১২:২১ এম
তারেক রহমানের জাপান সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কাজ করছে জাপান সরকার। বিশেষত, পরিবহন অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে চেষ্টা করছে দেশটি।
এই প্রেক্ষাপটে, ঢাকায় মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর এবং মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। ঢাকা মাস ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের মেট্রোরেল লাইন-১-এর চারটি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত সাইদা অংশগ্রহণ করেন। চুক্তিগুলোর মধ্যে সিপি-০৪, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওগাতুল আলম, জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রদূত সাইদা মেট্রোরেল লাইন-১-এর প্রাথমিক উন্নয়ন পর্যায়ে যুক্ত সাত জাপানি নাগরিকের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো ওই জাপানি নাগরিকদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণ বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
আরও পড়ুন: ছাত্রলীগ সভাপতিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৭ জন আটক
রাষ্ট্রদূত বলেন, "মেট্রোরেলের মতো উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্প বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।" তিনি প্রকল্পটির দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। গত ২৭ অক্টোবর জাপান-বাংলাদেশ শীর্ষ বৈঠকে ঘোষিত যৌথ বিবৃতিতেও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এদিকে, এর আগে রাষ্ট্রদূত সাইদা জেরা মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। জেরা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড পরিচালিত গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় কেন্দ্রটির পরিচালনা কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।
২০২৫ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাপানে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে জেরার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত সাইদা পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মাধ্যমে সৃষ্ট ইতিবাচক গতি কাজে লাগিয়ে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পরিবহন ও জ্বালানি খাতে জাপানের এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাকৃবি ক্যাম্পাসে ছুরি দেখিয়ে মোবাইল ছিনতাই, অটোচালক আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন