ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে: ডা. শফিকুর রহমান


একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোনো চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, “জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হলে জনগণই তার বিরুদ্ধে হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”

তিনি শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুদের অবদানকে অবমূল্যায়ন বা উপহাস করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তাদের ত্যাগকে কখনোই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।”

আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান দীপেন দেওয়ান এমপির

তিনি অভিযোগ করেন যে, “নির্বাচন ও গণভোটে জনগণের রায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।” জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা প্রকৃত গণতंत्रে বিশ্বাসী হতে পারে না।”

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।” জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসিয়ে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একদলীয় শাসন কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

তিনি বলেন, “সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি অতীতে আওয়ামী লীগ চালু করেছিল।” এখন সেই একই ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না। তরুণ প্রজন্ম বিভাজনের রাজনীতি নয়, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব দেখতে চায়।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ২৯ অক্টোবর ব্যাংক বন্ধ থাকবে

বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বড় বাজেট প্রণয়ন করা সরকারের দায়িত্ব, তবে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।” অতীতে যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট হয়েছে, সেই পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে না।

নারায়ণগঞ্জের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “একসময় নারায়ণগঞ্জ ছিল দেশের শিল্পনগরী। কিন্তু নানা কারণে সেই গৌরব ক্ষুণ্ণ হয়েছে।” শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে এনে নারায়ণগঞ্জকে আবারও তার হারানো অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।” জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা কথার চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করে এবং দেশের স্বার্থে সৎ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রত্যাশা করে।

আরও পড়ুন: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রিটেনে আড়াই লাখ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার, অধিকাংশ অপরাধী পাকিস্তানি পুরুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


ব্রিটেনে আড়াই লাখ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার, অধিকাংশ অপরাধী পাকিস্তানি পুরুষ

যুক্তরাজ্যে শিশু ও কিশোরীদের ওপর সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতনের ঘটনার কারণে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো দাবি করেছেন, ২১৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে গত কয়েক দশকে অন্তত আড়াই লাখ মেয়ে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর সহিংসতার শিকার হয়েছে।

এসব অপরাধের সাথে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষ।

এখন বোঝা দরকার যে, এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্যের সরকার বা পার্লামেন্টের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের অংশ নয়, বরং এটি এমপি লো-এর নিজস্বভাবে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট। যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলতে তারা বোঝাতে চান এমন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে, যারা মূলত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের টার্গেট করে। এসব মেয়েরা অনেক সময় সুবিধাবঞ্চিত, পারিবারিক সমস্যা, দারিদ্র্য বা সামাজিক ঝুঁকিতে থাকেন।

প্রথম ধাপে অপরাধীরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে। তারা ভালবাসা, যত্ন বা সম্পর্কের ভান করে মেয়েদের প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়। এরপর ধীরে ধীরে এসব মেয়েদের যৌন নির্যাতনের চক্রে জড়িয়ে ফেলা হয় এবং একপর্যায়ে তারা ভয়, চাপ ও মানসিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আটকে পড়ে।

কয়েকটি ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনার শিকারদের একটি বড় অংশ শ্বেতাঙ্গ মেয়ে। এ ছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যের সরকার এই সমস্যাকে গুরুত্বের সাথে নেয়নি। অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর কোন পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। কিছু ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তারা সাহায্যের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে গেলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি।

কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বলা অভিযোগগুলিকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়নি। ইয়াহু নিউজের একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আড়াই লাখ ভুক্তভোগী সংখ্যা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, তবে তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। যদিও সংখ্যাগত বিতর্কের বাইরে গিয়ে লোর প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন, ভয়ভীতি, হুমকি এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

রুপার্ট লো জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদনটি তৈরিতে এক বছরের বেশি সময় লেগেছে এবং এতে প্রায় ৬ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। সরকারের অর্থায়নের পরিবর্তে এই প্রকল্পটি জনসাধারণের অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে এর আগে একাধিক তদন্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে ‘জে ইনকোয়ারি’ এবং ‘টেলফোর্ড ইনকোয়ারি’ উল্লেখযোগ্য। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মোট ১৪৯টি স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকায় এ ধরনের অপরাধচক্রের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে শত শত ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য, আদালতের নথি এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অনেক সময় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধায় ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল যে, অভিযুক্তদের বেশির ভাগ পাকিস্তানি মুসলিম হওয়ায় বিষয়টি বর্ণবাদী ইস্যু হিসেবে দেখা হতে পারে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যে শিশু সুরক্ষা, যৌন অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে অতীতে অভিযোগ পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও আবার সামনে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমবারের মতো বাকৃবিতে হাতি নিয়ে হল ফিস্টের ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


প্রথমবারের মতো বাকৃবিতে হাতি নিয়ে হল ফিস্টের ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হলে শিক্ষার্থীদের আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ফিস্ট ‘টেল অব রিডাম্পশন’। এই বিশেষ ফিস্ট উপলক্ষে প্রথমবারের মতো হাতি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই তিন দিনব্যাপী ইভেন্টটি আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এই অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় বিভিন্ন আনন্দদায়ক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে, এর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোকসজ্জা, আতশবাজি এবং গ্র্যান্ড ডিনার।

হলের ৬৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফিস্টের জন্য বিকেলে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে আশরাফুল হক হলে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় হাতির উপস্থিতি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে।

পরে হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলের হাউস টিউটর জিকেস বর্মন, ইফতেখার জাহান ভুঁইয়া এবং ড. মো. শাহিনুর আলম। তাঁদের উপস্থিতিতে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিস্টের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক শিক্ষার্থী রাফিউল হক জানান, আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার এবং সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। শোভাযাত্রায় হাতির অন্তর্ভুক্তি ছিল অনুষ্ঠানের একটি আকর্ষণীয় দিকও। তিনি আরও জানান, আমরা চেয়েছি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে একটি এমন পরিবেশ তৈরি করতে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করবে এবং দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

হলের সিনিয়র শিক্ষার্থী মো. শামীম রেজা বলেন, ‘টেল অব রিডাম্পশন’ শুধুমাত্র একটি ফিস্ট নয়, এটি সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতিফলন। প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ও উৎসাহকে নতুন মাত্রা দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই তিন দিনব্যাপী আয়োজন নিয়মিত পড়াশোনার একঘেয়েমি এবং ক্লান্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেবে।

হলের হাউস টিউটর ড. মো. শাহিনুর আলম জানিয়েছেন, আজকের এই ফিস্ট দেখে তাঁর ১০-১১ বছর আগের স্মৃতির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ফিস্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। তিনি কামনা করেন, আয়োজনটি সফলভাবে সমাপ্ত হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরালো পদক্ষেপ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতিসংঘ সদরদফতরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক (ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল) হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ করতে এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে তিনি নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহার বিষয়ে বলতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবজির দাম কমলেও উচ্চ ডাল-চিনির বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


সবজির দাম কমলেও উচ্চ ডাল-চিনির বাজার

রাজधानी ঢাকার বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে সবজির দাম। এ কারণে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে ডাল, চিনি ও লবণের মতো কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই স্বস্তি পুরোপুরি মিলছে না।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশেপাশের কয়েকটি বাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে এবং কিছু পণ্যের আমদানিও বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সম্মানিত ব্যবসায়ীরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, আগামী সপ্তাহে আরও কিছু সবজির দাম কমতে পারে।

বর্তমানে প্রতিকেজি বেগুন ৮০ টাকায়, পেঁপে ৪০ টাকায়, করলা ৬০ টাকায়, পটল ৫০ টাকায়, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, টমেটো ১২০ টাকায়, ঝিঙে ৫০ টাকায়, শসা ৬০ টাকায় এবং ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতিপিস লাউয়ের মূল্য ৭০ টাকায় রয়েছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে অধিক পরিমাণে পণ্য আসছে, যা বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। যদি সরবরাহ এভাবে ঠিক থাকে, তাহলে সামনে আরও দাম কমতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে ক্রেতারা চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। বর্তমানে মোটা মুগ ডালের কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ টাকা। চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় উঠেছে। পাশাপাশি, বস্তাপ্রতি লবণের দাম ১০০ টাকা বেড়েছে।

মুদিপণ্যের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির কারণেই খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। একজন মুদি ব্যবসায়ী বলেন, ডাল ও চিনির দাম তারা পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনছেন, তাই খুচরা বাজারে দাম না বাড়ানোর সুযোগ নেই। লবণের বস্তার দামও বেড়ে গেছে।

বাজার করতে আসা নাসরিন আক্তার মন্তব্য করেন যে, একটা জিনিসের দাম কমলে অন্য একটি জিনিসের দাম বাড়ে। সবজি কিনতে কিছুটা কম খরচ হচ্ছে ঠিকই, তবে ডাল-চিনি কিনতে গিয়ে সেই টাকা আবার বেশি চলে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, মুরগির বাজারে দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতে এবং সোনালি মুরগি ৩শ' ৫০ টাকা কেজিতে। তবে লেয়ার মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

অন্যদিকে, সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে এখন লেয়ার মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় লেয়ার মুরগির দাম কমেছে। তবে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%