ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা?


চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা?

ঢাকা, ধামরাই: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আলিমকে ঘিরে। তবে নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি তাঁর ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা একাধিক অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভূমি দখলসংক্রান্ত অভিযোগ, চাঁদা দাবির অভিযোগ, মারধর, ভাঙচুর, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং এক পীরের বাড়িতে হামলা ও গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে তাঁরা ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত অগ্রগতি এবং আবদুল আলিমের বর্তমান নির্বাচনী অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও জানা জরুরি।

অতীতের অভিযোগ, বর্তমানের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা একজন রাজনৈতিক নেতার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা জনস্বার্থের বিষয়। কারণ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অধিকার, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন জড়িত।

আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হলেও এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট মামলা, সরকারি নথি, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যায় না; তবে অভিযোগগুলো গুরুতর হলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

ছেলেদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও সংঘর্ষের অভিযোগ

এর আগে সাভার পৌরসভার জ্বালেশ্বর এলাকায় খ্রিষ্টান কলেজসংলগ্ন প্রয়াত দুলালের বাড়িতে সাব্বির মাহমুদ, আবদুল বারেক তুষারসহ কয়েকজনের ইয়াবা সেবনের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা কয়েকজনকে আটক করে সাভার মডেল থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও ঘটনাস্থলে যান।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সাব্বিরের বাবা আবদুল আলিম লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে এবং আটক ব্যক্তিদের সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ওই সংঘর্ষে আবদুল আলিমের কান কেটে যাওয়ার এবং পরে সেলাই দেওয়ার তথ্যও স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে।

তবে মাদক সেবনের অভিযোগ, সংঘর্ষের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং কারা প্রথম হামলা চালিয়েছিলেন—এসব বিষয়ে পুলিশের নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পীরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও খাসি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

এ ঘটনার পরদিন ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের চরসঙ্গুর গ্রামে পীর শাহ শামসুদ্দিনের বাড়িতে হামলা, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, কেয়ারটেকারকে মারধর এবং দুটি খাসি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে আবদুল আলিমের দুই ছেলে সাব্বির মাহমুদ ও আবদুল বারেক তুষারের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

ভুক্তভোগী শাহ শামসুদ্দিনের অভিযোগ, অভিযুক্তরা বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাঁর বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এ সময় কেয়ারটেকার মাসুদকে মারধর করে আহত করা হয়। পাশাপাশি আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি খাসি নিয়ে যাওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

শাহ শামসুদ্দিন আরও জানান, গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টার দিকে তিনি এ ঘটনায় ধামরাই থানায় অভিযোগ দিতে যান। তাঁর দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা গ্রহণ করা হয়নি। তবে অভিযোগটি থানায় কীভাবে নথিভুক্ত হয়েছে, তদন্ত হয়েছে কি না এবং মামলা গ্রহণ না করার কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে ইসহাক আলী নামের এক ব্যক্তির কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগের কপি, ঘটনার তারিখ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য যাচাই হলে অভিযোগটির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

বিচার ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ঘটনার পর তাঁরা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিক অধিকার এবং স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে আনে।

তবে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারব্যবস্থা বা পুলিশকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অভিযোগের নথি, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ যথাযথভাবে গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে প্রশ্নগুলোর জবাব দেবেন কে?

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আবদুল আলিম প্রার্থী হতে চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া এবং প্রাসঙ্গিক নথি দিয়ে অভিযোগগুলোর ব্যাখ্যা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভূমি দখল, চাঁদা দাবি, তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে ওঠা হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এবং থানায় অভিযোগের পরবর্তী অগ্রগতি—এসব প্রশ্নের উত্তর জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে অপরাধী প্রমাণ করে না, আবার রাজনৈতিক পরিচয় কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত থেকেও অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হতে পারে না। জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশী প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জবাবদিহি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে নদীভাঙনে দেবে গেছে আমরাজুরি ফেরিঘাটের ডালা, যানবাহন পারাপার বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


কাউখালীতে নদীভাঙনে দেবে গেছে আমরাজুরি ফেরিঘাটের ডালা, যানবাহন পারাপার বন্ধ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সঙ্গে পিরোজপুর সদর ও নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম আমরাজুরি ফেরিঘাট। নদীভাঙনে ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ের ডালা দেবে যাওয়ায় এ ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যানবাহন পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করে ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদেরও পড়তে হচ্ছে বিপাকে।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রী ট্রলারে নদী পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ট্রলারে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মতো যানবাহনও পার করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, ফেরি বন্ধ থাকার সুযোগে ট্রলারে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
কলেজছাত্র রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাবখান চ্যানেল ও সন্ধ্যা নদী পার হতে হচ্ছে। এতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আমরাজুরি ফেরিঘাটের ইজারাদার শাহিন হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘাটের আশোয়া নদী অংশে ভাঙনের কারণে ফেরির গ্যাংওয়ের ডালা দেবে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা হলে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, মেরামতের কাজের জন্য কারিগরি লোক আসছেন। রাতের মধ্যেই ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি। ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কোরিয়ার সুবিধাবঞ্চিত গ্রামে আগুন, ৭৫ দমকলকর্মী কাজ করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


দক্ষিণ কোরিয়ার সুবিধাবঞ্চিত গ্রামে আগুন, ৭৫ দমকলকর্মী কাজ করছে

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের গাংনাম এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনপদ গুরিয়ং গ্রামে মঙ্গলবার আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য দেশটির দমকল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাথে কথা বলার সময়, দমকল বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগুনের কারণে এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৭৫ জন দমকলকর্মী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া, আগুন নেভানোর কাজে ২৪টি দমকলের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গুরিয়ং গ্রামটি সিউলের কিছু সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকার নিকটে অবস্থিত। এবছর জানুয়ারিতে গ্রামটিতে একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শক্তিশালী ইরান গড়তে মূল চাবিকাঠির কথা জানালেন মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


শক্তিশালী ইরান গড়তে মূল চাবিকাঠির কথা জানালেন মোজতবা খামেনি

ইরানকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং উদ্ভাবনী গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মেধাবীদের প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে নতুন উদ্ভাবন এবং সমস্যা সমাধানই ইরানকে শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি।

মোজতবা খামেনি এই মন্তব্যগুলো করেছেন ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করা ইরানি মেধাবী, বিজ্ঞানী এবং ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, "বিজ্ঞানী ও মেধাবীদের বিরুদ্ধে শত্রুদের বিদ্বেষ ও অপরাধই ইসলামিক ইরানের শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকার প্রমাণ।"

বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানান মোজতবা খামেনি। তিনি মনে করেন, দ্রুত এবং ব্যাপক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির জন্য মেধাবীদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর প্রদেশে ‘অপারেশন ল্যাংড়া’: মুসলিমদের পঙ্গু করছে পুলিশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


উত্তর প্রদেশে ‘অপারেশন ল্যাংড়া’: মুসলিমদের পঙ্গু করছে পুলিশ!

ভারতের উত্তর প্রদেশে গরু পাচারের অভিযোগে পুলিশ কর্তৃক শত শত মুসলিম পুরুষকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ আহতদের পায়ে, বিশেষ করে হাঁটুর নিচে গুলি করা হয়েছে, যা পুলিশের ‘অপারেশন ল্যাংড়া’ নামক কৌশলের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মী ও সমালোচকেরা এ ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত শাস্তি হিসেবে দেখছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এপির প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

উত্তর প্রদেশ পুলিশ জানাচ্ছে, আত্মরক্ষার জন্য তারা গুলি চালিয়েছে। রাজ্য সরকারের অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করেছে বলেও দাবি করছে পুলিশ। তবে একই ধরনের গুলির ঘটনা ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাঁটুর ঠিক নিচে গুলি করার কৌশল—যা স্থানীয়ভাবে ‘অপারেশন ল্যাংড়া’ নামে পরিচিত—এখন অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে আইনের শাসন ও ধর্মীয় পক্ষপাত নিয়ে মানবাধিকার আইনজীবী, স্থানীয় বিচারক ও অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

২০২০ সাল থেকে প্রায় ৬৫০টি গুলির ঘটনা

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে উত্তর প্রদেশে গরু পাচারের অভিযোগে প্রায় ৬৫০টি ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গুলি করে আহত করা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে ২০০টির বেশি ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করেছে এপি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ ঘটনায় সন্দেহভাজনদের হাঁটুর নিচে গুলি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা পালানোর চেষ্টা করছিলেন বা গুলি চালিয়েছিলেন, এরপর পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়।

উত্তর প্রদেশের ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ্যার অধ্যাপক মোহাম্মদ কলিম খান বলেন, পালিয়ে যাওয়া কোনো ব্যক্তির পায়ের পেশির মধ্য দিয়ে গুলি প্রবেশ করে হাড়ে আঘাত না করা—বিশেষ করে দূর থেকে এমনটি ঘটানো—অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তার মতে, এ ধরনের ক্ষত কাছ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করার ইঙ্গিত দিতে পারে।

গবেষণা সংস্থাটির বিশ্লেষণ করা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য থাকা ৬২৭টি ঘটনার মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি আহত সন্দেহভাজন মুসলিম ছিলেন। তবে পুলিশের প্রকাশ করা ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তথ্য সংগ্রহ করায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার পুলিশের

উত্তর প্রদেশের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা অমিতাভ যশ বলেছেন, পুলিশকে কেবল আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সন্দেহভাজনদের পায়ে গুলি করার কোনো নির্দেশ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

আহতদের মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে গবাদিপশুর ব্যবসায় তাদের অংশগ্রহণকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা। তার দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্মীয় পক্ষপাতের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে পুলিশের প্রতিটি পদক্ষেপের জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি স্বীকার করেন।

পুলিশের গুলিতে নিহতদের এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম

প্রতিবেদনে পাওয়া রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যোগী আদিত্যনাথ ২০১৭ সালের মার্চে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩১৬ জন সন্দেহভাজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১০ জন, অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম।

অথচ রাজ্যটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মুসলিম। একই সময়ে পুলিশের গুলিতে ১২ হাজার ৮৯০ জন সন্দেহভাজন আহত হয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে ১৮ পুলিশ সদস্য নিহত এবং ১ হাজার ৯৫৩ জন আহত হয়েছেন। তবে আহত সন্দেহভাজনদের ধর্মীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র থেকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতাকেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন সমালোচকেরা। তাদের মতে, উত্তর প্রদেশে অপরাধ দমনের কঠোর নীতি মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। তবে পুলিশ ধর্মীয় পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গুলিতে পঙ্গুত্ব, বিপাকে পরিবার

এপি ছয়জন গুলিবিদ্ধ মুসলিমের স্বজনের সঙ্গে কথা বলেছে। প্রতিশোধের আশঙ্কায় তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। তাদের স্বজনেরা কেউ কারাগারে রয়েছেন, কেউ আত্মগোপনে আছেন।

দুই মা জানিয়েছেন, তাদের ছেলেরা মহিষের ব্যবসা করতেন। তাদের দাবি, মহিষ গরু সুরক্ষাসংক্রান্ত আইনের আওতাধীন নয়। পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর তাদের ছেলেরা আর কাজ করতে পারছেন না। ফলে পরিবারগুলো অন্যের সাহায্য ও ছোট অঙ্কের ঋণের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে।

এক মা বলেন, তার ছেলে এখন খুঁড়িয়ে চলেন এবং কাজ করতে পারেন না। অন্যের দেওয়া সাহায্য নিয়েই তাদের দিন কাটছে।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%