ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুমিল্লার শীর্ষ আলেম আল্লামা নুরুল হক রহ.-এর জানাযায় লাখো মানুষের উপস্থিতি


কুমিল্লার শীর্ষ আলেম আল্লামা নুরুল হক রহ.-এর জানাযায় লাখো মানুষের উপস্থিতি

কুমিল্লার ইসলামি অঙ্গনের অভিভাবক, প্রখ্যাত বুজুর্গ এবং বটগ্রাম হামিদিয়া মাদরাসার সফল মুহতামিম প্রবীণ আলেম আল্লামা নুরুল হক (দাতামার হুজুর) রহ.-এর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় সুয়াগাজী কলেজ ও হাইস্কুল মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামার ঢল নেমেছে প্রবীণ এই আলেমকে শেষ বিদায় জানাতে। পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজার আগে কোনো ধরনের বক্তব্য প্রদান করা হয়নি এবং ঠিক সকাল ১১টায় নামাজ শুরু হয়। গতরাতে মরহুমের সাহেবজাদা মুফতী নিয়ামত উল্লাহর নেতৃত্বে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জানাজার পর মরহুমকে তাঁর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত্যুকালে প্রবীণ শায়খুল হাদিস ও পীরে কামেলের বয়স আনুমানিক ৮৫ বছর ছিল। তাঁর প্রয়াণে কুমিল্লাসহ সারাদেশের আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আল্লামা নুরুল হক ব্রিটিশ শাসনামলে আনুমানিক ১৯৪১ সালে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়িয়া (দাতামা) গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে শরীয়তের উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন এবং নিজেকে একজন দক্ষ আলেমে দ্বীন হিসেবে গড়ে তোলেন।

কওমি আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি আজীবন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ‘কুমিল্লা জেলা কওমি মাদ্রাসা সংগঠন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘসময় বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মাদরাসায় সহিহ বুখারি শরিফের দরস দিয়ে তিনি দেশে সহস্রাধিক আলেম ও মুহাদ্দিস তৈরি করেছেন।

অত্যন্ত সাদামাটা ও সুন্নতি জীবনযাপনের জন্য প্রবীণ এই আলেম সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর আধ্যাত্মিক বয়ান সাধারণ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করত। এই বর্ষীয়ান দ্বীনি ব্যক্তিত্বের বিদায়ে বিভিন্ন ইসলামি দল, কওমি শিক্ষাবোর্ড ও সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট নিয়ে দুই মন্ত্রীর কঠোর সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট নিয়ে দুই মন্ত্রীর কঠোর সতর্কতা

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে এলপিজি নিয়ে ধর্মঘট ডেকে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এটি বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান। আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করা হয়।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও একই কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এলপিজি একটি ব্যক্তিখাত কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক পণ্য। বাজার স্থিতিশীল করার জন্য সরবরাহ বৃদ্ধি করতে যা কিছু প্রয়োজন, তা করা হচ্ছে। তবে এলপিজির বাজার পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে সরকার তা বরদাশত করবে না।

এ সময় উভয় মন্ত্রী এলপিজি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান যে, যেকোনো সমস্যা আলোচনা মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ককরোচ নেতাদের গ্রেপ্তারে রাহুল গান্ধীর তীব্র নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


ককরোচ নেতাদের গ্রেপ্তারে রাহুল গান্ধীর তীব্র নিন্দা

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ককরোচ জনতা পার্টির (সিপিজে) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বুধবার মন্তব্য করেন, "শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়।"

রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যন্তর মন্তরে তেরঙ্গা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষোচিত কাজ। শিক্ষার্থী, যুবসমাজ, সাংবাদিক ও ইন্ডিয়া জোট-পতাকা আলাদা হলেও দাবি এক। সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার আদায়ের দাবিতে নাগরিকদের সব প্রতিবাদ একই সূত্রে গাঁথা। যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের জায়গা। আমরা তা ফিরিয়ে নেব।’

আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এই গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেছেন। তিনি এক্সে লেখেন, "নিজের দেশে নিজের জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি অপরাধ? বিষয়টি একেবারেই হাস্যকর।"

শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং সম্প্রতি নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের মর্যাদা হারানো যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে বুধবার সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে তাদের তিহার জেলে পাঠানো হয়েছে। অজিঙ্ক শিন্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে সিপিজের তিন নেতাকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের ব্যারিকেড ভেঙে অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তারা স্লোগান দেন।

পুলিশ সূত্রের দাবি, অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ অমান্য, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনি ঐক্য ফেরাতে কায়রোয় হামাস-ফাতাহর বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


ফিলিস্তিনি ঐক্য ফেরাতে কায়রোয় হামাস-ফাতাহর বৈঠক

ফিলিস্তিনের দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক বিভাজন দূর করার উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মিসরের রাজধানী কায়রোয় বৈঠকে বসতে চলেছেন হামাস, ফাতাহ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতারা।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১৪ ও ১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংলাপের প্রস্তুতি, পারস্পরিক সমঝোতা এবং অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির বিষয়ে আলোচনা হবে। যদি প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়, তবে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে আরও বিস্তৃত সংলাপ শুরু হতে পারে।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে ফাতাহের মুখপাত্র আবদেল ফাত্তাহ দাওলা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং জাতীয় সংলাপের পথ তৈরি করা। হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) এবং ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য জনপ্রিয় ফ্রন্ট (পিএফএলপি) সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করবেন। ফাতাহের প্রতিনিধিদলে থাকছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সচিব জিবরিল রাজুব এবং সদস্য মোহাম্মদ শাতায়েহ।

নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। গত ১০ অক্টোবর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ঘোষণা করেন, আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আইনসভা নির্বাচন পিছিয়ে ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন তারিখ নির্ধারণের ফলে প্রায় দুই দশক পর নির্বাচনের আয়োজনের পরিকল্পনা আরও পিছিয়ে গেল।

আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) নির্বাহী কমিটি জানিয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অনুকূলে নয়। বিশেষ করে, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমে নির্বাচন কমিশনের কর্মী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে নির্বাচনের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তবে ইসরায়েল নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বিভাজনের শিকড় দীর্ঘদিনের। ২০০৬ সালের আইনসভা নির্বাচনে হামাস জয়ী হওয়ার পর হামাস ও ফাতাহর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালে গাজায় হামাসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কার্যত পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফাতাহ-নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছে, অন্যদিকে গাজায় হামাসের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই বিভাজন নিরসনে মিসরের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও স্থায়ী সমঝোতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। কায়রোর বৈঠকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নির্বাচন এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। হামাসও বৃহত্তর জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে বাধ্যতামূলক সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ইসরায়েলের হলুদ রেখা এগোচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা বারবার ঘরছাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


গাজায় ইসরায়েলের হলুদ রেখা এগোচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা বারবার ঘরছাড়া

গাজায় ইসরায়েলের নির্ধারিত ‘হলুদ রেখা’ পশ্চিম দিকে ক্রমাগত এগিয়ে আসছে। এর ফলে নতুন করে ফিলিস্তিনিরা ঘরছাড়া হচ্ছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান সংকুচিত হয়ে আসায় পরিবারগুলোকে বারবার তাঁবু সরিয়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক অব্যাহত রয়েছে।

গাজার শুজাইয়া এলাকায় ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদ হারজিন এবার ষষ্ঠবারের মতো তাঁবু সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ইসরায়েলের নির্ধারিত হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লক থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে তাঁবু গেড়েছেন। রেখাটি যত সামনে এগিয়ে আসে, বিপদ এড়াতে মাহমুদ পরিবার নিয়ে তত পেছনে সরে যান।

আল জাজিরা কে তিনি বলেন, ‘প্রতিবার তারা একটু সামনে এগোয়, আমরাও একটু পেছনে সরে যাই।’ ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গাজার ভূখণ্ডকে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভাগ করতে ‘হলুদ রেখা’ নির্ধারণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ওই রেখার পেছনে সরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রেখাটি ক্রমে গাজার আরও ভেতরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় এখন ভূখণ্ডটির প্রায় ৬৫ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এক বছর আগে নির্ধারিত চুক্তিতে এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ।

গত রোববার (১১ অক্টোবর) গাজার পূর্বাঞ্চলীয় শুজাইয়া এলাকায় হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লকগুলো কয়েক মিটার পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে এলাকাটির আরও বেশি অংশ ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আবারও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

১০ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করেন মাহমুদ। গত এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে কোথায় নিরাপদে থাকা যায়, সেই খোঁজেই কাটছে তার সময়। জেইতুন, সাহাত আল-শাওয়া ও আল-মুনতাজাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁবু সরিয়ে থাকতে হয়েছে তাকে।

সর্বশেষ এক জায়গায় তাঁবু গেড়ে মাত্র এক রাত ঘুমাতে পেরেছিলেন মাহমুদ। পরদিন সকালে রেখা আবার সামনে এগিয়ে আসায় বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে হয়।

তার ভাষ্য, শুধু কংক্রিটের ব্লক সরানোর সময়ই নয়, আশপাশে ড্রোন, হেলিকপ্টার, গোলাবর্ষণ ও এলোপাতাড়ি গুলির কারণে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। গোলার টুকরোও আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে রেখা এগিয়ে নেওয়ার সময় ট্যাংক, সেনাসদস্য ও ভারী গোলাবর্ষণের শব্দে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গত এক বছরে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজার অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপদ এলাকায় তাঁবু খাটানোর মতো জায়গা কমে গেছে। অন্যদিকে, বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মাহমুদের মতো অনেক পরিবারের জন্য নতুন আশ্রয় নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাতে পালানো, সকালে ফিরে আসা

শুজাইয়ার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী আসমা আলীর জীবনেও একই অনিশ্চয়তা বিরাজমান। তিন সন্তানের এই মা জানান, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে তাদের পরিবার সাত থেকে আটবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় কিছুদিন থাকার পর তারা শুজাইয়ার আল-মান্তার এলাকায় ফিরে বসবাসের চেষ্টা করেন। কিন্তু এক মাস পর আবার গোলাবর্ষণ শুরু হলে নিরাপত্তার আশঙ্কায় সেখান থেকেও সরে যেতে হয়।

প্রথমে একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন তারা। পরে একটি বাসস্টপের কাছে বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু এক রাতে তীব্র গোলাবর্ষণের পর ভোরে সেখান থেকেও চলে যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় স্বজনদের কাছে আশ্রয় নেন তারা।

আসমা বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে পালাতে হতো, সকালে আবার ফিরে আসতাম। রাতটা কোথায় কাটানো যায়, সেই চেষ্টা করতে হতো; সকালে আবার ফিরে আসতাম।’

তার কথায়, হলুদ রেখা এগিয়ে আসার রাতগুলো সবচেয়ে ভয়ংকর। রাতের শুরু থেকে ভোর পর্যন্ত গুলির শব্দ চলতে থাকে। সব সময় মনে হয়, যেকোনো মুহূর্তে আবার পালাতে হতে পারে।

বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আসমার পরিবারের স্বর্ণালংকার, ঘরের জিনিসপত্র ও সন্তানদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। হারানো জিনিসের মধ্যে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য কেনা একটি বিশেষ সহায়ক বন্ধনীও ছিল। মাত্র দুই দিন আগে সেটি পেয়েছিলেন তিনি।

আসমা বলেন, ‘চোখের পলকেই সব হারিয়ে গেল।’

পরিবারের জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন তিনি। কিন্তু তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ গাজার দিকে চলে যাওয়াও সহজ নয়। সেখানে যাওয়ার যানবাহন পাওয়া কঠিন, আর পৌঁছানোর পর নিরাপদ জায়গা মিলবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আসমার চাওয়া খুব সাধারণ—সন্তানদের নিয়ে এমন একটি নিরাপদ জায়গা, যেখানে বারবার পালাতে হবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি নিরাপদ জায়গা, যেখানে সন্তানদের নিয়ে থাকতে পারব, বিশ্রাম নিতে পারব এবং নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারব।’

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%