ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে ‘গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ


বরিশালে ‘গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

বরিশাল, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : জেলায় ‘গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ রোববার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।

প্রধান অতিথি বলেন, গ্রাম আদালত শক্তিশালী করতে এর তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ ও ডিজিটালকরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে ডিজিটালাইজড করতে পারলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ আরও সহজ হবে। ডিজিটাল সিস্টেমের কল্যাণে সাধারণ মানুষ এখন ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে বসে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা অত্যন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সাশ্রয়ী উপায়ে নিতে পারছেন। এ সিস্টেমে মামলা এন্ট্রি হওয়ার পর সব ডেটা কেন্দ্রীয় সার্ভারে সুরক্ষিত থাকায় মামলার তথ্য কারচুপির কোন সুযোগ থাকে না। তাই সরকার প্রান্তিক অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণের উদ্দেশ্যে আদালত সংশ্লিষ্টদের জন্য আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে আমির হামজার তাফসির মাহফিল সম্পন্ন, রাজনৈতিক উত্তেজনা উপেক্ষা

তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারাই গ্রাম আদালত কার্যক্রমের প্রাথমিক বিচারক। কারণ আপনারা যেভাবে মামলার নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবেন, তার ওপর পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম অনেকাংশে নির্ভর করবে। গ্রাম আদালতে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থাকেন। 

তাই মামলার নথি প্রস্তুত ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধান অনুযায়ী, সাধারণভাবে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আবেদনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে গিয়ে যদি দেখা যায় কোনো মামলা ছয়-সাত মাস কিংবা দুই বছর ধরে চলমান রয়েছে তাহলে তা আইনের উদ্দেশ্য ও বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসময় তিনি গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বরিশাল স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক উপমা ফারিসা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতান। 

আরও পড়ুন: লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৯০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

এসময় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রান্নার পাত্রে মিলল খণ্ডিত লাশের অংশ, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৫ পি.এম


রান্নার পাত্রে মিলল খণ্ডিত লাশের অংশ, অতঃপর...

ভারতের তামিলনাড়ু এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতরে লাল সুটকেসে এক নারীর খণ্ডিত লাশের কিছু অংশ উদ্ধারের পর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ। চেন্নাই সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনের কয়েক ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখে, মানিক উদ্দিন লস্কর নামের এক ব্যক্তি ওই ভারী লাল সুটকেসটি বহন করছে এবং তার সঙ্গে ছিল স্ত্রী ভগবতী মাঝি। 

পরবর্তীতে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে পুলিশ চেন্নাইয়ের উপশহরের গুডুভানচেরিতে একটি ভাড়া বাসার সন্ধান পায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি বড় রান্নার পাত্রের ভেতর থেকে খণ্ডিত দেহের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়।

৫ আগস্ট ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তামিলনাড়ু এক্সপ্রেস ট্রেনটি আগ্রা ক্যান্ট স্টেশনে পৌঁছানোর পর ট্রেনটির সাধারণ কামরায় পড়ে থাকা একটি লাল সুটকেস থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান যাত্রীরা। পরে সরকারি রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সুটকেসটি পরীক্ষা করে ভেতরে মাথাবিহীন ও খণ্ডিত এক নারীর মরদেহ দেখতে পান।

এর ২৪ দিন পর সন্দেহভাজন ঘাতক স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মনিপুরের জিরিবাম জেলা থেকে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) মনিপুর ও তামিলনাড়ু পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আসামের কাছাড় জেলার ২২ বছর বয়সী মানিক উদ্দিন লস্কর এবং ওড়িশার কেওনঝড় জেলার ২১ বছর বয়সী তার স্ত্রী ভাগবতী মাঝি।

মনিপুর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গুডুভানচেরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

ফরেনসিক বিশ্লেষণে নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৩৮ বছর বয়সী ওই নারীর নাম হায়াতুন নিশা। ওড়িশার বাসিন্দা এই নারী চেন্নাইয়ের কাছে গুডুভানচেরিতে বাস করতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

প্রথমে গুডুভানচেরি থানায় ঘটনাটি নিখোঁজ ডায়েরি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে দেহাবশেষ উদ্ধারের পর পুলিশ এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে পরিবর্তন করে। প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দম্পতিকে চিহ্নিত করে সারা দেশজুড়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কারণ মরদেহ ফেলে দেওয়ার পরপরই ওই দম্পতি আত্মগোপনে চলে যায়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) মনিপুরের জিরিবাম জেলার কাশিমপুরে অভিযুক্তদের অবস্থান চিহ্নিত করে যৌথ পুলিশ দল এবং সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আসামি দুজনকে মনিপুরের স্থানীয় আদালতে হাজির করার পর ট্রানজিট ওয়ারেন্টে তামিলনাড়ুতে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ববিতে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা, অফিসে তালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


ববিতে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা, অফিসে তালা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হককে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চেয়ারম্যানের কক্ষ, শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে অবস্থান নেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগটিতে দীর্ঘদিন ধরে সেশনজট ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা চলছে। সেশনজট নিরসনে চেয়ারম্যান একাধিকবার লিখিত আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে উন্নয়ন ফি নেওয়া হলেও গত ১০ বছরে শ্রেণিকক্ষে পর্দা লাগানো ছাড়া দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্ব এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে চেয়ারম্যানের উদাসীনতাও রয়েছে। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কাজী মনোয়ার বলেন, ‘এর আগেও সেশনজট নিরসনের লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। আজ প্রক্টরের মাধ্যমে উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে বসবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তবে আমাদের মূল দাবি, চেয়ারম্যানকে বিভাগ থেকে অপসারণ করতে হবে।’

আরেক শিক্ষার্থী তাহসিন বলেন, ‘বহুবার যোগাযোগ করেও কোনো ফলপ্রসূ সমাধান পাইনি। আমাদের একটাই দাবি, তিনি সসম্মানে বিভাগ থেকে সরে দাঁড়ান।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। তাদের নিয়ে আগামীকাল (সোমবার) বসব। তাদের সাথে আলোচনার পর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘মূলত শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণেই এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক একটি বিষয় এত কমসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হওয়ার নজির খুবই বিরল। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় বিদ্যমান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত অ্যাকাডেমিক চাপ তৈরি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত অ্যাকাডেমিক সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। সঠিক তথ্যের অভাবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভুল ধারণা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ব্যক্তি বা পদকে কেন্দ্র না করে না করে আমাদের উচিত মূল সমস্যাগুলো কী এবং সেগুলোর স্থায়ী সমাধান কীভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও অ্যাকাডেমিক স্বার্থই হওয়া উচিত আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যাম্পাসের বুকে এক টুকরো সৌন্দর্য ‘রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


ক্যাম্পাসের বুকে এক টুকরো সৌন্দর্য ‘রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ’

বড় এক গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অপূর্ব এক স্থাপত্য যেন ব্যস্ত ক্যাম্পাসের বুকে এক টুকরো প্রশান্তির ঠিকানা। দেয়ালের নকশা ভেদ করে ভেতরে এসে পড়ে নরম আলোর রেখা, খোলা পরিসরে মৃদু বাতাস বয়ে যায় আপন মনে। চারপাশের কোলাহল পেরিয়ে এখানে পা রাখলেই বদলে যায় পরিবেশ। নেমে আসে এক স্নিগ্ধ নীরবতা। মনে হয়, ব্যস্ততার ভিড় থেকে খানিকটা দূরে এসে মনও যেন খুঁজে পায় তার নিজস্ব শান্তির ঠিকানা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জামে মসজিদটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন, ইসলামি জ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃতি ও চর্চার কেন্দ্র হিসেবে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি এর আধুনিক স্থাপনা ও সুন্দর স্থাপত্যনকশা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে করেছে অতুলনীয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরোলেই চোখে পড়ে প্রশাসনিক ভবন। ভবনটির ডান পাশ ধরে একটু এগোলেই দৃষ্টিতে ধরা দেয় মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত সুউচ্চ এক মিনার। মিনারের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ। সূক্ষ্ম কারুকার্য ও নান্দনিক স্থাপত্যে নির্মিত এই মসজিদটি শুধু ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং এর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে যুক্ত করেছে এক অনন্য মাত্রা। সময়ের সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের এক গৌরবোজ্জ্বল প্রতীক।

মসজিদে প্রবেশ করতেই প্রাণ জুড়িয়ে যায় মুসল্লিদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীসহ নামাজ পড়তে আসেন হাজারো মুসল্লি। মসজিদের সৌন্দর্য বাড়াতে চারদিকে স্থাপন করা হয়েছে লাইটপোস্ট। নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনাও। সুবিশাল অভ্যন্তরীণ এই মসজিদে নেই কোনো পিলার। মূল কাঠামোর মধ্যবর্তী স্থানে ওপরে নির্মাণ করা হয়েছে বিশালাকার গম্বুজ। শ্বেত-শুভ্র ঝাড়বাতিগুলো এতই মনোরম যে, নির্মাণের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে তা একেবারে মিশে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ১৩ এপ্রিল প্রায় তিন একর জায়গায় এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং শেষ হয় ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে। এর মূল কাঠামোর দৈর্ঘ্য ৫২ গজ ও প্রস্থ ৫২ গজ। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের নকশাপ্রণেতা ‘থারিয়ানি’র নকশার আলোকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে। রাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটির নির্মাণব্যয় তৎকালীন সময়ে ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরে কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় আট লাখ টাকা।

মসজিদের বারান্দা ও বারান্দার বাইরের যে অংশ রয়েছে, তা মূল কাঠামোর প্রায় দ্বিগুণ। মূল ভবনের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে বাইরের ফাঁকা জায়গাসহ এই মসজিদে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের আঙিনাকে মূল ক্যাম্পাস থেকে পৃথক রাখা ও পবিত্রতা রক্ষার্থে চারপাশে রয়েছে দেয়াল। আঙিনাজুড়ে রয়েছে সারিবদ্ধ ঝাউগাছ। দক্ষিণ-পূর্ব পাশে রয়েছে ফোয়ারা, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক অজুখানা, অফিসকক্ষ, শৌচাগার ও ইমামের থাকার ব্যবস্থা। এছাড়া রয়েছে হরেক রকমের ফলের গাছ ও ঈদগাহ।

মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মাওলানা জামাল উদ্দিন। মসজিদে একজন সিনিয়র পেশ ইমাম ও একজন মুয়াজ্জিন দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য রয়েছেন দুজন সহকারী রেজিস্ট্রার ও একজন সেকশন অফিসার। মসজিদের অজুখানার পাশেই রয়েছে সমৃদ্ধ পাঠাগার। পাঠাগারটি মুসল্লিদের জন্য আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদটি অনেক সুন্দর। প্রতিদিন এখানে শত শত মুসল্লির সমাগম হয়। ক্যাম্পাসে যারা ঘুরতে আসেন, তারা একবার হলেও মসজিদটিতে নামাজ পড়ে যান। আমি মনে করি, রাবি ক্যাম্পাসের অন্যান্য সব দৃষ্টিনন্দন জায়গার মধ্যে কেন্দ্রীয় মসজিদ অন্যতম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ সোবহান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সুন্দর একটি স্থান। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইরের অনেক মানুষও প্রতিনিয়ত নামাজ আদায় করতে আসেন। মসজিদটি এর ভিন্নধর্মী স্থাপত্যশৈলীর জন্য বেশ পরিচিত।

মসজিদটিতে বর্তমানে সিনিয়র পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাওলানা ফাহিম মাহমুদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মাদরাসা শিক্ষায়ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদটির ভেতরের অংশ তুর্কি স্থাপত্যশৈলীতে নকশা করা। একসময় মসজিদে জুমার নামাজে খুব ভিড় হতো, যা মুসল্লিদের জন্য কষ্টকর ছিল। তবে বর্তমানে তা হয় না। কারণ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা, বিজয়-২৪ ও মতিহার হলে জুমার নামাজ চালু হওয়ায় মুসল্লিদের চাপ অনেকটাই কমে গেছে।

মসজিদের দু’পাশে নামাজের স্থান সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সম্প্রসারিত নামাজের স্থান মূল মসজিদের সৌন্দর্যে কোনো ব্যাঘাত ফেলবে না; বরং দূর থেকে তা দেখতে মসজিদের একটি অংশের মতোই মনে হবে। মূল মসজিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই এটি তৈরি করা হচ্ছে।

তবে এতকিছুর পরেও ঐতিহ্যের এই প্রাণকেন্দ্রে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে বলে জানান মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা। তারা বলেন, মসজিদের পাশেই রয়েছে শহীদ মিনার ও মুক্তমঞ্চ। প্রায়ই আসর ও মাগরিবের সময় এই মঞ্চে উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এর কারণে নামাজরত মুসল্লিরা মারাত্মক অসুবিধায় পড়েন।

এছাড়া এখানে শৌচাগার ও অজুর জন্য যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা মুসল্লিদের জন্য অপ্রতুল। শৌচাগারগুলোর অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী। অজুখানায় মাত্র ৪২ জন একসঙ্গে অজু করতে পারেন। এ সময় দ্বিগুণসংখ্যক মুসল্লিকে অজু করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন না। এ কারণে মসজিদের ফোয়ারার চারপাশে অজু করার ব্যবস্থা করা হলে সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে জানান তারা।

একই সঙ্গে মসজিদের পাঠাগারটিকে আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে পাঠাগারটি উন্নত করার পাশাপাশি অধ্যয়নের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন মসজিদের ইমাম। এদিকে, মসজিদের পাঠাগারটি আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকলেও জোহরের নামাজের পর থেকে এশার নামাজের পূর্ব পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন মুসল্লিরা।

এছাড়া জুমার নামাজে অতিরিক্ত মুসল্লির চাপে বারান্দায় যারা নামাজ আদায় করেন, তাদের রোদে কষ্ট করে নামাজ পড়তে হয়। এক্ষেত্রে বারান্দায় ছাদ নির্মাণ করা হলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে করেন মুসল্লিরা। তবে বর্তমানে মূল মসজিদের দক্ষিণ পাশে নারীদের জন্য আলাদাভাবে মসজিদ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদের উত্তর পাশে পুরুষদের নামাজের স্থান সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

এক ছাদের নিচে যখন আড়াই হাজার মানুষ সিজদায় নত হন, তখন মসজিদটি যেন শুধু একটি স্থাপত্য হয়ে থাকে না; হয়ে ওঠে বিশ্বাস, প্রার্থনা ও আত্মিক প্রশান্তির মিলনস্থল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিকতার ভুবনে তাই কেন্দ্রীয় মসজিদ একদিকে যেমন ইবাদতের পবিত্র স্থান, অন্যদিকে তেমনি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ‘হাঁস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এবার আওয়ামী লীগের পক্ষে ওকালতি করলে রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সারোয়ার তুষার বলেন, এখানে নৌকাডুবি হয়ে গেছে। নৌকাডুবি হওয়ার পর হাঁস (রুমিন ফারহনার হাঁস) যদি ডুব দিয়ে নৌকা খুঁজতে যায়, তাহলে হাঁসকে কি বাংলাদেশের জনগণ আস্ত রাখবে? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণ হাঁস আস্ত রাখবে? হাঁস কিন্তু জনগণ খেয়ে ফেলবে। কাজেই সাধু সাবধান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো ওকালতি আমরা শুনতে চাই না৷ আপনি আওয়ামী লীগের বিচার চান না কেন? বিচার চান না, কিন্তু আপনি বলেন যে আওয়ামী লীগকে আসতেই হবে।

তিনি আরও বলেন, একটা নির্বাচন জিতে যদি আপনি মনে করেন এখন আপনি যা খুশি তা করার লাইসেন্স পেয়ে গেছেন, ব্যাপারটা এত সহজ না। আপনাকে আমরা ভালোবাসি, পছন্দ করি, কিন্তু সমস্ত কিছুর একটা সীমা আছে। দয়া করে আওয়ামী লীগকে নিয়ে কোনো ধরনের জাস্টিফিকেশন দিতে আসবেন না। হাঁস যদি নৌকা খুঁজতে থাকে, তাহলে হাঁসতো খেয়ে ফেলব আমরা।

এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক বাকের মজুমদার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%