০৬:১৭ পি.এম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে সুপারিশ করা হয়েছে যে, গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দেশের আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।
রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এছাড়া, সরকারের গত ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: রিজভী: পতিত ফ্যাসিবাদকে উৎসাহিত করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন
এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠকে কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করেছে কমিটি।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি স্বাগত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আন্দোলনে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবদ্বয়, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব, বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদপ্তরের প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বিবেকের তাড়নায় রেলওয়ে টিকিটের দেনা শোধ করলেন প্রবাসী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন