০২:৩৩ পি.এম
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে পৌঁছেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৪ জন। দেশটির দুর্যোগ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রদান করেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি সোমবার সকালে মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা রদ্রিগো সোসমেনা জানান, নিহতদের মধ্যে ১২ জন সোক্সারগেন অঞ্চলের বাসিন্দা। দক্ষিণ কোটাবাতো, সুলতান কুদারাত, সারাঙ্গানি এবং জেনারেল সান্তোস সিটি নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
তিনি আরো জানান, আহতদের অধিকাংশও এই অঞ্চলের। বর্তমানে সেখানে অন্তত ১২৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধার কাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনের ফলে জেনারেল সান্তোস সিটিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে বোঝা যাচ্ছে, বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জনপ্রিয় ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান জলিবির একটি শাখা ধসে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। এই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থাকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সমস্ত সরকারি সংস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং সুনামি সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরো সময় লাগবে। অনেক এলাকায় এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও উদ্ধার কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন