১২:৩৪ এম
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিএনপির মধ্যে গ্রুপিং এবং দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। একই দিনে দলের পক্ষ থেকে আলাদা দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেমের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অব্যাহতির সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এর ফলে, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সরকারকে সদস্য সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসীম উদ্দীন এবং সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষরে পৃথক দুটি চিঠিতে একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দুই কর্মসূচির অতিথি তালিকাতেও ছিল চরম ভিন্নতা।
একপক্ষে সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে প্রধান অতিথি করেন। অন্যদিকে আহ্বায়ক জসীম উদ্দীনের গ্রুপ ইঞ্জিনিয়ার মুন্সীকে দল থেকে বহিষ্কৃত দাবি করে সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হিরাকে প্রধান অতিথি করে কর্মসূচি পালন করেন।
অব্যাহতির বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, "আমি ১৯৮৬ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে দলের নীতি ও আদর্শ ধারণ করে আসছি। কমিটিতে আসার পর থেকেই ‘হাইব্রিড’ নেতাদের দিয়ে দল গঠনের বিরোধিতা এবং দুর্দিনের নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলাম।"
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "একটি স্বার্থান্বেষী মহল অর্থের বিনিময়ে পদ-পদবি ও কমিটি বাণিজ্যের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে দেবিদ্বার ছেড়ে দাউদকান্দিতে অবস্থান কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।"
ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বহিষ্কার প্রসঙ্গে আজাদ দাবি করেন, "কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের কোনো চিঠির সুনির্দিষ্ট রেকর্ড কেন্দ্রীয় তালিকায় নেই। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে।"
অন্যদিকে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসীম উদ্দীন বলেন, "আমরা সম্পূর্ণ সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই কর্মসূচি পরিচালনা করছি। ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ত্যাগকে আমরা শ্রদ্ধা করি, কিন্তু তিনি দলের বহিষ্কৃত নেতা হওয়ায় তাকে প্রধান অতিথি করা সম্ভব হয়নি। তাই সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হিরাকে প্রধান অতিথি করে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।"
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দেবিদ্বারের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া বেগম বলেন, "দেবিদ্বার বিএনপির এই কোন্দল ও গ্রুপিং রাজনীতির কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা চরম হতাশ ও দিশাহারা। দলকে শক্তিশালী করতে হলে বিভেদ ভুলে সবাইকে অবিলম্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।"
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেম জানান, সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলে গ্রুপিং তৈরি করছিলেন এবং নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করছিলেন। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন