০৬:০৭ পি.এম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শত্রুর যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক, কার্যকর ও ‘ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই’ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের নতুন তেহরান সফরের প্রেক্ষাপটে শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
এছাড়া, ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার আদেশও তিনি দিয়েছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ’ সম্পদকে হামলার আওতায় আনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে। দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, অর্থাৎ আগামী ৪ নভেম্বর থেকে হামলা শুরু হতে পারে। এই বিষয়ে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের এক দফার ডাক দিলে সবাই অংশ নিতে প্রস্তুত: ডাকসু ভিপি
খামেনি বিবৃতিতে বলেন, "শত্রুরা নতুন করে সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা শুরু করলে সংঘাত কখন শেষ হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে।" একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধের সময় ও শর্ত নির্ধারণের অধিকারও তেহরানের থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি সামরিক বাহিনীকে নজরদারি, সহায়তা এবং যুদ্ধ পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
গত জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়, তবে তাতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হয়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনতে ওই সমঝোতা ব্যর্থ হয়েছে।
এরপর ইরান নতুন একটি প্রস্তাব দেয়, যেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে তেহরান।
আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. মঈন খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি
এই পরিস্থিতিতে কাতার নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনার জন্য আবারও তেহরানে যান।
তবে আলোচনায় এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান। ওয়াশিংটন চায়, আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, আগে ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে।
এদিকে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন।
কানসাস সিটির রেডিও স্টেশন কেসিএমওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের এমন নিশ্চয়তা প্রয়োজন, যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না হয়।’
আরও পড়ুন: গোদাগাড়ীতে ধানক্ষেত থেকে রিকশাচালক কিশোরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
এর আগে নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন