মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
০১:৩৪ এম
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জজ মিয়াকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি'র সভাপতি মো. শরীফুল আলম এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম এমপি এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম এমপি'র স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
মো. মাজহারুল ইসলাম এমপি'র স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সুপারিশ ও দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মো. জজ মিয়া-কে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জজ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আলীনগর পূর্ব পাড়া গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী (১১) ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযোগ উঠে একই গ্রামের মৃত আ. গফুরের ছেলে স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জজ মিয়া (৫৫) ওই শিশুটিকে তাঁর নিজ বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড় ফারুক মিয়ার জমি থেকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে পাশের নদীর পাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মো. জজ মিয়ার বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১০।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিনই এলাকাবাসী অভিযুক্ত মো. জজ মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে নিয়ে যান। তবে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে আপোসের চেষ্টা করেন। গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে সালিশ ডেকে শিশুটির পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার এই অন্যায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরের দিন ১৪ আগস্ট শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ধর্ষিতা শিশুটিকে সাথে নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের পরদিন ১৫ আগস্ট থানায় মামলাটি রুজু করে ঘটনার দুই দিন পর শিশুটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে প্রেরন করেন পুলিশ।
ভুক্তভোগীর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বেও এলাকায় এই ধরণের অপরাধ করেছে। তবে উপযুক্ত বিচার না পাওয়ায় সে বারবার একই ধরনের অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। বর্তমানে মামলা দায়েরের পর থেকে একটি মহল ঘটনাটি ভিন্নখাতে মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের আশায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিশুটির চাচা মো. নজরুল ইসলাম জানান, থানায় অভিযোগ দায়ের পর থেকে আসামি পক্ষের লোকজনের হুমকি-ধামকিতে পুরো পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন জানান, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে দেখা করেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মো. জজ মিয়া পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে । আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের আট বিভাগের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর ৫ দিনের পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এই মুহূর্তে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী এবং সিলেটের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরো জানানো হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে যে, পাঁচ দিন ধরেই বৃষ্টিপাতের এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ভাটিয়ারী ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একটি শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। নিহত শ্রমিকের নাম ইদ্রিস আলী (৫০)।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যাবেলায় চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
নিহত ইদ্রিস আলী জামালপুর জেলার অধিবাসী। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। ছয়দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার তার মরদেহ জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর ইদ্রিস আলীকে অসুস্থ অবস্থায় ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
জাহাজভাঙা কারখানার শ্রমিকরা সকাল ৯টার দিকে ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। এর ফলস্বরূপ ৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় আরও ছয়জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিল ইদ্রিস আলী।
ন্যাশনাল হাসপাতালের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. ফারুক বলেন, বুধবার ইদ্রিস নামের এক রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তিনি দুর্ঘটনার দিন থেকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য দপ্তরে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কওমি সংশ্লিষ্ট সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে নিয়োগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি একই সঙ্গে উলামায়ে কেরামের সঙ্গে আলোচনা করে একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ দাবি না মানলে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামের সঙ্গে সরকারের বিদ্যমান সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থায় দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। তারা এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব দাবি ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী। তিনি জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে শামীম কায়সার লিংকনকে মনোনীত করার সংবাদ দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ তাওহিদী জনতার প্রত্যাশার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। লিংকন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের ধর্মীয় মতাদর্শ ও চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন বলে তিনি দাবি করেন।
মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, শামীম কায়সার লিংকন পীর-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও চার মাজহাবের বিরোধী এবং লা-মাজহাবি আকিদায় বিশ্বাসী। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণ হানাফি মাজহাবের অনুসারী। তাই ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদে তাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি দাবি করেন।
শ্রমদাতা এ বিষয়টাকে সামনে রেখে জানান, বাংলাদেশের ধর্মীয় সংস্কৃতি, রীতি-নীতি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে যদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে আলেমদের মর্যাদা রক্ষা হবে এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে।
মুহিউদ্দিন রাব্বানী এ সময় বর্তমান সরকারের ইসলামবান্ধব সরকারের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করে জানান, আলেম-উলামাদের এ ন্যায্য দাবি সরকার যদি মেনে না নেয়, তবে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থার সম্পর্কে ফাটল তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই দূরত্ব তৈরি হলে তা সহজে মেরামত করা সম্ভব হবে না। তাই উলামায়ে কেরামের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মনোনীত করা সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে।
এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের আলেম সমাজের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে, এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হোক যার ধর্মীয় বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
এ ধরনের কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী, জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম খিলগাঁওয়ের মুহতামিম মাওলানা জহুরুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহসহ বিভিন্ন কওমি মাদরাসা ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট নগরের রায়নগরে একটি চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আসামি বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে, এবং সে এ খুনের দায় স্বীকার করেছে। গ্রেফতার হওয়ার পর বাবুল পুলিশকে জানিয়েছিল যে, সে গৃহপরিচারিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু আদালতে এসে সে ভিন্ন কথা বলেছে।
বাবুল আদালতে জানায়, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সে চুরি করতে গিয়েছিল। সে প্রথমে গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে দেখে ফেলে এবং এরপর গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্তাকেও খুন করে। চুরি করার উদ্দেশ্যে গিয়ে বাবুল একাই ছুরি দিয়ে তিনজনকে খুন করার কথা আদালতে স্বীকার করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা জবানবন্দির পর এসব তথ্য জানান।
চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে বাবুল মিয়ার জবানবন্দি দেওয়া হয়। সিলেটের কোর্ট ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছে, এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, চার দিনের রিমান্ড শেষে বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। তারপর তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
বাবুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন, যা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলতে থাকে। আদালত পরে বাবুলকে জেলহাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।
এসএমপি পুলিশের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, জবানবন্দি দেওয়ার সময় বাবুল মিয়া শান্ত ছিল। এই পুলিশ কর্মকর্তার মতে, বাবুল মিয়া তিন খুনের সাথে নিজেদের জড়িত করে বলেছে যে, আগের রাতে বাসার মালিক তার কাছে বাসা ভাড়া নিয়ে চাপ দেয় এবং বাসা ছেড়ে যেতে বলে।
সে সিদ্ধান্ত নেয়, পূর্বপরিচিত রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা 'নিকুঞ্জ ভিলা'য় চুরি করবে, যেপর্যন্ত সে বিশ্বাস করে যে সেখানে সব সময় টাকা-পয়সা থাকে। ১২ আগস্ট সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে সে সেই বাসায় যায়। বাসার সিঁড়িতে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, সে তা আগে থেকেই জানত। এজন্য সে বেলকনিতে উঠে খোলা কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করে।
সে এই সময় একটি ছুরি সঙ্গে নিয়ে ছিল। কক্ষে ঢোকার সাথে সাথে তাহমিনা তার সঙ্গী হয়। তাহমিনা তাকে দেখে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বাবুল তাকে ধরে ফেলে এবং উপুঢ়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে তাহমিনা মেঝেতে পড়ে যায় এবং সেখানেই বাবুল তাকে আরও আঘাত করে।
তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম কক্ষে এসে বাবুলকে ছুরির আঘাত করতে দেখে। বাবুল তখন পেছনে তাকিয়েই ছুরি চালাতে থাকে। সুরাইয়া বেগমের গলায় আঘাত লাগলে তিনিও মেঝেতে পড়ে যায়। বাবুল তাকে মারহুম করে।
একপর্যায়ে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার অন্য কক্ষে থেকে বের হয়ে আসেন। খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও বাবুল খুন করে। বাবুল তার জবানবন্দিতে জানায়, তিনজনকে খুন করার পর সে তার শরীরে লেগে থাকা রক্ত পরিষ্কার করতে বাথরুমে যায়। সেখান থেকে বের হয়ে সে একটি কক্ষে টাকা-পয়সা খুঁজতে যায়।
একপর্যায়ে সে ৫০০ টাকার কিছু নোট পায় এবং পরে গুনে দেখতে পায় ১৫,000 টাকা। বাসার আরও কিছু নিতে চাইলেও মোবাইল ফোন বেজে ওঠার কারণে দ্রুত সেখান থেকে নেমে যায়। বাবুল মিয়া এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়।
পুলিশ কর্মকর্তার বলছে, বাবুল মিয়া আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, বাসা থেকে বের হয়ে সে মেলার মাঠে গিয়ে বসে থাকে। বিকেলে বাসায় ফিরলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ