ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন হলে ১৯ জেলার উন্নয়ন চিত্র বদলে যাবে


পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন হলে ১৯ জেলার উন্নয়ন চিত্র বদলে যাবে

পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন হলে পাবনাসহ ১৯ জেলার উন্নয়ন চিত্র পরিবর্তিত হবে। পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, সেচ, নদী ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এগিয়ে চলছে।

প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত ব্যয় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ৫০-৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত সাত বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প পরিদর্শন ও কারিগরি বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জানান, আগামী জানুয়ারি -ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া, প্রকল্পটি বিএনপির মেগা প্রকল্প হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: শত্রুর হুমকি দেখলে তাৎক্ষণিক হামলার নির্দেশ খামেনির

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাবনাসহ দেশের চার বিভাগের ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলার মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রকল্পের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, নদী পুনরুজ্জীবন, জলাবদ্ধতা কমানো, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার নয়, বরং ২৯০ কোটি ঘনমিটারেরও বেশি—মোট ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি করা হবে।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আওতায় খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলা রয়েছে এ তালিকায়।

প্রকল্পের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারেজের সামগ্রিক প্রকল্প এলাকা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ৩৭ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত। তবে প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রমের আওতায় চার বিভাগের ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি এবং সেচব্যবস্থায় প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক মৌসুমে নদী ও সেচ প্রকল্পে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে কৃষিকাজে পানির সংকট মোকাবিলা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য পাঁচ নদী ব্যবস্থা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এগুলো হলো হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী ব্যবস্থা।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে এসব নদী ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোদাগাড়ি পাম্প হাউস, গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রায় জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী ব্যবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে ন্যূনতম ২৩৯ ঘনমিটার, গড়াই-মধুমতিতে ২৩০ ঘনমিটার, চন্দনা-বারাশিয়ায় ৮০ ঘনমিটার, বড়ালে ২২ ঘনমিটার এবং ইছামতি নদী ব্যবস্থায় ২৫ ঘনমিটার পানি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া গোদাগাড়ি পাম্প হাউসে ৬৪, জিকে প্রকল্পে ১৩৬ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩ ঘনমিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

আরও পড়ুন: গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশের স্থান পরিবর্তন, নতুন ভেন্যু তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ বজায় রাখা, কৃষিতে সেচের পানির জোগান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচের পরিকল্পনা প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য কৃষিতে সেচের পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। প্রকল্পের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর নিট চাষযোগ্য জমিতে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব এলাকার মোট বা গ্রস চাষযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ৪৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট মোকাবিলা, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সুফল নির্ভর করবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, পানির সুষ্ঠু বণ্টন এবং সংশ্লিষ্ট নদী ও সেচ অবকাঠামোর কার্যকারিতার ওপর।

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রায় কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ রয়েছে। এতে বছরে প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন ধান এবং ২ লাখ ৩৪ হাজার টন মৎস্য উৎপাদনের অতিরিক্ত সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৬৪ চরমপন্থি স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন

‎কমতে পারে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ কমানো প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ সংরক্ষণে স্বাদু পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো থেকে পলি অপসারণ এবং নদী ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে যশোরের ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পদ্মানির্ভর এলাকার নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে আর্সেনিক দূষণ কমানোর সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে প্রকল্পের সারসংক্ষেপে।

তবে নদী পুনরুজ্জীবন, লবণাক্ততা হ্রাস ও জলাবদ্ধতা নিরসনের সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের নকশা, পানির প্রবাহ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ৩৬৯১ মামলা করেছে পুলিশ

নির্মিত হবে ব্যারেজ, ড্রেজিং হবে ১৩৫ কিলোমিটার নদী প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পদ্মা ব্যারেজ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ। এর মধ্যে স্পিলওয়ে, আন্ডারগেট, মাছ চলাচলের পথ, নৌযান চলাচলের লক, গাইড বাঁধ ও সংযোগ বাঁধ রয়েছে।

এ ছাড়া গড়াই নদীর উৎসমুখে বা অফটেকে অবকাঠামো নির্মাণ, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফটেক অবকাঠামো স্থাপন, গড়াই-মধুমতি নদী ব্যবস্থায় ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং, হিসনা নদী ব্যবস্থায় ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল পুনঃখনন এবং ১৮০ কিলোমিটার এফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যারেজের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ১ কিলোমিটার। এতে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডারগেট, একটি নেভিগেশন লক ও দুটি ফিশ পাস রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চারটি টারবাইন স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পের সারসংক্ষেপে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে দুটি ভিন্ন পরিসংখ্যান রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার অংশে আনুমানিক ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যারেজের সংক্ষিপ্ত বিবরণে চারটি টারবাইনের মোট উৎপাদনক্ষমতা ৭৬ দশমিক ৪০ মেগাওয়াট উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্পের চূড়ান্ত নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১৭৪, আক্রান্ত ৫৬ হাজার ৩৮০

‎সাতটি স্যাটেলাইট শহর গড়ার পরিকল্পনা

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিকল্পনায় শুধু পানি ব্যবস্থাপনা নয়, ভূমি উন্নয়ন ও নগরায়নের বিষয়ও রয়েছে। প্রকল্পের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সাতটি স্যাটেলাইট শহর প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩ হাজার ৪৫০ একর এলাকায় প্রায় দেড় লাখ পরিবারের জন্য আধুনিক নগরসুবিধাসম্পন্ন গ্রামীণ জনপদ বা রুরাল টাউনশিপ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। ব্যারেজের ওপরের সড়ক সংযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপনের সম্ভাবনাও প্রকল্পের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকালে প্রায় ৪৭ হাজার ৯৫০ জনের জন্য ১২ কোটি ২৫ লাখ জন-দিন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও সারসংক্ষেপে উল্লেখ রয়েছে।

অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রকল্পের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর ধরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এর আর্থিক মূল্য হিসেবে ২৪ হাজার ৮৫১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার উল্লেখ রয়েছে। প্রকল্পের সারসংক্ষেপে প্রত্যক্ষ সুফলের প্রভাব শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং পরোক্ষ সুফলের প্রভাব শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বছরে আনুমানিক ৮ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান প্রকল্পের প্রাক্কলিত লক্ষ্য ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ; বাস্তবে সুফল অর্জনের মাত্রা নির্ভর করবে ব্যয়, বাস্তবায়নের অগ্রগতি, পানির প্রাপ্যতা এবং প্রকল্প-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার ওপর।

সব মিলিয়ে পদ্মা ব্যারেজের প্রথম পর্যায় বাস্তবায়িত হলে কৃষি, সেচ, নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এ প্রকল্পের সুফল পেতে সময়মতো বাস্তবায়ন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, স্বচ্ছ ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং নদীভিত্তিক পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন, পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাবনা, রাজবাড়ীসহ ১৯ জেলার চিত্র পাল্টে যাবে। দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও প্রকল্পটি সুফল বয়ে আনবে। বর্ষা মৌসুমে ব্যারাজের ৭৮টি গেট খোলা রাখা হবে। এতে পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান বলেন, প্রথম পর্যায়ের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের আওতায় পাবনার সুজানগর ও রাজবাড়ীর পাংশা সংযুক্ত হবে।

পানিসম্পদমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন। এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাবনাসহ দেশের অসংখ্য জেলার চিত্র পাল্টে যাবে। এর মাধ্যমে অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকে জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলি, হতাহতের খবর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


সাজেকে জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলি, হতাহতের খবর নেই

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১টা থেকে এই গোলাগুলি শুরু হয়েছে।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, দুর্গম পাহাড়ের কলাবুনিয়ায় আজ বেলা একটায় গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় সেখানে পৌঁছানোও কঠিন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীসহ আমরা ওই এলাকায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের ৪ দিনের রিমান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের ৪ দিনের রিমান্ড

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা, যিনি দীপ নামে পরিচিত, তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, দুপুর সোয়া ২টার দিকে আসামি দীপকে আদালতে হাজির করা হয় এবং সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে শুনানির জন্য এজলাসে তোলা হয়।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানির সময় দাবি করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পলায়নের ভিডিও প্রকাশ করার কারণে তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে। অন্যদিকে, ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ এবং বিচারকার্য ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কায় আসামিপক্ষ থেকে এদিন কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। শুনানি শেষে আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সৌরি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে আসামি দীপ তাকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তাহসিফ নিখোঁজ ছিলেন।

পরদিন, ২৮ অক্টোবর বিকেলে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা একটি মুঠোফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, ঘটনার দিন নিহত সৌরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন আসামি দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, নিহত সৌরি তার সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামির সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটন এবং মূল রহস্য উন্মোচনে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘কোরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী সাম্যের বাংলাদেশ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


‘কোরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী সাম্যের বাংলাদেশ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’

যতদিন আল্লাহর নেজাম, কোরআন-সুন্নাহর বিধান এবং শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সাম্যের মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হবে, ততদিন রাজপথের এই লড়াই ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে জীবন দেবেন, তবে জাতির অধিকারের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা বেইমানি করবেন না।

শনিবার খুলনা মহানগরী বাবরী চত্বরে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যেসব দাবি তুলে ধরেছি, তা কোনো একক দল কিংবা জোটের দাবি নয়; বরং এটি এ দেশের প্রত্যেকটি মানুষের বাঁচা-মরার দাবি। আজ রাজপথে হাজারো-লাখো নারী-পুরুষের চোখের ভাষা আমাদের বার্তা দিচ্ছে—জনগণ জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই লড়াইয়ে জুলুমবাজদের পতন হবে এবং সাধারণ জনগণের বিজয় নিশ্চিত হবে।’

১১ দলের রাজনৈতিক লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ১১ দলের বিজয় চাই না, আমরা এ দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের মুক্তি ও বিজয় চাই। নাগরিকদের সেই চূড়ান্ত মুক্তির লক্ষ্যেই আমরা রাজপথে নেমেছি। ইনশাআল্লাহ, জনগণের মৌলিক দাবিগুলো আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।’

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে জামায়াত আমির প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘কথা দিয়ে যাচ্ছি, জীবন যাবে কিন্তু জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না। আপনারা দোয়া করবেন, জাতির অধিকারের এই লড়াইয়ে আল্লাহ যেন আমাদের শহীদ হিসেবে কবুল করেন। মাঝপথে কোনো আপসের সুযোগ নেই। আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহর নেজাম এবং কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতেই এ দেশকে গড়ে তুলতে হবে। যতদিন পর্যন্ত একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত, সাম্যের ও মানবিক বাংলাদেশ গঠিত না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট

কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলসংকট বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। ৩১ শয্যার জনবল নিয়ে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। ২০১৩ সালে হাসপাতালটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে হাওরবাসীর কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার জন্য অনুমোদিত চিকিৎসক পদের ৬৬ শতাংশ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি সেবাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য পদের ৯১ শতাংশও খালি। অথচ হাসপাতালে ভর্তি ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সীমিত জনবল নিয়ে এই বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।

হাওরাঞ্চলের ভৌগোলিক দুর্গমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং জরুরি রোগী পরিবহনের সংকট বিবেচনা করে, হাওরের তিনটি উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় সচেতন মহল মাতৃ ও শিশুসেবা সম্প্রসারণ, ভাসমান নৌ-হাসপাতাল ও ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মো. মহিবুল্লাহ জানান, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মধ্যেও হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডের পাশাপাশি শিশু বিভাগে সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শিশু বিভাগও চালু করা হয়েছে।

হাসপাতালটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকের জন্য ৩৩টি পদ অনুমোদিত থাকলেও, কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন, আর শূন্য রয়েছে ২২টি পদ। বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্টের ১১টি পদের একটিতেও কোনো চিকিৎসক নেই। মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে তীব্র সংকট বিদ্যমান। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে আটজন চিকিৎসক নিয়োগ পেলেও, এর আগে ২০২৫-২৬ সালে অন্তর্বিভাগ, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে সেবা চালাতে হয়েছে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি জনবলেও রয়েছে বড় ঘাটতি। ৩০টি পদের বিপরীতে ২১ জন কর্মরত থাকলেও, শূন্য রয়েছে ৯টি পদ। চারজন ধাত্রীর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। অন্তর্বিভাগে সকাল, বিকেল ও রাত—প্রতিটি শিফটে ওয়ার্ডগুলোর জন্য নার্সদের দায়িত্ব বণ্টন করতে গিয়ে তাদের সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি ছয়জন পুরুষ নার্সকে ২৪ ঘণ্টাই জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

জরুরি সেবাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ২২টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র দুজন, শূন্য রয়েছে ২০টি পদ। ইসিজি পরিচালনার জন্য কার্ডিওগ্রাফার, এক্স-রে টেকনিশিয়ান, অ্যাম্বুলেন্সচালক, জুনিয়র মেকানিক, আয়া, বাবুর্চি, মালি, ওয়ার্ডবয় ও ফার্মাসিস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও এমএলএসএস পদেও রয়েছে বড় ঘাটতি। বর্তমানে সাতজন আউটসোর্সিং কর্মীর মাধ্যমে জরুরি সেবা চালু রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৫০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হলেও, ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গম এলাকায় মাত্র একজন ধাত্রী এবং বিশেষজ্ঞ গাইনি চিকিৎসকের অভাবে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যরাতে প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে রোগীদের পড়তে হয় চরম বিপাকে।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, ভর্তি রোগীদের চাহিদা মেটাতে শুধু স্যালাইন ও ইনজেকটেবল অ্যান্টিবায়োটিক বাবদ বছরে প্রায় ৭৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। এর বাইরে অন্যান্য ওষুধ এবং বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের ওষুধের চাহিদাও রয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও দুর্গমতার কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এখানে থাকতে চান না। ফলে স্থানীয় মানুষ উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় দুর্গম এলাকায় কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, নিরাপদ আবাসন এবং উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

হাওর বছরের ছয় মাস জলমগ্ন থাকে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। এটি বিবেচনায় নিয়ে ভাসমান নৌ-হাসপাতাল চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে দুর্গম এলাকার প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

এছাড়া সন্ধ্যার পর ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাতে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই জরুরি রোগী পরিবহনে ফেরি চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা জরুরি। অন্যদিকে স্ট্রোক, ট্রমা (মস্তিষ্কে আঘাত), দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য হাওরাঞ্চলে একটি টারশিয়ারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিও উঠেছে।

পরিকল্পিত স্বাস্থ্যব্যবস্থাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা, মাতৃ ও শিশুসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, জরুরি রোগী পরিবহনে নৌপথ ও ফেরির কার্যকর ব্যবস্থা করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রণোদনা ও আবাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু বলেন, ‘হাওরাঞ্চলে চিকিৎসকদের অনীহা দূর করতে ‘হাওর ভাতা’ বা বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সিস্টার ও বয় নিয়োগ করা হলে তারা নিজ বাড়িতে থেকেই কাজ করতে পারবেন, ফলে আবাসন সংকট দেখিয়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। এছাড়া অন্তত পাঁচ বছর মেয়াদে দক্ষ আউটসোর্সিং লোকবল নিয়োগ করা হলে বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি হাসপাতালের জনবল সংকটও কাটবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবহেলিত হাওরাঞ্চলের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ‘স্বতন্ত্র হাওর মন্ত্রণালয়’ গঠনের কোনো বিকল্প নেই।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মো. মহিবুল্লাহ বলেন, “এত সংকট সত্ত্বেও আমরা মানবসেবার মানসিকতা নিয়ে শ্রম, মেধা ও আন্তরিকতা দিয়ে হাওরবাসীকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ‘হাওর অঞ্চলে কর্মকর্তাদের কিছুটা অনীহা রয়েছে, তবে এই সংকট আর থাকবে না। সরকার স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে লোকবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই উল্লেখযোগ্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’

— এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%