রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২০ পি.এম
নাগোয়া (জাপান), ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জাপানের জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে ওয়াতাররু মিয়াউচি আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করছেন। জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুতির পাশাপাশি তিনি কৃষিকাজের কাজও করছেন।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট আবারও অলিম্পিকের খেলায় ফিরছে, যা ১২৮ বছর পর ঘটছে। অনেক সময় ক্রিকেটকে বেসবলের পূর্বসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মিয়াউচির স্বপ্ন ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে খেলার। তিনি এ বিষয়ে বলেন, “জাপানে যদি পেশাদার দল গড়ে উঠত, যাতে খেলোয়াড়েরা পুরোপুরি খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে পারত, তাহলে দারুণ হতো।”
এশিয়ান গেমসে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় নতুন গতি আনতে চান। ২৭ বছর বয়সী মিয়াউচি আশা করছেন, ক্রীড়াজীবনের সঙ্গে কৃষিকাজের ভারসাম্য রেখে চলার এই প্রচেষ্টা তার দেশে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রিলিমিনারি রাউন্ডে শক্তিশালী আফগানিস্তানের কাছে জাপান বড় ব্যবধানে হারলেও, মাঠে দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে একটি ক্যাচ ধরে নিজের সামর্থ্য প্রদর্শন করেন মিয়াউচি। তিনি মন্তব্য করেন, “আমি খুশি যে নিজের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পেরেছি। পরেরবার আমি অবশ্যই জিততে চাই।”
ওসাকা প্রিফেকচারের বাসিন্দা মিয়াউচি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। এর আগে তিনি বেসবল খেলতেন, তাই ভিন্ন একটি খেলা চেষ্টা করতে ক্রিকেট বেছে নেন। অসাধারণ গতির দৌড়, মাঠের বড় অংশজুড়ে ফিল্ডিং করার সক্ষমতা এবং মাঠের যেকোনো দিকে বল পাঠানোর ব্যাটিং দক্ষতা তাকে জাতীয় দলে জায়গা করে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পরও মিয়াউচি ক্রিকেট চালিয়ে যান। একই সঙ্গে তোচিগি প্রিফেকচারের সানোতে একটি বিক্রয়কর্মীর চাকরি করতেন। তবে শেষ পর্যন্ত চাকরি ও খেলাধুলার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি চাকরিটি ছেড়ে দেন।
জাতীয় দলের সাবেক সিনিয়র খেলোয়াড় ৩১ বছর বয়সী কেন ওকোশি তার পরবর্তী পদক্ষেপের পথ দেখান। ওকোশি তাকে জানান, ওই দলে যোগ দিলে কাজ ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ হবে। এরপর ২৪ বছর বয়সে মিয়াউচি শহরটিতে চলে যান। তার সিনিয়র সতীর্থের মতো তিনিও স্থানীয় উন্নয়ন দলে যোগ দেন এবং আগে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও কৃষিকাজ শুরু করেন।
ফেব্রুয়ারিতে প্রায় তিন বছরের মেয়াদ শেষ করার পর তিনি ওকাশি ও অন্যদের প্রতিষ্ঠিত একটি রেস্তোরা ব্যবসায় কাজ শুরু করেন। তবে কৃষিকাজের প্রতি তার মনোযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন তিনি শহরের খেতে বিভিন্ন শাকসবজি ও ফল চাষ করেন, যা ওই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী রেস্তোরাগুলোতে ব্যবহার করা হয়। সন্ধ্যায় তিনি গাড়ি চালিয়ে প্রায় ৫০ মিনিট দূরের সানোতে নির্দিষ্ট একটি মাঠে যান এবং সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন।
ওকোশি জানান, মিয়াউচির উৎপাদিত কৃষিপণ্য একই সঙ্গে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিনই দেখেছি, সে কীভাবে কৃষিকাজ ও ক্রিকেট- দুই ক্ষেত্রেই নিজের পুরোটা উজাড় করে দিচ্ছে। এশিয়ান গেমসে সে যেন নিজের পূর্ণ সামর্থ্য প্রকাশ করতে পারে, সেটিই আমি সত্যিই আশা করি।”
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটকে অনেক দেশেই পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে লাভজনক পেশাদার ক্রিকেট লিগও বেশ জনপ্রিয়। বিপরীতে, জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে ক্রিকেট খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছিল মাত্র প্রায় ৭ হাজার।
এশিয়ান গেমসের জন্য জাপানের ৩০ সদস্যের পুরুষ ও নারী দলের মধ্যে শিক্ষার্থী খেলোয়াড় ছাড়া প্রায় সবাই খেলাধুলার পাশাপাশি পূর্ণকালীন চাকরি করছেন। তাদের মধ্যে ব্যাংকের কর্মী ও স্কুলশিক্ষকের মতো পেশায় থাকা খেলোয়াড়ও রয়েছেন।
জাপানে বর্তমানে তোচিগি প্রিফেকচারের সানো শহর নিজেকে ক্রিকেটের শহর হিসেবে তুলে ধরছে। ২০১০ সালে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন টোকিও থেকে তাদের সদর দপ্তর সানোতে স্থানান্তর করার পর থেকেই শহরটি ক্রিকেটের মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়ের পুনরুজ্জীবনে কাজ করছে।
২০১৮ সালে পৌর সরকার সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড চালু করে। প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠসহ এটি আন্তর্জাতিক মান পূরণকারী জাপানের প্রথম ক্রিকেট ভেন্যু। বিদেশি দলগুলোও অনুশীলন ম্যাচের জন্য এই মাঠ ব্যবহার করে।
ক্রিকেটের প্রচারে শহরটি প্রাথমিক ও জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এসব আয়োজনে ব্রিটিশ দলগুলোর খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
শহরের স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আশা করি, এশিয়ান গেমস আরও বেশি মানুষকে ক্রিকেট এবং সানো শহর সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ, পাসপোর্ট, এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্ম তারিখের ভিন্নতা এবং অসংলগ্ন তথ্যের কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত রবিউল ইসলামকে (৪৪) চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবি পুলিশ ফের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে রিমান্ড সংক্রান্ত শুনানি আগামী রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, গত বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় এবং সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের এসআই বিনয় কুমার রায়। ওই দিন আদালত রবিউলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এ সময় রবিউলের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
দ্বিতীয় দফার রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, চার দিনের রিমান্ডে আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। ওই তথ্য যাচাই করার জন্য তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, রবিউল ইসলাম ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তার গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাসপোর্ট প্রদর্শন করেন। এরপর তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডিতে থাকা জন্ম তারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্ম তারিখের কোনো মিল নেই।
আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, রবিউল এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন। কেন তিনি বারবার বাংলাদেশে এসেছেন, এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে পারেননি। এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে একেক ধরনের তথ্য দিয়ে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, রবিউল বাংলাদেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধ বা সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রবল সন্দেহ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির মর্যাদাপূর্ণ ‘ডংফাং স্কলারশিপ’-এ সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিশ্বের ৫৪টি দেশের প্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে এই পদে বিজয়ী হন।
এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে উদীয়মান রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আয়োজন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন ডা. আউয়াল। এতে ৫৪টি দেশের ৫৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এই অ্যাম্বাসেডর নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৯ ভোট পেয়ে অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইকুয়েডরের উপরাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা লোরেনা পন্সে, যিনি ১৭ ভোট পান। এছাড়া জিম্বাবুয়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এলবার্ট মাভুঙ্গা ৮ ভোট এবং মালদ্বীপের উপমন্ত্রী আহমেদ আরিম ৫ ভোট অর্জন করেন।
ডা. আউয়াল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে, যারা আমাকে এই স্কলারশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের আস্থা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বাকি দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।"
এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে, কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং-২০২৭ তালিকায় পিকিং ইউনিভার্সিটি বিশ্বের ১৩তম স্থানে অবস্থান করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে হামলার শিকার হওয়া বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও এর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিদর্শনে যান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি সেখানে হামলার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রাড্ডা ছিল বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ। প্রায় ৫০ বছর ধরে সেখানে প্রসূতি ও শিশু সেবাসহ বিভিন্ন সেবাদানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার সেখানে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাড্ডা এমসিএইচ’র চারটি ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। হামলাকারীরা সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ডও স্থাপন করে। আজ রোববার আসিফ মাহমুদ সেখানে পরিদর্শনে যান।
এনসিপির কর্মীরা সেখানে থাকা ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ সাইনবোর্ডটি তুলে ফেলেন। তারা আরও একাধিক নিদর্শন মুছে ফেলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এখানে আমরা ভেতরে দেখলাম যে, মেডিসিন, ইনজেকশন, ইকুইপমেন্ট—এই জিনিসগুলো পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই যে গরিব মানুষের গরিব বাচ্চাদের এই যে টিকা, এইটা লুট করে আপনারা কী প্রমাণ করতে চান?
‘আপনারা ধনীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন, ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন। ইসিবিতে আমরা দেখলাম সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে আপনারা গতকালকে ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞ চালাইছেন। আপনারা এখানে গরিব বাচ্চাদের টিকাটা পর্যন্ত ছাড়েন নাই।’
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের লজ্জা হয়। আমরা দেখেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পরে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আজ থেকে মবতন্ত্রের কবর রচনা করা হলো’। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? মবতন্ত্র দিয়ে ঠিক তিনটা জায়গায় দুইদিনের মধ্যে একটা স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিক, একটা স্টুডিও আরেকটা প্রতিষ্ঠানের কবর রচনা করলেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত কারা? আমরা দেখলাম সিসিটিভি ক্যামেরায়—পুলিশ এসে দাঁড়িয়ে ছিল।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে এক্সকেভেটর, ট্রাক আনা হয়েছে। একটা এক্সকেভেটর যখন আসে, পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম কী হওয়া উচিত? যে এই এক্সকেভেটরের এখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি আছে কি না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ঢাকা শহরে আমি যদি আমার বাড়িও ভাঙতে চাই এক্সকেভেটর দিয়ে; আমার পুলিশের অনুমতি নিতে হয়, সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হয়। তো পুলিশ এসে এখানে মবতন্ত্র যাতে কায়েম করতে পারে, এটা নিশ্চিত করেছে। যখন ভাঙচুর শুরু হয়েছে, তখন পুলিশ এখান থেকে হেঁটে চলে গেছে।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে তিনি পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এসে দেখলাম—প্রবেশপথে পুলিশ, ভেতরে পুলিশ। ওই যে বাংলা ছায়াছবিতে একটা জিনিস আছে না যে, ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ আসছে। তো এখানেও ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে পরিদর্শন করতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : বাংলাদেশ চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে সহযোগিতা জোরদারের জন্য একগুচ্ছ প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম-মিয়ানমার হয়ে ইউনানের রাজধানী কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ইউনানে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত চালু করা এবং সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব।
রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা সফররত চীনের ইউনান প্রদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ কার্যকর সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে দুই অঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় এবং ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, "প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে।"
ইউনানকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে এ প্রদেশে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি ইউনানের প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ মানুষের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে প্রস্তাবিত বিনামূল্যের বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে দুই অঞ্চলের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক চিত্রও উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ইউনান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে।
ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইউনানের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা নীতির আওতায় এসেছে। এর আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, "এসব সুবিধা দ্রুত কার্যকর হবে।"
তিনি আরও বলেন, ইউনানের বাণিজ্য বিভাগ ও বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনের জন্য ইউনানে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এ সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ইউনানে রপ্তানি এবং ইউনান থেকে ফুল, সার ও পশুখাদ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ইউনানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। কৃষি খাতে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই অঞ্চলের কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জ্বালানি, ই-কমার্স এবং প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ ও ইউনানের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বিশেষ করে ইউনানের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানান।
সিলেটের পুরনো কারাগারের জায়গায় পার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি কুনমিংয়ের আধুনিক পার্কগুলোর আদলে সিলেটে একটি আধুনিক পার্ক গড়ে তুলতে ইউনান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান।
ঝাও জুনমিন বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ