ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতিটি জেলায় স্থাপন করা হচ্ছে আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী


প্রতিটি জেলায় স্থাপন করা হচ্ছে আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, নিরাপদ এবং মানসম্মত মাংসের প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের জন্য রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করতে দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। একই সাথে প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত সরকারের সময়, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই এ খাতকে পুনর্গঠন করার জন্য আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, যেখানে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, সেখানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদনের শুরু থেকেই গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যা মাটির গুণগত মান পরীক্ষা, নিরাপদ পশুখাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

তিনি জানান, দেশের খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে উৎপাদনকারী, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং ভোক্তারা নিরাপদ এবং রোগমুক্ত প্রাণিজ খাদ্য পান।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক গোয়াল ফার্ম প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছে। সরকার সেটিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ফার্মটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং গবাদিপশুর উৎপাদন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে প্রোটিনজাতীয় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। রাজধানীর ৩৬টি স্থানে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে মাংস, দুধ, ডিমসহ বিভিন্ন প্রাণিজ পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে এবং সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

গত কোরবানির সময় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের কোরবানিতে দেশীয় গবাদিপশুর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ফলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন এবং ক্রেতারাও সহনীয় মূল্যে কোরবানির পশু কিনতে সক্ষম হয়েছেন।

আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ লাখ দেশীয় গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ গবেষণায়ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) সম্প্রতি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে। যা ইতোমধ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগে এসব ভ্যাকসিন বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এখন দেশেই উৎপাদন সম্ভব হয়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে চিড়িয়াখানার পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণী সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দর্শনার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় চারটি নতুন প্রাণী সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ৩টি শাবক জন্ম নিয়েছে, যাদের বয়স বর্তমানে ৪ মাস। আন্তর্জাতিক মানের চিড়িয়াখানা গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বগুড়া এবং বরিশালে নতুন চিড়িয়াখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন এবং প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সাফারি পার্ক স্থাপনের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ১৩টি প্রসেসিং সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। বগুড়ায় একটি কেন্দ্রের উদ্বোধন আমি করেছি। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের আধুনিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এগুলো চালু হলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মাংস প্রক্রিয়াজাত, সংরক্ষণ এবং বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে উন্নত জাতের একটি উচ্চ ফলনশীল পশুখাদ্য ঘাস দেশে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫০ জন খামারিকে এ ঘাসের চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই ঘাস ব্যবহারের ফলে পশুর খাদ্য ব্যয় কমবে, দুধ এবং মাংস উৎপাদন বাড়বে, পশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং আমদানিনির্ভর পশুখাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। এর ফলে ভবিষ্যতে গরুর মাংসের দামও কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তায় ২৪ কোটিরও বেশি টাকার বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন এবং জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং টেকসই খাতে পরিণত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, খামারিদের আয় বৃদ্ধি করা, মাংস এবং দুধ উৎপাদন বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত প্রাণিজ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বললো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৮ এম


হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বললো ইরান

ইরানের সাথে যুদ্ধ এবং উত্তেজনার পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে খুব শিগগির যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী তাদের ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। প্রণালী কখন বন্ধ করা হবে বা খোলা হবে, সেই সিদ্ধান্তও তেহরান নেবে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি তাদের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পুলিশ একাডেমি সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্সে শুক্রবার স্থানীয় সময় ট্রাম্প বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, 'খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে যাচ্ছি।'

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালী 'ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।'

তিনি দাবি করেছেন, ইরানের 'কৌশলগত পরাজয়' মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালীর ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং প্রণালী বন্ধ বা খোলার সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।

এদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়কালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কেপলার ডেটার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে এবং কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি। বৃহস্পতিবার নয়টি এবং বুধবার পাঁচটি জাহাজ পার হয়েছে, কিন্তু আগস্ট মাসে গড়ে প্রতিদিন ১২টি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

যুদ্ধের পূর্বে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করতো। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ কার্যকর করতে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তাদের বাহিনী ৬২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে, তিনটি জাহাজ অচল করেছে এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হলেও এই প্রবাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান তীব্র হয়ে উঠেছে। একদিকে ওয়াশিংটন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে তেহরান প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের দখল আরও শক্তিশালী করছে। তবে এখনো দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ফিরতে পারেনি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনের মোচা বন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১০ এম


ইয়েমেনের মোচা বন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪

ইয়েমেনের লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দর শহর মোচায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেন সরকারের তথ্যমতে, এই হামলার ফলস্বরূপ চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের তৈরি আঞ্চলিক উত্তেজনার আবহেই ইয়েমেনে এই হামলা নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চরম আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, হুথিরা মোচা বন্দরের একাধিক অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এই হামলায় একটি বন্দর নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট চারজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। হামলায় কয়েকটি মাছ ধরার নৌকা আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

এছাড়া, অন্তত আটজন আহত ও এখনও দুইজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

হামলার দায় স্বীকার করে হুথি বাহিনী দাবি করেছে, তারা বন্দর এলাকায় অবস্থানরত সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক সমাবেশ এবং যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।

পাশাপাশি, সৌদি আরবের নাজরান শহরে অবস্থিত ‘সৌদি আরামকো’ তেল স্থাপনায় ড্রোনের সাহায্যে হামলা চালানোর দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি।

তারা জানিয়েছে, ইয়েমেনের সা’দা প্রদেশের আকাশসীমায় সৌদি যুদ্ধবিমান প্রবেশের প্রতিবাদেই এই হামলা করা হয়েছে। তবে সৌদি সরকার অথবা আরামকো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে বড় আকারের যুদ্ধ থমকে থাকলেও স্থায়ী সমাধান অদূরদর্শী হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি লোহিত সাগর এবং মোচা বন্দরে এই নতুন রক্তক্ষয় ইয়েমেনের শান্তি প্রক্রিয়াকে ফের গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওয়েদারল্ডকে বোল্ড করে হাসানের উল্লাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৪ এম


ওয়েদারল্ডকে বোল্ড করে হাসানের উল্লাস

ঘরের মাঠ ডারউইনে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য প্রয়োজন ভালোভাবে শুরু করা।

কিন্তু কিসের কী? ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে গেছে জ্যাক ওয়েদারল্ড।

২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে তারা দ্বিতীয় ইনিংসে নামে, কিন্তু ডাক মেরে বিদায় নেন ওয়েদারল্ড। তাকে দলের ৪ রানে আউট করেন বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সেরা পেসার হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশি পেসারের বল ব্যাটের কানায় লেগে রান আউট হন অজি ওপেনার।

প্রতিবেদন লেখার সময় অস্ট্রেলিয়ানদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১২ রান। এখনো রান খাতা খুলতে না পারা ওপেনার ট্রাভিস হেডের বিপরীতে ৭ রানে অপরাজিত রয়েছে মারনাস লাবুশানে। বাংলাদেশের থেকে এখনো তারা ২১৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ ৪২৬ রানে অলআউট হয়।

সেঞ্চুরি অর্জন করেন তানজিদ হাসান তামিম। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ১০১ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। এ ছাড়া ফিফটি পান নাজমুল হোসেন শান্ত (৮৪) ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নিয়েছেন পেসার জশ হ্যাজলউড, যিনি ৮৯ রান খরচ করেন। আর প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে হাসান ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশের কাছে হারতে পারে অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশের কাছে হারতে পারে অস্ট্রেলিয়া

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ধাক্কা খাওয়ার পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হারের মতো ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটাই যেন লিখছে। এমন একটি দলের কথা বলা হচ্ছে, যেটিকে ঘিরে ক্রিকেটবোদ্ধাদের চরম সংশয় ছিল। কিন্তু এখন, সেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ডারউইনে পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়ার ওপর নিজেদের দাপট প্রকাশ করছে।

প্রথম ইনিংসে সফরকারী বাংলাদেশ ২২৮ রানের বিশাল লিড সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিহাস এবং পরিসংখ্যান বলছে, অজিদের সামনে এখন প্রায় অসম্ভব এক পাহাড় সমান চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

যদি পরিসংখ্যানের পাতা উল্টানো হয়, তবে দেখা যায় যে ২০০০ সালের পর থেকে প্রথম ইনিংসে ১৫০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিততে পেরেছে মাত্র তিনবার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মিরাকলটি ২০১০ সালে সিডনি টেস্টে ঘটেছিল, যেখানে পাকিস্তানের ২০৬ রানের লিড পার করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল অজিরা।

এছাড়া ২০০৪ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬১ রান এবং ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৫৮ রানে পিছিয়ে থেকেও জয় অর্জন করেছিল তারা।

অর্থাৎ, একবিংশ শতাব্দীতে ২০০-এর ওপর লিড হজম করে অস্ট্রেলিয়া কেবল একবারই কামব্যাক করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ডারউইনে নাজমুল হোসেন শান্তর দল ইতিমধ্যে অজিদের কাঁধে ২২৮ রানের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই অজি ওপেনার ওয়েদারাল্ড চার রানে বিদায় নিয়েছেন, যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য কাজটা আরো কঠিন করে দিয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, ২০-২১ শতকের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২০০ এর বেশি রানে পিছিয়ে পড়ার পর ৮২টি ম্যাচের মধ্যে অজিরা জয় হাসিল করতে পেরেছে মোটে ৩ বার! এছাড়া ঘরের মাঠে ২০১৯ সালের সিডনি টেস্টের (প্রতিপক্ষ ভারত) পর এবারই প্রথম কোনো দলের বিপক্ষে ২০০ রানের বেশি পিছিয়ে পড়েছে ক্যাঙ্গারুরা।

অবশ্য অজিদের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৯৭ রানে পিছিয়ে থেকেও জয়ের অবিশ্বাস্য রেকর্ড বিদ্যমান, যা ঘটেছিল ১৯৯২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ১৯৫০ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৩৬ রানে পিছিয়ে থেকেও জয়লাভ করেছিল তারা। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সাপেক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সেই অতীত পুনরাবৃত্তি করা বেশ কঠিন।

ডারউইনে শুধুমাত্র লিডেই নয়, অজি ব্যাটারদের কঠোর পরীক্ষাও নিচ্ছেন টাইগার বোলাররা। এর আগে, ব্যাট হাতে বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ একটি চমকপ্রদ ব্যক্তিগত নজির গড়েছেন। তিনি আট বা তার নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে অজিদের বিপক্ষে ৯২ বল মোকাবিলা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৮ নম্বর বা তার নিচে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বল খেলার রেকর্ড। ২০১৭ সালের চট্টগ্রাম টেস্টে সর্বোচ্চ ৯৭ বল খেলে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন নাসির হোসেন।

সব মিলিয়ে ডারউইন টেস্টে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে অজিদের রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলেছে টাইগাররা। এখন কেবল ইতিহাস গড়তে অপেক্ষা এবং উদযাপনে মেতে ওঠার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%