আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:০০ পি.এম
সন্দ্বীপ–চট্টগ্রাম নৌপথে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হওয়ার ২৯ দিনের মধ্যে ১১ হাজার ৫৬৬ জন যাত্রী পারাপার করেছে সি-ট্রাক এস.টি. নিঝুম দ্বীপ। এরপরও নৌযানটি সন্দ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাত্রী পারাপারের এই পরিসংখ্যানের পরিপ্রেক্ষিতে নৌযানটি সরিয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন সন্দ্বীপের সচেতন মহল।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সন্দ্বীপ–চট্টগ্রাম নৌপথে যুক্ত হয় এস.টি. নিঝুম দ্বীপ। ২৯ দিনের হিসাবে গুপ্তছড়া ঘাট থেকে ৮ হাজার ২৩৪ জন এবং বাঁশবাড়িয়া ঘাট থেকে ৩ হাজার ৩২২ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। দুই ঘাট মিলিয়ে মোট যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ৫৬৬ জন।
তথ্য অনুযায়ী, নাব্যতা সংকটের কারণে তিন দিন এবং সিগন্যালের কারণে দুই দিনসহ বিভিন্ন কারণে মোট ছয় দিন সার্ভিস বন্ধ ছিল। ফলে ২৯ দিনের মধ্যে নৌযানটি চলাচল করেছে ২৩ দিন।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যাত্রী পরিবহনের এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে এস.টি. নিঝুম দ্বীপকে সন্দ্বীপ–চট্টগ্রাম নৌপথে বহাল রাখা সম্ভব কি না। নৌযানটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
সন্দ্বীপ একটি দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে নিয়মিত ও নিরাপদ নৌযোগাযোগ এখানকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন বহু মানুষকে এই নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে নৌযানটির চলাচল অব্যাহত রাখা এবং নৌপথের সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সন্দ্বীপবাসীর দাবি, এস.টি. নিঝুম দ্বীপ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলে তার যৌক্তিক কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের প্রয়োজন, নিরাপদ যাতায়াত এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নৌযানটি এই নৌপথে বহাল রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইন্দোনেশিয়ায় চলমান দাবানলের ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণের ফলে সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে, দেশটির ৫ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ অস্বাস্থ্যকর থেকে বিপজ্জনক মাত্রার বায়ুদূষণের মধ্যে শ্বাস নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে আরব নিউজের প্রতিবেদনে।
হেলসিংকিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বন ও ভূমিতে আগুন লাগার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় বায়ুমানের অবনতি ঘটেছে। এর ফলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৬০ জনে পৌঁছেছে। আগস্ট মাসের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পিএম ২.৫ নামক অতিক্ষুদ্র বায়ুদূষণকারী কণার সংস্পর্শে আসার কারণে মৃত্যুর হিসাব করা হয়েছে। এই দূষিত কণার সংস্পর্শে আসার পর কয়েক দিনের মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের অংশে। এছাড়া, জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপ এবং দেশের পূর্বাঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গবেষকেরা দাবানলের ধোঁয়ার পাশাপাশি শহর ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং অন্যান্য দূষণের প্রভাবও বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে এসব উৎসের বায়ুদূষণে আরও ১ হাজার ৭৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ওই মাসে ইন্দোনেশিয়ায় বায়ুদূষণজনিত আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ৩১০ জনে পৌঁছেছে।
প্রায় ২৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বসবাসকারী ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল ও শিল্পকারখানার দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করছে, যা গবেষণায় প্রতিফলিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ভাবনা কেন্দ্রে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ১৭তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ ধর্মীয় আয়োজন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে।
এ উপলক্ষে খেদারমারা ভাবনা কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি ও আয়োজনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জনাব বিল্টু চাকমা। পরিদর্শনকালে তিনি উৎসবের সার্বিক অগ্রগতি ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন।
এছাড়া তিনি উপস্থিত দায়ক-দায়িকাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধর্মীয় এ উৎসবের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এ সময় বিল্টু চাকমা ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হুথিরা সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের দিকে ড্রোন ছোড়ার অভিযোগকে অস্বীকার করেছে। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে তারা কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।
সারি আরও উল্লেখ করেন, ‘সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কোনো অভিযান চালানো হয়নি। তাদের অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হলো তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি।’
এর আগে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কা অঞ্চলে হুথি দ্বারা ছোড়া একটি ড্রোনকে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজহারি এবং তাঁর স্বামী হাদি আলী চাট্টাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিঘ্নিত করার অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আদিয়ালা কারাগারে আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এই দম্পতি ওই কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়ার এবং তাঁদের ওপর হামলার পৃথক অভিযোগে আদালত তাঁদের আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তবে সকল সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
ইমান মাজহারি রাজনৈতিক কর্মীদের গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে এবং সংখ্যালঘু ও সাংবাদিকদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাঁদের কারাদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।
২০২৪ সালের একটি মামলায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, তাঁরা একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিপন্ন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে, তাঁরা বিক্ষোভের আয়োজন করে একটি সড়ক অবরোধ করেছিলেন।
রয়টার্সের প্রকাশিত বিবৃতিতে দম্পতি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা নিজেদের ‘বিবেকের বন্দি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
মাজহারির মা শিরিন মাজহারি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে ও জামাইকে নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথিও সরবরাহ করা হয়নি। উল্লেখ্য, শিরিন মাজহারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মন্ত্রিসভায় মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও সরকারি কৌঁসুলি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বারবার বলেছেন, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টসংক্রান্ত পৃথক একটি মামলায় গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর থেকে মাজহারি ও চাট্টা কারাগারে রয়েছেন। রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়েছিল। পরদিন একটি দায়রা আদালত ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইনে তাঁদের প্রত্যেককে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেন।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করেন। একই দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মামলায় পুলিশ তাঁদের আবার গ্রেপ্তার করে। মাজহারির মা জানিয়েছেন, নতুন রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ