মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
০১:৩৪ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি ও স্থানীয় ‘জুলাই যোদ্ধা’ ফয়সাল আহমেদ রাজিব।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
ফেসবুক পোস্টে ফয়সাল আহমেদ রাজিব লেখেন, “কুলিয়ারচর পৌরসভায় কে কে মাদক বিক্রি করে সবাই জানে এবং সন্ধ্যার পর কোন কোন জায়গায় মাদক-জুয়ার আসর বসে এটাও সবাই চিনে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সবকিছু জানার পরও কেনো তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় না? তাহলে কি ধরে নিবো মাদক ব্যবসায়িদের শেল্টার দাতাদের কাছে সবাই পরাজিত?”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরাসরি মাঠে নামার ঘোষণা দেন এই ছাত্র প্রতিনিধি। তিনি আরও লেখেন, “আমার কোন পিছুটান নেই। ৯টি ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী অভিযানের ব্যাটেলিয়ান প্রস্তুত আছে। আপনারা না পারলে আমাদের বলুন, কসম আল্লাহ একটার অস্তিত্বও থাকবে না ইনশাআল্লাহ।”
রাজিবের এই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও যুবসমাজ তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই সজাগ হয়ে মাদক ও জুয়ার আড্ডার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘প্রচলিত আমলাতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’—এমন মন্তব্য করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজকে আরো গতিশীল করতে উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং খারাপ কাজের জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার পর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে টিম গঠন করে মন্ত্রণালয়ের কাজ এগিয়ে নিতে চান তিনি। মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করাকে তিনি নিজের প্রথম কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কার রয়েছে, তেমনি খারাপ কাজের জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজকে আরো গতিশীল করতে প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে। উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, কাজের সুবিধার্থে সপ্তাহে একদিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অথবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে অফিস করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এর মাধ্যমে মন্ত্রণালয় ও অধীন সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরো কাছে থেকে সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। নেতৃত্বে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি নতুন নেতৃত্বে সবাইকে নিয়ে একটি কার্যকর টিম হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তারা আশাবাদী। বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি ঘটার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন ঘটেছে। এতে পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরটি পুরোপুরি চালু হলে কক্সবাজারের সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিমান যোগাযোগ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিমান যোগাযোগ আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ জন্য বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়াও, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং আগামী ১৬ ডিসেম্বর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ বিষয়ে জাপানি একটি কোম্পানির সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে। বিমানের বহরে শিগগিরই লিজ নেওয়া ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করারও আশা রয়েছে।
ঈশ্বরদী বিমানবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পাবনার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তেজস্ক্রিয় সামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে সেখানে শিগগির ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। যশোর বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট কমে যাওয়ায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সঙ্গে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বগুড়া বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সকাল ৯ টায় মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে তিনি মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ালেও এটি আন্তর্জাতিক ইস্যু বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বাংলাদেশ কোনো হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক না হলেও তারা মানুষ। সর্বজনীন মানবাধিকার নষ্ট হওয়ার প্রেক্ষাপটে মানবিক মূল্যবোধ থেকেই বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।’ তিনি আরও জানান, তাদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করতে হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকার অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সরকারগুলো সেই ধারা ধরে রাখতে পারেনি।’
আইনমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে দেশের মানুষের স্বার্থ ও নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষাই প্রথম অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিকভাবে কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করা হবে, তা সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে।’
সংকট সমাধানে সোশ্যাল প্রেসার গ্রুপগুলোর গুরুত্ব উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, ‘তাদের মতামত ও সুপারিশকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবে।’ পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারের মাধ্যমে বাংলাদেশ নীতি নির্ধারণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপে দেশের জনগণের পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্যের ওপরেও জোর দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ দেয়া আইনজীবীর শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।
রবিবার হিটু শেখের পক্ষে শুনানি শুরু করেন স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। আসামির পক্ষের আইনজীবী শুনানিতে উপস্থিত না থাকায়, তার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়।
বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
এর আগে গত ১২ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
মামলার প্রধান আসামি তথা আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে ২০২৫ সালের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।
একই রায়ে মামলার অপর তিন আসামি আছিয়ার বোনের জামাই সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই সিনেমার পরিচিত মুখ বিপাশা কবির মাকে হারিয়েছেন। শনিবার (আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে নায়িকার মা শাহিদা কবির মারা যান।
বিস্তারিত জানা গেছে, বিপাশার মা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাঁকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শনিবার রাতে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি ঘটে এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর মোতে মৃত্যু ঘটে।
শোবিজের আলো-ঝলমলে দুনিয়ায় বিপাশা যতই দ্যুতি ছড়ান, ঠিকই দিনশেষে মায়ের হাসিমুখটাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ক্লান্তির অবসান। মায়ের হাত ধরেই হেঁটেছেন জীবনের দীর্ঘ পথ। প্রকৃতির নিয়মে আজ পাল্টে যেতে হলো সেই প্রিয় হাতটি।
বর্তমানে বিপাশা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি মায়ের শেষ বিদায়ে পাশে থাকতে পারছেন না। সামাজিক মাধ্যমে মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিপাশা জানিয়েছেন, শেষবারের মতো মাকে জড়িয়ে ধরতেও পারলেন না। এই আফসোসটি সারাজীবন থাকবে তাঁর বুকের তালায়।
২০০৯ সালে সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে পা রাখেন বিপাশা। নাটক থেকে শুরু করে বড় পর্দায় 'আইটেম গার্ল' হিসেবে তিনি অকল্পনীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি মূল ধারার নায়িকার তালিকায় নাম লেখান। ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাইয়ের দিনগুলোতে যখনই কোনো ঝড় এসেছে, মায়ের আঁচল ছিল বিপাশার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সব ব্যস্ততার মাঝেও মায়ের শারীরিক অবস্থার প্রতি নজর রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ