয়ংইয়ং দিচ্ছিল, দক্ষিণ কোরিয়াকে পৃথক শত্রু রাষ্ট্র ঘোষণা করার মাধ্যমে সেই আদর্শগত বিভ্রান্তি দূর হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়া এবং রাশিয়ার সাথে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বাড়ার ফলে উত্তর কোরিয়া এখন বিশ্বমঞ্চে একটি স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান পোক্ত করার পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই সীমান্ত নির্মাণকাজের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার তিনটি প্রধান লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে: প্রথমত, নিজ দেশের নাগরিকদের উত্তর কোরিয়া ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া রোধ করা; দ্বিতীয়ত, কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর যেকোনো অগ্রযাত্রাকে ধীরগতির করে দেওয়া এবং তৃতীয়ত, সীমান্ত এলাকাটিকে একটি আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে দৃশ্যমান রূপ দেওয়া।

যদিও কিম জং-উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো-জং দাবি করেছেন যে, সীমানা চিহ্নিত ও সুরক্ষিত করার মাধ্যমে সীমান্ত সংঘাতের ঝুঁকি কমে যাবে, তবে সামরিক বিশ্লেষকরা ভিন্ন মতামত দিচ্ছেন। তাদের মতে, সীমান্তজুড়ে নতুন আর্টিলারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ভুল থেকে ছোটখাটো সংঘাতও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা আরো চরমে ওঠার পেছনে সরাসরি বেশ কিছু ঘটনা জড়িত। ২১ সেপ্টেম্বর ডিএমজেড এলাকার ভেতরে একটি পথ পরিষ্কার করার সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিনজন সৈন্য আহত হন, যার মধ্যে একজন সেনা সদস্যের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়া সেনাবাহিনীর তদন্তের পর জানায় যে, উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে দক্ষিণ অংশের দিকে এই মাইন স্থাপন করেছিল এবং তারা এর জন্য পিয়ংইয়ংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। উত্তর কোরিয়া অবশ্য সম্পূর্ণ ঘটনাটি অস্বীকার করে এটিকে একটি সাজানো নাটক বলে আখ্যা দিয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী আরো অভিযোগ করেছে যে, প্রাচীর নির্মাণের সময় উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা একাধিকবার আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে তাদের অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে, যার জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া ফাঁকা গুলি বা সতর্কতামূলক গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। উত্তর কোরিয়া অবশ্য এসব সতর্কতামূলক গুলিকে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিম ইয়ো-জং মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার তীব্র সমালোচনা করে প্রায় ১০টি বিবৃতি দিয়েছেন, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছে সিউলের একীকরণ মন্ত্রণালয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে প্রচারণা চালানোর জন্য তাদের লাউডস্পিকারগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো চালু হবে।

সীমান্তে ঘটে যাওয়া এসব অনুপ্রবেশ ও উত্তেজনার আড়ালে মূল একটি সংকট কাজ করছে তা হলো, প্রকৃত সীমান্ত বা মিলিটারি ডিমার্কেশন লাইন (এমডিএল) আসলে ঠিক কোথায়, তা উভয় পক্ষের স্পষ্টভাবে না জানা। ১৯৫৩ সালের অস্ত্রবিরতি চুক্তির সময় ১:৫০,০০০ স্কেলের একটি মানচিত্রে সীমান্তরেখা আঁকা হয়েছিল, যেখানে স্কেলের মাত্র এক মিলিমিটার চওড়া রেখা মানে বাস্তবে প্রায় ৫০ মিটার জমি।

মানচিত্রের সেই রেখা ধরে ১২৯২টি নম্বরযুক্ত মার্কার বা খুঁটি বসানো হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এবং যত্নের অভাবে বর্তমানে তার মাত্র ২০০টির মতো খুঁটি দৃশ্যমান রয়েছে। ফলে প্রতিটি পক্ষ এখন যার যার নিজস্ব পদ্ধতিতে এই সীমান্তরেখা হিসেব করে থাকে।

সিউল তাদের মানচিত্র তৈরি করেছে মার্কিন ন্যাশনাল জিওস্পেশিয়াল-ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির ডেটা ব্যবহার করে, আবার অস্ত্রবিরতি তদারকি করা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড (ইউএনসি) এক দশক আগে চালানো নিজেদের জরিপের ওপর ভিত্তি করে সীমান্ত চিহ্নিত করে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া কেবল যেকটি পুরনো খুঁটি দেখা যায়, সেগুলোকে সোজা রেখায় যুক্ত করে তাদের সীমানা মেনে চলছে বলে ধারণা করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা করে দেখেছে যে, তাদের টানা রেখা এবং জাতিসংঘ কমান্ডের টানা রেখার মধ্যেই প্রায় ৬০ শতাংশ পয়েন্টে ফারাক রয়েছে এবং অনেক জায়গায় এই পার্থক্যের পরিমাণ প্রায় কয়েকশো মিটার। উত্তর কোরিয়া এই সীমান্তরেখাকে ঠিক কীভাবে হিসাব করে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। ফলস্বরূপ সীমান্ত পারাপারের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেই উত্তর কোরিয়ার সেনারা প্রায় ৫০ বার আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেছে।

বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সীমান্ত সংকট দূর করার জন্য সিউল প্রশাসনের দিক থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মিলিটারি ডিমার্কেশন লাইন বা সীমান্তরেখাটি ঠিক কোথায় সেটির যৌথ সমীক্ষা করা, ২০২৩ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া দুই দেশের সামরিক যোগাযোগ চ্যানেলগুলো পুনরায় চালু করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘর্ষ এড়ানোর উপায় বের করতে দক্ষিণ কোরিয়া নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

গত এক বছরের মধ্যে এটি সিউলের দ্বিতীয় প্রস্তাব হলেও উত্তর কোরিয়া পূর্বের মতো এটিও সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চলেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়ার এই স্থায়ী প্রাচীর নির্মাণকাজকে অস্ত্রবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। তবে জাতিসংঘ কমান্ড বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখছে। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নতুন স্থাপনা বা সামরিক সীমানা তৈরি করলেই সরাসরি অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভঙ্গ হয় না বরং প্রতিটি নির্মাণের বৈশিষ্ট্য ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পৃথকভাবে বিচার করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%