ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে সন্ধান মিলল ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদের


জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে সন্ধান মিলল ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদের

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ-চাপিলা শাহী জামে মসজিদ প্রাচীন ইতিহাসের একটি নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটি স্থানীয়দের কাছে ‘গায়েবি মসজিদ’ নামেই পরিচিত, এবং এখানে মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর ছাপ এখনো স্পষ্ট রয়েছে। মসজিদটির গঠনশৈলীতে তিনটি বড় গম্বুজ, পুরু দেয়াল, কারুকাজ করা প্রবেশদ্বার ও পুরোনো মেহরাবের কারুকাজ লক্ষ্যণীয়।

চাপিলা ইউনিয়নের বৃ-চাপিলা গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ নাটোর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় ইতিহাস ও উপজেলা প্রশাসনের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে সম্রাট শাহজাহানের ছেলের শাসনকালে, শাহ সুজা বাংলার সুবাদার থাকাকালে চাপিলা অঞ্চলটি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখানে মুঘল সেনাদের একটি ফাঁড়িও ছিল বলে জানা যাচ্ছে। মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল সেনাসদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় মুসলমানদের নামাজে সুবিধার জন্য, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত আছে।

স্থানীয় ইতিহাস অনুসারে, মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন মুনশি এনায়েতউল্লাহ, যিনি মুঘল প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ১৬২৮ থেকে ১৬৫৮ সালের মধ্যে কোনো এক সময়ে মসজিদটি নির্মিত হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

চাপিলা এলাকায় তখন জনসংখ্যা কমে গেলে মুঘল সেনা এবং অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে চলে যান, ফলে মসজিদটি ধীরে ধীরে ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে ঢেকে যায়। দীর্ঘদিন মানুষে অদৃষ্টি থাকে এই প্রাচীন স্থাপনাটির উপর।

স্থানীয়দের মতে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর নতুন মানুষ এসে সেখানে বসতি গড়তে শুরু করেন। সেই সময় জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা মসজিদটিকে খুঁজে পান। পরে, স্থানীয় উদ্যোগে মসজিদটির পরিষ্কার ও সংস্কার করা হয় এবং সেখানে আবার নামাজ আদায় শুরু হয়।

মসজিদটি খুঁজে পাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় নানা লোককথার ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেকের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে যে, নাকি মসজিদটি অলৌকিকভাবে এক রাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখান থেকেই এর নাম হয়ে যায় ‘গায়েবি মসজিদ’। তথাপি, মসজিদের স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক উপাদানগুলো মুঘল আমলের নির্মাণশৈলীর সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইট ও সুড়কি দিয়ে নির্মিত মূল মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২০ ফুট, এবং দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় চার ফুট। পুরোনো স্থাপনার রয়েছে তিনটি বড় গম্বুজ এবং দুই পাশে দুটি মিনার। গম্বুজ ও মিনারের চূড়ায় চাঁদ-তারার প্রতীক বিরাজমান। সংস্কারের পরে গম্বুজে সোনালী রং করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, র‌্যালি ও সমাবেশ

মসজিদে প্রবেশের জন্য রয়েছে কারুকাজ করা তিনটি দরজা। ভিতরের দেয়াল ও মেহরাবেও পুরোনো অলংকরণের চিহ্ন রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতি ও বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের কারণে কিছু প্রাচীন কারুকাজ হারিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় পুরো এলাকা বড় বড় বেতঝোপ ও জঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল। পুরোনো প্রজন্ম থেকে তাঁরা শুনেছেন, সেই জঙ্গলের মধ্যেই মসজিদটি চাপা পড়ে ছিল। আশপাশের পরিবেশ এতটাই জঙ্গলাকীর্ণ ছিল যে বন্য প্রাণীর আতঙ্কও ছিল। মুসল্লিদের কেউ কেউ পালা করে পাহারা দিয়ে নামাজ আদায় করতেন, এসংক্রান্ত জানিয়েছেন স্থানীয় প্রবীণরা।

মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল্লাহ জানাচ্ছেন, পুরোনো মসজিদে তিন কাতারে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। তবে মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১৯৯০ সালের পরে মসজিদের পরিসর বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতি ওয়াক্তে অর্ধশতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করেন। জুমার দিন মুসল্লির সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মসজিদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিও রয়েছে। পুরোনো রেকর্ডে মুনশি এনায়েতউল্লাহর পক্ষ থেকে মসজিদের জন্য জমি দানের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রাচীন রামাগাড়ী কাচারীঘরের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ, বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্য

বর্তমানে মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং গুরুদাসপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ প্রাচীন এই স্থাপত্য দেখতে আসেন।

প্রথম থেকেই রোদ-বৃষ্টি, ঝড় ও সময়ের ক্ষয় সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকা বৃ-চাপিলা শাহী জামে মসজিদ আজও যেন হারিয়ে যাওয়া একটি জনপদ এবং মুঘল আমলের ইতিহাসের গল্প বলে চলেছে। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও পুরোনো স্থাপত্যের স্মৃতি ধরে রাখা এই মসজিদটি সত্যিই নাটোরের ধর্মীয় ঐতিহ্যের, ইতিহাস এবং স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান আরও বাড়ানো প্রয়োজন: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান আরও বাড়ানো প্রয়োজন: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান উন্নয়ন প্রয়োজন রয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেন, আমরা এ সরকারের ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি। এই সময়ের মধ্যে আমরা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেছি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডায় গিয়ে ভালো করছে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে শিক্ষার্থীদের তৈরি করছে যে তারা বিদেশে গিয়ে ভালো করছে। কিন্তু তাদের কোথা থেকে তৈরি করা হয়েছে সেটি স্বীকৃতি পায় না।

তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বাড়ানো প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক গবেষক আছেন, যারা বিদেশে বিনির্মাণে নিজের জ্ঞান ঢেলে দেন। কিন্তু আমরা তাদের খুঁজে বের করতে পারি না। এটি আমাদের ব্যর্থতা। এদিকে আমরা এই বিষয়টিতে দৃষ্টি দিচ্ছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের স্বাক্ষর নকল, ভুয়া নিয়োগপত্র জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩০ পি.এম


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের স্বাক্ষর নকল, ভুয়া নিয়োগপত্র জারি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব শরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর নকল করে জারি করা একটি ভুয়া অফিস আদেশ সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। অফিস আদেশে মো. রেদুয়ান আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভুয়া নিয়োগপত্র জারি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য একটি প্রতারক চক্র কাজ করছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, ১০ আগস্ট তারিখে এ ভুয়া অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট মোকাবেলায় বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শূন্য পদের বিপরীতে সরকারি বিধি মোতাবেক রাজস্ব ভিত্তিতে বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৮,২৫০/- ২০,০১০/- টাকার নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই নিয়োগ ১১-০৮-২০২৬ হতে কার্যকর হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এই ধরনের কোনো নিয়োগপত্র বা অফিস আদেশ জারি হয়নি বলে উপসচিব শরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সংবাদমাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি জনবল নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই চাকরির প্রলোভনে বিভ্রান্ত হয়ে অসাধু চক্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা চুক্তি না করার জন্য চাকরি প্রার্থীদের সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার জন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয় এবং নিয়োগের সব পর্যায়ের তথ্য প্রার্থীদের সঙ্গে মোবাইলে এসএমএস এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (www.mopa.gov.bd) এর মাধ্যমে অবহিত করা হয়। এরপরও চাকরিপ্রার্থীদের সরলতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ আদেশ জারি করে প্রতারণা করে যাচ্ছে। সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি সংক্রান্ত যেকোন তথ্যের জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে সীমান্ত হত্যায় ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে সীমান্ত হত্যায় ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

নারায়ণগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মো. ওয়াজেদ সীমান্তের হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- অনিক, আকাশ ও চান্ডি বাবু। রায় ঘোষণার সময়ে তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত সীমান্ত হচ্ছেন দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে।

মামলার বিবরণ ও রায়ের নথি থেকে জানা যায় যে, ওয়াজেদ সীমান্ত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকালে, সকাল ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি। পথে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।

 

এ সময়ে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন এবং ১ হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাতে ১১টার দিকে তার মৃত্যু ঘটেছিল।

আদালত সূত্র জানায়, এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণগুলো পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

নারায়ণগঞ্জ কোট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এছাড়া, দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে এর আগে ছিনতাই, হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিক্যাল শিক্ষা স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ পি.এম


পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিক্যাল শিক্ষা স্থগিত

পাকিস্তান আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) এই নির্দেশ দিয়েছে।

নতুন করে আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ইতিমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।

আফগানিস্তানভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস পিএমডিসির জারি করা সরকারি চিঠির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। পিএমডিসির সিদ্ধান্তে পাকিস্তানে পেশাগত মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ডিগ্রি অর্জনে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।

পাকিস্তানের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে যেতে হবে। এক্ষেত্রে নতুন করে আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি চলমান থাকবে না আগামী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত।

পাকিস্তান মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) জারি করা সরকারি চিঠির বরাতে খামা প্রেস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে যেতে হবে। একইসঙ্গে, আফগান শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর বা মাইগ্রেশনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে এক প্রতিষ্ঠানের থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে।

পিএমডিসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত নির্দেশনা এবং ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই কাউন্সিলের নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে জাতীয় নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের সব মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

চিঠি বলছে, যেসব আফগান শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাদের স্নাতক সম্পন্নের বিষয়টি এবং পাকিস্তান ছেড়ে যাওয়ার তথ্য নথিভুক্ত ও নিশ্চিত করতে হবে। পিএমডিসি আরো জানিয়েছে, এই নির্দেশনা পুরো পাকিস্তানে কার্যকর হবে।

অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নয়, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি প্রযোজ্য হবে।

নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য তিন দিনের মধ্যে পিএমডিসির কাছে জমা দিতে হবে। পিএমডিসি সতর্ক করে বলেছে, নির্ধারিত সময়ে তথ্য না দিলে, নির্দেশনা না মানলে বা কোনো তথ্য গোপন করলে বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হবে। এই ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%