০৪:৩২ পি.এম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে হরমুজে ১১৫ দিন আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাংকার অবশেষে বাংলাদেশের জন্য এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে নিরাপদে প্রণালি পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
‘নর্ডিক পোলক্স’ নামক জাহাজটি গত ১ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে ক্রুড তেল বোঝাই করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে জাহাজটি সেখানে আটকা পড়ে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিধিনিষেধ আংশিক শিথিল হওয়ার পর গত বুধবার (২৪ জুন) জাহাজটি হরমুজ পাড়ি দেয়। আগামী ৬ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
এই তেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডকে (ইআরএল) সরবরাহ করা হবে। সেখানে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর তা সারাদেশে বিতরণ করা হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পক্ষে এই পরিবহন কার্যক্রম তদারকি করছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। এই চালানের জন্য তারা বিদেশি পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ভাড়া করেছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরপরই কর্পোরেশন বিকল্প সরবরাহ রুট ব্যবহার শুরু করে।
তিনি বলেন, 'বিকল্প রুট হিসেবে আমরা সৌদি আরবের ইয়ানবু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ থেকে জ্বালানি তেল পরিবহন করছি। এই বিকল্প চালানের কারণে আমরা দেশজুড়ে স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে পেরেছি।'
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
মালেক জানান, নর্ডিক পোলাক্স ১ মার্চ রাস তানুরায় অপরিশোধিত তেল বোঝাই করেছিল এবং এই সপ্তাহ পর্যন্ত সেখানেই আটকে ছিল।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বিপুল পরিমাণ ডেমারেজ (বিলম্ব মাশুল) ব্যয় হলেও বিএসসি বা বিপিসি কাউকেই এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে না।
'চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানই এই ডেমারেজ খরচ বহন করবে। সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরই কেবল আমরা নিয়মিত হরমুজ প্রণালি রুটটি পুনরায় ব্যবহার শুরু করব,' বলেন তিনি।
বাংলাদেশ সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের আরামকো ও আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি) থেকে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করে।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
সাধারণত সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রাস তানুরা থেকে এবং আরব আমিরাতের তেল জেবেল আলী হয়ে রপ্তানি করা হয়। এই দুটি রুটই হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে গেছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে এই কৌশলগত নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে নর্ডিক পোলাক্স আটকে পড়ে। এর ফলে ইআরএল উৎপাদন সংকটে পড়ে।
ক্রুড তেলের অভাবে ১৪ এপ্রিল ইআরএলের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমে গিয়ে সাময়িক সংকট দেখা দেয়।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার চড়া মূল্যে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি শুরু করে। একইসঙ্গে ক্রুড তেল আমদানির জন্য সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর হয়ে বিকল্প রুটে স্থানান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এসব বিকল্প রুটের মাধ্যমেই অপরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ইআরএলের কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন