ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাঘাইছড়িতে শুরু হলো ১৭তম কঠিন চীবর দানোৎসব


বাঘাইছড়িতে শুরু হলো ১৭তম কঠিন চীবর দানোৎসব

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ভাবনা কেন্দ্রে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ১৭তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ ধর্মীয় আয়োজন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে।

এ উপলক্ষে খেদারমারা ভাবনা কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি ও আয়োজনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জনাব বিল্টু চাকমা। পরিদর্শনকালে তিনি উৎসবের সার্বিক অগ্রগতি ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন।

আরও পড়ুন: ‘সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন, তা নিশ্চিত করব’ এমপি খোকন তালুকদার

এছাড়া তিনি উপস্থিত দায়ক-দায়িকাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধর্মীয় এ উৎসবের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

এ সময় বিল্টু চাকমা ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করল হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করল হুথিরা

হুথিরা সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের দিকে ড্রোন ছোড়ার অভিযোগকে অস্বীকার করেছে। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে তারা কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।

সারি আরও উল্লেখ করেন, ‘সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কোনো অভিযান চালানো হয়নি। তাদের অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হলো তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি।’

এর আগে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কা অঞ্চলে হুথি দ্বারা ছোড়া একটি ড্রোনকে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতির ১০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতির ১০ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজহারি এবং তাঁর স্বামী হাদি আলী চাট্টাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিঘ্নিত করার অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আদিয়ালা কারাগারে আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এই দম্পতি ওই কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়ার এবং তাঁদের ওপর হামলার পৃথক অভিযোগে আদালত তাঁদের আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তবে সকল সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

ইমান মাজহারি রাজনৈতিক কর্মীদের গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে এবং সংখ্যালঘু ও সাংবাদিকদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাঁদের কারাদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।

২০২৪ সালের একটি মামলায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, তাঁরা একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিপন্ন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে, তাঁরা বিক্ষোভের আয়োজন করে একটি সড়ক অবরোধ করেছিলেন।

রয়টার্সের প্রকাশিত বিবৃতিতে দম্পতি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা নিজেদের ‘বিবেকের বন্দি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

মাজহারির মা শিরিন মাজহারি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে ও জামাইকে নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথিও সরবরাহ করা হয়নি। উল্লেখ্য, শিরিন মাজহারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মন্ত্রিসভায় মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও সরকারি কৌঁসুলি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বারবার বলেছেন, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টসংক্রান্ত পৃথক একটি মামলায় গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর থেকে মাজহারি ও চাট্টা কারাগারে রয়েছেন। রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়েছিল। পরদিন একটি দায়রা আদালত ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইনে তাঁদের প্রত্যেককে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেন।

তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করেন। একই দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মামলায় পুলিশ তাঁদের আবার গ্রেপ্তার করে। মাজহারির মা জানিয়েছেন, নতুন রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘যৌন হয়রানি, ধর্মান্তরের চাপ’: আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টানরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


‘যৌন হয়রানি, ধর্মান্তরের চাপ’: আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টানরা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একাধিক হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় একটি খ্রিস্টান পরিবারের দাবি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য পরিচয়দানকারী একদল ব্যক্তি তাদের ওপর আক্রমণ করে এবং সরকারি পরিষেবা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেয়।

হামলার শিকার পার্বতী হেমব্রম সোরেন জানান, সোমবার রাতে পরিবারের সবাই মিলে প্রার্থনা করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং হামলা চালায়।

সোরেন বলেন, "চুলের মুঠি ধরে মেরেছে আমাকে। বলেছে আমাদের বাড়িতে থাকতে দেবে না। আমার স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছিল। আমাদের সঙ্গে আমাদের আত্মীয়রাও ছিলেন, আমার ননদের গায়েও হাত তুলেছিল তারা। আমাদের ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।"

কয়েকদিন আগে দুর্গাপুজার সময় পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় বজরং দলের সদস্য পরিচয়দানকারী একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক খ্রিস্টান পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল।

চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’ নামে একটি গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের ১৩টি জেলায় খ্রিস্টানদের ওপর মোট ৬০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

হামলার সময়ে কী ঘটেছিল?

পাঁশকুড়ার বাসিন্দা সোরেনের দাবি, এই ‘দুষ্কৃতকারীরা’ পূর্বে তাদের পরিবারকে হুমকি দিয়েছিল। তার কথায়, গত ১১ অক্টোবর একই ব্যক্তিরা তাদের বাড়িতে এসে খ্রিস্ট ধর্ম পালন করার কারণে হুমকি দেন।

তিনি বলেন, "গতকাল রাতে ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে তারা মদ্যপান করে চোরের মতো আমাদের বাড়ি আসেন। এমন সময়ে এসেছে অন্ধকারে যে বাইরের লোক যে ভিডিও করবে সেটাও সম্ভব ছিল না। আমার মোবাইলে আমি ভিডিও করেছিলাম, সেটাও তারা আমার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ডিলিট করে দিয়েছেন। অবশেষে পুলিশের থেকে আমি আমার ফোন ফেরত পেয়েছি।"

তিনি আরও বলেন, "তারা আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে আমরা খ্রিস্ট ধর্ম ছেড়ে হিন্দু ধর্মে ফিরে আসি। আমরা ওদের বলেছি, আমরা নিজে থেকে খ্রিস্টান ধর্ম বেছে নিয়েছি, আমরা পালন করছি। তাই আমাদের মারধর করা হচ্ছে।"

‘বঙ্গীয় খ্রিষ্টিয় পরিষেবা’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হেরোদ মল্লিকের দাবি, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সংস্থার এক আইনজীবী অভিযোগকারীকে ফোন করেছিলেন। সেই ফোনালাপ চলাকালীনই আক্রমণকারীরা তার ফোন কেড়ে নেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফোনে নিজেদের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে আইনজীবীকে হুমকি দেন। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে বুঝতে পেরে ফোনের সংযোগও কেটে দেন।

অভিযোগ, দুষ্কৃতকারীরা খ্রিস্ট ধর্মকে ‘আমেরিকান ধর্ম’ বলে উল্লেখ করে পরিবারটিকে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করতে বলেন।

সোরেন বলেন, "তারা আমাদের উঠোনে তুলসি মঞ্চ এবং মনসা মন্দির তৈরি করতে বাধ্য করছিল। আমরা তাদের বলেছিলাম, আমরা খ্রিস্টান, আমরা তা করব না। এখন তারা লোকজনকে আমাদের কাজ দিতে বারণ করছে। তারা আমাদের বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ কেটে দেওয়ার, রেশন এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দিয়েছে। আমাদের কেউ যাতে সাহায্য না করে, তার জন্য সবাইকে হুমকি দিচ্ছে তারা।"

গতকাল রাতের ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন অভিযোগকারী নারী, তার স্বামী এবং তাদের দুই ছোট সন্তান। এ ছাড়া তার তিনজন আত্মীয়ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, "আমাদের আরাধনার স্থানটি পুড়িয়ে ফেলা হয়, ছিঁড়ে ফেলা হয়, আমাদের টেনে বের করে মারধর করা হয়। আমার উপর হামলা করেছে, সঙ্গে আমার ননদকেও চড়-থাপ্পড় মেরেছে। আমার স্বামীকে অনেক গালাগালি দিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "তারা আবার ফিরে এসে আমাদের উপর হামলা করার হুমকি দিয়েছে। বলেছে, এ বার ৫০ থেকে ১০০ জনকে নিয়ে আসবে। আমরা অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ এখনও কোনো মামলা শুরু করেনি।"

নিরাপত্তার কারণে সোরেন এবং তার পরিবার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

"আমার স্বামী টোটো চালান, আমাদের টোটো কিনতে দু লাখ টাকার লোন নিতে হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে কী করে নিরাপদ থাকব, বা লোনটি শোধ করব বুঝতে পারছি না।"

ধর্মান্তর করার চাপ তৈরির অভিযোগ

এই ঘটনার কয়েক দিন আগে, ১৮ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় একাধিক পরিবার বজরং দলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। তাদের অভিযোগ, এক নারীকে যৌন হয়রানি করা হয়, তার পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশ্যে তাদের জোর করে একটি পুজমণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়।

চন্দ্রকোনার এই ঘটনার মূল অভিযোগকারী নারীকে ফোন করলে তিনি জানান, হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন।

পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে তিনি লেখেন, "১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আনুমানিক বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত একদল ব্যক্তি আমার বাড়িতে আসে। সেই সময় আমি আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়িতে উপস্থিত ছিলাম। তারা আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের প্রতি আমাদের বিশ্বাস পরিত্যাগ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং আমাদের ভয় দেখায় ও শারীরিক নির্যাতন করে।"

তার অভিযোগ, ওই দিন ‘দুষ্কৃতকারীরা’ তার মাথায় এবং কানের নিচে আঘাত করে, যার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সেই অবস্থায় তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং শাড়ি খুলে দেওয়া হয়।

"পরবর্তীতে আমাকে তথাকথিত শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জোরপূর্বক তারা আমাকে স্নান করায় সবার সামনে। আমার সম্মতি ছাড়া আমার পোশাক খুলে দেওয়া হয় এবং আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে ওই আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।"

অভিযোগকারী নারী আরও জানান, "২০ অক্টোবর তাকে এবং তার স্বামীসহ মোট চারজন খ্রিস্টানকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রামের একটি পুজামণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ‘নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে বাধ্য করা হয়।"

অভিযোগে তিনি লেখেন, "অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এখনও আমাকে হুমকি দিয়ে বলছে যে আমি যদি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং অভিযোগ দায়ের করি, তাহলে তারা আমাকে বাঁচতে দেবে না। আমি অত্যন্ত আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যন্ত। আমার আশঙ্কা, যে কোনো সময় আমার বা আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গুরুতর কোনো অঘটন ঘটতে পারে।"

‘পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব’, বলছে পুলিশ

দুই ঘটনার ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার। পাঁশকুড়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন, তবে এখনও এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) দায়ের করা হয়নি।

তিনি বলেন, "অভিযোগ জমা পড়লেই যে এফআইআর দায়ের হয়, এমন নয়। আমার তদন্তকারী অফিসার বর্তমানে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এই মুহূর্তে আমরা এর বেশি তথ্য দিতে পারব না।"

অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার ঘটনার ক্ষেত্রে ২০ অক্টোবর এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। খুনের চেষ্টা, একজন নারীকে বিবস্ত্র করার উদ্দেশ্যে হামলা, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং নারীর শ্লীলতাহানির মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

তবে ওই মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক পুলিশ অফিসার জানান, তদন্ত চলছে, কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তার দাবি, এর কারণ পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব।

তিনি বলেন, "বয়ান, মেডিকেল রিপোর্ট বা অন্য কোনও জমা দেওয়া নথিতে আমরা এখনও পর্যন্ত এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ পাইনি, যার ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করা যায়।"

তিনি জানিয়েছেন, এফআইআরে নাম থাকা ১৩ জন অভিযুক্তই স্থানীয় বাসিন্দা।

‘যতজন খ্রিস্টান আছেন, তাদের হিন্দু বানিয়ে দেব’

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যের অন্যতম নেতা চন্দ্রনাথ দাস জানান, বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর আক্রমণ করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যে। তার দাবি, তারা কোনো আক্রমণ করেন না, বা আইন নিজেদের হাতে তুলে নেন না।

তবে তিনি জানালেন, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গ্রামে এই সংগঠনটি ‘ধার্মিক শিক্ষার মাধ্যমে খ্রিস্টান এবং মুসলিমদের হিন্দু ধর্মে ফেরানোর অভিযান চালাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, বজরং দল হল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গে যুক্ত একটি যুব সংগঠন।

‘পুরো ভারতে আমাদের এই কাজ চলে, কেবল চন্দ্রকোনা বা মেদিনীপুরে নয়। পুরো পশ্চিমবঙ্গেও। আমাদের লক্ষ্য, যতজন খ্রিষ্টান আছেন, তাদের হিন্দু বানিয়ে দেব। আর তারা হয়েও যান। কেউ খ্রিস্টান হবে না, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও জানান, ১৯৬৪ সালে যখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেদিন থেকে এই সংগঠনের লক্ষ্য, ‘ধর্মান্তর রোধ করা, আমার ধর্ম থেকে কেউ চলে গেলে আমার ধর্মে ফিরিয়ে নিয়ে আসা।’

তার দাবি, তারা প্রতি বছর পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ‘হিন্দু করেছেন’, ‘প্রকাশ্যে, দিবালোকে, পুলিশকে জানিয়ে।’

‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হেরোদ মল্লিক বলছেন, ‘একের পর এক এই ধরণের হামলা হচ্ছে। যারা আক্রমণ করছে তারা ক্রমশ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে হয়তো আরো বেশি করে হচ্ছে। কোথা থেকে ওরা এতো সাহস পাচ্ছে, কেন বেপরোয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না।’

তিনি অভিযোগ করছেন, ‘সরকার তাদের আবেদনে কোনো সাড়া দিচ্ছে না বা ঘটনাগুলিতে ঠিকঠাক তদন্তও করছে না। এই লোকগুলো যারা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।’

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, বিজেপি বিধায়কদের দ্বারা পরিচালিত নতুন সরকার যে কোনো অন্যায়, যে কোনো অত্যাচারের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে।

তিনি বলছেন, ‘যারা অত্যাচারিত মনে করছেন তারাও আইনি ব্যবস্থায় আসুন, তারা অভিযোগ করুন, আইন আইনের পথে চলবে। আমরা কাউকে কোনো রকম সাম্প্রদায়িক ‘ইমিউনিটি’ দেব না, সাম্প্রদায়িক ‘লেভারেজ’ও আমরা কারুর কাছ থেকে চাই না। কে কী আচার আচরণ করবেন, কে কী ধর্ম পালন করবেন, কে কোন সম্প্রদায়ে থাকবেন, কে কোন সম্প্রদায়ে থাকবেন না, সেটা আমরা ঠিক করিনা। … ধর্মান্তকরণ আমাদের রাষ্ট্রে স্বীকৃত নয়।’

পশ্চিম মেদিনীপুরে খ্রিষ্টান পরিবারের উপর হামলার অভিযোগে গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল। চন্দ্রকোনায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানে বাধ্য করার অভিযোগে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিনেত্রী সারা আলিকে ক্ষমা চাইতে বললেন ভারতের মুফতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৩ পি.এম


অভিনেত্রী সারা আলিকে ক্ষমা চাইতে বললেন ভারতের মুফতি

বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান ভারতের উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়ার কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ইসলামি শরিয়তবিরোধী হিসেবে তার কর্মকাণ্ডকে চিহ্নিত করে ইসলামি ধর্মীয় নেতা মুফতি শেহাবুদ্দিন রাজভি বেরেলভি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন। একইসঙ্গে, তিনি সারাকে তওবা করে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সারা আলি খান গত ২৫ অক্টোবর কেদারনাথ মন্দিরে যান। সেখানে অন্যান্য ভক্তদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে পূজো দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে। মন্দির দর্শনের সেই ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আলোচনা এবং সমালোচনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুফতি শেহাবুদ্দিন একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে সারার মন্দিরে পুজো দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মুসলিমদের অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে পূজা-অর্চনা বা ধর্মীয় আচার পালন করার অনুমতি নেই। তিনি মন্তব্য করেন, এই বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

ভিডিওবার্তায় মৌলানা জানান, কয়েকজন মুসলিম যুবক সারা আলি খানের কেদারনাথ মন্দিরে পূজো দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

মৌলানা সারা আলি খানের মন্দিরে গিয়ে পূজো দেওয়ার এবং সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে এ কাজ অনুচিত। তিনি বলেন, এ জন্য অভিনেত্রীকে তওবা করে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে আল্লাহর কাছে তিনি অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলেও দাবি করেন ওই ধর্মীয় নেতা।

এটি প্রথমবার নয় যে সারা আলি খান কেদারনাথ মন্দিরে গেছেন। এর আগে তিনি একাধিকবার সেখানে গিয়েছেন। মন্দিরটির সঙ্গে তার গভীর আবেগের কথাও তিনি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন।

২০১৭ সালে ‘কেদারনাথ’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় সারা ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, কেদারনাথ তাকে ব্ল্যাক কফি পান, পাহাড়ে ট্রেকিং এবং পাহাড়ি খাবারের প্রতি ভালোবাসার মতো নানা অভ্যাস ও আগ্রহের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

২০১৮ সালে মুক্তি পায় অভিষেক কাপুর পরিচালিত ‘কেদারনাথ’ সিনেমা। এতে সারা আলি খানের বিপরীতে অভিনয় করেন প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%