ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি জামানত নেওয়ার সুপারিশ


গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি জামানত নেওয়ার সুপারিশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে সুপারিশ করা হয়েছে যে, গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দেশের আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।

রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এছাড়া, সরকারের গত ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: রিজভী: পতিত ফ্যাসিবাদকে উৎসাহিত করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন

এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠকে কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করেছে কমিটি।

বৈঠকের শুরুতে কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতি স্বাগত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আন্দোলনে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবদ্বয়, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব, বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদপ্তরের প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বিবেকের তাড়নায় রেলওয়ে টিকিটের দেনা শোধ করলেন প্রবাসী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারত: অনমল শের সিং বেদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারত: অনমল শের সিং বেদি

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারত কড়া জবাব দিয়েছে। দেশটির কূটনীতিক অনমল শের সিং বেদি বলেছেন, সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না নয়াদিল্লি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। খবর এনডিটিভি

ভারতের পক্ষ থেকে ‘রাইট অব রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে দেশটির ফার্স্ট সেক্রেটারি অনমল শের সিং বেদি। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের বক্তব্যের জবাবে তিনি পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা, সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার এবং সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রের দায় নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।

বেদি উল্লেখ করেন, ভারত সংঘাত চায় না। তবে বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না করা হলে শান্তি কেবল এক সংকট থেকে আরেক সংকটের মধ্যবর্তী বিরতিতে পরিণত হবে।

ভারতের এই কূটনীতিকের বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশটির কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হুমকিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তার মতে, শান্তি ও সংযমের কথা বলার পাশাপাশি সংকট সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করতে হবে।

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে বেদি বলেন, ওই হামলার জবাবে গত বছরের মে মাসে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অংশ।

তিনি বলেন, পেহেলগামে ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর ভারত আত্মরক্ষার্থে পদক্ষেপ নেয়। এসব পদক্ষেপ ছিল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক, পরিমিত এবং সংঘাতের বিস্তার এড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা করা, বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু করা নয়। বেদি বলেন, সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখিয়ে সেই অধিকার সীমিত করার প্রচেষ্টাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর ও নিরাপত্তা নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পেহেলগামের হামলার পর দুই দেশের বিরোধ আরো তীব্র হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের সম্পৃক্ততায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন বেদি।

তিনি বলেন, চুক্তিটি পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কোনো রাষ্ট্র সেই আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তি দুর্বল করে একই সঙ্গে চুক্তি থেকে পাওয়া সুবিধাগুলো অক্ষুণ্ন রাখার দাবি করতে পারে না।

এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে চুক্তি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টি সামনে আনেন তিনি।

পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার প্রসঙ্গে পাকিস্তানি বিজ্ঞানী এ কিউ খানের নেটওয়ার্কের ইতিহাস উল্লেখ করেন ভারতীয় এই কূটনীতিক। ওই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল এই নেটওয়ার্ক।

বেদি এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫৪০ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। ২০০৪ সালে গৃহীত এই প্রস্তাবে গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং এ-সংক্রান্ত উপকরণ যাতে অরাষ্ট্রীয় পক্ষের হাতে না পড়ে, সে জন্য রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সব রাষ্ট্র ও দায়িত্বশীল সরবরাহকারীর উচিত সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। এটি শুধু ভারতের নিরাপত্তার জন্য নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেও জরুরি।

পারমাণবিক সহযোগিতা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দিয়ে প্রচলিত যুদ্ধের সীমার নিচে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের পরিণতি এড়ানোর কৌশলের সমালোচনা করেন বেদি। তার মতে, এ ধরনের কৌশল সংঘাত কমানোর পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মিত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। পারমাণবিক শক্তির উপস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অন্যান্য উসকানিমূলক কার্যক্রমের পরিণতি সীমিত রাখার চেষ্টা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

বেদির অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে, পরে দায় অস্বীকার করা হয়। এরপর পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংযমের আহ্বান জানানো হয়।

তিনি বলেন, অরাষ্ট্রীয় পক্ষের আড়ালে কোনো রাষ্ট্র বলপ্রয়োগ করলে সেই রাষ্ট্রের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

এ সময় ভারতের অবস্থানের তিনটি মূলনীতি তুলে ধরেন বেদি। প্রথমত, ভারতের বিরুদ্ধে যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারত। তৃতীয়ত, যারা সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয় এবং যারা হামলার পরিকল্পনা করে, তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করবে না নয়াদিল্লি।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বেদি অঞ্চলটিকে দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ দখলে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বেদি বলেন, ভারত সব সময় শান্তির পক্ষে থেকেছে এবং সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের দায় নির্ধারণ করা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জের ২৪০ পূজামণ্ডপে ২৪ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


নারায়ণগঞ্জের ২৪০ পূজামণ্ডপে ২৪ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ

নারায়ণগঞ্জ, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের ২৪০টি পূজামণ্ডপে মোট ২৪ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছে জেলা পরিষদ।

প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ১০ হাজার টাকার এই অনুদানের চেক সংশ্লিষ্ট মণ্ডপ প্রতিনিধিদের হাতে প্রদান করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিনিধিদের হাতে চেক তুলে দেন।

জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জয় কে রায় চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শংকর কুমার দে এবং সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আলেমদের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে, তবে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি ও থাকব’: মুহিউদ্দিন রব্বানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


‘আলেমদের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে, তবে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি ও থাকব’: মুহিউদ্দিন রব্বানী

কওমি মাদরাসা ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, এমন মন্তব্য করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেছেন, আলেমদের মধ্যে বিভেদ ও ফাটল সৃষ্টির নানা অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো মূল্যে এই ঐক্য অটুট রাখা হবে।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত ‘ষড়যন্ত্রের কবলে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব ও কর্তব্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী উল্লেখ করেন, ইসলামি শিক্ষা ও কওমি ধারার প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ধর্মীয় মূল্যবোধ নয়, বরং দেশ ও জাতির নৈতিক ভিত্তি মজবুত রাখতে শত বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বড় করে তুলে আলেমদের সম্মানহানি এবং তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এসব ষড়যন্ত্র আলেমদের বিভক্ত করতে পারবে না; দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ওলামায়ে কেরাম সবসময় এক ও অভিন্ন থাকবে।

মাদরাসা শিক্ষার পরিবেশ ও মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, বরং সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নজরদারিতে প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।

বক্তব্যে তিনি সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত হেবা আইন বাতিলের জোর দাবি জানান এবং বলেন, শরিয়াহবিরোধী যেকোনো আইন আলেম সমাজ মেনে নেবে না এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের ৬৫০ এর অধিক মাদরাসার সমন্বয়ে গঠিত এ সংগঠনের সভায় মাদরাসা শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক অবদান, প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আলেম ওলামা, মাদরাসা পরিচালক ও সচেতন নাগরিকদের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদরাসা শিক্ষা এ দেশের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর স্বকীয়তা, পাঠ্যক্রমের স্বাতন্ত্র্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠ, যুক্তিনির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে। মাদরাসা শিক্ষাকে ঘিরে বিভ্রান্তি, বৈষম্য কিংবা অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দেখা দিলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সময়ের দাবি।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, শাইখুল হাদিস মুফতি সালাউদ্দিন, মাওলানা ফজলুর রহমান, মুফতি শামসুদ্দিন কাসেমী, মোহাম্মদ রাজ (নওমুসলিম), মুফতি নজিরুল ইসলাম, মুফতি রফিকুল ইসলাম নূরানী, মুফতি মাহমুদুল হক হাফেজ্জী, মুফতি ওমর ফারুক সিরাজী, মুফতি মোজাম্মেল হক, মাওলানা রঈস উদ্দিন, মুফতি আহসান হাবিব, মাওলানা মোবাশ্বের হোসেন, মাওলানা আবির মোহাম্মদ রওশন ও মাওলানা মোস্তফা কায়ছার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কে বাসে তল্লাশি, ৪৩৩ বোতল সিরাপসহ গ্রেপ্তার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কে বাসে তল্লাশি, ৪৩৩ বোতল সিরাপসহ গ্রেপ্তার ২

 

নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৩৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির ১৪ হাজার ৭০০ টাকা ও তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের মো. আসাদ মিয়া (৪২) ও মাদারীপুরের মো. রানা (২৪)।

রোববার (১১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এসআরবি-১৪। এর আগে শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানার রঘুরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রঘুরামপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসায় এসআরবি-১৪-এর সিপিএসসি দল। এ সময় ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ‘আলিফ সুপার’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসে থাকা দুই যাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁদের সঙ্গে থাকা কাঁধের ব্যাগ ও ট্রলিতে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা সিরাপের মধ্যে ২৯৩ বোতল এসকাফ সিরাপ ও ১৪০ বোতল ফেয়ার ডিল সিরাপ রয়েছে। এ ছাড়া নগদ ১৪ হাজার ৭০০ টাকা ও তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে তরুণ ও যুবকদের কাছে বিক্রি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁদের জব্দ করা আলামতসহ ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%