ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি : ডিএনসিসি প্রশাসক


ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি : ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন, "ফ্যাসিবাদী ও গুপ্তরা ছাড়া কেউ ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে নেই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় থেকেই সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন হকাররা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুর-১ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করার পর তিনি এসব মন্তব্য করেন।

এই অভিযানে মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাতের দোকান গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযানের খবর পেয়ে মিরপুর-১ নম্বরের প্রধান সড়ক থেকে অনেক হকার সরে যান।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

পরে শাহ আলী মার্কেটের কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এই সময় সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা বাজার ও ফুটপাতের দোকানপাট উচ্ছেদের পাশাপাশি মালামালও জব্দ করা হয়।

ডিএনসিসি প্রশাসক অভিযোগ করেন, অভিযানে বাধা দিতে পরাজিত শক্তি ও ফ্যাসিবাদীরা ষড়যন্ত্র করছেন। তবে তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ঘোষণা দেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, "প্রত্যেকটি জায়গায় একে একে উচ্ছেদ অভিযান হবে। ১০ নম্বরের মতো ১ নম্বরকে হাঁটা ও চলাচলের উপযোগী করবো।" তিনি সতর্ক করেন যে, কেউ যদি আবার বসতে চায়, তবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, "হাটার রাস্তা সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে দেয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব। যতদিন দায়িত্ব পালন করবো ঢাকা শহরকে গ্রিন এবং ক্লিন করতে চাই।" তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাওয়ার কথা জানান।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীর ৯ সন্ত্রাসী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীর ৯ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কাচ্চি ও ওয়াধ জেলায় পৃথক অভিযানের মাধ্যমে ৯ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, এমনটি জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, গত ২৬ অক্টোবর কাচ্চিতে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করা হয়। এই অভিযানে সাতজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। অন্যদিকে, ওয়াধ জেলায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে নিহত হয় আরো দুজন সন্ত্রাসী। নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতরা ভারত সমর্থিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর সদস্য।

আইএসপিআর জানায়, এলাকায় অন্যান্য সন্ত্রাসীদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলমান রয়েছে। দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির আওতায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: ডন

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুভেন্দুর কটাক্ষ, এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো মমতাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


শুভেন্দুর কটাক্ষ, এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো মমতাকে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স অনেক হয়েছে। তাই, এই বয়সে তার ভোটে না দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ত্যাগ করে ভবানীপুর আসন ধরে রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এভাবে মমতাকে কটাক্ষ করেন। একই সঙ্গে, নথি চুরির চেষ্টার অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যয়ের বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাসও দেন শুভেন্দু।

বুধবার বিধানসভায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং শাখারভ সরকার বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শুভেন্দু। ভবানীপুরে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। পরে, ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শুভেন্দু বুধবার এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ভবানীপুর আসন ছেড়ে দিলে সেখানে ফের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেতেন মমতা। সেই সুযোগ তিনি দিতে চাননি।

মমতার নাম উল্লেখ না করে শুভেন্দু বলেন, যিনি তার কাছে দুবার পরাজিত হয়েছেন, তাকে আবার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ না দেওয়াই শ্রেয়। তার কথায়, মমতার বয়স প্রায় ৭৫ বছর। এই বয়সে তার বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে, এ কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্দেশ্যে আজকের মধ্যেই মেডিকেল পরীক্ষার খরচ নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। কেবল অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতেই এই পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

শিগগিরই ওয়েবসাইটে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

কর্মীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর রাখার জন্য অনুরোধ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪০০ বছর আগে ১০টি কাজ হতে পারত জাদুবিদ্যার সন্দেহের কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


৪০০ বছর আগে ১০টি কাজ হতে পারত জাদুবিদ্যার সন্দেহের কারণ

একবার কল্পনা করুন, আপনি ষোড়শ শতকে চলে গেছেন, বর্তমানের আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসার সুযোগগুলোকে পেছনে ফেলে। চারপাশে নেই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ, এমনকি আপনার সাধারণ অভ্যাসও বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কেউ যদি আপনাকে সন্দেহের চোখে দেখে ফিসফিস করে বলে, ‘এই মানুষটার মধ্যে নিশ্চয়ই কিছু একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার আছে!’

এটি শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ডাইনি সন্দেহে বিচার ও নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশেষ করে ধর্মীয় কুসংস্কার, অজানা বিষয়ের প্রতি ভয়, ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং নারীদের ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেক নিরীহ মানুষকে ডাইনি বলে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

তখন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলেই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার সুযোগ ছিল সীমিত। অসুস্থতা, দুর্ভাগ্য কিংবা কারও ব্যতিক্রমী আচরণকেও অনেকে জাদুবিদ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখত। ভাবুন তো, আজকের দিনে যেসব কাজ একেবারেই স্বাভাবিক, সেগুলোর জন্য যদি আপনাকে সন্দেহের চোখে দেখা হতো, তাহলে কেমন লাগত?

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন ১০টি সাধারণ অভ্যাস ও পরিস্থিতির কথা, যেগুলো সেই সময়ে কিছু মানুষের চোখে আপনাকে ডাইনি সন্দেহভাজন করে তুলতে পারত।

১. বাড়িতে বিড়াল পোষা, বিশেষ করে কালো বিড়াল

বিড়াল ভালোবাসেন? তাহলে ১৬০০-এর দশকে আপনার জন্য খবরটা খুব একটা ভালো নয়! আজকের দিনে বিড়াল মানেই আদুরে পোষা প্রাণী। কিন্তু ইউরোপের কিছু অঞ্চলে তখন বিড়াল, বিশেষ করে কালো বিড়ালকে ঘিরে ছিল নানা কুসংস্কার। অনেকে বিশ্বাস করত, ডাইনিরা এসব প্রাণীর সাহায্যে অশুভ কাজ করে। আপনি হয়তো বাড়ির ইঁদুর তাড়াতে কিংবা নিঃসঙ্গতা কাটাতে একটি বিড়াল পুষেছেন। কিন্তু বিড়ালটি রাতে ঘোরাফেরা করলে, অন্ধকারে চোখ জ্বলজ্বল করলে কিংবা একদৃষ্টিতে কারও দিকে তাকিয়ে থাকলে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগতে পারত। অথচ বিড়াল তো এমন আচরণ করেই থাকে! সমস্যা আরো বাড়তে পারত যদি আপনার বিড়ালটি কোনো প্রতিবেশীর বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করত। কেউ অসুস্থ হলে বা দুর্ভাগ্যের শিকার হলে সেই বিড়ালকেও সন্দেহের তালিকায় ফেলা হতে পারত।

২. ভেষজ জ্ঞান থাকা

ধরুন, গ্রামের কেউ মাথাব্যথায় ভুগছেন। আপনি তাকে ঔষধি গাছ দিয়ে তৈরি একটি পানীয় খেতে দিলেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার জন্য ধন্যবাদ পাওয়ার বদলে আপনাকেই শুনতে হলো জাদুবিদ্যার অভিযোগ! ১৬০০-এর দশকে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা আজকের মতো উন্নত ছিল না। তাই ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা মানুষ, ধাত্রী কিংবা লোকজ চিকিৎসকদের অনেকেই অসুস্থদের সাহায্য করতেন। কিন্তু কারও চিকিৎসায় দ্রুত সুস্থতা এলে কিছু মানুষ ভাবতে পারত, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো অস্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। আবার রোগী সুস্থ না হলে অভিযোগ উঠতে পারত, তাকে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে! ভাবুন তো, দুই পরিস্থিতিতেই বিপদ! প্রকৃতির কাছ থেকে শেখা জ্ঞান ও অন্যকে সাহায্য করার ইচ্ছা যেখানে প্রশংসা পাওয়ার কথা, সেখানে কুসংস্কারের কারণে সেটিই কারও বিরুদ্ধে সন্দেহের কারণ হয়ে উঠতে পারত।

৩. নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলা

আপনি হয়তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অথবা ঘরের কাজ করতে করতে নিজের মনেই বিড়বিড় করছেন। আজকের দিনে এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কিন্তু তখনকার কোনো সন্দেহপ্রবণ মানুষ আপনার আচরণের অন্য অর্থ খুঁজতে পারত। তার ধারণা হতে পারত, আপনি অদৃশ্য কোনো আত্মার সঙ্গে কথা বলছেন, মন্ত্র পড়ছেন কিংবা শয়তানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন! অথচ আপনি হয়তো শুধু মনে মনে হিসাব করছেন, বাজার থেকে কী কী কিনতে হবে। মানুষের চিন্তা করার ধরন যে একেকজনের একেক রকম, সেই সাধারণ বিষয়টিই কুসংস্কারের আড়ালে হারিয়ে যেতে পারত। নিজের সঙ্গে কথা বলা কোনো জাদুবিদ্যার প্রমাণ নয়। কিন্তু অজানা বিষয় নিয়ে ভয় থাকলে সাধারণ আচরণও মানুষের কাছে রহস্যময় হয়ে উঠতে পারে।

৪. নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা, বিশেষ করে নারী হলে

আপনি কি নিজের অধিকারের কথা বলতে জানেন? তাহলে সেই সময়ে আপনার দৃঢ়তাই হয়ে উঠতে পারত বিপদের কারণ! ১৬০০-এর দশকের অনেক সমাজে নারীদের জন্য আচরণবিধি ছিল অত্যন্ত কঠোর। তাদের শান্ত, বাধ্য ও সামাজিক নিয়মের অনুগত থাকার প্রত্যাশা করা হতো। কোনো নারী সেই প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করলে, তর্ক করলে কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানালে তাকে অপছন্দ করা হতে পারত। আর ব্যক্তিগত শত্রুতা বা স্থানীয় কুসংস্কারের সঙ্গে বিষয়টি মিশে গেলে তার বিরুদ্ধে ডাইনি হওয়ার অভিযোগও উঠতে পারত। ভাবুন, আপনি শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু কেউ আপনার সাহসকে স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বের অংশ হিসেবে না দেখে অশুভ শক্তির প্রভাব বলে মনে করল!

৫. বাঁ হাতে লেখা বা কাজ করা

আজকের দিনে বাঁহাতি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ বাঁ হাতে লেখেন, খান কিংবা নানা কাজ করেন। কিন্তু ইতিহাসের কিছু সমাজে বাঁ দিককে অশুভতার সঙ্গে যুক্ত করা হতো। লাতিন ভাষার sinister শব্দটির আদি অর্থ ছিল ‘বাম’ বা ‘বাঁ দিক’; পরে ইংরেজিতে এটি অশুভ বা ভয়ংকর অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। এই ভাষাগত ইতিহাস বাঁ দিক নিয়ে পুরোনো নেতিবাচক ধারণার একটি উদাহরণ। তবে শুধু বাঁহাতি হওয়ার কারণে ১৬০০-এর দশকে সবাইকে ডাইনি বলা হতো, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম ছিল না। বরং তখনকার কুসংস্কারপ্রবণ পরিবেশে কোনো ব্যক্তির ভিন্নতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেটি তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারত। আপনি যে ইচ্ছা করে বাঁহাতি হননি, সেটি তো আপনার দোষ নয়! কিন্তু অজ্ঞতা আর কুসংস্কারের যুগে সাধারণ পার্থক্যও কখনো কখনো মানুষের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতো।

৬. অজানা রোগে আক্রান্ত হওয়া, কিংবা অন্যদের চেয়ে সুস্থ থাকা

একটু ভাবুন, গ্রামের অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু আপনি সুস্থ আছেন। এমনকি অন্যদিকে আপনার নিজের কোনো অদ্ভুত উপসর্গ দেখা দিলেও মানুষ সেটিকে স্বাভাবিক অসুস্থতা হিসেবে বুঝতে পারছে না।

১৬০০-এর দশকে রোগের অনেক কারণই মানুষের অজানা ছিল। খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা আচরণের আকস্মিক পরিবর্তনের মতো বিষয়ের ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া সব সময় সহজ ছিল না। ফলে কিছু মানুষ এসব ঘটনাকে অশুভ আত্মা, অভিশাপ কিংবা জাদুবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত করত। আবার কোনো মহামারি বা রোগ ছড়ানোর সময় কেউ সুস্থ থাকলেও তাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারত।

মূল সমস্যা ছিল, যখন মানুষ কোনো ঘটনার কারণ বুঝতে পারত না, তখন কেউ কেউ বাস্তব ব্যাখ্যার বদলে অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করত। আর সেই বিশ্বাসের মূল্য দিতে হতো নিরীহ মানুষকেও।

৭. কোনো কাজে অসাধারণ দক্ষ হওয়া

আপনি খুব ভালো রান্না করেন? আপনার বাগানে অন্যদের তুলনায় বেশি ফসল হয়? কিংবা আপনি এমন কিছু জানেন, যা গ্রামের আর কেউ জানে না? আজকের দিনে এগুলো আপনার প্রতিভা ও পরিশ্রমের পরিচয়। কিন্তু কুসংস্কারে আচ্ছন্ন সমাজে কখনো কখনো ব্যতিক্রমী সাফল্যও মানুষের সন্দেহের কারণ হয়ে উঠতে পারত। বিশেষ করে আপনার সাফল্যের সঙ্গে কারও দুর্ভাগ্যের ঘটনা মিলে গেলে লোকজন দুটির মধ্যে সম্পর্ক খুঁজতে পারত। ধরুন, আপনার জমিতে ভালো ফসল হয়েছে, অথচ পাশের জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো প্রতিবেশী যদি আগে থেকেই আপনাকে অপছন্দ করেন, তাহলে তিনি আপনার সাফল্যকেও সন্দেহের চোখে দেখতে পারেন।

৮. গ্রামের কারও সঙ্গে তর্ক বা শত্রুতা তৈরি হওয়া

কখনো কখনো আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার জন্য অদ্ভুত কোনো আচরণেরও প্রয়োজন হতো না। ব্যক্তিগত বিরোধই যথেষ্ট হয়ে উঠতে পারত। ধরুন, গ্রামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে আপনার তর্ক হয়েছে। কয়েক দিন পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। অথবা তার গবাদিপশু মারা গেল কিংবা জমির ফসল নষ্ট হলো। এখন কেউ যদি বিশ্বাস করেন যে আপনি তাকে অভিশাপ দিয়েছেন, তাহলে ওই ঘটনাগুলোর জন্যও আপনাকে দায়ী করা হতে পারত। কিন্তু একজনের সঙ্গে তর্ক হওয়ার পর অন্য কোনো দুর্ভাগ্য ঘটলেই যে তর্ক করা ব্যক্তিই তার কারণ, এমন তো নয়! ডাইনি বিচারের ইতিহাসে ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিবেশীদের বিরোধ ও পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ছোট সম্প্রদায়ে গুজব ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারত।

৯. অদ্ভুত স্বপ্ন দেখা বা স্বপ্নের কথা বলা

এক রাতে আপনি স্বপ্ন দেখলেন, আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছেন। কিংবা এমন কাউকে দেখলেন, যাকে বাস্তবে কখনো দেখেননি। সকালে উঠে বন্ধুদের কাছে স্বপ্নের গল্প করলেন। আজকের দিনে এমন ঘটনা নিয়ে হয়তো সবাই মজা করবে। কিন্তু ইতিহাসের কিছু সমাজে স্বপ্ন ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের মধ্যে গভীর সম্পর্ক কল্পনা করা হতো। বিশেষ করে ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোককথায় প্রভাবিত মানুষ কখনো কখনো স্বপ্নকে বিশেষ বার্তা, অশুভ সংকেত কিংবা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখত। তবে শুধু অদ্ভুত স্বপ্ন দেখার কারণে কাউকে ডাইনি হিসেবে অভিযুক্ত করা হতো, এমন সাধারণ নিয়ম ছিল না। স্বপ্নের ব্যাখ্যা অঞ্চল, সময় ও ব্যক্তির বিশ্বাস অনুযায়ী ভিন্ন ছিল। তারপরও, আপনার বলা কোনো স্বপ্ন যদি আগে থেকেই প্রচলিত ভয় বা সন্দেহের সঙ্গে মিলে যেত, তাহলে কেউ সেটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারত। আপনার কাছে সেটি ছিল নিছক স্বপ্ন। অন্য কারও কাছে সেটিই হয়ে উঠতে পারত রহস্যময় কোনো ঘটনার গল্প!

১০. অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা হওয়া

সবশেষে রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি। অনেক সময় আপনার বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হওয়ার জন্য আলাদা কোনো অপরাধের প্রয়োজনই হতো না। আপনার জীবনযাপন বা সামাজিক অবস্থানই যথেষ্ট হয়ে উঠতে পারত। হয়তো আপনি একা থাকতে পছন্দ করেন। অন্যদের সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশা করেন না। আপনার পোশাক, কথাবার্তা কিংবা অভ্যাস গ্রামের অন্যদের চেয়ে আলাদা। এসবের কোনোটিই অপরাধ নয়। কিন্তু কুসংস্কারপ্রবণ সমাজে পরিচিত নিয়মের বাইরে থাকা মানুষকে কখনো কখনো সন্দেহের চোখে দেখা হতো। বিশেষ করে কেউ যদি আগে থেকেই আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতেন, তাহলে আপনার সাধারণ আচরণকেও সেই অভিযোগের পক্ষে ব্যাখ্যা করা হতে পারত। এভাবেই গুজব, ব্যক্তিগত বিরোধ ও অন্ধবিশ্বাস মিলে একজন নিরীহ মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারত। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, একবার কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহ ছড়িয়ে পড়লে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারত।

১৬০০-এর দশকের ডাইনি শিকারের ইতিহাস শুধুমাত্র অতীতের কিছু অদ্ভুত বিশ্বাসের গল্প নয়। এটি দেখায়, ভয়, কুসংস্কার, সামাজিক বৈষম্য ও ব্যক্তিগত শত্রুতা একসঙ্গে কাজ করলে নিরীহ মানুষও কীভাবে নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সব অঞ্চলে একই রকম পরিস্থিতি ছিল না। ডাইনি বিচারের কারণ ও ধরনও সময়, স্থান এবং সামাজিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন ছিল। আজ আমরা বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছি। তাই অতীতের এসব ঘটনা জানার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অবাক হওয়া নয়; বরং কুসংস্কারের বদলে যুক্তি, গুজবের বদলে প্রমাণ এবং বিদ্বেষের বদলে সহানুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%