ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন


বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানা পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শনকালে তিনি থানার বিভিন্ন দাপ্তরিক রেজিস্টার পর্যালোচনা করেন। এ সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরে তিনি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও পেশাগত মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: হেমায়েত হোসেন

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, বিপিএম এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: সাইফুল ইসলাম খান

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ এম


“অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”

একদিন যে নদীর জোয়ার-ভাটার বিস্ময়কর রূপ মুগ্ধ করেছিল মুঘলদের, সেই বুড়িগঙ্গার ছন্দ দেখেই ১৬১০ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই বুড়িগঙ্গাই আজ নগরীর অবহেলা, বর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের ভারে অস্তিত্ব সংকটে। লঞ্চ, স্টিমার, ট্রলারসহ অসংখ্য নৌযানের ব্যস্ততায় নদীর বুক এখনো সরব; কিন্তু তার স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে দূষিত পানি, বর্জ্য আর দীর্ঘদিনের নগর ব্যবস্থাপনার সংকট।

বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর আলোচনা সাধারণত নদী সংস্কার, দখলমুক্তকরণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়-শুধু নদী ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন কি অস্তিত্ব সংকটে থাকা এ নদীকে বাঁচাতে পারবে, নাকি পাশাপাশি নজর দিতে হবে পুরো নগর কাঠামোর দিকে?

নদী যখন ছিল জীবনের সঙ্গী:

ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে বুড়িগঙ্গার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে জনবসতি, বাণিজ্য ও যোগাযোগের নানা কাঠামো। সদরঘাট আজও তার জীবন্ত প্রমাণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নদীপথে যাতায়াত করেন, পণ্য ওঠানামা করে, নৌযান ছুটে চলে এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে।

মুঘল আমলে ঢাকার গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুড়িগঙ্গাও হয়ে ওঠে নগরজীবনের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। আজও সদরঘাটের ব্যস্ততা সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। লঞ্চ, স্টিমার, ট্রলার, নৌকাসহ নানা ধরনের নৌযানের অবিরাম চলাচলে নদীর বুকজুড়ে তৈরি হয় এক ব্যস্ত পরিবেশ।

এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের জীবিকা। কেউ নাবিক, কেউ মাঝি, কেউ শ্রমিক, আবার কেউ ঘাট ও নৌবাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু যে নদী একসময় নগরকে সমৃদ্ধির পথ দেখিয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় সেই নদীকেই আজ শহরের বর্জ্য ও অবহেলার ভার বহন করতে হচ্ছে।

কালো পানির গল্প:

বাবুবাজার সেতু থেকে সদরঘাট হয়ে পোস্তগোলা পর্যন্ত নদীর পাড় ঘুরলে চোখে পড়বে দূষণের নানা চিত্র। কোথাও পানির ওপর ভাসছে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল, কোথাও জমে আছে আবর্জনা। কোথাও আবার নদীর তীরে বর্জ্যের স্তূপ। নদীর পানির স্বাভাবিক রং অনেক জায়গাতেই বদলে গেছে। বাতাসে ভেসে আসে দুর্গন্ধ।

নৌকা চলাচল করছে, ঘাটে মানুষের ব্যস্ততা রয়েছে; কিন্তু নদীর পানির দিকে তাকালে সেই ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সংকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই দৃশ্য শুধু একটি নদী দূষিত হয়ে যাওয়ার গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন, শিল্পায়ন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের দীর্ঘদিনের সংকট।

প্রায় তিন দশক ধরে এ নদীর সঙ্গে জীবনযাপন করছেন গনি মিয়া (৫৭)। বর্তমানে তিনি সদরঘাট থেকে কামরাঙ্গীরচরের মাতবরঘাটে ট্রলার চালান। তিনি বলেন, “যখন পানি কমে যায়, তখন এমন গন্ধ হয় যে সারাদিন সেই গন্ধে থাকার পর বাড়িতে গিয়েও খেতে পারি না।”

এই দুরবস্থা কেন?

বুড়িগঙ্গার দূষণের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন গবেষণায় শিল্পবর্জ্য, পৌরবর্জ্য, পয়োবর্জ্য এবং বিভিন্ন নিষ্কাশনপথ দিয়ে নদীতে প্রবেশ করা দূষিত পানিকে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পও বুড়িগঙ্গা দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচিত ছিল। গবেষণায় ট্যানারি বর্জ্যে ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর উপস্থিতি এবং এর পরিবেশগত প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। তবে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নেওয়ার পরও বুড়িগঙ্গার সংকট শেষ হয়নি। কারণ, এটি ছিল দূষণের অনেক কারণের মধ্যে একটি মাত্র।

এ ছাড়া পুরান ঢাকার মতো সীমিত জায়গায় বিপুল জনগোষ্ঠীর চাপ যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামাল দিয়ে বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করাও কঠিন। সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ার বিষয়টিও দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মাঝি আব্দুল আজিজের (৫২) অভিজ্ঞতাও বিষয়টি নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দেয়। তাঁর ভাষায়, “বুড়িগঙ্গার পানিতে এখন সাকার মাছ ছাড়া আর কোনো মাছ থাকে না। তবে করোনার সময় যখন মানুষজন গ্রামগঞ্জে চলে গিয়েছিল, তখন কয়েক মাসের মধ্যেই পানি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। নদীতে নানা ধরনের ছোট-বড় মাছও ফিরে এসেছিল।”

গবেষণার তথ্য যা বলে:

বুড়িগঙ্গার দূষণ শুধু চোখে দেখা কালচে পানি কিংবা দুর্গন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন গবেষণায় নদীটির পানির গভীর সংকটের চিত্রও উঠে এসেছে।

২০২৩ সালে Journal of Water and Health-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ২০১৯-২০২০ সময়ে বুড়িগঙ্গার ১০টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা ২১০টি পানির নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ক্রোমিয়াম, নিকেল, সীসা ও ক্যাডমিয়ামসহ একাধিক ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। গবেষণাটিতে ক্যাডমিয়াম, নিকেল ও সীসার দূষণকে ‘হেভি পলিউশন’ এবং অ্যান্টিমনির দূষণকে ‘সিরিয়াস পলিউশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা-পর্যালোচনায় বুড়িগঙ্গার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ২০০০ সালে প্রায় ২ মিলিগ্রাম/লিটার থেকে ২০১৯ সালের পর্যবেক্ষণে শূন্যে নেমে আসার তথ্য উঠে আসে। একই গবেষণায় পানিতে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (BOD) ও রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদার (COD) উচ্চমাত্রাসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর দূষণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

BOD হলো পানিতে থাকা জৈব পদার্থ ভাঙতে অণুজীবের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ। অন্যদিকে COD হলো পানিতে থাকা জৈব ও অন্যান্য অক্সিডাইজযোগ্য পদার্থকে রাসায়নিকভাবে জারিত করতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ। সাধারণত এসব মাত্রা বেশি হলে পানিতে দূষণের মাত্রাও বেশি বলে ধারণা করা হয়।

অন্যদিকে, ২০২২ সালে Frontiers in Public Health-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ঢাকার নদীব্যবস্থার বিভিন্ন নিষ্কাশনপথ বিশ্লেষণ করে শিল্পবর্জ্য, পৌরবর্জ্য ও গৃহস্থালি পয়োবর্জ্যকে নদীদূষণের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সব মিলিয়ে গবেষণাগুলো দেখায়, বুড়িগঙ্গার সংকট কেবল দৃশ্যমান ময়লা বা দুর্গন্ধের বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের শিল্পবর্জ্য, পয়োবর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত চাপ। তাই নদীকে বাঁচাতে শুধু পানি পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; দূষণের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ করাই হতে হবে মূল লক্ষ্য।

জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি:

নদীর পানি দূষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম প্রভাব পড়ে নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর। পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হলে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। ভারী ধাতু ও অন্যান্য দূষকের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে জলজ পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

বুড়িগঙ্গার দূষণের প্রভাব শুধু নদীর পানি বা নদীনির্ভর মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ঢাকার জনজীবনেও। নদীর পানিতে জমে থাকা পচনশীল বর্জ্য ও অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে দুর্গন্ধ, যা নদীর আশপাশের বসতি ও ব্যস্ত এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তুলছে।

দূষিত ও স্থবির পানিতে মশার প্রজননের পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা নগরবাসীর জন্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী ও নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে নোংরা পানির সংস্পর্শে এসে ত্বকের সমস্যা ও পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই বুড়িগঙ্গার দূষণকে শুধু একটি নদী রক্ষার বিষয় হিসেবে দেখলে এর পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন, জীবিকা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিস্তৃত প্রভাবটি আড়ালে থেকে যায়।

সমস্যা কি শুধু নদীর?

বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বারবার নদীর পাড়ের বর্জ্য কিংবা পয়োনিষ্কাশনের কথা আসে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে আরও বড় একটি বাস্তবতা-ঢাকার ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা মানুষের চাপ।

একটি সীমিত ভৌগোলিক এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ, শিল্প, ব্যবসা ও নাগরিক কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশ রক্ষা-সবকিছুর ওপরই চাপ বাড়ে। বুড়িগঙ্গা সেই চাপের একটি দৃশ্যমান ফলাফল মাত্র।

ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণের ভাবনা:

ঢাকার ওপর মানুষের চাপ কমানোর কথা শুধু নীতিনির্ধারণী আলোচনাতেই নয়, গবেষণাতেও উঠে এসেছে। ২০১৯ সালে Environment and Urbanization ASIA-তে প্রকাশিত ‘City Profile: Dhaka, Bangladesh’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, চাকরি ও বিভিন্ন সেবার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন ঢাকার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। গবেষকেরা এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া বা বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ঢাকার পরিবেশগত চাপ কমাতে শহরের বাইরের অঞ্চলগুলোতে পরিকল্পিত ও বিকেন্দ্রীভূত নগরায়ণের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় একাধিক কেন্দ্রভিত্তিক নগর কাঠামোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।

একই বছর পূর্বাচল নিউ টাউন নিয়ে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা যায়, শুধু নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি করলেই ঢাকার ওপর নির্ভরতা কমে না। স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংযোগ না থাকলে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয় না।

অর্থাৎ মানুষকে শুধু ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দিলেই সমাধান হবে না। প্রয়োজন এমন পরিকল্পিত নগর ও আঞ্চলিক কেন্দ্র তৈরি করা, যেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। কারণ, একটি ছোট ভৌগোলিক এলাকায় ক্রমাগত মানুষের চাপ বাড়িয়ে রেখে শুধু নদী পরিষ্কার করে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কঠিন। ঢাকার ওপর চাপ কমানো গেলে বর্জ্য, পয়োনিষ্কাশন ও অন্যান্য নগর সমস্যার ওপরও চাপ কমানো সম্ভব।

বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ:

বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর সমাধান তাই শুধু নদীর পানিতে রাসায়নিক প্রয়োগ কিংবা নিয়মিত পরিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। প্রথমেই বন্ধ করতে হবে নদীতে বর্জ্য ও অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য ফেলার পথ। শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর শোধনাগার নিশ্চিত করতে হবে। নদীর দখল ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও পানির মান পরীক্ষা করতে হবে।

এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ঢাকার ওপর মানুষের চাপ কমাতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিত শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে শক্তিশালী আঞ্চলিক শহর, যাতে মানুষকে জীবিকা ও নাগরিক সুবিধার জন্য রাজধানীনির্ভর হতে না হয়।

তাই বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হলে শুধু নদীর দিকে তাকালে হবে না; তাকাতে হবে পুরো নগর ব্যবস্থাপনার দিকে।

একসময় এ নদীর স্রোত ঢাকার বাণিজ্য ও জনজীবনকে এগিয়ে নিয়েছিল। আজ সেই নদী বয়ে নিয়ে যাচ্ছে নগরীর বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ ও অবহেলার বোঝা। মৃতপ্রায় নদীটিতে আবার প্রাণের সঞ্চার করতে হলে শুধু পানির পরিবর্তন নয়, পরিবর্তন করতে হবে সেই নগরভাবনাকেও, যে ভাবনা একটি শহরের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছে।

বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর লড়াই তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একটি নদীকে বাঁচানোর গল্প নয়; এটি একটি ভবিষ্যৎ বাসযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার লড়াই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, জুতাসহ’- ইউএনওর দরজায় ব্যতিক্রমী বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ এম


‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, জুতাসহ’- ইউএনওর দরজায় ব্যতিক্রমী বার্তা

সরকারি দফতরের প্রবেশদ্বারে সাধারণ মানুষের জন্য একটি ব্যতিক্রমী আমন্ত্রণ প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানে লেখা রয়েছে ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, জুতাসহ প্রবেশ করুন’ এমন বার্তা। এই উদ্যোগের জন্য কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনির প্রশংসা করা হচ্ছে।

ইউএনওর কার্যালয়ের দরজায় এই বিশেষ বার্তাটি দেখা যায়। প্রবেশপথে নেমপ্লেটের পাশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অফিসে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন।’ এর মানে হলো, ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের আগে আলাদা অনুমতি নেওয়া কিংবা জুতা খুলে রাখার প্রয়োজন নেই।

জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর উদ্দেশ্যে এবং সেবাপ্রত্যাশীদের যাতে সংকোচ ছাড়াই ইউএনওর কাছে নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজন জানাতে পারেন, সে জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ছোট্ট বার্তার মাধ্যমে সরকারি দফতরকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও উন্মুক্ত ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল কাফি মন্তব্য করেন, অনেক সময় সাধারণ মানুষ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সহজে পৌঁছাতে না পেরে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। কিছু মানুষ বাধ্য হয়ে দালালদের কাছে যেতে বাধ্য হন এবং নানা ভোগান্তিতে পড়েন। বরুড়া ইউএনওর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে।

আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘এটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা, নিয়মনীতি ও সৌজন্যবোধ বজায় রেখে এমন নির্দেশনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ইউএনও মহোদয়ের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা। আল্লাহ তাকে জনসেবায় আরও অবদান রাখার তৌফিক দিন।’

স্থানীয়দের মতে, সরকারি দফতরে সাধারণ মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হলে সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমবে এবং কর্মকর্তাদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হবে।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি মন্তব্য করেন, ‘সরকারি দফতর মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো সংকোচ বা দ্বিধা ছাড়াই তাদের প্রয়োজনের কথা জানাতে পারেন, সে জন্যই কার্যালয়ের সামনে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমার কক্ষে আসতে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতা খুলেও প্রবেশ করতে হবে না। সবাই যেন সহজে প্রশাসনের কাছে এসে সেবা নিতে পারেন এটাই আমার প্রত্যাশা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশ, জানতে পারবেন ওয়েবসাইট ও এসএমএসে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১১ এম


এইচএসসি পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশ, জানতে পারবেন ওয়েবসাইট ও এসএমএসে

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আজ শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।

আজ বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে। এছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে নির্ধারিত নিয়মে এসএমএস পাঠিয়ে মুহূর্তেই ফল জানা যাবে।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পদ্ধতিতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

এর আগে, গত ২ জুলাই সারাদেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩১ অক্টোবর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনার তালিকা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১২ এম


৩১ অক্টোবর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনার তালিকা প্রকাশ

প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো কালক্রমে ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। ইতিহাস সাক্ষী থাকে ভালো-মন্দ, সাফল্য-ব্যর্থতা, মানবসভ্যতার অর্জন কিংবা অভিশাপ-আশীর্বাদ সবকিছুর। ইতিহাস আমাদের নতুন দিগন্তের সন্ধান দেয়।

আজ ৩১ অক্টোবর (শনিবার), ২০২৬। ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আসুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঘটনাবলি

৪৭৫ - পশ্চিম রোমান সম্রাট হিসেবে রোমুলাস অগাস্টুলাসের ঘোষণা হয়।

৬৮৩ - মক্কা অবরোধের সময় কাবা আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

৮০২ - সম্রাজ্ঞী ইরিন ক্ষমতাচ্যুত হয়ে লেসবসে নির্বাসিত হন। ষড়যন্ত্রকারীরা অর্থমন্ত্রী নিকেফোরোসকে বাইজেন্টাইন সিংহাসনে বসান।

৯৩২ - আব্বাসীয় খলিফা আল-মুকতাদিরের জেনারেল মু'নিস আল-মুজাফফরের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত হন। তার ভাই আল-কাহির তার উত্তরসূরি নির্বাচিত হন।

১৫১৭ - প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার: মার্টিন লুথার উইটেনবার্গের ক্যাসল চার্চের দরজায় ৯৫টি থিসিস প্রকাশ করেন।

১৫৮৭ - লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ১৫৭৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

১৮২২ - সম্রাট আগুস্তিন দে ইতুরবিদে মেক্সিকান সাম্রাজ্যের কংগ্রেস ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

১৮৩৭ - যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেইল অফ টিয়ার্স চলাকালে মনমাউথ স্টিমবোট দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ মাস্কোগি নিহত হন।

১৮৬৩ - নিউজিল্যান্ড যুদ্ধ পুনরায় শুরু হয়, জেনারেল ডানকান ক্যামেরনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াইকাটো আক্রমণ শুরু করে।

১৮৬৪ - নেভাডা ৩৬তম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৮৯১ - জাপানে প্রবল ভূমিকম্পে তিন হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটে।

১৮৯৫ - ১৮১২ সালের পর মধ্য-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প চার্লসটনের কাছে আঘাত হানে, এতে ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অন্তত দুজন নিহত হন।

১৯০৩ - ইন্ডিয়ানাপোলিসে পারডু ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হন, যার মধ্যে পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের ১৪ জন খেলোয়াড় ছিলেন।

১৯০৭ - ফিনল্যান্ডের সংসদ মদ নিষিদ্ধকরণ আইন অনুমোদন করে, কিন্তু জার দ্বিতীয় নিকোলাস অনুমোদন না করায় তা কার্যকর হয়নি।

১৯১৩ - যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রথম অটোমোবাইল মহাসড়ক লিঙ্কন হাইওয়ে উদ্বোধন করা হয়।

১৯১৩ - ইন্ডিয়ানাপোলিস ট্রাম ধর্মঘট এবং পরবর্তী দাঙ্গা শুরু হয়।

১৯১৪ - কৃষ্ণসাগরে রাশিয়াকে আক্রমণ করে তুরস্ক।

১৯১৭ - প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: বিয়ারশেবার যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ইতিহাসের ‘শেষ সফল অশ্বারোহী চার্জ’ হিসেবে পরিচিত।

১৯১৮ - প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: অ্যাস্টার বিপ্লব অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সমঝোতার অবসান ঘটায় এবং হাঙ্গেরি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে।

১৯১৮ - যুক্তরাষ্ট্র আর জাপানের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা বিশ্বে সে বছরে ব্যাপক ফ্লু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

১৯১৮ - অষ্ট্রিয়ায় বিপ্লব শুরু হয়। অষ্ট্রিয়ার বিপ্লবী জনগণ অষ্ট্রিয়া প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন। রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বিরাট মিছিলের আয়োজন করেন।

১৯২০ - ভারতের প্রথম শ্রমিক সংগঠন নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯২২ - বেনিতো মুসোলিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

১৯২৩ - পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মার্বেল বারে টানা ১৬০ দিন ১০০° ফারেনহাইট তাপমাত্রার প্রথম দিন।

১৯২৪ - ইতালির মিলানে প্রথম আন্তর্জাতিক সঞ্চয় ব্যাংক কংগ্রেসে বিশ্ব সঞ্চয় দিবস ঘোষণা করা হয়।

১৯৩৬ - কলকাতায় বাংলা ভাষায় মুসলমানদের প্রথম দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক আজাদ’ প্রকাশিত হয়।

১৯৩৮ - মহামন্দা: বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় পনেরো দফা কর্মসূচি প্রকাশ করে।

১৯৪০ - ব্রিটেনের যুদ্ধ শেষ হয়।

১৯৪১ - ১৪ বছর কাজের পর মাউন্ট রাশমোর নির্মাণ সম্পন্ন হয়।

১৯৪১ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: জার্মান ইউ-বোট আইসল্যান্ডের কাছে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস রুবেন জেমস (ডিডি-২৪৫) টর্পেডো করে ডুবিয়ে দেয়, এতে শতাধিক মার্কিন নাবিক নিহত হন। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুপক্ষের হাতে ডুবে যাওয়া প্রথম মার্কিন নৌযান।

১৯৪৩ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: একটি এফ৪ইউ করসেয়ার মার্কিন নৌবাহিনী বা মেরিন কর্পসের বিমানের প্রথম সফল রাডার-নির্দেশিত বাধাদান সম্পন্ন করে।

১৯৫৬ - সুয়েজ সংকট: যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সুয়েজ খাল পুনরায় খোলার জন্য মিশরে বোমাবর্ষণ শুরু করে।

১৯৫৬ - হাঙ্গেরীয় বিপ্লবে: হাঙ্গেরিতে বিপ্লবী সদর দফতর প্রতিষ্ঠিত হয়। ইমরে নজের ঘোষণার পর নিষিদ্ধ অ-কমিউনিস্ট দলগুলো পুনর্গঠিত হয় এবং এমডিপি-র স্থলে এমএসজেডএমপি গঠিত হয়। ইয়োজেফ মিন্ডসেন্টি কারাগার থেকে মুক্তি পান। সোভিয়েত পলিটব্যুরো বিপ্লব দমনের সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৫৮ - প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিখ্যাত লেখক বাস্ট্রেনাক নোবেল সাহিত্য পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।

১৯৬১ - সোভিয়েত ইউনিয়নে জোসেফ স্টালিনের মরদেহ লেনিনের সমাধি থেকে সরিয়ে ক্রেমলিন প্রাচীরের কাছে সমাহিত করা হয়।

১৯৬৩ - ইন্ডিয়ানা স্টেট ফেয়ারগ্রাউন্ডস কলিসিয়ামে গ্যাস বিস্ফোরণে ৮১ জন নিহত এবং প্রায় ৪০০ জন আহত হন।

১৯৬৬ - বিশিষ্ট সাঁতারু মিহির সেন পানামা খাল অতিক্রম করেন।

১৯৬৮ - ভিয়েতনাম যুদ্ধ: প্যারিস শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন উত্তর ভিয়েতনামে সকল বিমান, নৌ ও কামান বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দেন।

১৯৬৮ - ১৯৬৮ সালের মহা খরার মধ্যে জলবিদ্যুৎ সংকটের কারণে চিলির প্রেসিডেন্ট এদুয়ার্দো ফ্রেই মোন্তালভা দিবালোক সংরক্ষণ সময় চালুর নির্দেশ দেন।

১৯৭২ - ঢাকায় মেজর (অবঃ) এম এ জলিল এবং আসম রবের নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠিত হয়।

১৯৭৩ - অস্থায়ী আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির তিন সদস্য ডাবলিনের মাউন্টজয় কারাগার থেকে অনুশীলন প্রাঙ্গণে অবতরণ করা একটি ছিনতাইকৃত হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যান।

১৯৭৯ - মেক্সিকো সিটিতে অবতরণের সময় ওয়েস্টার্ন এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ২৬০৫ বিধ্বস্ত হয়, এতে ৭৩ জন নিহত হন।

১৯৮০ - লন্ডনের ইভনিং নিউজ পত্রিকায় ‘বিদায় লন্ডন’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। যার ফলে এই শতাধিক ইতিহাস সম্পন্ন পত্রিকার বন্ধ হয়ে যায়। অব্যবস্থাপনার কারণে এই পত্রিকা অভূতপূর্ব আর্থিক সংকটে পড়ে।

১৯৮৪ - নিজের দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

১৯৮৮ - চার বোনকে একত্রে বিয়ে করে ভুটানের রাজা ওয়াংচুক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন।

১৯৯০ - ঢাকা শহরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-কারফিউ জারি হয়।

১৯৯৪ - চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বেজিং-সিউল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৯৪ - রোজলনের কাছে আমেরিকান ঈগল ফ্লাইট ৪১৮৪ বিধ্বস্ত হয়, এতে ৬৮ জন নিহত হন।

১৯৯৬ - ব্রাজিলের সাও পাওলোতে টিএএম ট্রান্সপোর্টেস এরেওস রিজিওনাইস ফ্লাইট ৪০২ বিধ্বস্ত হয়, এতে ৯৯ জন নিহত হন।

১৯৯৮ - ইরাক নিরস্ত্রীকরণ সংকট শুরু হয়: ইরাক জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের সঙ্গে আর সহযোগিতা করবে না বলে ঘোষণা দেয়।

১৯৯৯ - নাবিক জেসি মার্টিন ১১ মাস একা, অবিরাম ও সহায়তা ছাড়া পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে মেলবোর্নে ফিরে আসেন।

১৯৯৯ - নানটাকেটের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে ইজিপ্টএয়ার ফ্লাইট ৯৯০ বিধ্বস্ত হয়, এতে ২১৭ জন নিহত হন।

২০০০ - সয়ুজ টিএম-৩১ উৎক্ষেপণ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রথম স্থায়ী নভোচারী দলকে বহন করে। এরপর থেকে আইএসএস ক্রমাগত জনবসতিপূর্ণ রয়েছে।

২০০০ - তাইপেই থেকে উড্ডয়নের সময় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ০০৬ বিধ্বস্ত হয়, এতে ৮৩ জন নিহত হন।

২০০২ - টেক্সাসের হিউস্টনে একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি প্রাক্তন এনরনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু ফাস্টো-কে তার প্রাক্তন প্রতিষ্ঠানের পতনের সঙ্গে সম্পর্কিত ৭৮টি অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

২০০৩ - মাহাথির বিন মোহাম্মদ স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

২০১১ - বিশ্বের জনসংখ্যা সাতশ কোটিতে পৌঁছায়। এই দিনটি জাতিসংঘ কর্তৃক সাতশ কোটির দিন হিসেবে স্বীকৃত।

২০১৪ - রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ভবনে আমার দেশ এবং এনটিভি, আরটিভিসহ বেশ কয়েকটি মিডিয়া হাউজ ছিল।

২০১৪ - পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় ভার্জিন গ্যালাকটিকের মহাকাশযান ভিএসএস এন্টারপ্রাইজ মোহাভি মরুভূমিতে বিধ্বস্ত হয়।

২০১৫ - সিনাই উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলে মেট্রোজেট ফ্লাইট ৯২৬৮ বোমা হামলায় বিধ্বস্ত হয়, এতে ২২৪ জন নিহত হন।

২০১৭ - নিউ ইয়র্ক সিটির লোয়ার ম্যানহাটনে একটি ট্রাক জনতার মধ্যে ঢুকে পড়ে, এতে আটজন নিহত হন।

২০১৯ - ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ দুটি পৃথক রাজ্য হিসাবে পরিণত হয়।

২০২০ - প্রায় ১০ বছর বিলম্বের পর বার্লিন ব্রান্ডেনবুর্গ বিমানবন্দর উদ্বোধন করা হয়।

জন্ম

১৪৪৮ - জন অষ্টম পালাইওলগস, বাইজেন্টাইন সম্রাট।

১৭৯৫ - জন কিটস, ইংরেজি সাহিত্যের একজন রোম্যান্টিক কবি।

১৮২৮ - রসায়নবিদ ও বিদ্যুত বাতির উদ্ভাবক জোসেফ শোয়ান।

১৮৩৫ - এডলফ ভন বাইয়ের, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান রসায়নবিদ।

১৮৭৫ - সর্দার বল্লভভাই পটেল, ভারতীয় পণ্ডিত ও জাতীয়তাবাদী নেতা।

১৮৮০ - বীরেন চট্টোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি কমিউনিস্ট বিপ্লবী।

১৮৮৭ - চিয়াং কাই-শেক, চীনের রাষ্ট্রনায়ক।

১৮৯৫ - সি. কে. নাইডু, ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৮৯৫ - বি. এইচ. লিডডেল্‌হার্ট, ইংরেজ সৈনিক, ইতিহাসবিদ ও তাত্তিক।

১৯২৫ - জন পোপলে, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ রসায়নবিদ।

১৯৩১ - জপমালা ঘোষ, বাংলা ছড়ার গানের জনপ্রিয় গায়িকা।

১৯৩৭ - পীযূষকান্তি সরকার, প্রখ‍্যাত ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী। (মৃ.২০০১)

১৯৪৩ - ওমেন চন্ডি, কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

১৯৪৪ - কিংকি ফ্রিড্‌ম্যান, মার্কিন সংগীত শিল্পী, গীতিকার, লেখক, রাজনীতিবিদ ও কলাম লেখক।

১৯৪৬ - স্টিফেন রেয়া, আইরিশ অভিনেতা।

১৯৬৩ - দুঙ্গা, ব্রাজিলীয় ফুটবলের সাবেক মধ্যমাঠের রক্ষণাত্মক খেলোয়াড়।

১৯৬৫ - যশোধরা রায়চৌধুরী, বাঙালি ভারতীয় কবি।

১৯৭৬ - গুটি, স্প্যানিশ ফুটবলার।

১৯৮২ - অর্জুন বিজলানী, ভারতীয় অভিনেতা

১৯৮২ - জাস্টিন চ্যাটওয়িন, কানাডীয় অভিনেতা।

১৯৮৬ - পার্ণো মিত্র, বাঙালি ভারতীয় মডেল ও অভিনেত্রী।

২০০০ - ওয়িলও স্মিথ, আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা।

মৃত্যু

১৭৪৪ - লিওনার্দো লিও, ইতালীয় সুরকার।

১৭৯৩ - জ্যাকুইম পিয়ে, ফরাসি উগ্রপন্থি নেতা।

১৯২৫ - মাক্স লিন্ডার, ফরাসি অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯২৬ - হ্যারি হুডিনি, হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান ঐন্দ্রজালিক ও হুডিনি।

১৯৬০ - এইচ. এল. ডেভিস, মার্কিন ঔপন্যাসিক ও কবি।

১৯৭৫ - শচীন দেববর্মণ, বাঙালি সংগীত পরিচালক, সুরকার, লোকসংগীত শিল্পী।

১৯৮৪ - ইন্দিরা গান্ধী, ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

১৯৮৬ - রবার্ট সেন্ডারসন মুল্লিকেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ।

১৯৮৭ - রাজচন্দ্র বসু প্রখ্যাত ভারতীয় গণিতবিদ ও পরিসংখ্যানবিদ ।

২০০২ - সিদ্ধার্থ ঘোষ, ভারতীয় বাঙালি কল্পবিজ্ঞান লেখক।

২০০৬ - অমৃতা প্রীতম, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভারতীয় লেখক ও কবি।

২০১৩ - জেরার্ড ডি ভিলিয়ার্স, ফরাসি সাংবাদিক ও লেখক।

২০১৬ - ফাদার পল দ্যতিয়েন, বেলজিয়ান লেখক ও যাজক, যিনি বাঙলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করে সুখ্যাতি অর্জন করেন।

২০২০ - শন কনারি, স্কটিশ অভিনেতা, 'জেমস বন্ড' খ্যাত অভিনেতা।

২০২২ - জামশেদ জে ইরানি স্টিল ম্যান অফ ইন্ডিয়া নামে পরিচিত ভারতীয় শিল্পপতি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%