আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
০৭:৩৮ পি.এম
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার ১৮ নম্বর হারামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও হারামিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফছিউল আলম রহিম।
এ উপলক্ষে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নিজের বাসভবনে সন্দ্বীপে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় হারামিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফছিউল আলম রহিম বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়।
তিনি জানান, ১৯৭৭ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর তার বড় ভাই সৈনিক আবুল কালাম আজাদ ২২ বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় দোষী সাব্যস্ত হন। পরে তার মা ও বড় ভাই আবুল কাশেমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার ভাইয়ের প্রাণভিক্ষার আবেদন গ্রহণ করেন। সেই ঘটনা তাদের পরিবারের রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
নিজের ও পরিবারের রাজনৈতিক নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তাকে ও তার পাঁচ ভাইকে একসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়। তার মরহুম ভাই আবুল কাশেম, অহিদুল মাওলা, আবু তাহের ও সামছুল হক বলি মেম্বারসহ পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করেন।
ফছিউল আলম রহিমের দাবি, জাতীয় পার্টির শাসনামল থেকে ১৯৯০ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১৯টি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তার বিরুদ্ধে আরও ৪৯টি মামলা করা হয়। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ৬৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলা। এসব মামলায় তাকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে এবং জীবনের ১০ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি হারামিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, তিনবারের সাবেক সভাপতি, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং হারামিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও জানান, ২০১১ ও ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তাকে দুইবার দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিল। প্রথমবার জাহাজ প্রতীক এবং দ্বিতীয়বার ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই দুই নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী তাকে বিপুল ভোটে সমর্থন দিলেও কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করতে পারেননি।
আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেলে হারামিয়া ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ফছিউল আলম রহিম। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত, জনবান্ধব সেবাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও পরিবারের অবদানের মূল্যায়ন করে বিএনপি এবারও তাকে চূড়ান্ত সমর্থন দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে হারামিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ মহড়া ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ শুরু হচ্ছে, যা দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ডের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রামে এই যৌথ মহড়া শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। মহড়াটিতে খরস্রোতা পানিতে উদ্ধার অভিযান এবং চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দুই বাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবেলায় যৌথভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের অভিন্ন কৌশল তৈরি করাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব পরিস্থিতির আদলে তৈরি বিভিন্ন অনুশীলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কার্যকর পদ্ধতি বিনিময় করবেন। এর মাধ্যমে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
‘গার্ডিয়ান শার্ক’ মহড়া বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে আঞ্চলিক নিরাপত্তার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই ধরনের যৌথ মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে এবং একটি মুক্ত, অবাধ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার অভিন্ন অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন, যা আগামী ৯ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে, তার মেয়াদ হতে পারে মাত্র ১০ দিন, এমনটাই জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, চতুর্থ অধিবেশনের মেয়াদ কতদিন হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কতদিন এই অধিবেশন চালানো হবে। তবে সম্ভাবনা রয়েছে, অধিবেশন আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।
চতুর্থ অধিবেশনে আলোচনা হবে কোন কোন বিষয় নিয়ে, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এই অধিবেশনে পাঁচ থেকে ছয়টি বিল আসবে এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল যদি কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে আসে, সেটির ওপরও আলোচনা হতে পারে, উল্লেখ করেন তিনি।
চিফ হুইপ আরও জানান, এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে।
চতুর্থ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কোনো বিল আসবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কোনো বিল আসছে না। এই বিলগুলো অন্যান্য বিষয় নিয়ে হবে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের আলোকে ৬০ দিন পরপর সংসদ বসতে হবে, সেই কারণে অধিবেশন বসবে।’
সংবিধান সংশোধনের বিল কবে নাগাদ আসতে পারে, এ প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আগামী ডিসেম্বর মাসে একটি সুপারিশমালা তৈরি করতে। এই সুপারিশমালা জানুয়ারিতে সংসদ অধিবেশনে দিতে চাই, যদি বিরোধীদল এগিয়ে আসে।
আগামী সোমবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এটি ২০২৬ সালের চতুর্থ অধিবেশন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ পর্যন্ত তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।
প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশন ৭ জুন শুরু হয়ে ১৫ জুলাই শেষ হয় এবং ২৬ কার্যদিবস চলে। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ১৪ কার্যদিবসে মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়।
তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। ৯ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬; সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬; ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ সহ ছয়টি বিল পাস হয়।
এ অধিবেশনে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয় এবং একটি বিশেষ কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একসময় চিকিৎসা, কেনাকাটা কিংবা নিছক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেশের হাজার হাজার নাগরিক কলকাতার পাশাপাশি ভারতের দিল্লি, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর মতো বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে কলকাতার হাসপাতাল ও শপিং মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে সাম্প্রতিক সরকারি ও পর্যটন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই পরিচিত চিত্রে নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর পতন ঘটেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন কমে গেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে ৪ লাখ ৬৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
যদিও ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে গত ১৮ আগস্ট কলকাতার নিউ মার্কেট থানা এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের (মির্জা গালিব স্ট্রিট) ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭ বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনের মৃত্যুর পর বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে আরো বড় ধস দেখা দিয়েছে। এত অল্প সময়ে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কেন এতটা কমে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কলকাতা পৌরসভা সংশ্লিষ্ট এলাকার হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর পুনরায় খুলে দিলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে ‘শিখা ইন’ হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক এখনো অনেকের মনে রয়ে গেছে।
এছাড়া ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা, দীর্ঘ অপেক্ষা, সীমিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক আবেদনকারী ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট এবং বিদেশ ভ্রমণের বাড়তি ব্যয়ও অনেককে বিদেশ সফর থেকে বিরত রেখেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে সীমান্ত পারাপার ও পর্যটন খাতে। এ পরিস্থিতির পাশাপাশি বিকল্প পর্যটন গন্তব্যের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। বর্তমানে দেশের অনেক পর্যটক ভারত ভ্রমণের পরিবর্তে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা তুরস্কের মতো দেশ বেছে নিচ্ছেন। সহজ ভিসা প্রক্রিয়া ও সাশ্রয়ী ট্যুর প্যাকেজ তাদের এসব দেশের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।
অন্যদিকে, কলকাতার হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খরচ চাপানোর অভিযোগে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ কারণে অনেকে কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের নাগরিক আবু বক্কর নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পায়ের চিকিৎসার জন্য কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকার একটি হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা শুরুর আগেই তাকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হয়। তার দাবি, চিকিৎসকেরা কোনো ওষুধ না দিয়েই প্রথমে এসব পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। অথচ অন্তত কয়েকদিনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া যেত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সেদিনই ঢাকায় ফিরে আসেন। প্রয়োজনে থাইল্যান্ড কিংবা অন্য কোনো দেশে গিয়ে চিকিৎসা করাবেন, তবু ভারতে নয় বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কলকাতার হোটেল, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, শপিং মার্কেট ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বহু বছর ধরেই ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজমের অন্যতম বড় উৎস ছিল বাংলাদেশ। প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য হাজার হাজার বাংলাদেশি ভারতে যেতেন। কলকাতা মার্কুইস স্ট্রিট ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে হায়দার আলী বলেন, শুধু সাম্প্রতিক সময়ে নয়, ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকেই কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করে। ‘শিখা ইন’ হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের পর সেই পতন আরো তীব্র হয়। তবে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। আগামী দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিদেশে ছুটি কাটানোর প্রতি ভারতীয় পর্যটকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৩ কোটি ২৭ লাখেরও বেশি ভারতীয় বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। ভারতীয়দের পছন্দের তালিকায় রয়েছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালদ্বীপ ও নেপাল। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি, সহজ ভিসানীতি এবং সাশ্রয়ী ভ্রমণ প্যাকেজের কারণে ভারতীয়দের বিদেশযাত্রা বেড়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই মেডিকেল ও ট্যুরিস্ট ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সংস্কৃতি, চিকিৎসা ও কেনাকাটার টানে আবারো বাংলাদেশি পর্যটকদের ভারতে যাতায়াত বাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ওলামা লীগ নেতা মাওলানা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুলের বিএনপিতে যোগদানের ছবি ও খবর সামাজিক মাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা চলছে।
ঘটনার শুরুটি ঘটে, যখন শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এসে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুকে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদানের দাবি জানিয়ে কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিগুলোতে দেখা যায়, শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী প্রবীণ ও তরুণ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ফুলের তোড়া ও মালা বিনিময় করছেন এবং হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় রয়েছেন। বিএনপির কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন—উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহ্বায়ক রেদোয়ান খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির মনু এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রেজাউল আলম ভূঁইয়া খোকনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। এছাড়া ভাটেরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রনি হাসান সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আকুল খানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, প্রবাসী ও দেশে অবস্থানরত বিএনপি সমর্থক ও কর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লন্ডন প্রবাসী বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান তাঁর ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেন, "যে দোসর বিগত দিনে আমাদের মরহুম দেশনেত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করল, সে কীভাবে বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে দলের মনোনীত এমপিকে ফুল দেওয়ার সৎ সাহস পেল? তার ফুল গ্রহণ করার ঘটনায় দেশনেত্রীর আদর্শের কর্মীদের মনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।"
অন্যদিকে, লন্ডনের আরেক প্রবাসী বিএনপি নেতা খন্দকার করিম মন্তব্যে লেখেন, "যে ব্যক্তি কিছুদিন আগেও আমাদের দেশনেত্রীকে নিয়ে কটু কথা বলেছেন, তিনি আজ কীভাবে বিএনপির কার্যালয়ে সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানাতে যান? বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর ফুল গ্রহণ করার বিষয়টি নিঃসন্দেহে অনুসারীদের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে। রাজনৈতিক সৌজন্য থাকতে পারে, তবে অতীতের আচরণেরও তো মূল্যায়ন থাকা উচিত।"
এদিকে, সমালোচনার প্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু নিজের ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতিতে দাবি করেন, এটি কোনো যোগদান অনুষ্ঠান নয়, বরং কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। তিনি বলেন, "সাইফুল আলম সিদ্দিকী আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দলে নতুন করে সদস্য যোগদানের সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।"
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে নিছক ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু জানান, "আমেরিকা প্রবাসী শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। আমাদের কার্যালয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তিনি হঠাৎ কয়েকজন লোক নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন এবং ফুল বিনিময় করেন। তিনি কোনো দল করেন কি না আমাদের জানা নেই, তবে তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং অতীতে শেখ হাসিনার জন্য অনুষ্ঠানে দোয়া করার ইতিহাস আছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলে নতুন যোগদানের কোনো নির্দেশনা নেই।"
উল্লেখ্য, ধনাঢ্য ব্যক্তি শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি আসন্ন কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী বলেও জানা গেছে। সম্প্রতি দেশে ফিরে বিএনপির কার্যালয়ে ফুলের তোড়া দেওয়া ও পরবর্তীতে ভাটেরা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ