ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল


শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এয়ারসাইডে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং অ্যাপ্রোন এলাকায় অবাধে চলাচল করছে শত শত যানবাহন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে এসব যানবাহনের কোনো ট্র্যাকিং নেই।

এমন অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলে বিমানবন্দরের যাত্রী নিরাপত্তায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবুও বাধ্যতামূলক ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এয়ারলাইন্সগুলো বেবিচকের নির্দেশনা ও আলটিমেটামকে আমলে না নেওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে। থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভায়ও বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এয়ারসাইডে নজরদারির বাইরে এসব যান চলাচলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উড়োজাহাজের নিরাপদ চলাচল ও যাত্রীদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, এয়ারসাইড এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন যান কোথায় যাচ্ছে, কত গতিতে চলছে এবং অনুমোদিত এলাকায় রয়েছে কি না- এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা জরুরি। রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় একটি যানবাহনের ভুল চলাচল বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বেবিচকের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এয়ারলাইন্সগুলোর গড়িমসি নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত সব যানবাহনকে কেন্দ্রীয় নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

বেবিচক সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম যুগান্তরকে বলেন, ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপনের জন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে অনেকবার সময় দেওয়া হয়েছে। একাধিকবার তাগাদাও দেওয়া হয়েছে। এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিটিএস যুক্ত না করলে যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, বিশ্বের আধুনিক বিমানবন্দরগুলোয় এ ধরনের প্রযুক্তি বহু বছর ধরেই ব্যবহার হচ্ছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিটিএস চালু হলে এয়ারসাইড এলাকায় চলাচলকারী সব অনুমোদিত যানবাহনকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ভিটিএস না থাকায় যেসব গাড়ি এয়ারসাইডে চলাচল করছে, সেগুলোর গতিবিধি কার্যকরভাবে মনিটরিং করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, কোন এয়ারলাইন্স কতটি গাড়িতে ভিটিএস স্থাপন করেছে এবং কতটি বাকি রয়েছে, কোম্পানিগুলোর কাছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার এস্ট্রা, স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সসহ বিমানবন্দরে অপারেশন পরিচালনাকারী বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রধানদের বারবার নির্দেশনা দিলেও সেটি তারা মানছে না।

জানা যায়, অ্যাপ্রোন এলাকায় উড়োজাহাজ ও অন্যান্য যানবাহনের গতিবিধি নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সদ্য স্থাপিত সিএনএস-এটিএম ও এ-এসএমজিসিএস প্রযুক্তির আওতায় ভিটিএস স্থাপন বাধ্যতামূলক করে বেবিচক। চলতি বছরের ১৫ জুনের মধ্যে সব যানবাহনে ভিটিএস বসিয়ে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তারা গড়িমসি করে। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বারবার নির্ধারিত সময় পার হলেও এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি। বরং প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতেই অনীহা দেখাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ২৬ অক্টোবর আরেকটি ‘অতিব জরুরি’ চিঠি ইস্যু করা হয়।

যুগান্তরের হাতে আসা সেই চিঠির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পরিচালক মো. শামসুল হকের সই করা জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২৭ অক্টোবরের (মঙ্গলবার) মধ্যে শতভাগ গাড়িতে ভিটিএস সংযোজন সম্পন্ন করে তালিকা জমা দিতে হবে। সেই সময়সীমাও শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো উড়োজাহাজ কোম্পানি ভিটিএসযুক্ত তাদের যানবাহনের তালিকা দেয়নি। এমন বাস্তবতায় ৭ ডিসেম্বরের পর ভিটিএস ছাড়া কোনো যানবাহন এয়ারসাইডে চলাচলের অনুমতি পাবে না বলে থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনসংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এবার নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ভিটিএস স্থাপন না করলে এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচলজনিত কোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে এর একক দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ট্র্যাকার স্থাপন করা হলে রাডারব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথকভাবে প্রতিটি যানবাহনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে। কোনো গাড়ি বিপজ্জনক এলাকায় অবস্থান করলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করা সম্ভব হবে। এতে আধুনিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে এবং বিমান ওঠানামার নিরাপত্তা আরও জোরালো হবে। কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো নিজেরাই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ভিটিএস স্থাপন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ার অ্যাস্ট্রার হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড এয়ারলাইন সিকিউরিটি গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এবিএম সারওয়ার জামান যুগান্তরকে বলেন, ভিটিএস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই আমরা ভিটিএস স্থাপন করতে পারব। অপরদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলছে, কার্যক্রম চলমান। খুব শিগ্গিরই তারা তালিকা বেবিচকে জমা দিয়ে দেবে।

অতীতেও ঘটেছে একাধিক দুর্ঘটনা : ভিটিএস না থাকায় অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। গত বছরের নভেম্বরে শাহজালালে একটি পুশকার্টের ধাক্কায় এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং উড়োজাহাজের নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়। এর আগে ২০২২ সালে বিমানের হ্যাঙ্গারে একটি বোয়িং-৭৩৭ বের করার সময় অবস্থানরত আরেকটি বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজকে ধাক্কা দেয়। একই বছর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ট্রলি বিমানের একটি উড়োজাহাজে আঘাত হানে। প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং না থাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তি তৈরি, কিন্তু প্রয়োগ নেই : বেবিচক সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এএসএমজিসিএস) এবং ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। কন্ট্রোল টাওয়ারে প্রতিটি গাড়ির গতি, অবস্থান ও রুট রিয়েল-টাইমে দৃশ্যমান করার সব ব্যবস্থা আছে। কিন্তু উড়োজাহাজগুলোর গ্রাউন্ড সাপোর্ট যান, ক্যাটারিং ও কার্গো ভ্যানগুলোয় পৃথক ট্র্যাকার না বসানোয় এ প্রযুক্তির পূর্ণ সুবিধা নেওয়া যাচ্ছে না। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে কর্মরত নিয়ন্ত্রকরা রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, অ্যাপ্রোন ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত কিংবা চলাচলরত বিমান ও অন্যান্য যান্ত্রিক যান শনাক্ত করতে পারে। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নির্মাণের সময় থেকেই সংযোজিত থাকে। তবে গাড়ি, বাস বা অন্য সেবা যান শনাক্ত করতে সেগুলোর গায়ে বিশেষ ভেহিকেল ট্র্যাকার স্থাপন করতে হয়। ইতোমধ্যে শতাধিক ভেহিকেল ট্র্যাকার ও সংশ্লিষ্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিমানবন্দরের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মিলবে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মিলবে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। এই ফেলোশিপের আওতায় পিএইচডি পর্যায়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক ৬০ হাজার ডলার অনুদান লাভ করবেন।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পরিমাণ অর্থ প্রায় ৭৫ লাখ টাকার সমান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে গবেষণারত শিক্ষার্থীরা এই সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফেলোশিপ উন্মুক্ত রয়েছে।

ফেলোশিপের সুযোগ-সুবিধা

এনভিডিয়ার এই ফেলোশিপে নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সর্বাধিক ৬০ হাজার ডলার অনুদান প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এই অর্থের ব্যবস্থাপনা করা হবে।

অনুদানের অর্থ শিক্ষার্থীদের ভাতা, টিউশন ফি এবং বাধ্যতামূলক ফি পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। ফেলোশিপের অংশ হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এনভিডিয়ার নির্ধারিত গবেষণা কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে। ফেলোশিপের শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা আবশ্যক।

আবেদনের যোগ্যতা

এই ফেলোশিপে আবেদন করার জন্য প্রার্থীকে কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম আর্কিটেকচার, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি করতে হবে। আবেদনের পূর্বে পিএইচডির প্রথম বছর সম্পন্ন করা আবশ্যক। পাশাপাশি গবেষণাপত্র বা অভিসন্দর্ভের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত থাকতে হবে।

ফেলোশিপের নয় মাসের পুরস্কারকালজুড়ে আবেদনকারীকে পূর্ণকালীন পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতে হবে। এই সময়ের মধ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন করা যাবে না।

নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত গবেষণা কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। এনভিডিয়ার পূর্ণকালীন কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিকটাত্মীয়রা এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

আবেদনের সঙ্গে সর্বাধিক দুই পৃষ্ঠার গবেষণার সারসংক্ষেপ অথবা অভিসন্দর্ভের প্রস্তাব জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে তথ্যসূত্র যুক্ত করা যাবে, তবে তা দুই পৃষ্ঠার সীমার মধ্যে গণনা করা হবে না।

এছাড়া যোগাযোগের তথ্যসহ জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি জমা দিতে হবে। আবেদনকারীর জন্য কমপক্ষে দুইটি সুপারিশপত্র লাগবে। এর মধ্যে একটি আবেদনকারীর গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক বা অধ্যাপকের কাছ থেকে হতে হবে। সর্বাধিক তিনটি সুপারিশপত্র জমা দেওয়া যাবে। পাশাপাশি নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে।

আবেদন করবেন যেভাবে

আগ্রহী প্রার্থীদের প্রথমে এনভিডিয়ার ফেলোশিপ আবেদন পোর্টালে প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে গবেষণার সারসংক্ষেপ বা অভিসন্দর্ভের প্রস্তাব, সিভি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৭।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহের ৪টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আট বছরেও চালু হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


ঝিনাইদহের ৪টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আট বছরেও চালু হয়নি

ঝিনাইদহের চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য সুদৃশ্য বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। কক্ষগুলোর মধ্যে দামি চিকিৎসা সরঞ্জাম, শয্যা ও জেনারেটর রয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য প্রস্তুত ডরমেটরিও রয়েছে। তবে, যাদের জন্য এত আয়োজন, সেই ডাক্তারদের পদ বছরের পর বছর খালি রয়েছে।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবের কারণে ঝিনাইদহের চারটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আট বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসচ্ছল গর্ভবতী নারী ও শিশুরা।

তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপার দুধসর ও কাঁচেরকোল গ্রাম, সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এবং কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় এসব হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়।

২০১৮ সালে কেন্দ্রগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও চিকিৎসক না থাকায় সরকারের এই জন কল্যাণ মুখী উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। প্রসবকালীন জরুরি সেবা কিংবা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য দরিদ্র মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করে জেলা বা উপজেলা সদরের দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

কালীগঞ্জের ভুক্তভোগী বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন ও অবকাঠামো তৈরি করা হলেও চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে তা তালাবদ্ধ বা নামমাত্র অবস্থায় পড়ে আছে।" গরিব মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম বুধবার বিকালে জানান, কেন্দ্রগুলো নিয়মিত চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংকট নিরসনে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে নতুন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবহেলিত জনপদে স্বাস্থ্যসেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ভারতে আন্দোলনকারীদের দমন হলেও বাংলাদেশের মতো গুম-খুন হচ্ছে না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৩ পি.এম


‘ভারতে আন্দোলনকারীদের দমন হলেও বাংলাদেশের মতো গুম-খুন হচ্ছে না’

ভারত ও বাংলাদেশের জেন জি আন্দোলনের মধ্যে মিল ও অমিল সম্পর্কে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশি এই অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সচিব মন্তব্য করেন, ভারত ও বাংলাদেশের জেন জি আন্দোলনের ক্ষেত্রে কিছু মিল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন,

১. "আমাদের বর্ষা বিপ্লবের মতো, ভারতে যুবারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের সমর্থন করছে।"

২. "আমাদের মতো ভারতীয় যুবাদের আন্দোলন, প্রচলিত রাজনৈতিক দলের আন্দোলন থেকে ভিন্ন: গান ও ক্ষমতাসীনদের মেমে এর প্রধান উপাদান।"

৩. "আমাদের মতো ভারত সরকারও পুলিশ ও সরকারি দলের পেটোয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলনকারীদের হেনস্থা করছে। ইন্টারনেট ও গণপরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে আন্দোলন স্তিমিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।"

৪. "দুই জায়গাতেই আন্দোলনকারীদের বিভক্ত করার চেষ্টা হয়েছে এবং হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের জেন জি আন্দোলনের মধ্যে কিছু অমিলও রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন,

১. "আন্দোলনকারীদের দমন করা হলেও তা আমাদের মতো প্রাণঘাতী নয়; কাউকে গুম, খুন করা হচ্ছে না।"

২. "ভারতের বিচারব্যবস্থা তার মেরুদণ্ড দেখাচ্ছে। খানিকটা হলেও সরকার থেকে স্বাতন্ত্র বজায় রেখেছে।"

৩. "ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন কোটা, পরীক্ষার ফল, নির্বাচন কমিশনের অনিয়ম থেকে সরকার পতনের দিকে গেলেও ভারতের ক্ষেত্রে নির্বাচনের মাধ্যমেই তা নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।"

৪. "ভারতের সশস্ত্রবাহিনী আন্দোলন থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছে।"

তিনি ভারতীয় দুর্নীতিবিরোধী আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ কর্তৃক শেয়ার করা একটি ইংরেজি লেখার উল্লেখ করেন। সেই লেখাটি ভারতীয় ছাত্র আন্দোলনকর্মী নেহা বোরা সম্পর্কে। লেখাটি বাংলায় অনুবাদ করে দেওয়া হয়েছে।

‘নেহা বোরা: ত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা নেতৃত্ব, পরিবারের রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে বেরিয়ে আসার গল্প’

নেহা বোরাকে নিয়ে তার বাবার হৃদয়ছোঁয়া বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

“আমি যখন বিয়ে করি, তখনই জানতাম, আমি কেবল একটি সন্তান চাই। আর মনের গভীরে আশা ছিল, সন্তানটি যেন মেয়ে হয়।

আমি একটি কন্যাসন্তান পেয়েছিলাম।

প্রথমবার যখন তাকে কোলে নিয়েছিলাম, তখন নীরবে তাকে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। "তোমাকে কখনো আমার সময় ভাগ করে নিতে হবে না। আমার মনোযোগ পাওয়ার জন্য তোমাকে কখনো অপেক্ষা করতে হবে না। আমার যা কিছু আছে, সবটুকুই তুমি পাবে।"

“আমি চার-পাঁচটি সন্তান আছে—এমন পরিবার দেখেছি। মা-বাবা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে বেড়ান, তারপরও কোনো না কোনো সন্তানকে সব সময় অপেক্ষা করতে হয়। আমার এটাও মনে হয়েছিল, আমাদের দেশে মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি এবং এর মূল্য দিতে হচ্ছে প্রকৃতিকে। একটি সন্তানই আমার কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল, এটাই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।

বছরের পর বছর আমি এ নিয়ে কখনো প্রশ্ন তুলিনি।

কিন্তু এ বছর আমি নেহা বোরাকে দেখলাম।

তার বয়স ২৯ বছর। তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) পিএইচডির শিক্ষার্থী, উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের ছোট শহর খাটিমার একজন নাট্যকর্মী। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটার পর তিনি জন্তর মন্তরে অবস্থান ধর্মঘটে বসেছিলেন এমন সব শিক্ষার্থীর জন্য, যাদের তিনি চিনতেনও না। সেই শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর পড়াশোনা করেছিল। তাদের অভিভাবকেরা কোচিংয়ের পেছনে নিজেদের সঞ্চয় খরচ করেছিলেন, তারপরও শেষ পর্যন্ত তাদের সন্তানদের হতাশ হতে হয়েছিল।

তিনি টানা ২৩ দিন কিছু খাননি।

অনশন শুরু করার সময় তার ওজন ছিল ৬৬ কেজি। তিনি সাত কেজিরও বেশি ওজন হারিয়েছিলেন। অনশনের শেষ দিকে চিকিৎসকেরা দিনে তিন থেকে চারবার তার রক্ত পরীক্ষা করছিলেন।

সেই রাতের খবরটি পড়ার পর আমি ঘুমাতে পারিনি। বারবার নিজের মেয়েকে নেহার জায়গায় কল্পনা করছিলাম। দিল্লির গরম রাস্তায় বসে আছে সে। রোগা। ক্লান্ত। আবার একজন চিকিৎসক তার কবজি ধরে আছেন। আর আমি জানতাম, এমন দৃশ্য সামনে দাঁড়িয়ে দেখা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। আমি তাকে অনশন থামানোর জন্য অনুরোধ করতাম, মিনতি করতাম।

কিন্তু নেহা কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামেননি। আর সবকিছু শেষ হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, তার শরীর যেন খাওয়ার কথা ভুলে গিয়েছিল। আবার খেতে শেখাতে হয়েছে, ঠিক একটি শিশুর মতো। এত কিছুর পরও, শরীর দুর্বল থাকা অবস্থায় তিনি বিহারে গিয়েছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া ৬০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করতে। তিনি বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নিতে যাননি। তিনি গিয়েছিলেন সেই মানুষগুলোর কাছে, যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

আমি একজন ডাউজার। প্রতিদিন শক্তি নিয়ে কাজ করি। আমি শিখেছি, রাগ অনেক ভারী একটি অনুভূতি। এটি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়। ২৩ দিন না খেয়ে কেবল রাগের ওপর ভর করে কেউ বেঁচে থাকতে পারে না। এত দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে একমাত্র ভালোবাসা।

এরপর আমি জানতে পারলাম, নেহার বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং তার পরিবারকে এক পোস্টিং থেকে আরেক পোস্টিংয়ে যেতে হতো।

আমার স্ত্রীর বাবাও সেনাবাহিনীতে ছিলেন। আমি কখনো তাকে শ্বশুর বলে ডাকি না। আমার কাছে তিনি কেবল পাপা। আমার স্ত্রী ১৩টি স্কুলে পড়েছেন। ১৩ বার নতুন স্কুলে প্রথম দিন কাটিয়েছেন। ১৩ বার এমন একটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেছেন, যেখানে কেউ তার নাম জানত না। ১৩ বার এমন বন্ধুদের বিদায় জানিয়েছেন, যাদের আর কখনো দেখা হয়নি। সেনাসদস্যদের সন্তানেরা হাসিমুখে নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে নেয় এবং আবার নতুন করে শুরু করে। কেউ তাদের জিজ্ঞেস করে না, এতে তাদের কতটা কষ্ট হয়। আমি প্রতিদিন আমার স্ত্রীর মধ্যে সেই শক্তি দেখতে পাই। নেহার মধ্যেও আমি সেই শক্তি দেখেছি।

রাঁচিতে এক ব্যক্তি তার মুখে কালি ছুড়ে মেরেছিলেন এবং তাকে দেশবিরোধী বলেছিলেন। নেহা বলেছিলেন, দিল্লিতে তিনি ইতিমধ্যে ছররা গুলি ও লাঠির আঘাতের মুখোমুখি হয়েছেন। কালি তাকে ভয় দেখাতে পারবে না।

কালি ধুয়ে যায়। শক্তি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আমরা বলি, মানুষ আপনার দিকে যা ছুড়ে দেয়, আপনি তা নিজের মধ্যে গ্রহণ না করলে সেটি আপনার ভেতরে থেকে যায় না। মনে হয়, কোনো পেন্ডুলাম হাতে না নিয়েও নেহা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

তার পরিবার তার সঙ্গে একমত ছিল না। বাড়িতে ঝগড়াও হয়েছিল। কিন্তু অনশন চলাকালে তার মা জন্তর মন্তরে এসেছিলেন।

তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, তা আমি জানি না। জানার প্রয়োজনও নেই। আমি একজন অভিভাবক। আমি জানি, কোনো মা যখন রাস্তায় নিজের সন্তানকে দুর্বল ও রোগা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন, তখন তার কেমন লাগে। এত কিছুর পরও সন্তানটি দাঁড়িয়ে আছে। সেই মুহূর্তে সব তর্ক-বিতর্ক ভুলে যাওয়া হয়। তখন শুধু একটিই সত্য বাকি থাকে—এ আমার সন্তান।

নেহা বলেছেন, তিনি এখনো তার বাবার সঙ্গে কথা বলেননি।

আমি তার বাবাকে চিনি না। কিন্তু আমিও একজন বাবা, আর আমি জানি, আমাদের মতো পুরুষদের জন্য কিছু কথা মুখে বলা কতটা কঠিন। তাই তিনি যদি এখনো কথাটি বলতে না পারেন, তাহলে চেন্নাই থেকে তার হয়ে আমি কথাটি বলে দিই।

বেটা, আমরা তোমাকে নিয়ে গর্বিত। এবার ঠিকমতো কিছু খাও।

এই পুরো ঘটনার মধ্যে কোনো একসময় আমার মনে এমন একটি চিন্তা এসেছিল, যা আগে কখনো আসেনি। আমার যদি আরও একটি মেয়ে থাকত! নেহার মতো একটি মেয়ে।

এতে আমার নিজের মেয়ের প্রতি ভালোবাসার কিছুই কমে যায় না। সে আমার পৃথিবী। সব সময় তা-ই থাকবে। কিন্তু নেহা আমাকে একটি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন।

আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ রাখতে এবং জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পুরো জীবন কাটিয়ে দিই। কিন্তু যারা পিছিয়ে পড়ে, তাদের দিকে ফিরে তাকাতে কি আমরা কখনো সন্তানদের শেখাই?

আর কোনো একদিন যদি তারা অন্য কারও অধিকারের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে আমরা কি নেহার মায়ের মতো তাদের পাশে দাঁড়াব? নাকি তাদের বাড়ি ফিরে এসে চুপচাপ থাকতে বলব?

আমাদের দায়িত্ব হলো সেই আলোকে রক্ষা করা, এমনকি যখন সেই আলো আমাদের ভয় পাইয়ে দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দুয়ায় জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ৬ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৪ পি.এম


কেন্দুয়ায় জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ৬ জন আটক

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জুয়ার আসরে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যও রয়েছেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জাম এবং নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেন্দুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়নের গণ্ডা বাজারে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির দোকানঘরের ভেতরে একটি জুয়ার আসর থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—গণ্ডা চর গ্রামের হাফিজুর রহমান ওরফে খোকন মেম্বার (৬০) ও খুররম মিয়া (৫০), মনকান্দা গ্রামের চান্দু মিয়া (৪৫) ও আলী ওসমান (৪২), বীরমহুরী গ্রামের সোহাগ (২৫) এবং মরিচপুর গ্রামের মজিবুর রহমান (৬০)। আটকদের সকলের বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলায়।

পুলিশের দেওয়া জব্দ তালিকা অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে ১০৪টি তাস এবং বিভিন্ন মূল্যমানের মোট ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের পাশাপাশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর: ১২৬৪) নথিভুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জুয়ার আসরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে সরঞ্জামসহ তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা করে আজ (বুধবার) আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।’

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে সোহাগ উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং খোকন মেম্বার ও খুররম মিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। অন্যদিকে আলী ওসমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। আটক হাফিজুর রহমান খোকন ও আলী ওসমান দুজনই বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%