১২:৩৩ পি.এম
সপ্তাহের প্রতিটি দিন মহান আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ লাভের সুযোগ প্রদান করে। তবে কিছু নির্দিষ্ট দিন ও মুহূর্ত আল্লাহ তাআলা বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি মহিমান্বিত দিন হলো জুমাবার। এটি মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক সমাবেশ, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির দিন। এ দিনের বিশেষত্বের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তার দোয়া কবুল করেন। তাই জুমাবার শুধুমাত্র জুমার নামাজ আদায়ের দিন নয়, বরং মহান রবের কাছে নিজের চাওয়া, দুঃখ-কষ্ট ও প্রয়োজন তুলে ধরার একটি বিশেষ সুযোগও।
জুমাবারের মর্যাদা ও গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা রয়েছে। এই সুরায় আল্লাহ তাআলা জুমার নামাজের আহ্বান শোনার পর দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে তাঁর স্মরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।’ (সুরা : জুমুআ, আয়াত : ৯)
আরও পড়ুন: খুলনায় অনুষ্ঠিত হলো ৩১তম হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা
জুমাবারের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমাবার। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনেই সেখান থেকে বের করা হয়েছে। কিয়ামতও জুমাবারে সংঘটিত হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)
এ দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে একজন মুমিনের উচিত জুমার নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে দিনটিকে অর্থবহ করে তোলা।
জুমাবারে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
জুমাবারের অন্যতম ফজিলত হলো, এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তা দান করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম সে মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫২)
আরও পড়ুন: আজ লক্ষ্মীপূজা, দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করবেন হিন্দুরা
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়টি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। তবে ঠিক কোন মুহূর্তটি দোয়া কবুলের সেই বিশেষ সময়, তা নির্ধারণের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন নির্দেশনার ভিত্তিতে দুটি সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রথম সময় : ইমাম মিম্বরে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।
খুতবা শুরু হওয়ার আগে ইমাম মিম্বরে বসা থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টিকে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এ সময় মুমিনের উচিত মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা, নামাজ আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনার সুযোগ গ্রহণ করা। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তা হলো—ইমাম মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৯)
অবশ্য খুতবার সময় নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনাই কর্তব্য; এ সময় এমনভাবে দোয়া বা জিকির করা উচিত নয়, যাতে খুতবা শোনায় ব্যাঘাত ঘটে।
আরও পড়ুন: ঢাকা দক্ষিণ থেকে হিফজুল হাদিস প্রতিযোগিতায় ৮ জন নির্বাচিত
দ্বিতীয় সময় : আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত।
জুমাবারের দোয়া কবুলের বিশেষ আরেকটি সময় হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত শেষ মুহূর্তগুলো। তাই এ সময়টিকে অবহেলায় কাটিয়ে না দিয়ে আল্লাহর জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়ায় ব্যয় করা উত্তম। জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। এরপর তিনি হাতের ইশারায় সময়টির সংক্ষিপ্ততার কথা বোঝান। এ বর্ণনায় সময়টি আসরের শেষ ভাগে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)
বিশেষত দিনের শেষ ভাগে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, ঈমান ও আমলের ওপর অবিচল থাকার প্রার্থনা করা, পরিবার-পরিজনের কল্যাণ কামনা করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের প্রয়োজনগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যেতে পারে।
জুমাবার আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক মহামূল্যবান উপহার। এ দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত থাকার বিষয়টি আমাদের আশাবাদী করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করার অনুপ্রেরণা জোগায়। অথচ দুনিয়ার ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় এই মহিমান্বিত দিনের মূল্যবান মুহূর্তগুলো অবহেলায় কাটিয়ে দিই। মহান আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করুন, গুনাহ ক্ষমা করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করুন। আমিন।
আরও পড়ুন: জোহরের ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত ছুটে গেলে করণীয় কী?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন