০৫:৪৪ পি.এম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ একটি গেম চেঞ্জার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জনের বিকল্প নেই।
রবিবার সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে চার দিনব্যাপী ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য জানালেন, উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্যের মধ্যে দক্ষ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ গড়ে তোলা অন্তর্ভুক্ত, যারা পরিবর্তনশীল বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে পারবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের সব বিষয়ে ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ কোর্স বাধ্যতামূলক করেছে।
আরও পড়ুন: এইচএসসি পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশ, জানতে পারবেন ওয়েবসাইট ও এসএমএসে
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আমাদের দেশে সময়োপযোগী এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম গড়ে উঠতে পারেনি। যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী নিজ যোগ্যতায় দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রমের ঘাটতির কারণে অনেকেই কর্মবাজারের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে সক্ষম হচ্ছেন না। এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের সমালোচনা নয়, বরং নীতিনির্ধারকদের দায়ভার রয়েছে।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কার্যকর কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা। আইসিটি শিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল বিপণন, গিগ অর্থনীতি ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে।
তিনি জানান, আইসিটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তৈরি প্রশিক্ষণ মডিউল ও রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল উন্নত করে দেশের সব কলেজে পৌঁছে দেওয়া হবে। এগুলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।
উপাচার্য আরও বলেন, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আইসিটি দক্ষতা বৃদ্ধি করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নানা উদ্যোগ ও বড় পরিসরে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করেছে। স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো বাস্তবভিত্তিক এবং শিক্ষার্থীরা এগুলো আয়ত্ত করতে পারলে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল বিপণনে দক্ষ হয়ে দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থানে এগিয়ে থাকবে। উচ্চশিক্ষার সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: “অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শংকর। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. এএইচএম রুহুল কুদ্দুস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন