ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন বোমারু বিমানগুলো বিশ্বের কোথায় কোথায় রয়েছে?


মার্কিন বোমারু বিমানগুলো বিশ্বের কোথায় কোথায় রয়েছে?

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে ১২টি বি-১বি বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গত রবিবার বিমানগুলো পশ্চিম ইংল্যান্ডের ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। এর ফলে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন হামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহৃত ঘাঁটিটির ভূমিকা আপাতত শেষ হলো।

ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ইউরোপে ভারী বোমারু বিমানের একমাত্র ঘাঁটি, যা মোতায়েন করা বোমারু বিমানগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড অপারেটিং লোকেশন। লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিকে ঘিরে গত দুই সপ্তাহে কথিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জনকে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ, যিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, ‘কিছু হুমকি’ থাকায় বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, এসব হুমকির সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র রয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ঘটনার সঙ্গে কথিত ষড়যন্ত্রের সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ঘাঁটিতে নিয়মিত বিমান বদল বা মোতায়েন পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

আরও পড়ুন: টিকটক ইলন মাস্কের তথ্যচিত্রের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ডের কাছে বিস্ফোরক রাখার পরিকল্পনার অভিযোগে ব্রিটিশ পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের গাড়িতে পেট্রোল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। পরে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্ত করছেন। ইরান অভিযোগ অস্বীকার করে লন্ডনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তেহরানে তলব করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কাছে তিন ধরনের বোমারু বিমান রয়েছে, যা হলো বি-৫২, বি-১বি ও বি-২। এর মধ্যে বি-১বি সবচেয়ে দ্রুতগতির এবং প্রায় ৩৪ টন প্রচলিত অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান পারমাণবিক ও প্রচলিত—দুই ধরনের অস্ত্রই বহনে সক্ষম। নতুন বি-২১ রেইডার বর্তমানে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে রয়েছে এবং ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বোমারু বিমানগুলো কোথা থেকে উড়ে?

যুক্তরাষ্ট্রের সব বোমারু বিমান মূলত দেশটির পাঁচটি প্রধান ঘাঁটিতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে।

আরও পড়ুন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান, ‘চলুন ফ্রান্সে বিপ্লবে যোগ দিই’

১. Minot Air Force Base (মিনোট বিমানঘাঁটি)

২. Ellsworth Air Force Base (এলসওয়ার্থ বিমানঘাঁটি)

৩. Whiteman Air Force Base (হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি)

৪. Dyess Air Force Base (ডাইস বিমানঘাঁটি)

আরও পড়ুন: কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, শোকার্ত টালিগঞ্জ

৫. Barksdale Air Force Base (বার্কসডেল বিমানঘাঁটি)

এসব ঘাঁটিতে দীর্ঘ ও প্রশস্ত রানওয়ে রয়েছে, সাধারণত এসব রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ফুটের (৩ হাজার ৪৮ মিটার) বেশি। ফলে, বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের মতোই দীর্ঘ এসব সামরিক ঘাঁটির রানওয়ে।

তবে বোমারু বিমান কোথায় পরিচালনা করা যাবে, তা মূলত রানওয়ের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে না। বরং নিরাপত্তাব্যবস্থা, অস্ত্র সংরক্ষণের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদেশে অভিযান পরিচালনার সময় এগুলো প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গুয়ামের অ্যান্ডারসেন বিমানঘাঁটি, ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়াসহ মিত্রদেশগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে অস্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হয়। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেও আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে বোমারু বিমান হামলা চালাতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে আগের মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় এমন কিছু বোমারু বিমান মিশন ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের পক্ষ, হুথিদের অস্ত্রদাতারা মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৩ পি.এম


বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোনো ইউনিট বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে না। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট দুই দিনের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটে এবং মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর পর ইউনিট দুটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ শুরু করেছেন চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের প্রকৌশলীরা। তবে কর্তৃপক্ষ এখনও জানাতে পারেনি, মেরামত শেষে ইউনিট দুটি কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট এবং প্রথম ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। ফলে, ইউনিট দুটি বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২১০ থেকে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে।

এ পরিস্থিতিতে পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ও লো-ভোল্টেজের সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে, কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ রয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ইউনিটটির ওভারহোলিং চলছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলতি অক্টোবরের মধ্যেই ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফিরতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের এয়ারস্পেস অ্যালার্ট: আরব সাগরে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৩ পি.এম


পাকিস্তানের এয়ারস্পেস অ্যালার্ট: আরব সাগরে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাবনা

চলতি বছরের ৬ ও ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের ১৭,০০০ ফুটের নিচের একাধিক বিমান পথ (এয়ার রুট) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবরের ফলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, দেশটি নতুন কোনো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে। স্থলভাগ থেকে সমুদ্র অভিমুখে এই ধরনের বিশেষ আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ সার্বিক অপারেশনের একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও, সরকারিভাবে এ বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের প্রধান প্রশ্ন হলো—এই নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমা দিয়ে ভূ-পৃষ্ঠ ঘেঁষে উড্ডয়নক্ষম কোনো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আরব সাগরের দিকে পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না। কারণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় নিচু দিয়ে উড্ডয়ন কৌশলটি মূলত ক্ষেপণাস্ত্রের নেভিগেশন, পাল্লার সমন্বয় এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

‘এ০৫৬৪/২৬’ বিজ্ঞপ্তির আওতায় ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,২০০ মিটার (১৭,০০০ ফুট) উচ্চতা পর্যন্ত কিছু নির্দিষ্ট রুট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মূল অ্যাভিয়েশন টেক্সট এবং সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক প্রকাশ না করায় এর ভৌগোলিক সীমানা ও প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

মানচিত্রে দেখা যায়, এই কড়াকড়ি পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলীয় মূলতান, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর ও লারকানা হয়ে করাচি উপকূলের ওরমারা এবং গওয়াদারের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। পাশাপাশি আরব সাগরের একটি ছোট অংশেও এয়ারস্পেস বন্ধ রাখা হয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার রেঞ্জ-সেফটি ব্যবস্থার দিকে নির্দেশ করে।

প্রতিদিন গ্রিনিচ মান সময় ০৪:৪৫ থেকে ০৮:১৫ পর্যন্ত (পাকিস্তান সময় সকাল ৯:৪৫ থেকে দুপুর ১:১৫) এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকবে। এই নির্দিষ্ট সময়ে অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সামুদ্রিক ও আকাশসীমায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

১৭,০০০ ফুট উচ্চতার এই সীমা মূলত সম্ভাব্য বিপজ্জনক এলাকার সর্বোচ্চ উচ্চতা নির্দেশ করে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত উড্ডয়ন উচ্চতা নয়। তাই এটি নিচু দিয়ে যাওয়ার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে মানানসই হলেও, এখান থেকে নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেপণাস্ত্র, লাঞ্চার বা সামরিক প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি শনাক্ত করা যায় না।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি এখনো বিশ্লেষকীয় অনুমানের পর্যায়ে রয়েছে।

ফাতাহ-৪, বাবুর সিরিজ, রা'আদ এবং তাইমুর ক্ষেপণাস্ত্রের কথা এখানে জোর আলোচনায় আসছে, কারণ এদের নিচু দিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এই এয়ারস্পেসের বিজ্ঞপ্তির সাথে মিলে যায়। তবে কোনটি ব্যবহৃত হচ্ছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীদের কাছে ভূ-পৃষ্ঠ ঘেঁষে আসা এই আঘাত হানার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সতর্ক হওয়ার সময় অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

তবে এমন এয়ারস্পেস অ্যালার্ট কোনো সামরিক যুদ্ধের বার্তা দেয় না। তাই যতক্ষণ না ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, ফ্লাইট ডেটা বা অফিসিয়াল বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটিকে কেবল একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনীতির গলার কাঁটা বাণিজ্য ঘাটতি, আমদানি বাড়লেও মূলধনি পণ্যে উল্টো চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৪ পি.এম


অর্থনীতির গলার কাঁটা বাণিজ্য ঘাটতি, আমদানি বাড়লেও মূলধনি পণ্যে উল্টো চিত্র

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্বিগুণের বেশি হারে বেড়ে যাওয়ায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৩৮২ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এই হিসাবে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮৬ কোটি ডলার বেড়েছে, যা ২৯ শতাংশের বেশি। একই সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, কিন্তু আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বৈদেশিক লেনদেনে রেমিট্যান্সের ইতিবাচক অবদান থাকলেও আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যহীনতা অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় ৮৩৮ কোটি ডলার হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৭৯২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। বিপরীতে, আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে, যেখানে আগের বছর ছিল ১ হাজার ৮৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, রপ্তানি যতটা বেড়েছে, আমদানি তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাই-আগস্টে ওভারঅল ব্যালান্সে ঘাটতি ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ থেকে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে চলতি হিসাব এখনো উদ্বৃত্ত রয়েছে। দুই মাসে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতির মূল কারণ হচ্ছে আমদানির দ্রুত বৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পণ্যভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, জুলাই-আগস্টে কাস্টমসের হিসাবে মোট আমদানি ১ হাজার ২৮৯ কোটি ৫৮ লাখ ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৩২ লাখ ডলার। এ হিসাবে আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

আমদানি বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে মধ্যবর্তী পণ্য থেকে। এ খাতে দুই মাসে আমদানি ব্যয় ৮৪৬ কোটি ২৮ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭১০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ, মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি। জুলাই-আগস্টে এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয় ২৪৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার হয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ১২৪ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে এ খাতে আমদানি দ্বিগুণ হয়েছে; প্রবৃদ্ধি ১০০ শতাংশ।

পেট্রোলিয়াম, অয়েল ও লুব্রিকেন্টস বা পিওএল আমদানির পরিমাণ ২২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের ১০৫ কোটি ৭২ লাখ ডলারের তুলনায় ১১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ফলে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

শুধু জ্বালানি নয়, শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও বেড়েছে। তৈরি পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে জুলাই-আগস্টে ব্যয় ২৯২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

কাঁচা তুলা আমদানি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। তবে সুতা আমদানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং টেক্সটাইল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

অন্যান্য মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বেড়েছে ২ শতাংশ। এর মধ্যে তেলবীজ আমদানি বেড়েছে ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ওষুধজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ। রাসায়নিক পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্লাস্টিক ও রাবারজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে আমদানির সব খাতে বৃদ্ধি ঘটেনি। লোহা, ইস্পাত ও অন্যান্য বেস মেটালের আমদানি ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে এবং সার আমদানি ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও দেশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত মূলধনি পণ্য আমদানিতে বরং বড় পতন দেখা গেছে। জুলাই-আগস্টে মূলধনি পণ্য আমদানি ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

এ সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যয় ৫০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৫ কোটি ৭ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে আমদানি কমেছে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যান্য মূলধনি পণ্যের আমদানিও কমেছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থাৎ, আমদানি বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উৎপাদন ও ভোগের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং মধ্যবর্তী পণ্য থেকে; বিপরীতে বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে।

অন্যদিকে রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও তা আমদানির তুলনায় অনেক কম। জুলাই-আগস্টে মোট রপ্তানি শিপমেন্ট ৯১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

রপ্তানিতে প্রধান অবদান তৈরি পোশাকের। দুই মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪১৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩৯৩ কোটি ৫২ লাখ ডলারের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৩২৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের বাইরে জুট ও জুটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ১২ দশমিক ৮ শতাংশ, বিশেষায়িত বস্ত্র ১১ দশমিক ৪ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাদুকা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

তবে মাছ ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি ১০ শতাংশ কমেছে। কৃষিপণ্য কমেছে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। চিংড়ি রপ্তানিতেও ২০ দশমিক ৩ শতাংশ পতন হয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতির বিপরীতে বৈদেশিক লেনদেনের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো রেমিট্যান্স। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৫৮২ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪৮৯ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। ফলে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে—১১৪ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এ দেশ থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৮৫ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, যা ৫২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৫৪ কোটি ২ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশ।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫০ কোটি ৫১ লাখ ডলার এসেছে, যা ৮ দশমিক ১ শতাংশ কম। মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৪৩ কোটি ডলার, কমেছে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ কিছুটা সামলে নিয়েছে চলতি হিসাব। জুলাই-আগস্টে চলতি হিসাবে ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

তবে পণ্য বাণিজ্যের বাইরে সেবা ও প্রাথমিক আয় হিসাবে বড় ঘাটতি রয়েছে। দুই মাসে সেবা হিসাবে নিট ঘাটতি ৮৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার হয়েছে। সেবা খাতে আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ, কিন্তু পরিশোধও বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রাথমিক আয় হিসাবে ঘাটতি ৫৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। তবে আগের বছরের তুলনায় এ ঘাটতি কমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ঘাটতি ছিল ৮০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি আর্থিক হিসাবেও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাই-আগস্টে আর্থিক হিসাবে নিট ঘাটতি ১১৪ কোটি ২০ লাখ ডলার হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

‘অন্যান্য বিনিয়োগ’ হিসাবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে। এ খাতে নিট ঘাটতি ১৩১ কোটি ডলার। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণপ্রবাহও কমেছে। জুলাই-আগস্টে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এসেছে ২৯ কোটি ১০ লাখ ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এ ধরনের ঋণপ্রবাহ ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি, আর্থিক হিসাবের ঘাটতি এবং সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য—সব মিলিয়ে রিজার্ভের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাই-আগস্টে সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার হয়েছে। একই পরিমাণ রিজার্ভ সম্পদ কমেছে।

তবে দুই মাস শেষে দেশের স্থূল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৭ হাজার ৩৫২ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৩৫২ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৪৪২ মিলিয়ন বা ৩২ দশমিক ৪৪২ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ দিয়ে পণ্য ও সেবার প্রায় ৫ দশমিক ২ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব ছিল।

সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ এবং চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে আমদানি যেভাবে রপ্তানির তুলনায় দ্রুত বাড়ছে, তাতে বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমেই বড় হচ্ছে।

বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ব্যয় দ্বিগুণ হওয়া এবং মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে থাকায় বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যে চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমে যাওয়ার বিষয়টিও অর্থনীতির জন্য আলাদা তাৎপর্য বহন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাব তাই একদিকে রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন এবং চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তের স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানির ব্যবধান দ্রুত বাড়ার কারণে বাণিজ্য ঘাটতিই বৈদেশিক লেনদেনের প্রধান চাপ হিসেবে সামনে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ ছাপাখানা পরিদর্শন শিক্ষামন্ত্রীর, যাচাই করেন বইয়ের গুণগত মান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


হঠাৎ ছাপাখানা পরিদর্শন শিক্ষামন্ত্রীর, যাচাই করেন বইয়ের গুণগত মান

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল মিলন কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অবস্থিত ‘ফরাজী প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স’ পরিদর্শন করেন।

মন্ত্রী পূর্বঘোষণা ছাড়াই নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজের গুণগত মান যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রেসটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি সরাসরি পাঠ্যবই ছাপার কাজের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বইয়ের গুণগত মান এবং ছাপার কাজের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে ছাপার কাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বই ছাপার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।

এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডক্টর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%