ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যার আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন


দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যার আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি আয়োজন করেছে সাংবাদিকরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাব মোড়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহর সঞ্চালনায় সহ-সভাপতি মো. মোহন মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক, নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কামাল হোসাইন, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি পল্লব চক্রবর্তী, সাংবাদিক ধনেশ পত্রনবিস, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি দিলওয়ার হোসেন তালুকদারসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন: নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ১৮

প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে আটক করা হয়নি। তিনি সরকারের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করতে হবে।

নির্মলেন্দু সরকার বাবুল মন্তব্য করেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কামাল হোসাইন বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে ছয়টি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি সাংবাদিক আলিফ শহীদ হন, তাহলে প্রত্যেক সাংবাদিক শহীদ হবেন। তিনি অনুরোধ করেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করা হোক।

মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা সড়কে বিক্ষোভ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকালে উঠে নাশতা তৈরি করি, থালাবাসনও ধুই: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


সকালে উঠে নাশতা তৈরি করি, থালাবাসনও ধুই: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নারী হওয়ার কারণে পুরুষ পূর্বসূরিদের তুলনায় অতিরিক্ত সময় কাজ করার বিষয়ে কথা বলেছেন। তার এই মন্তব্য লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এনবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার পার্লামেন্ট সেশনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় সানায়ে তাকাইচি উল্লেখ করেন, "সকালে উঠে আমি গোসল করি, নাশতা তৈরি করি, থালাবাসনও ধুই, এরপর মেকআপ করি।" তিনি বলেন, "এসব কাজের কারণে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় আমার তিন-চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হয়।"

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য সেকেলে লিঙ্গবৈষম্যমূলক সামাজিক মূল্যবোধ এবং অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে বলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবী এবং বিভিন্ন অধিকারকর্মীসহ সাধারণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করেছেন যে, ঘরের কাজের অজুহাত দিয়ে সময় ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বা কাজের অহেতুক দীর্ঘসূত্রতাকে ঢেকে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়া, তাকাইচি দৈনিক মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা জানিয়ে কর্ম ও জীবনের ভারসাম্য নষ্টের ভুল বার্তা ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন কেলেঙ্কারির কারণে তার নবনিযুক্ত কৃষিমন্ত্রী কাজুও ইয়ানার পদত্যাগের ফলে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ওপর অতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

জাপান ইনোভেশন পার্টির নেতা ফু মিতাকে ফুজিতা সংসদীয় অধিবেশনের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন এবং এনএক্সজেআই রিসার্চের গবেষণার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে শেফ ও গৃহকর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে তিনি কেবল রাষ্ট্রীয় কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন। সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তরায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশের ওপর হামলা, ৭ পুলিশ আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


উত্তরায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশের ওপর হামলা, ৭ পুলিশ আহত

উত্তরায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের অযৌক্তিক সড়ক অবরোধ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যদিও সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনের পরও। পুলিশের সন্দেহ, এই আন্দোলনে বহিরাগতদের ইন্ধন রয়েছে। আজ সকালে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এই তথ্য জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেলসহ গার্মেন্টস শ্রমিকরা যখন বিমানবন্দর মহাসড়কে মিছিল নিয়ে উঠতে চেষ্টা করে, তখন পুলিশের তোপের মুখে পালিয়ে যায়। এর ফলে বিমানবন্দর মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম জানান, সরকার ইতোমধ্যে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য একটি ওয়েজ বোর্ড গঠন করেছে, যেখানে শ্রমিক নেতারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তবুও, কিছু লোক জোরপূর্বক অন্যান্য গার্মেন্টস বন্ধ করে লোকসংখ্যা বাড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বিমানবন্দরগামী হাইওয়ে অবরোধ করা, যার ফলে বিদেশগামী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ডিসি রেজাউল করিম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জনদুর্ভোগ এড়াতে পুলিশ এই রাস্তা সচল রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং দূরে থাকা একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ওয়াটার ক্যানন এবং পরে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। তবে পুলিশ তাদের ওপর সরাসরি কোনো বলপ্রয়োগ বা আঘাত করেনি এবং এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আন্দোলনের ধরন সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, এর কোনো সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব নেই। বিক্ষোভে ১২-১৫ বছর বয়সী অনেককে দেখা গেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের পরনে কোনো ইউনিফর্ম ছিল না, যা থেকে পুলিশের সন্দেহ এরা প্রকৃত শ্রমিক নয় বরং বহিরাগত।

এই আন্দোলনের পেছনে কোনো বিশেষ মহলের ইন্ধন রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ৬ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ৬ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ছয় পর্যটকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকার চার নারী, চুয়াডাঙ্গার এক নারী এবং পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আরও পাঁচজন দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একজন আহত ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদও নিহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নিহতরা সবাই পর্যটক। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সকলের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

দগ্ধ পাঁচজন হাসপাতালে

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২) রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর পুড়ে গেছে এবং একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, দগ্ধ পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর আহত ব্যক্তি পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলেন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রিসোর্টে ছিলেন ১৬ পর্যটক

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।

সকালে আগুন লাগার পর রিসোর্টে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম।

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলবেনিয়ায় সহিংস বিক্ষোভ: সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


আলবেনিয়ায় সহিংস বিক্ষোভ: সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন

দীর্ঘ কয়েক দশক পর আলবেনিয়া নজিরবিহীন সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়েছে। রাজধানী তিরানা সহ প্রধান শহরগুলোতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে।

সরকারি ভবন এবং কিছু বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কীভাবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এবং কেন পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমবর্ধমান আকার ধারণ করছে। রাজধানী তিরানায় কয়েক মাস ধরে চলা এই আন্দোলন গত মঙ্গলবার সহিংস হয়ে ওঠে। এরপর তা দুরেস, শকোডার, লেঝা, ভ্লোরা, জিরোকাস্টার ও কোরচে সহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার ব্যয় এবং জীবনযাত্রার খরচ কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলেও, এটি এখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষার ফি ও বইয়ের দাম কমানোর পাশাপাশি বাড়তি ব্যয় মোকাবিলায় সরকারি সহায়তা চাইছেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশগ্রহণ করেছে।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে মুখোশধারী আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ে। পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। এ সময় একটি যুবককে ভাঙা পা নিয়ে যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়া হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। এক পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটেছিল আরও আগে। টানা প্রায় ১৩৫ দিন ধরে রাজধানী তিরানার কেন্দ্রে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সরকারবিরোধীরা জড়ো হতো। তাদের হাতে গোলাপি ফ্ল্যামিঙ্গোর ছবি থাকত। তাদের প্রধান দাবি ছিল, প্রধানমন্ত্রী এডি রামাকে পদত্যাগ করতে হবে। রামা বর্তমানে তার চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের একটি বড় পর্যটন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা আশঙ্কা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় শহর ভ্লোরার কাছের একটি দ্বীপে ফ্ল্যামিঙ্গো পাখির আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়বে।

পর্যটন প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও জনমনে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে একজন উপপ্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে চলে গেছেন এবং আরেকজনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে।

এখন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় কমানোর দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দুর্নীতিবিরোধী ক্ষোভ ও প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ছড়িয়ে পড়া এবং সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরছে।

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী ফ্ল্যামিঙ্গো আন্দোলন ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। তাদের অন্যতম স্লোগান, ‘রামা জেলে, বেরিশা জেলে’। এর মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রী এডি রামা এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি সালি বেরিশার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

শুরুতে এই আন্দোলনে তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি বয়স্ক মানুষ, অভিভাবক এবং তাঁদের দাদা-দাদিরাও অংশ নিতেন। বিক্ষোভ শেষে অনেকেই নিজের উদ্যোগে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করতেন। তবে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চলা এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা কমতে থাকে। একই সময়ে আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগও দেখা যায়নি।

বর্তমান বিক্ষোভ আগের তুলনায় অনেক বেশি সহিংস হয়ে উঠেছে। সংঘর্ষে কয়েক ডজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার পথে থাকা আলবেনিয়ার এই পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিবিসিকে কয়েকজন তরুণ বিক্ষোভকারী বলেছেন, বর্তমান আন্দোলন আগের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নতুন একটি পর্যায়। লিভিয়া নামের এক তরুণী অভিযোগ করেন, পাঁচ মাস ধরে চলা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে অপমান ও উপহাসের মাধ্যমে উপেক্ষা করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে আমাদের কথা শোনা হবে না।’

ব্রুনেলা নামের আরেক তরুণী বিবিসির ‘হোয়াট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ অনুষ্ঠানে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও সরকার যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তা তাকে আতঙ্কিত করছে। তার মতে, এই আন্দোলন শুধু একজনের নয়, বরং আলবেনিয়ার তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত প্রতিবাদ।

আগের ফ্ল্যামিঙ্গো আন্দোলনের সঙ্গে বর্তমান ছাত্র আন্দোলনের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফ্ল্যামিঙ্গো আন্দোলনের নেতারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও কেউ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।

আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ দুর্নীতি। প্রধানমন্ত্রী এডি রামার বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগগুলো বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত।

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রী এডি রামা। তিনি একই সঙ্গে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা সালি বেরিশাকে দায়ী করেছেন।

শুক্রবার রামা অভিযোগ করেন, বিরোধী দল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, সহিংসতার মাধ্যমে আলবেনিয়ার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে জনগণের কথা শোনা, তাদের ন্যায্য উদ্বেগের সমাধান করা এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বেরিশার নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক পার্টি অতীতেও রামা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। দলটির সমর্থকেরা কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করেছেন এবং বিভিন্ন সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন। তবে এবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি। ফলে চলমান অস্থিরতার পেছনে বেরিশার ভূমিকা কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে আলবেনিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যমে চলমান বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ ঘটনায় সার্বিয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথে আলবেনিয়ার অগ্রগতি নিয়ে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের অসন্তোষ থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণের তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী রামাও শুক্রবার বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, কিছু বিদেশি শক্তি আলবেনিয়ায় শান্তি ও ঐক্য চায় না। একই সঙ্গে তারা দেশটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পথে বাধা দিতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রামা আরো প্রশ্ন তোলেন, আলবেনিয়া যখনই ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথে নতুন অগ্রগতি অর্জন করে, তখনই কেন সহিংসতা শুরু হয়। তাঁর দাবি, বর্তমান অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকা থাকতে পারে। তবে বিরোধী দলের ভূমিকা কিংবা বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আলবেনিয়া ভ্রমণ কি নিরাপদ?

আলবেনিয়ার বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার পর্যটকদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসরণ করতে বলেছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ, বড় ধরনের জনসমাবেশ ও রাজনৈতিক মিছিল এড়িয়ে চলার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আলবেনিয়া ইউরোপের একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। দেশটির সরকার বলছে, চলমান সহিংসতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলবেনিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পর্যটন খাতের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টার ওপরও। তাই আলবেনিয়া ভ্রমণের আগে পর্যটকদের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং বিক্ষোভপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%