০৭:৪৩ পি.এম
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন, যা আগামী ৯ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে, তার মেয়াদ হতে পারে মাত্র ১০ দিন, এমনটাই জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, চতুর্থ অধিবেশনের মেয়াদ কতদিন হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কতদিন এই অধিবেশন চালানো হবে। তবে সম্ভাবনা রয়েছে, অধিবেশন আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।
চতুর্থ অধিবেশনে আলোচনা হবে কোন কোন বিষয় নিয়ে, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এই অধিবেশনে পাঁচ থেকে ছয়টি বিল আসবে এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা হবে।
আরও পড়ুন: সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, স্মরণে নানা আয়োজন
অন্যদিকে, বিরোধী দল যদি কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে আসে, সেটির ওপরও আলোচনা হতে পারে, উল্লেখ করেন তিনি।
চিফ হুইপ আরও জানান, এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে।
চতুর্থ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কোনো বিল আসবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কোনো বিল আসছে না। এই বিলগুলো অন্যান্য বিষয় নিয়ে হবে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের আলোকে ৬০ দিন পরপর সংসদ বসতে হবে, সেই কারণে অধিবেশন বসবে।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সংবিধান সংশোধনের বিল কবে নাগাদ আসতে পারে, এ প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আগামী ডিসেম্বর মাসে একটি সুপারিশমালা তৈরি করতে। এই সুপারিশমালা জানুয়ারিতে সংসদ অধিবেশনে দিতে চাই, যদি বিরোধীদল এগিয়ে আসে।
আগামী সোমবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এটি ২০২৬ সালের চতুর্থ অধিবেশন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় তিন দিনের সফরে আসলেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ পর্যন্ত তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।
প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশন ৭ জুন শুরু হয়ে ১৫ জুলাই শেষ হয় এবং ২৬ কার্যদিবস চলে। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ১৪ কার্যদিবসে মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়।
তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। ৯ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬; সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬; ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ সহ ছয়টি বিল পাস হয়।
আরও পড়ুন: শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি শ্রমিক শক্তির
এ অধিবেশনে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয় এবং একটি বিশেষ কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন